নীল নদের প্লাবনের পর সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও পিরামিড নির্মাণের জন্য মিশরীয়রা ব্যাবহারিক জ্যামিতির সূত্র ব্যবহার শুরু করে। ব্যাবিলনীয়রা বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রিতে ভাগ করা এবং ক্ষেত্রফল নির্ণয়ের প্রাথমিক কৌশল আবিষ্কার করে।
প্রাচীন ভারত (শুল্বসূত্র)
খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ - ৫০০ অব্দ
ভারতীয় গণিতবিদরা (যেমন: বাউধায়ন) 'শুল্বসূত্র' রচনা করেন, যেখানে নিখুঁত কোণ ও আকৃতির যজ্ঞবেদি তৈরির জন্য জ্যামিতিক অনুপাত এবং পিথাগোরাসের উপপাদ্যের প্রাথমিক রূপ ব্যবহৃত হতো।
গ্রিক সভ্যতা ও জ্যামিতির স্বর্ণযুগ
খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ - ৩০০ অব্দ
গ্রিক গণিতবিদ থেলিস ও পিথাগোরাস জ্যামিতিতে গাণিতিক প্রমাণের নীতি যুক্ত করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে ইউক্লিড তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Elements' রচনা করে জ্যামিতিকে একটি সুসংবদ্ধ ও যুক্তিভিত্তিক শাস্ত্রে রূপ দেন। তাঁকে ‘জ্যামিতির জনক’ বলা হয়।
ইসলামি স্বর্ণযুগ
৮ম - ১৪শ শতক
মুসলিম গণিতবিদরা গ্রিক জ্ঞান সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করেন। আল-খাওয়ারিজমি বীজগণিতকে জ্যামিতির সাথে যুক্ত করেন এবং ওমর খৈয়াম কোণ ও ঘাত সমীকরণের জ্যামিতিক সমাধান উপস্থাপন করেন।
স্থানাঙ্ক ও আধুনিক জ্যামিতি
১৭শ - ১৯শ শতক
১৬৩৭ সালে রেনে দেকার্ত (René Descartes) স্থানাঙ্ক জ্যামিতি (Analytic Geometry) আবিষ্কার করে বীজগণিত ও জ্যামিতিকে একত্রিত করেন। পরবর্তীতে কার্ল ফ্রিডরিশ গাউস ও বের্নহার্ড রিম্যান নন-ইউক্লিডীয় জ্যামিতি (Non-Euclidean Geometry) বিকাশ করেন, যা পরবর্তীতে আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে।
১৪
২৪ মন্তব্য