Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ আগস্ট, ২০২৬ ০১:১২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে স্বজনের অপেক্ষায় নেপালি শিক্ষার্থী তারা থাপা: দ্রুত শুভ খবর চায়

নিজ দেশের বুক চিরে ধেয়ে আসা আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষত হাজার মাইল দূরে থাকা হৃদয়গুলোকেও ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে। তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও মাটির ধস নদীতে পড়ার পর নদীর কাদা-পাথরমিশ্রিত তীব্র ঢল নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বসতি, সড়ক ও সেতু। এতে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম, তখন বাংলাদেশে বসে প্রতিমুহূর্ত চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের নেপালি শিক্ষার্থীরা।

AIUB (300x250) 25-08-26

চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পাবলিক হেলথ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তারা থাপা মাগার। তার বাড়ি নেপালের রামেছাপ জেলার খাঁড়া দেবী পৌরসভায়। বিপর্যয় নেমে আসার আগে তার পরিবারের তিন স্বজন অন্য একটি জেলায় কাজ করতে গিয়েছিলেন; কিন্তু আকস্মিক বন্যার পর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ফোন বন্ধ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তারা বলেন, ‘আমার তিন স্বজন বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন; কিছুই জানি না। দেশ থেকে এত দূরে বসে শুধু অপেক্ষা করছি। এর চেয়ে অসহায় সময় আর কী হতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নেপালের প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। দুর্যোগের পর থেকে তারা এক মুহূর্তের জন্যও স্থির থাকতে পারছেন না। নিজেদের পরিবারের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে যাচাই করা জরুরি যোগাযোগের নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া এবং দুর্গত মানুষের জন্য সহায়তা সংগ্রহের কাজ করছেন তারা।

অনুরূপ আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তানাহুনের বাসিন্দা ও পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থী সুস্মিতা রোকা। যদিও কাঠমান্ডুতে থাকা তার মা-বাবা নিরাপদ, তবে তার এক সেনা কর্মকর্তা প্রতিবেশী ও নিকট বন্ধুর মামা এখনো নিখোঁজ। সুস্মিতা জানান, উজানের এলাকা থেকে ভেসে আসা মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পরিবারগুলো কেবল একটি ফোনকল বা অন্তত প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে বসে আছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ‘উইমেন নেপালি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে নেপাল দূতাবাসের সহায়তায় ত্রাণ ও অনুদানের তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

অন্যদের মতো ললিতপুরের শিক্ষার্থী অনিতা তিমালসিনাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। দূরে বসে স্বদেশের ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ও ভিডিও দেখে বিষাদে ছেয়ে গেছে তার মন। দুর্গতদের আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার আকুতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত নেপালের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

#নেপালি শিক্ষার্থী #পাহাড় #বন্যা

Bikash to get government education stipends (970x90)
0
0
0
0
0
0

আপনার জন্য

মন্তব্য করুন