প্রধান শিক্ষক
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা খেলাধুলা ও বিনোদনের সময় থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। অথচ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। এ উপলব্ধিবোধ পরিবার, সমাজ, সচেতন নাগরিক, সুধীসমাজ, রাষ্ট্রের মাঝে বিদ্যমান। অথচ তাদের খেলাধুলার অধিকার হরণ করে প্রতারণা করে চলেছে।রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের সন্তানদের খেলাধুলা ও বিনোদনের অধিকার হরণ করা হচ্ছে না। রাষ্ট্রের শিশুদের প্রতি এ বৈষম্য কোনো অবস্থায় কাম্য নয়।
সাধারণত নিম্ন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের খেলাধুলা, বিনোদনের অধিকার হরণ করে চলেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সময়সূচি। উন্নত বিশ্বের কর্মঘণ্টার এক করার অভিপ্রায়ে কর্তাব্যক্তিরা এনজিও পরামর্শক্রমে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তারা উন্নত বিশ্বের কর্মঘণ্টার সঙ্গে আমাদের দেশের একই কর্মঘণ্টার ষড়যন্ত্রে বিভোর। তারা মনে করেন, এ একটি ষড়যন্ত্রই সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা বিলীন করার জন্য যথেষ্ট। তারপর তারা নানা অপবাদ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বেসরকারীকরণ করে শিশু শিক্ষা নিয়ে এনজিওগুলো তাদের বাণিজ্য সমৃদ্ধ করতে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা, শিক্ষকদের করুণ যন্ত্রণাময় জীবনযাপনের সঙ্গে উন্নত বিশ্বের ব্যবধান উপলব্ধিতে না নিয়ে শিশুদের খেলাধুলা, বিনোদনের অধিকার হরণসহ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের ধনী পরিবারের সন্তান ব্যতিরেকে প্রায় সব শিশুই তাদের পরিবারকে নানাকাজে সহযোগিতা করে থাকেন। সরকারের উপবৃত্তি, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, নানা ধরনের সহযোগিতার পরও অতি দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকদের সন্তানরা এ যন্ত্রণাময় সময়সূচির জন্য তাদের সন্তানদের বেতনও আনুষঙ্গিক ব্যয় করে বেসরকারি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে আগ্রহী। কারণ তাদের কাছে সরকারের নানা সুযোগ-সুবিধার চেয়ে পরিবারকে দেখভাল, দুপুরে গরম খাবার খাওয়া, ঘুমানো বা বিশ্রাম, বিকেলে খেলাধুলার বেশি প্রয়োজন।
বর্তমান সরকার পাঠ্যবইয়ে চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণিতে খেলাধুলা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছেন। খেলাধুলা, বিনোদনের মাধ্যমে শিশুর শারীরিক মানসিক বিকাশ হয়ে থাকে, যার ফলে সুস্থ শরীর ও মন পাঠের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করে থাকে। শুধু পাঠ্যপুস্তকে পাঠদান করে, খেলাধুলার সময় না দিয়ে পরিপূর্ণতা আসবে না।
আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে বেসরকারি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো শিশুবান্ধব সময়সূচি দুপুর ২টার মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম শেষ করার বিনীত নিবেদন রইল। খেলাধুলা, পড়াশোনা, বিনোদন শিশুর শিক্ষা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সমৃদ্ধ হোক। এ আশায়।
১
১ মন্তব্য