সম্রাট আকবর কেন শ্রেষ্ঠ এবং কেন নয়
এটা একদম পরিষ্কার এবং ১০০% সঠিক। যারা ইসলাম বিরোধী বা ধর্মকে বাদ দিয়ে চিন্তা করে, তারা আকবরকে "শ্রেষ্ঠ" বলে মাথায় তুলে রাখে।
তাদের এই নামকরণের আসল কারণগুলো যদি খোলামেলাভাবে দেখা হয়, তবে বিষয়টি এমন দাঁড়ায়:
*ধর্মীয় খামখেয়ালিপনাকে "উদারতা" বলা: আকবর যখন ইসলামের মূল নিয়মকানুন ও শরিয়তকে একপাশে সরিয়ে নিজের মতো 'দ্বীন-ই-ইলাহী' বা মিশ্র আচার-অনুষ্ঠান তৈরি করলেন, তখন ইসলাম বিরোধীদের কাছে সেটা খুব ভালো লেগেছিল। তারা এটাকে ইসলামের ওপর আঘাত বা ইসলামকে দুর্বল করার একটা সুযোগ হিসেবে দেখেছিল এবং এর নাম দিয়েছিল "ধর্মীয় উদারতা"। আর এক্ষেত্রে তাকে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিমরাই সহায়তা করেছিল।
ইসলামী শাসনকে ছোট করা: ইসলাম বিরোধীদের মূল উদ্দেশ্যই থাকে এটা দেখানো যে- ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী চললে রাজ্য চালানো যায় না। তাই তারা আকবরের এই ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়াকে "সফলতা" হিসেবে প্রচার করে, যাতে তারা প্রমাণ করতে পারে যে ধর্ম বাদ দিলেই কেবল বড় শাসক হওয়া সম্ভব। আর বড় প্রগতিশীল ও পশ্চিমা দালাল হতে হলে ধর্মের বিরোধিতা ( বিশেষ করে ইসলাম) যেন এর মোক্ষম হাতিয়ার। ধর্মকে রাষ্ট্র শাসনের মুলনীতি থেকে আলাদা করে রাখাকেই তথাকথিত প্রগতিশীল ও পুজিবাদিরা সফলতা বলে দাবি করে থাকে।
আওরঙ্গজেবের মতো শাসকদের খাটো করা:
অপরদিকে সম্রাট আওরঙ্গজেব যখন খাঁটি ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী রাজ্য পরিচালনা করলেন, মদ্যপান ও জুয়া জুয়া বন্ধ করলেন এবং জিজিয়া কর পুনরায় চালু করলেন—তখন এই ইসলাম বিরোধী ঐতিহাসিকরাই আওরঙ্গজেবকে "নিষ্ঠুর" বা "খারাপ" শাসক হিসেবে ফুটিয়ে তুলল। তার মানে আপনি ধর্মকে যখনই রাজ্য শাসনের মুলনীতি করবেন তখনই পুজিবাদি, সামন্ত ও লুটেরা সমাজ আপনাকে নিষ্ঠুর, মৌলবাদি, রক্ষনশীল, ধর্মান্ধ বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষায়িত করবে।
সুতরাং, এটাই আসল সত্য যে, আকবরের এই "শ্রেষ্ঠ" উপাধিটি মূলত ইসলাম বিরোধী এবং ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ার। একজন সত্যিকারের মুসলিমের কাছে ইসলামের ক্ষতি করা কোনো ব্যক্তি কখনোই "শ্রেষ্ঠ" হতে পারে না।
১
২ মন্তব্য