সহকারী অধ্যাপক
২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
অন্যের জন্য বাঁচি -মোঃ মুজিবুর রহমান
অন্যের জন্য বাঁচি
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ যদি শুধু নিজের সুখের জন্য বাঁচে,
জীবনের অর্থ থাকে সীমাবদ্ধ স্বার্থের মাঝে।
কিন্তু যে হৃদয় ভালোবাসা বিলায় নীরবে,
সে-ই রেখে যায় আলোর দাগ পৃথিবীর বুকে।
কত ধন, কত মান, কত ক্ষমতার অহংকার,
মৃত্যুর সীমানায় সবই হয়ে যায় অসার।
থেকে যায় কেবল দয়া, মমতা আর সৎকর্ম,
মানুষের মুখে মুখে বেঁচে থাকে সেই ধর্ম।
পথে যদি দেখো কোনো ক্ষুধার্ত অসহায়,
সামান্য আহার দিলেও রবের রহমত পায়।
একটি স্নেহের কথা, একটি মিষ্টি হাসি,
অনেক ক্লান্ত প্রাণে জাগায় আশার বাতাসই।
কাঁদে যদি কোনো হৃদয় নীরব বেদনায়,
তোমার সান্ত্বনার বাণী শান্তি এনে দেয়।
যে হাত মুছে দেয় মানুষের অশ্রুধারা,
সে হাতই প্রিয় হয় দয়াময় স্রষ্টার।
ইসলাম শেখায়—মানুষ সেবাই মহৎ ইবাদত,
দয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছে কল্যাণের বারতা।
রাসূল (সা.) ছিলেন মানবতার উজ্জ্বল প্রদীপ,
করুণা, ক্ষমা, দয়ায় ছিল তাঁর জীবন সুশোভিত।
তিনি শিখিয়েছেন—
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও,
এতিমের মাথায় হাত রাখো,
অভাবীর মুখে আহার তুলে দাও,
প্রতিবেশীর খোঁজ নাও,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে হৃদয় জুড়াও।
যে নিজের সুখ বিলিয়ে দেয় অন্যের মুখে,
আল্লাহ তার জন্য সুখ লিখে দেন অদৃশ্যে।
যে গোপনে দান করে বিনিময়ের আশা ছাড়া,
তার প্রতিদান রবে আখিরাতে অফুরন্ত ধারা।
মানুষের সেবায় নেই কোনো ক্ষুদ্রতা,
এতেই ফুটে ওঠে ঈমানের পবিত্রতা।
এক ফোঁটা পানি, এক টুকরো রুটি,
কখনো হতে পারে জান্নাতের সোপানটি।
বৃক্ষ যেমন ফল দেয় প্রতিদান না চেয়ে,
নদী যেমন ছুটে চলে সকল তৃষ্ণা নিয়ে,
সূর্য যেমন আলো বিলায় ভেদাভেদ ভুলে,
তেমনি হও মানবতার দীপ হাতে তুলে।
বিদ্বেষ নয়, ভালোবাসা হোক জীবনের গান,
ক্ষমার ফুলে ভরে উঠুক প্রতিটি প্রাণ।
হিংসা নয়, সহযোগিতাই হোক পরিচয়,
মানবতার পথেই লুকিয়ে জীবনের জয়।
শিক্ষক যদি জ্ঞানের আলো বিলান প্রাণ খুলে,
ছাত্র গড়ে ওঠে সত্যের আলোকমূলে।
চিকিৎসক যদি সেবা দেন মমতার পরশে,
রোগীর চোখে ফুটে ওঠে নতুন দিনের হাসি।
কৃষকের ঘামে ফলে সোনালি ধানের শিষ,
শ্রমিকের শ্রমে গড়ে সভ্যতার ভিত্তি নিঃশেষ।
প্রত্যেকে যদি নিজের কাজে রাখে মানবপ্রেম,
দেশ ও সমাজ ভরে উঠবে শান্তির অমৃত হেম।
হে তরুণ,
তুমি হও সততার সাহসী সৈনিক,
মিথ্যার অন্ধকারে সত্যের আলোকদীপ।
লোভের বদলে দাও উদারতার শিক্ষা,
ঘৃণার বদলে ছড়াও ভালোবাসার দীক্ষা।
হে শিশু,
শেখো ভাগ করে নিতে আনন্দের হাসি,
বন্ধুর দুঃখে হও সবার আগে ভরসা।
ছোট্ট একটি সৎকর্ম, একটি কোমল বাক্য,
পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে অগণিত শক্তি।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণিকের সফর,
আখিরাতই আমাদের চিরস্থায়ী ঘর।
তাই রেখে যাই এমন কিছু কর্ম,
যা হবে রবের সন্তুষ্টির ধর্ম।
মানুষের মুখে ফুটুক আশার হাসি,
অন্যের সুখেই খুঁজে নাও নিজের খুশি।
ভালোবাসা দিয়ে জয় করো প্রতিটি মন,
এটাই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ সাধন।
শেষে করি মহান রবের কাছে প্রার্থনা—
হে আল্লাহ!
আমাদের হৃদয় করুন দয়ায় পরিপূর্ণ,
অহংকার থেকে রাখুন চিরদূর।
মানুষের উপকারে ব্যয় হোক আমাদের জীবন,
সৎকর্মে ভরে উঠুক প্রতিটি ক্ষণ।
দান করুন এমন অন্তর,
যেখানে নেই হিংসা, নেই প্রতারণা,
আছে কেবল ভালোবাসা, সহমর্মিতা,
সত্য, ন্যায় ও তাকওয়ার দীপ্ত প্রেরণা।
যেন আমাদের জীবন হয়
মানুষের কল্যাণে নিবেদিত,
আপনার সন্তুষ্টিতে আলোকিত,
আর আখিরাতে জান্নাতের পথে পরিচালিত।
স্মরণীয় বাণী
"নিজের জন্য বাঁচা সহজ;
অন্যের জন্য বাঁচাই মহত্ত্ব।
যে মানুষ মানুষের উপকারে আসে,
তার জীবনই হয় সত্যিকার সার্থক।"
***
অন্যের জন্য বাঁচি
নিজের সুখে বাঁচলে জীবন ক্ষণিক সুখের গান,
পরের তরে বাঁচলে জাগে অমর সম্মান।
স্বার্থ যদি ঘিরে রাখে হৃদয়ের সব দ্বার,
ভালোবাসার সুবাস তবে হয় যে অধিকারহীন আর।
মানুষ হয়ে মানুষ যদি মানুষেরই হয়,
দুঃখভরা পৃথিবীজুড়ে ফুটে ওঠে জয়।
একটি স্নেহ, একটি হাসি, একটি মধুর বাণী,
অন্ধকারের অন্তরালে জ্বালে আশার প্রদীপখানি।
যেখানে কাঁদে ক্ষুধার্ত শিশু, নিঃস্ব বৃদ্ধ জন,
সেখানে গিয়ে বাড়াও তুমি সহমর্মিতার মন।
এক মুঠো ভাত, এক গ্লাস পানি, একটুকু আশ্বাস,
কখনো তা-ই বদলে দেয় জীবনের ইতিহাস।
অসহায়ের অশ্রুবিন্দু মুছে যে দেয় হাত,
সেই হাতেই রবের রহমত ঝরে দিন-রাত।
যে হৃদয়ে দয়ার নদী বহে নিরবধি,
সেই হৃদয়েই ফুটে ওঠে ঈমানের চাঁদ-সূর্য সদা জাগ্রত।
ইসলাম শেখায়—মানুষ সেবা ইবাদতেরই অংশ,
সৎকর্মে লুকিয়ে থাকে জান্নাতের সুবাস।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন করুণার দীপ,
শত্রুকেও ক্ষমা করে দেখিয়েছেন সত্যের সঠিক রূপ।
তিনি বলেছিলেন—হাসিমুখও সদকা,
স্নেহমাখা আচরণ হৃদয়ের অলংকার।
এতিমের মাথায় হাত রাখো, অভাবীর পাশে চলো,
মানুষের ভালোবাসায় জীবনকে সাজাও ভালো।
বৃক্ষ যেমন ফল বিলায় প্রতিদানের আশা ছাড়াই,
নদী যেমন ছুটে চলে সবার তৃষ্ণা নিবারায়।
মেঘ যেমন ঝরে পড়ে মরুর তপ্ত বুকে,
তেমনি হও কল্যাণধারা মানুষেরই সুখে।
ফুল যেমন সুবাস বিলায় আপন মহিমায়,
সূর্য যেমন আলো ছড়ায় সকলেরই দায়।
চাঁদ যেমন নীরব রাতে শান্তি বিলায় ধরা,
তেমনি হও মানবপ্রেমে আলোকিত সারা।
ক্ষমা যেখানে, সেখানেই শান্তির শুভ বাস,
ভালোবাসা থাকলে মুছে যায় ঘৃণার সর্বনাশ।
ঈর্ষা, লোভ, অহংকার—সবই ক্ষণিক ছায়া,
পরোপকারের মহিমাতে জাগে জীবনের মায়া।
শিক্ষক যখন জ্ঞানের আলো বিলান অন্তর ভরে,
সভ্যতারই নতুন সূর্য উদিত হয় ঘরে ঘরে।
চিকিৎসক যখন সেবা দেন মমতার পরশে,
নতুন প্রাণের স্বপ্ন তখন ফুটে ওঠে হর্ষে।
কৃষকের ঘামে সোনার ফসল দোলে মাঠের বুকে,
শ্রমিক গড়ে সভ্যতারই অট্টালিকা সুখে।
প্রত্যেক পেশা মহৎ যদি থাকে ন্যায়ের আলো,
দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে মিলেমিশে ভালো।
হে তরুণ, সত্যের পথে দৃঢ় হয়ে চলো,
মিথ্যার কালো মেঘ সরিয়ে আলোর মশাল জ্বালো।
হে শিশু, শিখো ভাগ করে নিতে হাসি আর আনন্দ,
মানবতার এই পাঠেই লুকিয়ে জীবনের ছন্দ।
হে ধনী, তোমার সম্পদ হোক মানুষের তরে,
দানেই ধন পবিত্র হয় রবের সন্তোষ ভরে।
হে জ্ঞানী, তোমার জ্ঞান দাও আলোর প্রদীপ হয়ে,
মানুষ গড়ার পুণ্যকাজে থেকো সদা লয়ে।
এই পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী, চলার পথ সংক্ষিপ্ত,
আখিরাতের অনন্ত জীবন চিরদিন সুদীপ্ত।
তাই সঞ্চয় করো সৎকর্ম, ভালোবাসা, দান,
এগুলোই হবে কিয়ামতে সফলতার প্রমাণ।
মৃত্যুর পরে ধন-সম্পদ থাকবে না আর সাথে,
থাকবে কেবল সৎকর্ম লেখা আমলনামার পাতায়।
মানুষ যদি স্মরণ করে তোমার দয়ার কথা,
সেই স্মৃতিই হয়ে থাকবে জীবনের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা।
যে বাঁচে মানুষের তরে, সে কখনো মরে না,
ভালোবাসার ইতিহাসে তার নাম ঝরে না।
সেবার মাঝে খুঁজে পায় জীবনেরই মান,
এই পথেই লুকিয়ে আছে মহান রবের দান।
এসো সবাই হাতে হাত রাখি ভ্রাতৃত্বের টানে,
ঘৃণা-হিংসা ভুলে যাই ভালোবাসার গানে।
ধর্ম, বর্ণ, ভাষার ভেদ নয় বিভেদের দেয়াল,
মানবতার বন্ধন হোক পৃথিবীর চিরকাল।
হে আল্লাহ! আমাদের হৃদয় করুন দয়ায় ভরা,
অহংকার, হিংসা, লোভ রাখুন চিরতরে সরা।
মানুষের কল্যাণে কাটুক জীবনের প্রতিক্ষণ,
আপনার সন্তুষ্টিতেই হোক সকল সাধন।
দান করুন এমন প্রাণ, যেখানে মমতার আলো,
সত্যের পথে অবিচল থেকে করি সবার ভালো।
ইহকাল ও পরকালে দিন সফলতার দান,
মানুষের সেবাতেই হোক আমাদের পরিচয় মহান।
নিজের জন্য বাঁচা সহজ,
অন্যের জন্য বাঁচাই মহত্ত্ব।
যে মানুষ মানুষের উপকারে আসে,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে সার্থকতার সত্য।
পরোপকারের প্রতিটি পদক্ষেপ
হোক ইবাদতের পবিত্র রূপ;
মানবসেবার প্রতিটি কর্ম
হোক জান্নাতের পথে অমূল্য সোপান।
***
অন্যের জন্য বাঁচি
মানুষ হয়ে এসেছি শুধু নিজের সুখের তরে নয়,
মানুষেরই মুখে হাসি ফোটানো জীবনের শ্রেষ্ঠ জয়।
নিজের সুখের প্রাসাদ গড়ে কী-ই বা লাভ শেষে,
যদি পাশের ঘরের মানুষ কাঁদে নীরব ক্লেশে।
একটি স্নেহ, একটি কথা, একটি মমতার হাত,
বদলে দিতে পারে কারও অন্ধকার দিন-রাত।
একফোঁটা জল যেমন তৃষ্ণার্ত প্রাণে আনে শান্তি,
তেমনি দয়ার ছোঁয়ায় জাগে জীবনের অনন্ত কান্তি।
পথের ধারে ক্লান্ত মানুষ, ক্ষুধায় কাতর শিশু,
তাদের ডাকে সাড়া দেওয়া ঈমানেরই দিশা।
অসহায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াও দৃঢ় মনে,
মানুষের সেবার চেয়ে বড় কী আছে ভুবনে?
ফুল সুবাস বিলায় নীরব, কিছুই চায় না ফিরে,
নদী ছুটে চলে অবিরাম জীবনসুধা নীরে।
সূর্য প্রতিদিন আলো দেয় প্রতিদানহীন মনে,
সেবার শিক্ষা প্রকৃতি দেয় প্রতিক্ষণ গোপনে।
গাছের ডালে ফলের ভার, নত হয় আপনাতে,
জ্ঞানীজনও নম্র থাকেন মহিমারই সাথে।
অহংকারে মানুষ ছোটে, বিনয়ে হয় মহান,
নম্র হৃদয়েই নেমে আসে আল্লাহর অফুরান দান।
ইসলাম শেখায়—দয়া করো, ক্ষমা করো সবাই,
ভালোবাসার আলোকধারা ছড়িয়ে দাও তাই।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন করুণার সাগর,
তাঁর জীবনেই মানবতার দীপ্ততম প্রহর।
তিনি শিখিয়েছেন—এতিমের মুখে হাসি ফোটাও,
অভাবীর দুঃখ ভাগ করে হৃদয়ের দুয়ার খোলাও।
প্রতিবেশীর খোঁজ রাখো, অতিথিকে দাও মান,
মানুষ সেবার মাঝেই লুকায় জান্নাতের সম্মান।
দান যদি হয় গোপন পথে, বাড়ে তারই মান,
রবের কাছে অমূল্য হয় সেই পবিত্র দান।
ডান হাত যা দেয় যদি বাঁ হাত না-ই জানে,
সেই সেবার আলো জ্বলে অনন্তেরই গানে।
শিক্ষক যখন আলোর মশাল জ্বালান প্রতিক্ষণ,
অজ্ঞতার অন্ধকারে ফুটে জ্ঞানের ভোরের রঙ।
চিকিৎসকের স্নেহমাখা সেবা, কৃষকের ঘামের ফসল,
শ্রমিকের শ্রমে দাঁড়িয়ে থাকে সভ্যতার মহাফল।
মায়ের মমতা, বাবার ত্যাগ, শিক্ষকের উপদেশ,
মানুষ গড়ার প্রতিটি ধাপ ভালোবাসার রেশ।
যে পরিবার ভাগ করে নেয় আনন্দ-বেদনার ভার,
সেই পরিবারেই জন্ম নেয় মানবতার সংসার।
হে তরুণ, সত্যের পথে দৃঢ় থেকো সদা,
অন্যায়ের সঙ্গে কখনো কোরো না আপস-সাঁঝা।
হে শিশু, শেখো ভালোবাসা, শেখো ক্ষমা করতে,
ছোট্ট সৎকর্ম একদিন ইতিহাস গড়তে।
হে ধনী, সম্পদ তোমার আমানত মহান,
অভাবীর হক আদায়ে বাড়ে সম্পদের মান।
হে জ্ঞানী, জ্ঞানের আলো ছড়াও দেশে দেশে,
অন্ধকারে আলোর শিখা জ্বলুক মানুষের শেষে।
জীবন নদী বহমান স্রোত, থেমে থাকে না কভু,
সৎকর্ম ছাড়া সঙ্গী হবে না কোনো ধন-ভবন।
মৃত্যুর পরে রবে না সঙ্গে পদ-মর্যাদা, নাম,
থাকবে শুধু মানুষের দোয়া আর সৎকর্মের দাম।
যে হৃদয়ে থাকে মমতা, সে হৃদয় অমলিন,
ভালোবাসার অক্ষরগুলো থাকে চিরদিন।
মানুষ বাঁচে মানুষের তরে—এই তো সত্য বাণী,
পরোপকারেই প্রস্ফুটিত হয় জীবনের কাহিনি।
এসো সবাই মিলেমিশে গড়ি শান্তির দেশ,
ঘৃণা, হিংসা, বিভেদ ছেড়ে ভালোবাসার রেশ।
সত্য, ন্যায় আর সহমর্মিতায় হোক নতুন অভিযান,
মানবসেবায় রচিত হোক জীবনের মহাগান।
হে আল্লাহ! দাও এমন হৃদয়—দয়ার সাগর হয়,
অহংকারের আঁধার মুছে বিনয়ের আলো রয়।
অভাবীর মুখে হাসি ফোটাতে দাও অকৃত্রিম প্রাণ,
মানুষ সেবায় কাটুক যেন জীবনের প্রতিক্ষণ।
ইহকালে দাও কল্যাণ, আখিরাতে জান্নাত,
সৎকর্মে ভরে উঠুক আমাদের প্রতিটি প্রভাত।
অন্যের জন্য বাঁচার শক্তি দাও অবিরাম,
আপনার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের পরিণাম।
অন্যের সুখে যে খুঁজে নেয় নিজের সুখের আলো,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে মহত্ত্বের লালিমা ভালো।
মানুষের জন্য বাঁচা মানে রবের প্রেমে বাঁচা,
এই আদর্শেই গড়ে উঠুক মানবতার কাব্যরচনা।
***
অন্যের জন্য বাঁচি
নিজের তরে বাঁচা সহজ, পরের তরে কঠিন,
তবু সেই পথেই লুকায় জীবনের রঙিন।
যে হৃদয়ে জ্বলে দয়ার প্রদীপ অবিরাম,
সেই হৃদয়েই নেমে আসে আল্লাহর সালাম।
মানুষ আসে পৃথিবীতে ক্ষণিক অতিথি হয়ে,
চলে যায় একদিন নীরব অচেনা পথ বেয়ে।
থেকে যায় না ধন, থাকে না কীর্তির অহংকার,
থেকে যায় ভালোবাসা, সেবার অমল ধার।
পাহাড় শেখায় দৃঢ় হতে, আকাশ শেখায় দান,
নদী শেখায় ছুটে চলা কল্যাণেরই গান।
বৃক্ষ শেখায় ফল বিলাতে প্রতিদানের আশাহীন,
প্রকৃতির প্রতিটি পাঠ মানবতার ঋণ।
অসহায়ের কান্নাধ্বনি শুনে যদি কাঁপে প্রাণ,
সেই হৃদয়েই ফুটে ওঠে ঈমানের সম্মান।
ক্ষুধার্ত মুখে একমুঠো অন্ন, তৃষ্ণায় একপেয়ালা জল,
আল্লাহর কাছে হয়ে ওঠে অমূল্য অর্ঘ্য সম্বল।
হাসিমুখে একটি সম্ভাষণ, কোমল দুটি বাণী,
ভেঙে দিতে পারে কত শত দুঃখের কারাগারখানি।
একটি হাতের স্পর্শ যদি সাহস জাগায় মনে,
তবে সে হাত ধন্য হবে রবের অনুগ্রহে।
ইসলাম বলে—দয়া করো, করো না অবহেলা,
মানুষ সেবার মাঝেই লুকায় জান্নাতের মেলা।
রাসূল ছিলেন রহমতের অফুরন্ত আলো,
তাঁরই পথে চলতে শিখো, হবে জীবন ভালো।
এতিমের চোখের জল মুছো, বৃদ্ধকে দাও মান,
প্রতিবেশীর সুখ-দুঃখে রেখো সমান টান।
অভাবীর মুখে আহার তুলে হাসি যদি ফোটাও,
নিজের আমলনামায় অমূল্য সম্পদ গড়াও।
দান যেন হয় নীরব নদী, অহংকারহীন ঢেউ,
খ্যাতির মোহে হারিয়ে ফেলো না সেবার সত্য ঢেউ।
ডান হাত যা দেয়, বাঁ হাত জানুক না সে কথা,
নিঃস্বার্থ কর্মেই লুকিয়ে থাকে রবের সন্তুষ্টতা।
শিক্ষক যদি আলোর শপথ বুকে ধারণ করেন,
শত শত প্রাণ জ্ঞানের সূর্য হয়ে উদয় ধরেন।
চিকিৎসকের স্নেহমাখা সেবা, কৃষকের ঘামের ফল,
শ্রমিকের ঘামে গড়ে ওঠে সভ্যতারই সম্বল।
মায়ের মমতা, বাবার ত্যাগ, শিক্ষকের উপদেশ,
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে জীবনের পরিবেশ।
পরিবার যদি ভালোবাসায় গড়ে সোনার ঘর,
সমাজ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শান্তিরই প্রহর।
লোভ যেখানে আগুন জ্বালে, দয়া সেখানে জল,
ক্ষমার বৃষ্টিধারায় ধুয়ে যায় অন্যায়ের দল।
বিদ্বেষ যদি ভাঙে সেতু, প্রেম গড়ে নতুন পথ,
মানুষে মানুষে মিলনেই জীবনের সত্য রথ।
হে তরুণ, সত্যের পতাকা রাখো উঁচু করে,
অন্যায় দেখে নীরব থেকো না জীবনের তরে।
হে শিশু, শেখো ভাগাভাগি, শেখো ভালোবাসা,
এই শিক্ষাতেই ফুটে ওঠে মানবতার ভাষা।
হে ধনী, তোমার সম্পদ রবের আমানত,
অভাবীর হক আদায়ে মিলবে প্রকৃত বরকত।
হে জ্ঞানী, তোমার জ্ঞান দাও আলোর প্রদীপ করে,
একটি প্রাণ জাগলে তাতেই মানবতা জাগে ঘরে।
এই দুনিয়া ক্ষণিকেরই সফরখানা মাত্র,
আখিরাতের জীবনেরই রয়েছে স্থায়ী পত্র।
তাই সঞ্চয় করো এমন কর্ম, থাকবে যুগে যুগে,
মানুষের দোয়া হয়ে ফুটবে আলোর রঙে।
যে বাঁচে শুধু নিজের তরে, জীবন থাকে ক্ষয়,
যে বাঁচে মানুষের তরে, তারই চিরজয়।
মৃত্যু এলেও থামে না তার সেবার অমর গান,
মানুষের হৃদয়ে জেগে থাকে তারই সম্মান।
এসো তবে হাতে হাত রাখি, গড়ি প্রেমের দেশ,
ঘৃণার দেয়াল ভেঙে গাই ঐক্যের অনুরেশ।
ধর্ম শেখাক ন্যায়ের বাণী, মানবতার ডাক,
ভালোবাসার আলোকছটায় ভরে উঠুক পাক।
হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
আমাদের হৃদয় করুন করুণায় পূর্ণ,
অহংকার থেকে রাখুন দূরে।
দান করুন এমন জীবন,
যেখানে সেবাই আনন্দ,
পরোপকারই গৌরব,
মানবতাই পরিচয়,
আর আপনার সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।
দাও এমন শক্তি—
অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে,
সত্যের পথে অবিচল থাকতে,
অন্যের দুঃখ ভাগ করে নিতে,
আর প্রতিটি কর্মে
আপনার সন্তুষ্টি অর্জন করতে।
অন্যের অশ্রু মুছে যে হাসি ফোটায়,
তার জীবনই অমরতার আলোয় জ্বলে।
মানুষের সেবায় যে নিজেকে বিলায়,
আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন,
আর পৃথিবী তাকে স্মরণ রাখে
ভালোবাসার অক্ষয় ইতিহাসে।
১৪
২৪ মন্তব্য