Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৬ ০৩:০৬ অপরাহ্ণ

এক নজরে সংক্ষিপ্তভাবে "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" ...….. এর অর্থ, ফজিলত এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

এক নজরে সংক্ষিপ্তভাবে   "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" ...…..  এর অর্থ, ফজিলত এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :


"আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম"  হইলো মুমিনের জন্য শয়তানের বিরুদ্ধে একটি আধ্যাত্মিক ঢাল, যা  অভিশপ্ত মুরতাদ ইবলিশ শয়তানের সকল ওয়াস ওয়াসা থেকে হেফাজতে থাকতে আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়েছেন।


অর্থ ও অনুবাদ :

- আউযু :  আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

- বিল্লা‌হি : আল্লাহর কাছে / আল্লাহর নিকট।

- মিনাশ শাইত্বানি : শয়তান থেকে।

- আর-রাজীম :  বিতাড়িত / অভিশপ্ত।


পূর্ণাঙ্গ অর্থ : 

"আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"


কেন এটি পড়া হয় ??

- শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। সে অনবরত মানুষের মনে কুচিন্তা (ওয়াস ওয়াসা) তৈরি করে, ভালো কাজে বাধা দেয় এবং পাপের দিকে প্ররোচিত করে। 

- যেহেতু শয়তানকে মানুষ খালি চোখে দেখতে পায় না, তাই তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য ও আশ্রয় প্রয়োজন।

- এই বাক্যটি বলার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজেকে আল্লাহর সুরক্ষায় সঁপে দেয়।


কখন বা কোন কোন ক্ষেত্রে এটি পড়তে হয় ??

১। কুরআন তিলওয়াতের পূর্বে :  

পবিত্র কুরআন পড়ার আগে এটি পড়া আল্লাহর নির্দেশ।

"যখন আপনি কুরআন পাঠ করবেন, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন।" 

(সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৮)


২. নামাজে সূরা ফাতেহার পূর্বে :

নামাজের প্রথম রাকাতে সানা (সুবহানাকা...) পড়ার পর এবং সূরা ফাতেহা শুরু করার আগে মনে মনে আউজুবিল্লাহ পড়তে হয়।


৩. রাগ বা ক্রোধ দমনের সময় :

অতিরিক্ত রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। হাদিসে এসেছে, একবার দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে ঝগড়া করছিল এবং একজনের মুখ রাগে লাল হয়ে গিয়েছিল। তখন রাসূল (সা.) বললেন, "আমি এমন একটি বাক্য জানি, যা পড়লে তার রাগ দূর হয়ে যাবে।

- বাক্যটি হলো : আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।" (সহীহ বুখারী)


৪. খারাপ স্বপ্ন দেখলে : 

রাতে কোনো ভীতিকর বা খারাপ স্বপ্ন দেখলে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলার মতো ফুঁ দিয়ে আউজুবিল্লাহ পড়ার নিয়ম রয়েছে।


৫. কুচিন্তা বা মনে সংশয় জাগলে : নামাজে বা সাধারণ সময়ে মনে কোনো কুচিন্তা বা ঈমান পরিপন্থী কোনো খটকা আসলে তৎক্ষণাৎ আউজুবিল্লাহ পড়ে শয়তানকে তাড়িয়ে দিতে বলা হয়েছে।


আত্মিক ও মানসিক উপকারিতা :

সুরক্ষা কবচ : 

এটি বান্দা ও শয়তানের মাঝে একটি অদৃশ্য দেয়াল বা ঢাল তৈরি করে।


মনোযোগ বৃদ্ধি : ইবাদত বা যেকোনো ভালো কাজের শুরুতে এটি পড়লে শয়তানের কুপ্ররোচনা দূর হয় এবং কাজে মনোযোগ বাড়ে।


বিনম্রতা প্রকাশ : 

এটি পাঠ করার মাধ্যমে মানুষ স্বীকার করে যে সে নিজে দুর্বল এবং তার সুরক্ষার জন্য একমাত্র আল্লাহর দয়া ও শক্তির প্রয়োজন।


যেকোনো ভালো কাজ (যেমন : খাওয়া, ঘুমানো, ঘর থেকে বের হওয়া) শুরু করার সময় আমরা "বিসমিল্লাহ" বলি। 

তবে যেখানে শয়তানের ধোঁকা বা অনিষ্টের ভয় থাকে, সেখানে বিসমিল্লাহর আগে "আউজুবিল্লাহ" পড়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ও সুন্নত।


মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন।


কপি পোস্ট

মন্তব্য করুন