সহকারী শিক্ষক
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৬:২০ পূর্বাহ্ণ
একজন এফ গ্রেডের মানুষ এবং আমার ভাবনা!
একজন এফ গ্রেডের মানুষ এবং আমার ভাবনা!
আমি একদম সামান্য একজন শিক্ষক। মানে কতটা সামান্য, তা আমি বলে বোঝাতে পারব না। শূন্যের মতো—ঠিক শূন্যের মতো। অথবা ধরে নিতে পারি, এফ গ্রেডের কাছাকাছি। কিংবা এই ডি লেভেলের হবে। মানে কোনো রকমে তেত্রিশ-চৌত্রিশ পেয়ে পাস করার মতো অবস্থায় একজন শিক্ষক হিসেবে আমি।
আর মানুষ হিসেবে? এফ? নিজেই জানি না, আদৌ এফ-এর নিচে আরও কোনো গ্রেড আছে কি না। এফ গ্রেডের কাছাকাছি! মানে আমাকে নাম্বার দিয়ে পাস করাতে হয়—অনেকটা তেমন।
অর্থাৎ একজন শিক্ষক হিসেবে হোক, মানুষ হিসেবে হোক—একদম শূন্য লেভেলে, জিরো লেভেলে। ধরে নেওয়া যায়, এই দুনিয়ার কোনো জ্ঞানই আমার নেই। কোনো জ্ঞান নেই। আপনি আমাকে যে বিষয়ই বলবেন, সে বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই। আবার আমি যে কিছু পারি, কিংবা কিছু পারব—এমনও নয়।
ডান, বাম, সামনে, পিছনে, উপরে, নিচে—এই পৃথিবীর কোনো জ্ঞানই আমার নেই। কোনো কিছুতেই আমি খুব বেশি পারদর্শী নই। তবে হ্যাঁ, হালকা হালকা ইচ্ছা আছে।
দেখতে দেখতে জীবনের অনেকগুলো বছর, অনেকটা সময়, অনেকটা বস্তুত শূন্যেই কেটে গেল। কিন্তু কী করলাম? একদম শূন্য। এই পৃথিবীর সঙ্গে যদি তুলনা করি, তবে হ্যাঁ—খড়কুটোর থেকেও নগণ্য।
যাহোক কথায় কথা বাড়ে। তর্কে বাড়ে তর্ক। কথাও নয়, তর্কও নয়। শুধু চাই—একটা সুন্দর সৌন্দর্যকে, একটা সত্যিকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে।
আমি অনেকগুলো বিষয় বেশ অপছন্দ করি। প্রথমত হলো কারও দোষ ধরা। দ্বিতীয়ত হলো কারও দোষ ধরা। তৃতীয়ত হলো কারও দোষ ধরা।
কারণ আমার নিজেরই এত বেশি দোষ, এত বেশি অপূর্ণতা, এত বেশি না-পারা—যে অন্য কারও দোষ ধরার সুযোগই আমার নেই। অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের হাতের দাগগুলোই চোখে পড়ে।
যাহোক।
মূল কথা হলো—খেলতে হবে,পড়তে হবে।
খেলাতে হবে,পড়াতে হবে।।
হয়তো আমি খুব সামান্য।
হয়তো আমার জ্ঞান খুব কম।
হয়তো আমার সামর্থ্যও সীমিত।
হয়তো জীবনের অনেকটা পথ শূন্যের মতোই কেটে গেছে।
তবু খেলতে হবে।
কারণ শূন্য থেকেও তো কোনো একদিন শুরু করা যায়।
খেলতে হবে।
খেলাতে হবে।
আর কিছুই না।
আর কিছুই না। উদার আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখ,দেখ বিশাল তারকার দিকে! দূর থেকে তারা কতটা ক্ষুদ্র! এই পৃথিবীর কিছুই বিশেষ বড় নয়!
১৪
২৪ মন্তব্য