সহকারী শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
পরিচ্ছন্নতার পাঠশালা: শিক্ষার্থীদের হাতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সুনাগরিকত্বের চর্চা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; বরং এটি চরিত্র গঠন, সুসংহত ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রধান কেন্দ্র। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাগরণী বহুমুখী বালিকা বিদ্যাবীথি উচ্চ বিদ্যালয় এই ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। বিদ্যালয়টিতে নিয়ম করে মাসে অন্তত দুই দিন পরিচালিত হয় বিশেষ "শিক্ষার্থী পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি"। পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে গড়ে তোলার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
উদ্যোগটির মূল ভাবনা ও কার্যক্রম
নির্ধারিত সেই দিনগুলোতে শ্রেণীকক্ষের চার দেয়াল ছাড়িয়ে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞে। শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে ভাগ হয়ে শ্রেণীকক্ষ, খেলার মাঠ, প্রাঙ্গণের বাগান এবং বারান্দা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্বে নেমে পড়ে। এটি কোনো আরোপিত কাজ নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের মাধ্যমে নিজের বিদ্যাপীঠকে সুন্দর রাখার এক পরম তাগিদ।
শিক্ষা ও মূল্যবোধে এই কর্মসূচির প্রভাব
- কাজের প্রতি সম্মান (Dignity of Labor): যেকোনো কাজই ছোট বা হীন নয়—নিজের বিদ্যাপীঠ নিজ হাতে পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা এই চিরন্তন সত্যটি উপলব্ধি করে।
- দলগত মনোভাব ও নেতৃত্ব বিকাশ: একসঙ্গে দল বেঁধে কাজ করার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা, সদ্ভাব এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- স্বাস্থ্য সচেতনতা: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগব্যাধি দূর রাখে। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত জ্ঞান বইয়ের পাতায় না রেখে তা নিজ হাতে প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত হচ্ছে।
- পরিবেশ ও নিজের সম্পদের প্রতি দায়িত্ববোধ: নিজের আঙিনা নিজেকেই পরিষ্কার রাখতে হবে—এই চেতনা তৈরি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ নোংরা করা থেকে বিরত থাকে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে শেখে।
সামাজিক পরিবর্তন ও বাতিঘরের আলো
গ্রামীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েদের এই আত্মপ্রত্যয়ী এবং সচেতন অবস্থান পুরো নেওয়াশী ইউনিয়ন তথা নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস ও মানসিকতা অর্জন করছে, তা তারা ছড়িয়ে দিচ্ছে নিজেদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝেও। ফলে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক স্তরেও পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাগরণী বহুমুখী বালিকা বিদ্যাবীথি উচ্চ বিদ্যালয়ের এই মাসে দু'দিনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি প্রমাণ করে যে, প্রকৃত শিক্ষা শুধু ক্লাসরুমের পরীক্ষার খাতায় নম্বর অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের বিদ্যাপীঠকে ভালোবেসে নিজ হাতে পরিচ্ছন্ন রাখার এই উদ্যোগ আমাদের নতুন প্রজন্মকে একজন সচেতন, সংবেদনশীল ও প্রকৃত সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
৪
৪ মন্তব্য