Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৭ অপরাহ্ণ

ক্ষমা সম্পর্কে রাসূল সা: এর হাদিস

ক্ষমা ও সহনশীলতা সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত কয়েকটি নির্ভরযোগ্য হাদীস:

# ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে এসে জিজ্ঞেস করেন, "হে আল্লাহর রাসুল! সেববক বা কর্মচারীকে আমরা কতবার ক্ষমা করব?" রাসুল (সা.) প্রথমে কোনো উত্তর না দিয়ে নীরব থাকলেন। লোকটি আবার একই প্রশ্ন করলে তিনি আবারও চুপ থাকলেন। তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, "প্রতিদিন সত্তর বার তাকে ক্ষমা করো।" (সুনানে আবু দাউদ (হাদিস: ৫১৬৪) এবং সুনানে তিরমিযীতে (হাদিস: ১৯৪৯)।

#  ক্ষমা করলে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়:
   আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সাদকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। আর কোনো বান্দা অন্যকে ক্ষমা করলে আল্লাহ তার মর্যাদা ও সম্মান কেবল বৃদ্ধিই করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮)

# ক্ষমা করলে আল্লাহর ক্ষমা লাভ:
   আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা দয়া করো, তোমাদের প্রতিও দয়া করা হবে। আর তোমরা মানুষকে ক্ষমা করো, আল্লাহও তোমাদের ক্ষমা করবেন।" (মুসনাদে আহমাদ: ৬৫৪১)

# চরিত্রের মূলভিত্তি ক্ষমা:
   উকবা ইবনে আমির (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, "হে উকবা! আমি কি তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতের মানুষের সর্বোত্তম চরিত্রের কথা জানিয়ে দেব না? তা হলো— যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার সাথে সম্পর্ক যুক্ত করা, যে তোমাকে বঞ্চিত করে তাকে দান করা এবং যে তোমার ওপর জুলুম করে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া।" (বায়হাকী: শুআবুল ঈমান ৮৪১৯, মুসনাদে আহমাদ)

# ভুল স্বীকার ও তাওবার ফজিলত:
   আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "প্রত্যেক আদম সন্তানই অপরাধী, আর অপরাধীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা, যারা তাওবা করে (ক্ষমা প্রার্থনা করে)।" (সুনানে তিরমিযী: ২৪৯৯)

# সংবরণ ও ক্ষমার পুরস্কার:
   মুআজ ইবনে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ প্রকাশ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা সংবরণ করে (এবং ক্ষমা করে দেয়), কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সৃষ্টিজগতের সামনে ডেকে এনে জান্নাতের যেকোনো হুর ইচ্ছা অনুযায়ী বেছে নেওয়ার অধিকার দেবেন।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৭৭)

মন্তব্য করুন