সহকারী শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
থিওরি অফ এভরিথিং......
পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় গণ্ডগোলটা কী? একটা দিকে আছে কোয়ান্টাম জগৎ। যেখানে কণা একইসঙ্গে দুই জায়গায় থাকতে পারে, টেলিপোর্ট হয়, আর কাউকে দেখলেই তার আচরণ বদলে যায় (যেন তোমার বিড়াল তোমার দিকে তাকালেই লাফায়)। অন্যদিকে আছে আইনস্টাইনের মহাকর্ষ যেখানে ভর স্থানকালকে বাঁকিয়ে দেয়, ব্ল্যাকহোল আছে, আর সময় পর্যন্ত ধীরে চলে।
এই দুই তত্ত্বকে এক করার নাম থিওরি অফ এভরিথিং। কিন্তু সমস্যা হলো এরা একে অপরকে সহ্য করতে পারে না। আইনস্টাইন বলেছেন, “স্থানকাল মসৃণ কার্পেটের মতো।” কোয়ান্টাম বলেছে, “না, ওটা মশারির মতো ফুচকা!”
এই গণ্ডগোলের মাঝে কী করলেন বিজ্ঞানীরা? তারা ভাবলেন, “আচ্ছা, আইনস্টাইন তো বলেছেন মুক্ত পতনে সব বস্তু একই হারে পড়ে। ভারী হোক আর হালকা। কিন্তু সেটা যদি কোয়ান্টাম কণার ক্ষেত্রেও সত্যি হয়, তাহলে কি হয়?”
তাই তাঁরা রুবিডিয়াম পরমাণু নিয়ে খেলতে শুরু করলেন। পরমাণুগুলোকে এত ঠান্ডা করলেন যে তারা প্রায় নারকেল কোপায় থেমে গেল। একদম পরম শূন্যের কাছাকাছি। এতে পরমাণুগুলো একক সত্তার মতো আচরণ করতে শুরু করল, যাকে বলে বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট (নামটা ভারী, কিন্তু কাজটা মজার)।
তারপর একটা দারুণ কৌশল, পরমাণুর তরঙ্গকে দুই ভাগে ভাগ করলেন, একটা দলকে ধরে রাখলেন চুম্বক দিয়ে, আরেক দলকে ছেড়ে দিলেন পড়তে। পড়ার সময় তাদের মাথার ওপর দিয়ে মাধ্যাকর্ষণ কাজ করল। দুই দলকে আবার জোড়া দিয়ে দেখলেন ওরা ঠিক আইনস্টাইনের ক্যালকুলেট করা ফেজ পার্থক্য মেইনটেইন করেছে!
মানে কী দাঁড়ালো? আইনস্টাইন ঠিক ছিলেন, শুধু স্টার আর প্ল্যানেটের জন্য না, পরমাণুর জন্যও! অর্থাৎ কোয়ান্টাম জগৎও আইনস্টাইনের মাধ্যাকর্ষণ সূত্র মেনে চলে। তবে হ্যাঁ, বিজ্ঞানীরা কিন্তু বাড়ি ফিরে ইউরেকা! বলে নাচেননি। কারণ এতে প্রমাণিত হয়নি যে মাধ্যাকর্ষণ নিজে কোয়ান্টাম। অর্থাৎ, মহাকর্ষ বল গ্র্যাভিটন নামে কোনো কোয়ান্টাম কণা বহন করে নাকি স্পেসটাইমের বক্রতাই শেষ কথা সেটা অজানাই রইল।
তাহলে লাভটা কী হলো? এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পেলেন একটা নতুন খেলার মাঠ। এখন তারা পরের পরীক্ষায় খুব ভারী বস্তু (যেমন ন্যানোডায়মন্ড) ব্যবহার করতে চান। কারণ বড় কোনো জিনিস যদি কোয়ান্টাম সুপারপজিশনে যায়, তাহলে তার নিজের মাধ্যাকর্ষণ স্থানকালকে টানাটানি করবে, আর সেখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে থিওরি অফ এভরিথিং-এর প্রথম আভাস!
সংক্ষেপে বলতে গেলে... বিজ্ঞানীরা আজ প্রমাণ করলেন যে কোয়ান্টাম আর মহাকর্ষের মধ্যে কোনো ঝগড়া নেই। তবে এখনও প্রেম হয়নি, বিয়ে তো দূরের কথা। সেটা হতে হয়তো আরও কয়েক দশক লাগবে। কিন্তু আজকের এই ছোট্ট পরীক্ষাটি সেই প্রেমপত্রের প্রথম লাইন, যার বাকি গল্পটা এখনও লেখা বাকি।
১
১ মন্তব্য