Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

যেভাবে মাপা হলো পৃথিবীর বয়স
যেভাবে মাপা হলো পৃথিবীর বয়স

জন্মদিন এলে শিশুরা খুব খুশি হয়, কারণ তারা আগের চেয়ে এক বছর বড় হলো। যাঁরা হতাশাবাদী, তাঁরা আবার বলবেন, জীবন থেকে আরও এক বছর ঝরে গেল। তবু সময়ের আবর্তনে আমাদের বয়স বেড়ে যাওয়া কিন্তু থেমে থাকে না। আচ্ছা, আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আমাদের এই পৃথিবীর বয়স কত?

পৃথিবীর বয়স হলো ৪৫০ কোটি বছর। একটু বোঝার চেষ্টা করি, এই সময়টা ঠিক কতটা বড়। মানুষ এই পৃথিবীতে আছে প্রায় ৩ লাখ বছর ধরে। যাযাবর থেকে সভ্য হয়েছি মাত্র ১২ হাজার বছর আগে, কৃষিবিপ্লবের সময়। সেই তুলনায় পৃথিবী আছে সাড়ে ৪০০ কোটি বছর ধরে! অর্থাৎ এই পৃথিবীর জীবনচক্রের একেবারে ক্ষুদ্র একটি সময় বাদ দিলে আমাদের মানুষের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। খুব স্বাভাবিকভাবেই তখন মনে একটি প্রশ্ন জাগে, এত বড় একটি সময়—যা আমাদের অস্তিত্বের তুলনায় কল্পনা করতেও কষ্ট হয়, তা আমরা মাপলাম কীভাবে?

পৃথিবীর বয়স হলো ৪৫০ কোটি বছর
পৃথিবীর বয়স হলো ৪৫০ কোটি বছরছবি: মিডজার্নির সাহায্যে তৈরি

আসলে পৃথিবীর বয়স ও বৃহৎ অর্থে মহাবিশ্বের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তাভাবনা বহু আগে থেকেই কৌতূহলী মানুষের মনে জেগে উঠেছিল। কখনো তা মানুষের কল্পনাশক্তিকেও উসকে দিয়েছিল, যা মহাবিশ্ব সৃষ্টির বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনিগুলোতেও প্রকাশ পায়। তবে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন, মহাবিশ্ব একটি চিরন্তন ও অপরিবর্তনীয় অবস্থায় রয়েছে। এর কোনো নির্দিষ্ট শুরু ছিল না, শেষও থাকবে না। ফলে পৃথিবীর বয়স নিয়ে চিন্তাভাবনার তেমন প্রয়োজনও ছিল না।

আরও পড়ুন
মানুষ এই পৃথিবীতে আছে প্রায় ৩ লাখ বছর ধরে। যাযাবর থেকে সভ্য হয়েছি মাত্র ১২ হাজার বছর আগে, কৃষিবিপ্লবের সময়। সেই তুলনায় পৃথিবী আছে সাড়ে ৪০০ কোটি বছর ধরে!

তবে সৃষ্টিতত্ত্বে বিশ্বাসী ধর্মতত্ত্ববিদেরা তাতে সন্তুষ্ট থাকেননি। বাইবেলে বর্ণিত বিভিন্ন রাজা-পয়গম্বরের বংশতালিকা অনুসারে বয়স যোগ করে খ্রিষ্টান পাদ্রিরা পৃথিবীর বয়সের একটি হিসাব বের করেছিলেন। তাঁদের মতে, পৃথিবীর বয়স ছিল প্রায় ৬ হাজার বছর। সতেরো শতাব্দীতে আইরিশ আর্চবিশপ জেমস আশার তো আরও একধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল ঠিক ৪০০৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ২২ অক্টোবর, সন্ধ্যা ছয়টায়!

পৃথিবীর বয়স নিয়ে আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা শুরু হয় বিভিন্ন শিলাস্তর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। নানা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বড় বড় পাহাড় বা পাথর ভেঙে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয় এবং সমভূমিতে থিতিয়ে পড়ে বা জমা হয়। বছরের পর বছর ধরে এভাবে জমে একটি সমতল স্তর তৈরি করে। এই স্তরকেই শিলাস্তর বলে। এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে একটি স্তরের ওপর আরেকটি জমে অনেকগুলো স্তর তৈরি হয়।

নানা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বড় বড় পাহাড় বা পাথর ভেঙে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয় এবং সমভূমিতে থিতিয়ে পড়ে বা জমা হয়
নানা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বড় বড় পাহাড় বা পাথর ভেঙে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয় এবং সমভূমিতে থিতিয়ে পড়ে বা জমা হয়ছবি: এআইয়ের সাহায্যে তৈরি

এই স্তরগুলো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সতেরো শতাব্দীতে ডেনিশ বিজ্ঞানী নিকোলাস স্টেনো অনুধাবন করেন, ঠিক কী প্রক্রিয়ায় স্তরগুলো গঠিত হয়। তিনি প্রস্তাব করেন, যদি কোনো জায়গায় কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়া স্বাভাবিকভাবে অনেকগুলো স্তর জমা হয়, তবে সবচেয়ে নিচে থাকা স্তরটি হবে সবচেয়ে পুরোনো এবং সবচেয়ে ওপরে থাকা স্তরটি হবে সবচেয়ে নতুন। একে বলা হয় ‘ল অব সুপারপজিশন’।

মন্তব্য করুন