সহকারী শিক্ষক
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
জীবনের প্রথম ডাকটিকিট
মোস্তাফিজুর রহমান কবি ও শিক্ষক
রচনাকাল: ১২/০৩/২০০৯
কম্পো নদীর বাঁকে শৈশবের রোদ্দুর নামে,
চার ভাই, চার বোন—ঘরে খেলা আনন্দের দামে।
সবার সাথে কলকাকলি, পড়তে বসা ভোরবেলা,
জীবনের প্রথম পাঠশালায় শুরু হলো কোন চেতনা-খেলা!
১৯৯৪ সালের পহেলা জানুয়ারি, কুয়াশা মোড়া প্রভাত,
সামাজিকীকরণের প্রথম সিঁড়িতে দাঁড়ানোর আকুল সাক্ষাৎ!
কৈশোরিক তাড়না আর বিকাশের দুরন্ত সে মিছিলে,
আমার সত্তায় জেদ চেপেছে—আজই আমি হবো সামিল।
বড় ভাইবোনদের ভিড়ে, স্মারক ডাকটিকিটের সারি,
নান্দনিক ফিলাটেলির আবেশে কেন আমার ঝুলি খারি?
মনোবৈজ্ঞানিক সংকটে অপূর্ণ রয়ে গেল অধিকারের তাগিদ,
বঞ্চনার শীতে থমকে গেল শিশুর সমস্ত আবেগ ও প্রীতি।
শিক্ষাগুরুর আসন থেকে নেমে এল প্রবীণ এক পরীক্ষা,
নতুন বইয়ের স্বর্গের বদলে হাতে এল পুরোনো কিতাব-শিক্ষা।
সংজ্ঞানাত্মক বিকাশের গ্রাফে সে এক তীব্র আঘাত,
বুকভরা ক্ষোভ আর দ্রোহের অনলে জ্বলে উঠল প্রপাত!
অভিমানের ঝড় তুলে আমি ছুঁড়ে মারলাম বই দূরে,
প্রকৃতির জীববিজ্ঞসীয় ছন্দে সেদিন কেঁদেছিল মন কোন সুদূরে?
তখন মেজো ভাই এগিয়ে এসে, সমাজমনোবিজ্ঞানের টানে,
স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিলেন পরম যতনে ও মানে।
স্মারক ডাকটিকিটের ৬ টাকা আর ২ টাকার মেলবন্ধনে,
শিক্ষার অধিকার ফিরে পেল এক অবুঝ শিশু প্রাঙ্গণে।
সেদিন দর্শনের মায়ায় লেখা হলো জীবনের প্রথম শিক্ষার খাতা,
প্রকৃতি ও মানুষের কর্মচঞ্চলতায় মোড়া—ডাকটিকিটের আঠা মাখা সোনালী পাতা!
১৪
২৪ মন্তব্য