সহকারী শিক্ষক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৮:১৭ অপরাহ্ণ
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত " ছন্দের জাদুকর"
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দ — জন্ম
ü ১১ ফেব্রুয়ারি ১৮৮২ সালে কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্ধমানের চুপী গ্রামে। তাঁর পিতা ছিলেন রজনীনাথ দত্ত, যিনি কলকাতার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তাঁর পিতামহ ছিলেন বিখ্যাত মনীষী অক্ষয়কুমার দত্ত, যিনি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-র সম্পাদক ছিলেন।
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ — প্রবেশিকা পাস
ü সত্যেন্দ্রনাথ কলকাতার সেন্ট্রাল কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৮৯৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ছাত্রজীবন থেকেই বাংলা সাহিত্য ও বিভিন্ন জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল।
১৯০১ খ্রিষ্টাব্দ — এফ.এ. পাস
ü তিনি কলকাতার জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯০১ সালে এফ.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে স্কটিশ চার্চ কলেজ নামে পরিচিত। পরে তিনি বি.এ. পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
১৯০০–১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ — সাহিত্যচর্চার বিকাশ
ü এই সময়ে তাঁর সাহিত্যপ্রতিভা ক্রমশ বিকশিত হতে থাকে। তাঁর প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘সবিতা’ ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর ‘সন্ধিক্ষণ’ ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দ — ‘বেণু ও বীণা’
ü ‘বেণু ও বীণা’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এ সময় তাঁর কবিত্বশক্তি ও ছন্দের দক্ষতা আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দ — ‘হোমশিখা’
ü ‘হোমশিখা’ প্রকাশিত হয়। বাংলা কবিতায় ছন্দ, শব্দ ও ধ্বনির বৈচিত্র্যময় ব্যবহারের জন্য তিনি ক্রমশ খ্যাতি অর্জন করতে থাকেন।
১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ — ‘তীর্থরেণু’
ü তাঁর অনুবাদ কাব্য ‘তীর্থরেণু’ প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিষয়কে বাংলায় উপস্থাপনে তাঁর দক্ষতা প্রকাশ পায়।
১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ — ‘ফুলের ফসল’
ü তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ‘ফুলের ফসল’ প্রকাশিত হয়। এই সময়ে তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন জনপ্রিয় কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
১৯১২ খ্রিষ্টাব্দ — ‘কুহু ও কেকা’
ü ‘কুহু ও কেকা’ প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর অন্যতম পরিচিত কাব্যগ্রন্থ। একই বছরে তাঁর গদ্যরচনা ‘জন্মদুঃখী’ ও ‘চীনের ধূপ’ প্রকাশিত হয়।
১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ — অনুবাদ ও সাহিত্যচর্চা
ü এই সময়ে তিনি কবিতার পাশাপাশি অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যিক কাজেও মনোযোগ দেন। ‘রঙ্গমল্লী’ নামে একটি নাট্যানুবাদও তাঁর রচনাসূচিতে রয়েছে।
১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দ — ‘তুলির লিখন’
ü ‘তুলির লিখন’ প্রকাশিত হয়। তাঁর কবিতায় শব্দের কারুকাজ ও ছন্দের অভিনব ব্যবহার এ সময় আরও পরিণত রূপ লাভ করে।
১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ — ‘অভ্র-আবীর’
ü ‘অভ্র-আবীর’ প্রকাশিত হয়। এ সময়ে তিনি বাংলা সাহিত্যে ছন্দের অসাধারণ কারিগর হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন।
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দ — ‘তীর্থ-সলিল’
ü তাঁর অনুবাদ কাব্য ‘তীর্থ-সলিল’ প্রকাশিত হয়।
১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ — ‘হসন্তিকা’ ও ‘ছন্দ-সরস্বতী’
ü ‘হসন্তিকা’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ছন্দের ওপর তাঁর বিশেষ দক্ষতা ও জ্ঞান এই সময়ে সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ — মৃত্যু
ü ২৫ জুন ১৯২২ সালে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪০ বছর। স্বল্পায়ু হলেও বাংলা কবিতায় তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর বেশ কিছু রচনা প্রকাশিত হয়। যেমন—
ü বেলা শেষের গান — ১৯২৩
ü বিদায়-আরতি — ১৯২৪
ü কাব্যসঞ্চয়ন — ১৯৩০
ü শিশু-কবিতা — ১৯৪৫
৭
৭ মন্তব্য