Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষায় বিশ্ব এগিয়ে, আমরা কেন পিছিয়ে?

বিশ্ব কেন এগিয়ে, আমরা কেন পিছিয়ে, প্রশ্নটি অস্বস্তিকর; কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, জার্মানি কিংবা ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি, আর বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এখনো মূলত পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? এর উত্তর শুধু অর্থের অভাবে নয়; বরং দৃষ্টিভঙ্গি, নীতিগত সমন্বয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির পার্থক্যে নিহিত।

বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়, তারা নিজেদের কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখে না; বরং জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের গবেষণাগারে উদ্ভাবিত ধারণা শিল্পে প্রবেশ করে, শিল্প সেই ধারণাকে পণ্যে রূপ দেয়, আর সেই পণ্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য পরিমাপ করা হয় শুধু কতজন স্নাতক তৈরি হলো তা দিয়ে নয়; বরং কতটি গবেষণা শিল্পে ব্যবহৃত হলো, কতটি পেটেন্ট নিবন্ধিত হলো, কতটি স্টার্টআপ গড়ে উঠল এবং কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো এসব সূচক দিয়েও।

বাংলাদেশেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হচ্ছে; কিন্তু তার বড় অংশই আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের পর থেমে যায়। গবেষণার ফল শিল্পে পৌঁছায় না, শিল্পের সমস্যা গবেষণার বিষয় হয় না, আর নীতিনির্ধারণেও গবেষণার ব্যবহার সীমিত। এই বিচ্ছিন্নতা দূর না হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প দুই খাতই তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারবে না।

শিল্পের দরজায় বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় শিল্প: আজকের বিশ্বে পাঠ্যক্রম পাঁচ বছর পরপর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। প্রযুক্তি প্রতি মাসে বদলাচ্ছে, কর্মবাজার প্রতি বছর নতুন দক্ষতা দাবি করছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়কে শিল্পের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে।

প্রতিটি অনুষদে শিল্প উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করা যেতে পারে, যেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করবেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় বুঝতে পারবে শিল্প কী চায়, আর শিল্পও জানতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা কোথায়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ