Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

পে স্কেলের বাড়তি খরচ মেটাতে বাজেট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের জন্য সরকার চলতি বাজেটে ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছে। এজন্য গতিহীন প্রকল্পে বরাদ্দ স্থগিত, প্রকল্প খরচ কাটছাঁট, সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন, কর আদায় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় রোধের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাড় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের কাছে রাতারাতি বাড়তি অর্থের সংস্থান করার জন্য জাদুর কোনো কাঠি নেই। ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন করতেই যেখানে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত এক লাখ কোটি টাকা জোগাড় করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ফলে বিদ্যমান বাজেটের বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করেই এই প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব নাসিমুল গনি সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নতুন পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকারের 'মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোতে' আগেই হিসাব করে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি সরকারের জন্য কোনো আকস্মিক বা অপ্রত্যক্ষিত ব্যয় নয়। কারণ, সরকার শুধু একক অর্থবছরের কথা ভেবে বাজেট প্রণয়ন করে না, বরং বহুবছরী পরিকল্পনার আলোকেই তা নির্ধারণ করে।

আগামী কয়েক বছর কী পরিমাণ আয় হতে পারে, কত ব্যয় হবে এবং কোন খাতে কত টাকা লাগতে পারে—তারও একটি আগাম হিসাব তৈরি করে। এটিই মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা বা এমটিবিএফ। নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য ব্যয়ও সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় ছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সব প্রকল্প একই গুরুত্বের নয়। কোনো প্রকল্প জাতীয় অর্থনীতির জন্য জরুরি, আবার কোনো প্রকল্প কয়েক মাস বা এক বছর পিছিয়ে গেলেও বড় ক্ষতি হবে না। ফলে কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কোনো ভবন নির্মাণ প্রকল্প আগামী বছরেও শুরু করা সম্ভব হয়, তাহলে আপাতত সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। একইভাবে ধীরগতির প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের সময়ও পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব।

শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, প্রশাসনিক ব্যয় কমানোরও চিন্তা করছে সরকার। বিদেশ সফর, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সেমিনার, পরামর্শক নিয়োগ, ভবন সংস্কার, আসবাব ও সরঞ্জাম কেনার মতো ব্যয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় একই ধরনের কাজের জন্য একাধিক সংস্থা আলাদা প্রকল্প নেয় বা আলাদা পরামর্শক নিয়োগ করে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বয় করা গেলে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব।

Presidency University admission (300x250) 20-08-26

তবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ কমানোর বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দেওয়া সহায়তার মূল বরাদ্দ কমানোর পরিকল্পনা নেই। বরং এসব কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ের সুযোগ খোঁজা হবে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নতুন পে স্কেল অর্থনীতির জন্য বাড়তি বোঝা নয়; বরং এটি মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় সমন্বয়।

তিনি বলেন, নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন কোনো ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত নয়; এটি মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থায়নের জন্য সরকার মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসসহ রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিটে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ, ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকিভিত্তিক অডিটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সম্ভব। রাজস্ব সংস্কার ও পে স্কেল বাস্তবায়ন একসঙ্গে এগোলে অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতা আরো শক্তিশালী হবে।

এদিকে নতুন পে স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় ছিলেন। এখন তাদের প্রধান আগ্রহ গেজেট প্রকাশ নিয়ে। সরকার জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। গেজেট প্রকাশের পর বেতন পুনর্নির্ধারণ, বকেয়া পাওনা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মন্তব্য করুন