সহকারী শিক্ষক
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৩:১৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ঝুনঝুনি গাছ
যাদের বাড়ি বাংলার গ্রামে তারা এই গাছটিকে অবশ্যই চিনতে পারবেন। চলার পথের পাশে মাঠে ঘাটে অনেক জায়গাতেই দেখা যায় এই বুনো গাছটি। ছোটরা এর পাকা দলের গুচ্ছ ছিঁড়ে মজা করে ঝাঁকায় আর ভেতরের বীজ ঝুনঝুন করে বাজে।
ঝুনঝুনি গাছ একটি সুন্দর হলুদ ফুলের বুনো উদ্ভিদ। এটি শিম পরিবারের সদস্য এবং বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে রাস্তার ধারে, পতিত জমি, মাঠের কিনারা ও খোলা স্থানে স্বাভাবিকভাবে জন্মাতে দেখা যায়।
বৈজ্ঞানিক নাম: Crotalaria retusa
পরিবার: Fabaceae (শিম পরিবার)
ইংরেজি নাম: Wedge-leaf Rattlepod, Rattlebox
ফুল উজ্জ্বল হলুদ রঙের। অনেক সময় পাপড়িতে লালচে বা বাদামি দাগ দেখা যায়। থোকায় থোকায় ফুল ফোটে, যা গাছটিকে খুব আকর্ষণীয় করে তোলে। সাধারণত বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বেশি ফুল ফোটে।
এটি একবর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ।
উচ্চতা সাধারণত ৩০ সেন্টিমিটার থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত হয়।
পাতাগুলি সরল, লম্বাটে এবং মসৃণ।
ফল শুঁটির মতো এবং শুকিয়ে গেলে ভেতরের বীজ নড়াচড়ায় ঝুনঝুন শব্দ করে। এই বৈশিষ্ট্য থেকেই বাংলায় ঝুনঝুনি বা ঝুমঝুমি গাছ ও ইংরেজিতে Rattlepod বলা হয়।
এর শিকড়, পাতা ও বীজ আয়ুর্বেদ ও গ্রামীণ চিকিৎসায় বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে, যেমন—বাত ব্যথা, পেটের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের ক্ষত দূর করতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
তবে গাছটির বীজ ও অন্যান্য অংশে পাইরোলিজিডিন অ্যালকালয়েড নামের বিষাক্ত যৌগ থাকে। মানুষ বা গবাদিপশুর জন্য এটি খাওয়া নিরাপদ নয় এবং অতিরিক্ত গ্রহণ করলে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে।
উজ্জ্বল হলুদ ফুলের জন্য এটি অনেক সময় শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবেও নজর কাড়ে। পাশাপাশি মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগবাহীদের আকর্ষণ করে, ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এর ভূমিকা রয়েছে।
১৪
২৪ মন্তব্য