প্রভাষক
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকট: ইসলামের দেখানো পথ
জলবায়ু সংকট: ইসলামের দেখানো পথ
লেখক: মাওলানা সাইফুল ইসলাম
প্রভাষক আরবি।
মাথাভাঙ্গা মহিলা আলিম মাদরাসা।
গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ।
জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়; এটি আমাদের সময়ের একটি নির্মম বাস্তবতা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ও হিমবাহের পরিবর্তন ক্রমেই মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে হিমালয়-সংলগ্ন অঞ্চল—এই পরিবর্তনের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা।
এরই ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে এসেছে ২৬ আগস্ট ২০২৬-এর নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস। নেপালের ভোতে কোশি নদী ও চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপাল সরকারের ২৭ আগস্টের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ; উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে হিমবাহ, বরফ ও শিলাখণ্ডের আকস্মিক পতন এবং এর ফলে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসাকে এই বিপর্যয়ের প্রধান তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা একই সঙ্গে সতর্ক করছেন যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য পরিবেশ, হিমবাহ ও পারমাফ্রস্ট ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে, যা এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে নির্দিষ্ট এই ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি কারণগত সম্পর্ক এখনো সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এই বাস্তবতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে , প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?
ইসলাম এই প্রশ্নের উত্তর শুধু আইন বা প্রযুক্তির মাধ্যমে দেয় না; বরং মানুষের চিন্তা, আচরণ ও নৈতিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেয়। কুরআন ও সুন্নাহর পরিবেশ-দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রকৃতি মানুষের ইচ্ছামতো ভোগ করার কোনো সীমাহীন সম্পদ নয়; বরং এটি আল্লাহর সৃষ্টি, একটি আমানত এবং ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার অংশ।
প্রকৃতি আল্লাহর সৃষ্টি, মানুষ তার মালিক নয়—দায়িত্বশীল প্রতিনিধি
কুরআনে আল্লাহ বলেন—
إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً
“নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা বা প্রতিনিধি স্থাপন করতে
যাচ্ছি।”
—সূরা আল-বাকারা:
৩০
‘খিলাফাহ’ ধারণাটি মানুষের জন্য শুধু ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের ঘোষণা নয়; বরং এর সঙ্গে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাও যুক্ত। মানুষ পৃথিবীর পরম মালিক নয়—সে পৃথিবীর একজন দায়িত্বশীল ব্যবহারকারী ও সংরক্ষণকারী।
আধুনিক পরিবেশনৈতিকতার ভাষায় এটিকে stewardship বা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান বলা যায়। সাম্প্রতিক ইসলামি পরিবেশ-গবেষণাতেও ‘খিলাফাহ’, ‘আমানাহ’ ও ‘মিজান’-কে পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
অতএব, বন উজাড় করা, নদী দখল করা, জলাভূমি ধ্বংস করা, অতিরিক্ত সম্পদ ভোগ করা কিংবা পরিবেশকে দূষিত করা নিছক পরিবেশগত সমস্যা নয়; এগুলো মানুষের অর্পিত দায়িত্বের অপব্যবহারের প্রশ্নও।
‘মিজান’: প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ইসলামি নীতি
কুরআনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশনৈতিক ধারণা হলো মিজান (مِيزَان)—অর্থাৎ ভারসাম্য।
আল্লাহ বলেন—
وَالسَّمَاءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ –
أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيزَانِ
“তিনি আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং ভারসাম্য স্থাপন করেছেন,
যাতে তোমরা ভারসাম্যের সীমালঙ্ঘন না কর।”
সূরা আর-রহমান: ৭–৮
প্রকৃতিতে খাদ্যশৃঙ্খল, পানি, মাটি, বন, নদী, বায়ু, প্রাণী ও মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান, তার একটি নিজস্ব ভারসাম্য রয়েছে। মানুষ যখন অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই ভারসাম্য নষ্ট করে, তখন তার প্রতিক্রিয়া সমাজ ও প্রকৃতি উভয়ের ওপর পড়ে।
আধুনিক পরিবেশবিদ্যার ecological balance ধারণার সঙ্গে ‘মিজান’-এর নৈতিক তাৎপর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামঞ্জস্য এখানেই।
‘ফাসাদ’: পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কুরআনের সতর্কতা
কুরআনে বলা হয়েছে—
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ
“মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থল ও সমুদ্রে বিপর্যয় প্রকাশ
পেয়েছে।”
সূরা আর-রূম: ৪১
এই আয়াত পরিবেশ সংকট নিয়ে গভীরভাবে চিন্তার সুযোগ তৈরি করে। ‘ফাসাদ’ শব্দটি শুধু ব্যক্তিগত নৈতিক অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পৃথিবীতে ক্ষতি, বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের বৃহত্তর অর্থও ধারণ করে।
বর্তমান পৃথিবীতে নির্বিচারে বন উজাড়, নদী ও সমুদ্র দূষণ, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত আহরণ , এসব কর্মকাণ্ডকে এই নৈতিক কাঠামোর আলোকে নতুনভাবে দেখা যায়।গবেষকরা নতুন করে এটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলকে অবগত করা শুরু করেছেন।
সাম্প্রতিক ইসলামি পরিবেশ-গবেষণাতেও ‘ফাসাদ’, ‘মিজান’ ও ‘খিলাফাহ’-কে পরিবেশগত সংকট বোঝার একটি সমন্বিত নৈতিক কাঠামো হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
‘ইসরাফ’: অতিভোগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা
পরিবেশ সংকটের অন্যতম বড় কারণ হলো অতিরিক্ত ভোগ ও অপচয়। ইসলাম মানুষের প্রয়োজন পূরণের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু সীমাহীন ভোগকে উৎসাহিত করেনি।
আল্লাহ বলেন—
وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
“তোমরা অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।”
সূরা আল-আ‘রাফ:
৩১
আজকের পৃথিবীতে এই নির্দেশনার তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। অতিরিক্ত ভোগ, একবার ব্যবহারযোগ্য পণ্যের অপব্যবহার, খাদ্য অপচয় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার শুধু অর্থনৈতিক অপচয় নয়; এগুলো পরিবেশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে। যার বাস্তব উদাহরণ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ। পাইপ লাইনের গ্যাস অপচয় আজ আমাদের জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।
অতএব, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি মিতব্যয়ী ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক সমাধান হতে পারে।
শুধু দুর্যোগের পর ত্রাণ নয়, দুর্যোগের আগেই প্রস্তুতি
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সবসময় সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় আমাদের দেখিয়েছে, পাহাড়ি নদী ও হিমবাহ-সংলগ্ন এলাকায় কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের অঞ্চলে তাই Early Warning System, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্র, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা অপরিহার্য।
ইসলামের দৃষ্টিতেও মানুষের জীবন রক্ষা একটি মৌলিক মূল্য। ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি, পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; বরং মানবজীবন রক্ষার দায়িত্বের অংশ হিসেবেই দেখা যায়।
মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হতে পারে পরিবেশ সচেতনতার কেন্দ্র
পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান বা এনজিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়ার মতো ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী অঞ্চলে মসজিদ, মাদরাসা, ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আলেমসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
জুমার খুতবায় পানি অপচয় না করা, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা, নদী-খাল রক্ষা, খাদ্য অপচয় বন্ধ এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, প্লাস্টিকবিরোধী প্রচারণা, পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।
এভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ একটি ‘সামাজিক প্রকল্প’ থেকে ‘নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্বে’ পরিণত হতে পারে।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা ও ‘গ্রিন’ অর্থায়ন
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিপুল অর্থ প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বনায়ন, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও দুর্যোগ প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অপরিহার্য।
এক্ষেত্রে ইসলামি অর্থব্যবস্থার Green Sukuk বা পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, সৌরবিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্ন পানি, বনায়ন ও জলবায়ু-সহনশীল প্রকল্পে এ ধরনের অর্থায়ন ব্যবহার করা সম্ভব।
অর্থাৎ ইসলামি অর্থনীতি শুধু সুদমুক্ত আর্থিক কাঠামো তৈরির মাধ্যম নয়; সঠিক নীতির অধীনে এটি পরিবেশবান্ধব উন্নয়নেরও একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।
নেপালের বন্যা আমাদের জন্য কী শিক্ষা রেখে গেল?
২৬ আগস্ট ২০২৬-এর নেপালের ভয়াবহ বন্যা শুধু নেপালের একটি দুর্যোগ নয়; এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা।
হিমালয়ের বরফ, নদী ও পাহাড়ের পরিবর্তন শুধু নেপাল বা তিব্বতের বিষয় নয়। হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলো দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। তাই পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপালসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
নেপালের এই দুর্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা নয়, প্রকৃতির সঙ্গে দায়িত্বশীল সহাবস্থানই হতে হবে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি।
সমাধান কোথায়?
জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান শুধু নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারে নেই। আবার শুধু আইন করেও সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন মানুষের আচরণ ও মূল্যবোধের পরিবর্তন।
ইসলাম এই পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী নৈতিক কাঠামো প্রদান করে—
জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক উদ্যোগ Al-Mizan: A Covenant for the Earth-ও ইসলামি পরিবেশগত মূল্যবোধকে সমসাময়িক জলবায়ু ও পরিবেশ সংকট মোকাবিলায় কাজে লাগানোর একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছে।
অতএব ২৬ আগস্টের নেপালের ভয়াবহ বন্যা আমাদের চোখের সামনে আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রকৃতির ভারসাম্য ও মানুষের নিরাপত্তা পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিটি সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করার অর্থ হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ পৃথিবী রেখে যাওয়া।
ইসলাম পরিবেশ রক্ষাকে মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হিসেবে দেখে না। পৃথিবী আল্লাহর সৃষ্টি; মানুষ তার দায়িত্বশীল প্রতিনিধি। তাই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা একই সঙ্গে একটি নৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় দায়িত্ব।
আমাদের প্রয়োজন এমন একটি নতুন উন্নয়ন-দর্শন, যেখানে বিজ্ঞান দেবে সমাধানের প্রযুক্তি, রাষ্ট্র দেবে নীতি, অর্থনীতি দেবে বিনিয়োগ, আর ধর্ম দেবে নৈতিক দায়িত্ববোধ।
তখনই হয়তো আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারব, যেখানে উন্নয়ন হবে—কিন্তু প্রকৃতিকে ধ্বংস করে নয়; সম্পদ ব্যবহার হবে—কিন্তু অপচয় করে নয়; এবং মানুষ পৃথিবীর ওপর কর্তৃত্ব করবে—কিন্তু আমানতের সীমা অতিক্রম না করে।
কারণ পৃথিবী আমাদের উত্তরাধিকার নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের কাছে অর্পিত একটি আমানত।
লেখক
মাওলানা সাইফুল ইসলাম
প্রভাষক (আরবি)
মাথাভাঙ্গা মহিলা আলিম মাদরাসা।
গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ।
Phone: 01862-262994
১৪
২৪ মন্তব্য