Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ

আমরা হারিনি,আমরা জিতে গেছি!

আমরা হারিনি, আমরা জিতে গেছি!


সম্ভবত আজ আমরা ফুটবল খেলায় হেরে গেছি। ৪-৫  গোলের ব্যবধানে হেরেছি। অর্থাৎ আমরা একটি গোল কম দিতে পেরেছি।

তবে না—আমরা একদম হারিনি। আমরা জিতে গেছি।

জিতে গেছেন আমাদের শিক্ষকরা।

আমরা কয়রার কাছে হারিনি; বরং কয়রাও জিতেছে, আমরাও জিতেছি। সবচেয়ে বড় কথা—জিতেছে শিক্ষকসমাজ।

আমাদের অজয়  স্যারের বয়স এখন বাষট্টি ছুঁইছুঁই। এই বয়সে একজন মানুষ নব্বই মিনিট মাঠে থাকবেন—এটাই তো অকল্পনীয়! আমাদের অধিকাংশ শিক্ষকের বয়স চল্লিশ, পঁয়তাল্লিশ, পঞ্চাশের কাছাকাছি। অথচ আজ দুই দলে প্রায় পঞ্চাশজন শিক্ষক মাঠে নেমেছেন।

ভাবুন তো—পঞ্চাশজন শিক্ষককে এক জায়গায় একত্রিত করতে পারাটাই তো একটি বড় জয়!

এই বয়স তো যুবকদের।

এই বয়স তরুণদের।

এই বয়স শিশু-কিশোরদের।

কিন্তু আমাদের ব্যস্ত জীবনে, সংসারের চিন্তায়, দায়িত্বের ভারে যে তারুণ্যটাকে আমরা অনেক আগেই কোথাও তুলে রেখেছিলাম—আজ আমরা সেই তারুণ্যটাকেই আবার ফিরে পেয়েছি।

হ্যাঁ, আমরা সত্যিই জিতে গেছি।

জার্সি গায়ে, মাঠে নেমে, একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আমরা আবারও প্রমাণ করেছি—একতা থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

আমার একটাই অনুরোধ—এই একতাবদ্ধ হওয়াটাই যেন আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়। দল-মত, মতভেদ, ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশ—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আমরা যেন সংঘবদ্ধ  থাকি।

কারণ যারা সংঘবদ্ধ হতে পারে না, তারা কখনো বড় জয় অর্জন করতে পারে না।

জয় বিভাজনে নয়, জয় একতায়।

জয় প্রতিযোগিতায় নয়, জয় মিলে থাকাতে।

আপনি বা আপনারা আমাকে যেভাবেই বিচার করুন না কেন, আমার ভেতরে সবসময় একটি আকাঙ্ক্ষা আছে—একতাবদ্ধ হওয়ার, সংঘবদ্ধ  হওয়ার।

তাই আবারও পায়ে হাত দিয়ে অনুরোধ করছি—

আমরা একতাবদ্ধ থাকতে চাই।

আমাদের একটি ক্রিকেট দল থাকবে।

আমাদের একটি ফুটবল দল থাকবে।

আমাদের একটি ভলিবল দল থাকবে।

হতে পারে। কেন হবে না?

এটা কোনো কঠিন বিষয় নয়।

দুনিয়ার সবকিছু সবসময় অর্থ দিয়ে বিচার করা যায় না। অর্থ অনেকেরই আছে; কিন্তু একতাবদ্ধ হওয়ার মানসিকতা সবার থাকে না।

আজ মাঠে উপস্থিত সকল সম্মানিত শিক্ষকের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ সালাম। আপনাদের প্রায় সবাই যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন—তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানাই আমাদের প্রাক্তন উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা স্যারকে।

স্যার প্রাক্তন হয়েছেন, কিন্তু আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাননি। বরং যেন নতুন জীবন নিয়ে আবারও ফিরে এসেছেন। তরুণ শিক্ষকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে উপস্থিত হয়েছেন, আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা স্যার—আপনার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করি।

ভালো থাকবেন স্যার।

ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রইল।

আজকের ম্যাচের ফলাফল হয়তো এক গোলের হার।

কিন্তু আমাদের আসল স্কোর—একতা, ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব আর শিক্ষকসমাজের শক্তি।

সেই ম্যাচে আমরা সবাই জয়ী। ⚽❤️

মন্তব্য করুন

ব্লগ