সহকারী অধ্যাপক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ
নামাজ ও জিকির - মোঃ মুজিবুর রহমান
নামাজ ও জিকির
(মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তি,ও আল্লাহর নৈকট্যের পথ)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
ইসলাম হলো পূর্ণ জীবন, সত্যের সুন্দর পথ,
ইহকাল-পরকালের মাঝে কল্যাণেরই রথ।
মানুষ যেন সত্যে চলে, ন্যায়ের পথে রয়,
ঈমান, আমল, সৎচরিত্রে জীবন সুন্দর হয়।
নামাজ হলো মুমিনের প্রাণ, রবের সাথে সেতু,
জিকির হলো হৃদয়জুড়ে প্রশান্তিরই ঋতু।
নামাজে বান্দা দাঁড়ায় রবের দরবারে,
জিকিরে সে রবকে রাখে হৃদয়েরই দ্বারে।
নামাজে দেহ, মন, প্রাণে আনুগত্যের আলো,
জিকিরে অন্তর হয়ে ওঠে নির্মল, স্নিগ্ধ, ভালো।
নামাজ মানুষকে শেখায় বিনয়, শুদ্ধতা,
জিকির জাগায় অন্তরে প্রেম, আশা ও নম্রতা।
আল্লাহ বলেন—নামাজ মানুষকে মন্দ কাজ হতে,
অশ্লীলতা থেকে রাখে দূরে, সত্যের পথে যেতে।
আর তিনি বলেন—জেনে রেখো, স্মরণেই তাঁর নাম,
অন্তর পায় প্রশান্তি, মুছে যায় সব অবসাদ-জ্বালা-ঘাম।
তাই তো মুমিন জীবনজুড়ে রাখে দুটি ধন—
নামাজ আর জিকিরে গড়ে পবিত্র মন।
একটি আনে শৃঙ্খলা, অন্যটি শান্তি দেয়,
দুটির আলোয় মানুষ সত্যের পথে রয়।
নামাজ মানে শুধু নয় অঙ্গের ওঠা-বসা,
নামাজ মানে রবের কাছে আত্মসমর্পণের আশা।
তাকবির থেকে সালাম পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষণ,
রবের মহত্ত্ব স্বীকার করে নত হয় মন।
“আল্লাহু আকবার”—বলে যখন ওঠে হাত,
দুনিয়ার সব অহংকার তখন হয় নিঃপাত।
রবই বড়, রবই মহান, রবই সর্বশ্রেষ্ঠ,
তাঁরই কাছে মুমিন হৃদয় রাখে নিজের শ্রেষ্ঠ।
রুকুতে মাথা নত করে মানুষ শেখে মান,
সিজদাতে বিলীন হয় অহংকারের টান।
মাটির বুকে কপাল রেখে বান্দা তখন কয়—
“হে আমার রব, তোমার দয়া ছাড়া আমার কিছু নয়।”
সিজদাতে যে শান্তি নামে মুমিনেরই প্রাণে,
সে শান্তি কি পাওয়া যায় দুনিয়ার কোনো টানে?
রাজ্য, ধন, সম্মান, খ্যাতি যতই হোক মহান,
রবের কাছে সিজদাতেই মেলে শান্তির দান।
পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ তাই জীবনেরই ঘড়ি,
সময় হলে রবের ডাকে ছুটে যাই যে তরি।
ব্যস্ততারও মাঝখানেতে থামে দুনিয়ার কাজ,
মুমিন তখন স্মরণ করে—এসেছে নামাজ।
ফজরের সেই নির্মল আলো, স্নিগ্ধ ভোরের হাওয়া,
নামাজ শেষে হৃদয়জুড়ে প্রশান্তি যেন পাওয়া।
যোহরের ব্যস্ত দুপুরে রবের স্মরণ হয়,
আসরেরও ডাক শুনে মন আল্লাহমুখী রয়।
মাগরিব আসে দিনের শেষে সূর্য যখন ঢলে,
এশার নামাজ শান্তি আনে রাতের নীরব কোলে।
পাঁচটি সময় পাঁচটি শিক্ষা, পাঁচটি পবিত্র দ্বার,
নামাজ দিয়ে মুমিন পায় রবের নৈকট্য অপার।
নামাজ যদি সত্যিই থাকে অন্তরেরই মাঝে,
পাপের পথে পা বাড়াতে মানুষ কেন সাজে?
মিথ্যা কথা, প্রতারণা, অন্যায় আর লোভ—
নামাজের শিক্ষা পেলে কমে পাপের ক্ষোভ।
নামাজ বলে—সত্য বলো, অন্যায় থেকে ফেরো,
কারও হক নষ্ট কোরো না, মানুষের পাশে দাঁড়াও।
অহংকারে হৃদয় ভরো না, বিনয় ধরে চলো,
দুর্বল মানুষ দেখলে তাকে ভালোবেসে বলো।
যে নামাজ মানুষকে দেয় আল্লাহভীতির আলো,
তার চরিত্রে ফুটে ওঠে সত্য, ন্যায় আর ভালো।
জবান থাকে সংযত তার, দৃষ্টি থাকে নত,
অন্যের প্রতি আচরণে থাকে মমতার রত্ন।
নামাজ শুধু জায়নামাজে সীমাবদ্ধ নয় ভাই,
নামাজেরই শিক্ষা নিয়ে জীবন সাজাতে চাই।
মসজিদ থেকে ঘর অবধি, ঘর থেকে সমাজে,
নামাজের সেই সত্য শিক্ষা ফুটুক মানুষের কাজে।
জিকির মানে স্মরণ করা, রবকে মনে রাখা,
তাঁরই নামে প্রাণের মাঝে আলোর প্রদীপ আঁকা।
জবান যখন বলে—“সুবহানাল্লাহ” বারবার,
মনে জাগে রবের পবিত্র মহিমা অপার।
“আলহামদুলিল্লাহ”—বলে কৃতজ্ঞ হয় প্রাণ,
রবের দেওয়া সব নিয়ামতের স্বীকারোক্তি দান।
“আল্লাহু আকবার”—বলে মুমিনের অন্তর,
দুনিয়ার ভয়-ভালোবাসা ছাড়িয়ে হয় সুন্দর।
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”—তাওহিদেরই গান,
এক আল্লাহই উপাস্য—এটাই ঈমানের প্রাণ।
“আস্তাগফিরুল্লাহ”—বলে গুনাহের জন্য লাজ,
রহমতেরই আশায় ফিরে রবের দরবারে আজ।
জিকির শুধু মুখের কথা নয়—হৃদয়েরও কাজ,
জিকির মানে জীবনেরও আল্লাহমুখী সাজ।
মুখে যদি আল্লাহর নাম, কাজে যদি পাপ,
তবে জিকিরের শিক্ষা কোথায়? কোথায় তার জবাব?
জিকির যদি সত্যি থাকে অন্তরেরই ঘরে,
মানুষ তখন অন্যায়েরই পথে কেন ঝরে?
আল্লাহ স্মরণে জেগে ওঠে বিবেকের প্রদীপ,
গুনাহের আঁধার কেটে হৃদয় হয় দীপ্ত।
দুশ্চিন্তাতে ভেঙে গেলে হৃদয় যখন কাঁদে,
জিকির তখন শান্তি হয়ে পাশে এসে দাঁড়ায়।
ভয়ের রাতে, দুঃখের দিনে, বিপদেরই ক্ষণে,
আল্লাহর নাম সান্ত্বনা দেয় মুমিনেরই মনে।
ধনসম্পদে শান্তি মেলে—এ কথা সব নয়,
ক্ষমতা দিয়ে অন্তরজুড়ে প্রশান্তি আসে না হয়।
খ্যাতি, সম্মান, প্রাসাদ যত থাকুক চারিধার,
রবের স্মরণ ছাড়া হৃদয় থাকে অশান্ত অপার।
আল্লাহর স্মরণে অন্তর পায় শান্তির আলো,
দুঃখের মাঝেও মুমিন থাকে আশাবাদী ভালো।
ঝড়ের মাঝে নৌকা যেমন খোঁজে নিরাপদ ঘাট,
জিকির তেমনি মুমিনের প্রাণে দেয় শান্তির পাঠ।
তাই বিপদ এলে বলো—“হে আল্লাহ, তুমি আছ”,
অন্ধকারের গভীর রাতে তোমারই দিকে চাও আজ।
সুখের দিনে বলো—“হে রব, তোমার শুকরিয়া”,
দুঃখের দিনে বলো—“তুমিই আমার ভরসা দিয়া।”
ভুল হয়ে গেলে বলো—“রব, ক্ষমা করো আমায়”,
গুনাহ ছেড়ে ফিরে এসো তাঁরই রহমত-ছায়ায়।
সিদ্ধান্তের কঠিন ক্ষণে তাঁর ওপর রাখো ভরসা,
তাওয়াক্কুলে দৃঢ় হলে কমে মনের ভয়-হতাশা।
সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষে বসো কিছুক্ষণ,
রবের স্মরণে ভরে উঠুক তোমার অন্তর-মন।
“আস্তাগফিরুল্লাহ”—তিনবার বিনয়ে বলো,
নিজের ত্রুটি স্মরণ করে রবের দিকে চলো।
তারপর বলো—“আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম”,
তোমার কাছেই শান্তি—তুমিই শান্তির ধাম।
“তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম”,
মহিমা ও সম্মানের মালিক তুমি মহান।
তাসবিহে বলো—“সুবহানাল্লাহ” তেত্রিশ বার,
তাহমিদে—“আলহামদুলিল্লাহ” কৃতজ্ঞতার ভার।
তাকবিরে—“আল্লাহু আকবার” তেত্রিশ বার,
রবের মহিমা ছড়িয়ে দিক অন্তরজুড়ে ঝরঝর।
তারপর বলো—“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” একবার,
তাওহিদের সে ঘোষণা হোক জীবনের অঙ্গীকার।
রাজত্ব তাঁর, প্রশংসা তাঁর, ক্ষমতাও তাঁরই,
তাঁরই হুকুম মেনে চলি—এই হোক প্রাণের তরী।
আয়াতুল কুরসি পাঠে জাগুক ঈমানের আলো,
রবের জ্ঞান ও ক্ষমতা জেনে অন্তর হোক ভালো।
তাওহিদের বিশ্বাস হোক আরও দৃঢ়, নির্মল,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে জীবন হোক উজ্জ্বল।
নীরব রাতে চুপটি করে যখন বসো একা,
অন্তর দিয়ে রবকে ডেকে নিও তাঁকে দেখা।
নিচু স্বরে, নীরব মনে স্মরণ করো তাঁকে,
লোকদেখানো থেকে বাঁচো, একনিষ্ঠ হও প্রাণে।
গোপন আমল মানুষকে দেয় ইখলাসেরই পাঠ,
রবের জন্য কাজ করাই মুমিনের অঙ্গীকার।
মানুষ দেখুক—এই আশা নয় ইবাদতের প্রাণ,
আল্লাহ দেখেন—এই বিশ্বাস হোক হৃদয়ের গান।
কখনো জিকির উচ্চস্বরে, কখনো নিচু স্বরে,
শরিয়তের বিধান মেনে করো আপন ঘরে।
স্থান-কাল আর পরিবেশের রাখো যথা মান,
অন্যের ইবাদতে যেন না ঘটে কোনো বিঘ্নদান।
ইবাদতের সৌন্দর্য হলো ভারসাম্যের পথ,
সুন্নাহ মেনে চলাই তো মুমিনের শপথ।
বাড়াবাড়ি নয়, অবহেলাও নয়—মাঝের পথে চলো,
ইখলাস, বিনয়, সুন্নাহ ধরে জীবনটাকে গড়ো।
ভোরের আলো ফুটলে আগে স্মরণ করো রব,
তাঁরই দয়ায় নতুন দিনের হলো সূর্যোদয় নব।
ফজরের নামাজ শেষে কুরআন হাতে নাও,
সকালবেলার দোয়া-জিকির অন্তরে জাগাও।
দিনভর যত কাজই থাকুক, রবকে ভুলো না,
ব্যস্ততার অজুহাতে হৃদয়টাকে শূন্য কোরো না।
পথ চলতে, কাজের ফাঁকে, অবসর সময়জুড়ে,
আল্লাহরই স্মরণ থাকুক হৃদয়েরই নীড়ে।
সন্ধ্যা নামে—দিনের শেষে ফিরে তাকাও প্রাণে,
কত ভুল আর কত ভালো কাজ করেছি জীবনে?
রবের কাছে শুকরিয়া দাও, ক্ষমা চাও বারবার,
আগামী দিন ভালো হওয়ার করো দৃঢ় অঙ্গীকার।
রাতের নীরব আকাশজুড়ে তারার মেলা হলে,
রবের নাম নাও তুমি সেই শান্ত রাতের কোলে।
ঘুমের আগে হৃদয়টাকে করো পবিত্র, শান্ত,
জিকিরে জেগে থাকুক ঈমান, হোক জীবন প্রশান্ত।
শুধু মুখে “আল্লাহু আকবার”—কাজে যদি অহংকার,
তবে কোথায় জিকিরের সেই মহান অঙ্গীকার?
মুখে যদি “আস্তাগফিরুল্লাহ”—পাপে যদি মন,
তবে ইস্তিগফারের শিক্ষা কোথায়, বলো আপন?
মুখে যদি “আলহামদুলিল্লাহ”—অকৃতজ্ঞ আচরণ,
নিয়ামতের শুকরিয়া কোথায়? কোথায় কৃতজ্ঞ মন?
তাই জিকিরের শব্দগুলো জীবনজুড়ে আনো,
কথার সঙ্গে কাজ মিলিয়ে সত্য মুমিন হও।
“আল্লাহু আকবার”—বলে মানুষের হক নষ্ট নয়,
“আস্তাগফিরুল্লাহ”—বলে পাপ আঁকড়ে থাকা নয়।
“আলহামদুলিল্লাহ”—বলে নিয়ামত ভুলে যাওয়া নয়,
জিকির মানে জীবনজুড়ে রবের আনুগত্যময়।
জিকির মানে সত্য বলা, জিকির মানে ন্যায়,
জিকির মানে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
জিকির মানে দয়া করা, ক্ষমা করা মন,
জিকির মানে মানুষেরও রক্ষা করা ধন।
নামাজ যদি হৃদয় ছোঁয়, বদলে যাবে মন,
জিকির যদি প্রাণে জাগে, শুদ্ধ হবে জীবন।
সততার ফুল ফুটবে তখন চরিত্রেরই বনে,
বিনয়েরই সুবাস ছড়াবে মানুষেরই মনে।
ধৈর্য বাড়বে, রাগ কমবে, ক্ষমা হবে দান,
সহমর্মী হবে মানুষ, বাড়বে সম্মান।
লোভ কমে সংযম বাড়ে, মুছে হিংসার কাল,
ন্যায়ের পথে চলতে শেখে মুমিন অবিচল।
যে হৃদয়ে আল্লাহর ভয়, সে অন্যায় করে না,
অন্যের অধিকার জেনে-শুনে কেড়ে নিতে চায় না।
মিথ্যা, গিবত, প্রতারণা থেকে রাখে নিজেকে দূর,
মানুষের প্রতি ভালোবাসায় জীবন হয় ভরপুর।
নামাজে শেখে শৃঙ্খলা, জিকিরে পায় ধ্যান,
দুটির আলোয় সুন্দর হয় মানুষেরই প্রাণ।
ইবাদত যদি চরিত্রে না আনে কোনো রং,
তবে নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে হবে ঢের সংগ।
প্রতিদিনই নিজেকে প্রশ্ন—“আমি কেমন আছি?”
রবের পথে সঠিকভাবে কতটা এগিয়ে যাচ্ছি?
কারও হক কি নষ্ট করেছি? করেছি কি অন্যায়?
কাউকে কি কষ্ট দিয়েছি কথায় কিংবা আচরণে ভাই?
আমি কি সত্য বলি? আমি কি ন্যায় করি?
গোপনে কি গুনাহ করি? প্রকাশ্যে কি ভরি?
নিয়ামতের জন্য কি আমি কৃতজ্ঞ, শুকরগুজার?
বিপদ এলে রবের ওপর রাখি কি অটুট ভার?
নামাজ যখন সামনে আসে, থামাও জীবনের গতি,
জিকির যখন হৃদয় ভরায়, মুছে যায় সব ক্ষতি।
আত্মসমালোচনার পথে মানুষ হয় সচেতন,
ভুল বুঝে ফিরে আসে রবেরই শরণ।
আদর্শ পরিবার শুধু অর্থে গড়া নয়,
ঈমান-নৈতিকতা ছাড়া সুখ কি পূর্ণ হয়?
ঘরে যদি নামাজ থাকে, থাকে কুরআনের আলো,
সন্তানেরও মন গড়ে ওঠে নির্মল, সত্য, ভালো।
বাবা যদি নামাজ পড়েন, মা যদি পড়েন নামাজ,
সন্তান তখন দেখে শেখে ইবাদতেরই সাজ।
বিপদে যদি ধৈর্য ধরেন, সুখে শুকরিয়া করেন,
সন্তান বাস্তব জীবন থেকে ইসলামের পাঠ নেন।
শুধু মুখে উপদেশ দিয়ে আদর্শ হওয়া যায়?
নিজের আমল সামনে রেখে শিক্ষা দিতে হয় ভাই।
সন্তানের হাতে জ্ঞানের সাথে দাও আমলের ধন,
নামাজ, জিকির, সৎচরিত্রে গড়ো তার জীবন।
ঘরের ভেতর কুরআনের সুমধুর ধ্বনি বাজুক,
দোয়া-জিকিরে প্রতিটি প্রাণ আলোকিত হোক।
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ক্ষমা থাকুক পরিবারের প্রাণে,
ইসলামের সৌন্দর্য ফুটুক ঘরের প্রতিটি টানে।
ছাত্রজীবন গড়ার সময়, চরিত্র গড়ার কাল,
এই সময়ের ভালো অভ্যাস সারা জীবন ঢাল।
সময় মেনে নামাজ পড়ো, জিকির করো মনে,
জ্ঞান অর্জন করো নিষ্ঠায়, সত্যেরই অন্বেষণে।
নামাজ শেখায় সময়ের মূল্য, শৃঙ্খলার পাঠ,
জিকির শেখায় অন্তরজুড়ে আল্লাহরই স্মরণ।
শিক্ষকের প্রতি সম্মান, বাবা-মায়ের মান,
সত্যবাদিতা, বিনয়—এসব হোক তোমার প্রাণ।
পড়াশোনায় মনোযোগ দাও, জ্ঞানের আলো নাও,
অন্যায় পথে বন্ধুর ডাকে কখনো সাড়া দিও না।
জীবন হবে সুন্দর যখন জ্ঞান-আমল মেলে,
আদর্শ মানুষ তখনই গড়ে ওঠে জীবনের খেলায়।
ডিগ্রি শুধু শিক্ষার শেষ—এ কথা সত্য নয়,
জ্ঞান যদি চরিত্রে না আসে, শিক্ষা পূর্ণ নয়।
নামাজ-জিকির, জ্ঞান ও নীতি—চারটি হোক সাথি,
তবেই গড়বে সুন্দর জীবন, সুন্দর হবে মাটি।
আজকের মানুষ ব্যস্ত খুব, সময় যেন কম,
তথ্য-প্রযুক্তির ভিড়ে অস্থির হয় মন।
হাতে মোবাইল, চোখে স্ক্রিন, দুশ্চিন্তায় প্রাণ,
তবু যেন হারিয়ে না যায় আল্লাহরই স্মরণ।
কাজের মাঝে, পথের মাঝে, অবসর ক্ষণে ক্ষণে,
রবের নামটি স্মরণ করো অন্তরেরই কোণে।
দুনিয়ার কাজে থাকো তুমি, রবকে ভুলো না,
ব্যস্ততার অজুহাতে ঈমানটাকে শূন্য কোরো না।
নামাজ হবে সময়ের মাঝে পবিত্র বিরতি,
জিকির হবে হৃদয়জুড়ে প্রশান্তিরই গীতি।
কুরআন হবে পথের আলো, দোয়া হবে সাথি,
ইস্তিগফার মুছে দেবে ভুলের কালো রাতি।
মানুষ যেন না দেখে—এই আমল নয় ভাই,
আল্লাহ যেন খুশি হন—এই কামনা চাই।
ইবাদতের প্রাণ হলো একনিষ্ঠতার আলো,
লোকদেখানো আমল থেকে দূরে থাকাই ভালো।
গোপন আমল হৃদয়জুড়ে বাড়ায় ইখলাস,
রবের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াই তো আশ্বাস।
মানুষ প্রশংসা করুক—এ আকাঙ্ক্ষা নয় প্রাণ,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের সম্মান।
জিকির যখন করবে তুমি, মনে রেখো এই—
“মানুষের জন্য নয়, রবের জন্যই।”
হৃদয় যদি সত্য হয়, আমল হবে সুন্দর,
ইখলাসের আলোয় জীবন হবে আরও মধুর।
কুরআন হবে জীবনেরই পথ দেখানো আলো,
নামাজ হবে শৃঙ্খলা, জিকির হবে ভালো।
দোয়া হবে অসহায়ের রবের কাছে ভাষা,
ইস্তিগফার হবে গুনাহ মুছে ফেরার আশা।
কুরআন শুধু পড়ার জন্য নয়—জীবনেরই পাঠ,
বুঝে শুনে মানতে হবে তারই সত্য কথা।
তিলাওয়াতে মধুরতা, অর্থে জাগুক জ্ঞান,
আমলে তার প্রতিফলন—এটাই সত্য সম্মান।
নামাজ থাকবে, জিকির থাকবে, কুরআন থাকবে সাথে,
দোয়া থাকবে প্রতিদিনের সুখ-দুঃখেরই রাতে।
সৎকর্ম হবে জীবনেরই সুন্দর অলংকার,
তাকওয়া হবে চরিত্রজুড়ে আলোরই মিনার।
যখন আপন মানুষ দূরে সরে, হৃদয় ভেঙে যায়,
যখন আশা হারিয়ে মানুষ একলা হয়ে যায়,
যখন চোখে অশ্রু নামে, কাঁদে নীরব রাত,
তখন বলো—“হে আল্লাহ, তুমিই আমার সাথ।”
দুনিয়ার সব দরজা যদি বন্ধ হয়ে যায়,
রবের দরজা খোলা থাকে—তাঁর রহমত চায়।
মানুষ যদি ফিরেও যায়, রব তো ফিরেন না,
তাঁর রহমতের সাগর কখনো শুকিয়ে যায় না।
জিকির করো, দোয়া করো, ধৈর্য ধরে থাকো,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সোজা পথে হাঁটো।
দুঃখ যদি আসে, বলো—“এও রবের পরীক্ষা”,
সবর করে এগিয়ে চলো, হারিয়ে ফেলো না আশা।
সুখ এলে ভুলে যেও না যিনি দিলেন সুখ,
নিয়ামতের মালিক তিনি—তাঁরই দয়া অসীম।
ঘর, পরিবার, স্বাস্থ্য, জ্ঞান, অন্ন, বস্ত্র, প্রাণ,
সবই তো তাঁর দান—কীসের এত অহংকার?
“আলহামদুলিল্লাহ”—বলো নিয়ামতের জন্য,
শুকরিয়াতে বাড়ে বরকত, সুন্দর হয় মন।
নিয়ামত পেয়ে অন্যকে যে সাহায্য করে,
সেই তো সত্য কৃতজ্ঞ, রবের সন্তুষ্টি ধরে।
যদি সত্যি নামাজ আসে মানুষেরই প্রাণে,
মিথ্যা কমবে সমাজজুড়ে, ন্যায় আসবে টানে।
প্রতারণা কমবে, কমবে জুলুম-অন্যায়,
অহংকারের কালো ছায়া ধীরে ধীরে যায়।
হিংসা কমবে, অশ্লীলতা কমবে সমাজে,
মানবিকতা ফুটবে আবার মানুষেরই মাঝে।
ভালোবাসা বাড়বে, বাড়বে ক্ষমাশীল মন,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াবে শক্তিমানজন।
মানুষ তখন মানুষ হবে মানুষেরই তরে,
দুঃখীর চোখের অশ্রু মুছে দেবে ভালোবেসে ঘরে।
ন্যায়বোধ জাগবে, সত্য হবে প্রতিষ্ঠিত,
সততার আলোয় সমাজ হবে সুন্দর, পবিত্র, দীপ্ত।
নামাজের আলো ব্যক্তি থেকে পরিবারে যাক,
পরিবার থেকে সমাজজুড়ে নৈতিকতার ডাক।
সমাজ থেকে রাষ্ট্রে ছড়াক ন্যায় ও সত্যের আলো,
মানুষ হোক মানুষের জন্য—এই হোক আশা ভালো।
নামাজ যদি শুধু হয় অভ্যাসেরই নাম,
জিকির যদি শুধু হয় মুখের উচ্চারণ,
তবে তার গভীর শিক্ষা কোথায় গেল বলো?
জীবন যদি না বদলায়, কী পেলাম তবে আলো?
নামাজ শেষে জবান যদি মিথ্যায় ভরে যায়,
জিকির শেষে গিবত যদি মুখে ফিরে আসে ভাই,
কুরআন পড়ে অন্যের হক যদি করি নষ্ট,
তবে নিজের আমল নিয়ে ভাবা বড় প্রয়োজন।
নামাজ পড়ব—নামাজেরই শিক্ষা নেব প্রাণে,
জিকির করব—তার প্রভাব আনব আচরণে।
কুরআন পড়ব—কুরআনেরই নির্দেশ মানব,
ইসলামের সুন্দর পথে জীবনটাকে গড়ব।
ভোরের আগে ঘুম ভাঙিলে রবকে স্মরণ করো,
ফজরের সেই পবিত্র আলো হৃদয়জুড়ে ধরো।
নামাজ শেষে কুরআন পড়ো, সকাল জিকির করো,
দিনের শুরু আল্লাহর নামে সুন্দর করে ধরো।
দিনের কাজে সত্য থেকো, হক নষ্ট কোরো না,
লোভের কাছে বিবেকটাকে কখনো বিকিও না।
যখন আসে নামাজের সময়, সব কাজ থামিয়ে দাও,
রবের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর দরবারে যাও।
সন্ধ্যা হলে ফিরে এসো রবের স্মরণের ঘরে,
সারাদিনের ভুলের কথা ভাবো অন্তরে।
ক্ষমা চাও, শুকরিয়া দাও, দোয়া করো প্রাণে,
রাতের শেষে শান্তি খোঁজো আল্লাহরই স্মরণে।
এমন জীবন হোক আমাদের—নামাজে পরিপূর্ণ,
জিকিরে সজীব, কুরআনের আলোয় পূর্ণ।
চরিত্রে সুন্দর, কাজে সৎ, অন্তরে ঈমান,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের সম্মান।
হে আল্লাহ, নামাজকে করো আমাদের প্রাণ,
সিজদাতে দাও অশ্রু, দাও ঈমানের টান।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যেন না হয় কোনো ভার,
বরং হোক তোমার কাছে যাওয়ার শ্রেষ্ঠ দ্বার।
হে আল্লাহ, জিকিরে ভরাও আমাদের অন্তর,
গুনাহের আঁধার মুছে করো জীবন সুন্দর।
“সুবহানাল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ”—জাগুক প্রাণে,
“আল্লাহু আকবার” ধ্বনি উঠুক বিশ্বাসের গানে।
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”—হোক ঈমানের গান,
তাওহিদের আলোয় ভরে উঠুক মুমিনের প্রাণ।
“আস্তাগফিরুল্লাহ”—বলে ফিরি তোমার দ্বারে,
তোমার রহমত চাই আমরা দুঃখে ও অন্ধকারে।
কুরআন দাও বুঝে পড়ার, মানার তাওফিক,
নামাজ দাও খুশু দিয়ে, জিকির দাও গভীর।
দোয়ার মাঝে দাও অশ্রু, অন্তরে দাও ভয়,
তোমার সন্তুষ্টি ছাড়া যেন আর কিছু না চাই।
পরিবারে দাও ইবাদত, সন্তানদের দাও জ্ঞান,
শিক্ষার্থীদের দাও তুমি সৎচরিত্রের দান।
সমাজজুড়ে দাও ন্যায়নীতি, দাও মানবিক মন,
মানুষ যেন মানুষেরই হয় আপনজন।
মিথ্যা দূর হোক, অন্যায় দূর, দূর হোক অহংকার,
হিংসা-বিদ্বেষ মুছে যাক, ফুটুক প্রেম অপার।
সততা, দয়া, ক্ষমা, ন্যায়—হোক সবার সাজ,
নামাজ-জিকিরে আলোকিত হোক মানুষের সমাজ।
নামাজ হলো জীবনেরই শৃঙ্খলার আলো,
জিকির হলো অন্তরজুড়ে প্রশান্তিরই ভালো।
কুরআন হলো পথের দিশা, তাকওয়া চরিত্রের মান,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক জীবনের সম্মান।
নামাজে আমরা রবের কাছে দাঁড়াই বারবার,
জিকিরে রাখি তাঁর স্মরণ হৃদয়ের অন্দরমহলজুড়ি অপার।
নামাজ আমাদের শেখাক সত্য, ন্যায়, বিনয়,
জিকির আমাদের রাখুক আল্লাহমুখী নির্ভয়।
শুধু নামাজ পড়ব না—নামাজের শিক্ষা নেব,
শুধু জিকির করব না—চরিত্রে তার ছাপ দেব।
শুধু কুরআন পড়ব না—কুরআনের পথ ধরব,
শুধু দোয়া করব না—সৎকর্মে নিজেকে গড়ব।
যে হৃদয় আল্লাহর স্মরণে সদা সজীব রয়,
যে জীবন নামাজের আলোয় সত্যের পথে রয়,
যে চরিত্র ইসলামের আদর্শে সুন্দর, নির্মল—
সেই জীবনই শান্তিময়, সফল ও উজ্জ্বল।
নামাজ হোক জীবনের শৃঙ্খলা, জিকির হৃদয়ের গান,
কুরআন হোক পথের আলো, তাকওয়া হোক প্রাণ।
দুনিয়ার পথে সৎ থাকি, পরকালের আশায়,
আল্লাহর সন্তুষ্টি চাই জীবনের প্রতিটি নিশ্বাসে।
হে আল্লাহ! আমাদের নামাজ কবুল করো,
জিকির কবুল করো, দোয়া কবুল করো।
আমাদের অন্তরকে প্রশান্ত করো,
চরিত্রকে সুন্দর করো,
জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোয় আলোকিত করো,
এবং তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দাও।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
৭
৭ মন্তব্য