সহকারী শিক্ষক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
দ্যা হোবা : পৃথিবীর বুকে সগৌরবে টিকে থাকা সর্ববৃহৎ উল্কাপিণ্ড
মহাকাশের অন্তহীন রহস্য মানবজাতিকে সবসময়ই ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। রাতের আকাশে হঠাৎ আলোর রেখা টেনে ছুটে চলা তারা বা উল্কাপাত আমাদের মনে এক পলকের জন্য বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। এই ছোটোখাটো মহাজাগতিক কণাগুলো বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও, কখনো কখনো বিশাল আকৃতির উল্কা পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে এবং স্থায়ীভাবে ইতিহাস হয়ে যায়। এমনই এক মহাজাগতিক বিস্ময় হলো নামিবিয়ার মাটিতে সগৌরবে শুয়ে থাকা ঐতিহাসিক 'হোবা' (Hoba) উল্কাপিণ্ড, যা মানব সভ্যতার কাছে মহাকাশের এক অমূল্য উপহার।
◾আবিষ্কারের ইতিহাস ও পটভূমি
১৯২০ সালের এক সাধারণ দিনে নামিবিয়ার গ্রুটফন্টেইন অঞ্চলের ‘হোবা ওয়েস্ট’ নামক একটি খামারে জমি চাষ করার সময় এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারটি ঘটে। জ্যাকবাস হারমানাস ব্রিটস নামের এক কৃষক যখন তার লাঙল দিয়ে জমি চাষ করছিলেন, তখন হঠাৎ করেই তার লাঙলটি কোনো এক কঠিন ধাতব বস্তুতে বাধা পেয়ে থেমে যায়। কৌতূহলী হয়ে তিনি মাটি খুঁড়ে দেখতে পান বিশাল এক ধাতব টুকরো। পরবর্তীতে জানা যায় এটি সাধারণ কোনো পাথর নয়, বরং মহাকাশ থেকে ছুটে আসা পৃথিবীর বৃহত্তম অক্ষত উল্কাপিণ্ড। খোখেগোওয়াব ভাষায় ‘হোবা’ শব্দের অর্থ হলো ‘উপহার’।
◾গঠন, আকৃতি ও ওজন
বিজ্ঞানীদের মতে, হোবা উল্কাপিণ্ডটি প্রায় ৮০,০০০ বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছিল। এটি প্রধানত লোহা এবং নিকেল দিয়ে গঠিত একটি আয়রন উল্কা। এর রাসায়নিক গঠনে প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ শতাংশ লোহা, ১৬ শতাংশের বেশি নিকেল এবং সামান্য পরিমাণে কোবাল্ট রয়েছে। আবিষ্কারের সময় এর ওজন প্রায় ৬৬ টন অনুমান করা হলেও, প্রাকৃতিক ক্ষয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পর্যটকদের নমুনা সংগ্রহের ফলে বর্তমানে এর ওজন প্রায় ৬০ টনের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। এর আকৃতি প্রায় সমতল এবং এর মাপ প্রায় ৯ ফুট দীর্ঘ, ৯ ফুট চড়া ও ৩ ফুট পুরু।
◾বর্তমান সংরক্ষণ ও গুরুত্ব
বিশাল এই উল্কাপিণ্ডটির ওজন এত বেশি যে একে আবিষ্কারের স্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এটি আজও তার আদি অবস্থানেই পড়ে রয়েছে। ১৯৮৭ সালে নামিবিয়া সরকার এই এলাকাটিকে একটি জাতীয় স্মারক ও দর্শনার্থী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে, যাতে সারা পৃথিবী থেকে আসা পর্যটকরা এই মহাজাগতিক নিদর্শনটি খুব কাছ থেকে দেখতে পারেন। হোবা উল্কাপিণ্ড আমাদের সৌরজগতের সৃষ্টি রহস্য এবং মহাশূন্যের উপাদান সম্পর্কে জানতে বিজ্ঞানীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুগিয়ে চলেছে।
৪
৪ মন্তব্য