Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৬ অপরাহ্ণ

শিক্ষকের সন্তানদের ভাতা বঞ্চনা: সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ব্যবস্থা

শিক্ষকের সন্তানদের ভাতা বঞ্চনা: সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ব্যবস্থা

একটি জাতির সামগ্রিক বিকাশ মনন কাঠামোর ভিত তৈরি হয় শিক্ষাঙ্গনে। আর এই ভিত রচনার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকসমাজ। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সিংহভাগ পরিচালনা করা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা আজও চরম বৈষম্য অবহেলার শিকার। একটি দেশের অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি কিংবা প্রশাসন কোনো ক্ষেত্রেই দক্ষ মানবিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া। মানসম্মত সেই শিক্ষার প্রধান কারিগর শিক্ষক। শিক্ষকদেরকে বঞ্চিত করে দক্ষ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দক্ষ ও মেধাবী নাগরিকদেরকে শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে হলে রাষ্ট্রীয় ভাবে এই পেশাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, যাঁরা অন্যের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করছেন, তাঁদের নিজের সন্তানদের অধিকার সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এখনো বৈষম্যের ছাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা প্রাপ্তির প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। জাতীয় পে-স্কেল রাষ্ট্রের কর্মচারীদের বেতন ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করে। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় মূল বেতন বিভিন্ন ভাতা পেয়ে আসছেন। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় আনার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে। অর্থ বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের বেতন ভাতা সংশ্লিষ্ট গ্রেড অনুযায়ী নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত হবে। বর্তমানে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন হলো, বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে যখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় বিবেচনা করা হয়, তখন তাঁদের সন্তানদের জন্য রাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মচারীদের মতো শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতার ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি কেন? গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পে-স্কেল সংস্কার নানা সামাজিক সুরক্ষামূলক সুবিধার আলোচনায় যখন রাষ্ট্রের কর্মচারীদের সন্তানদের সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, তখনো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের শিক্ষা ভাতা এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রাপ্তির বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকে গেছে। রাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী নীতি নীতিগত অনীহা কেবল শিক্ষকদের অবমাননা নয় বরং সংবিধান স্বীকৃত সুযোগের সমতা সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতার বিধান রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১,০০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা দেওয়ার বিধান ছিল। পরবর্তী সময়ে এ ভাতা পাওয়ার বয়সসীমাও ২১ থেকে ২৩ বছর করা হয়। নতুন পে-স্কেলে এই ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০০ টাকা। অর্থের অঙ্কটি হয়তো খুব বড় নয়। মাসে ২০০০ টাকা দিয়ে বর্তমান সময়ে একটি সন্তানের শিক্ষাব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। কিন্তু বিষয়টি টাকার অঙ্কের চেয়ে অনেক বড় স্বীকৃতির। এটি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন। একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান যদি তাঁর পিতামাতার চাকরির কারণে শিক্ষা সহায়ক ভাতা পাওয়ার অধিকার রাখে, একই জাতীয় বেতন কাঠামোয় বেতন পাওয়া একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তান কেন সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে? এই প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর রাষ্ট্রের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত। এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ও সরকারি কর্মচারীর চাকরির প্রতিষ্ঠান ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার অংশ রাষ্ট্রীয় অর্থ থেকে আসে। এমপিও ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হলো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা। ফলে রাষ্ট্র যখন তাঁদের বেতন কাঠামোকে জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে যুক্ত করে, তখন তাঁদের মৌলিক আর্থিক ও সামাজিক সুবিধার ক্ষেত্রেও একটি সুসংগত নীতি থাকা প্রয়োজন। এ বৈষম্য সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের ক্ষেত্রে। একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর পরিচর্যা, চিকিৎসা, থেরাপি, শিক্ষা, সহায়ক উপকরণ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন সাধারণ শিশুর তুলনায় অনেক বেশি । বাংলাদেশ সরকারও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে স্বীকার করেছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি চালু হয় এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৪.৫০ লাখে উন্নীত হয়েছে; মাসিক ভাতার হার বর্তমানে ৯০০ টাকা এবং এ খাতে বরাদ্দ ৩,৭৫২.০৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাষ্ট্র নিজেই স্বীকার করছে যে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য অতিরিক্ত সামাজিক সহায়তা প্রয়োজন। এই বাস্তবতায় একজন শিক্ষক বা শিক্ষক-কর্মচারীর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে যদি কেবল তাঁর পিতামাতা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বলে কোনো বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে সেটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন সৃষ্টি করে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, ২০২৬ সালের নতুন জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক ৩,০০০ টাকা প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নতুন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা এবং নতুন ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। এখানেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উদ্বেগের জায়গাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নতুন জাতীয় পে-স্কেলে যখন সরকারি কর্মচারীদের জন্য এমন একটি মানবিক ও প্রয়োজনভিত্তিক সুবিধা যুক্ত হয়েছে, তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে কি-না, তা স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে যদি তাঁদের জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় আনা হয়, কিন্তু সন্তানদের শিক্ষা সহায়ক ভাতা বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতার ক্ষেত্রে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়, তাহলে একই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্যে দুটি পৃথক মানদণ্ড তৈরি হবে। এ ধরনের বৈষম্যের সবচেয়ে বড় ক্ষতি অর্থনৈতিক নয়; মানসিক। একজন শিক্ষক প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে অন্যের সন্তানকে শেখান যে রাষ্ট্র সবার অধিকার নিশ্চিত করবে, বৈষম্য দূর করবে এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে। অথচ তাঁর নিজের সন্তান যখন রাষ্ট্রীয় সুবিধার প্রশ্নে বৈষম্যের শিকার হয়, তখন শিক্ষকের মনে যে বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হয়, তা তাঁর পেশাগত মর্যাদাকেও আঘাত করে। শিক্ষককে শুধু ‘বেতনভোগী কর্মচারী হিসেবে দেখলে এই সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। শিক্ষক সমাজের মানবসম্পদ নির্মাণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন। একজন শিক্ষকের সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিশেষ প্রয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে কেবল একজন কর্মচারীকে সুবিধা দেওয়া নয়; বরং শিক্ষা পেশাকে সামাজিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তোলা। রাষ্ট্র যদি শিক্ষকদের কাছে মানসম্মত শিক্ষা, শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করে, তাহলে শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নেও রাষ্ট্রকে ন্যায়সংগত হতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবেও শিক্ষকদের মর্যাদা, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা শিক্ষার মানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়। শিক্ষককে নিরাপত্তাহীন রেখে একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। এখানে একই হারে সামান্য আর্থিক সহায়তা অনেক সময় যথেষ্ট নয়। প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা, থেরাপি, সহায়ক যন্ত্র, বিশেষায়িত শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই রাষ্ট্রকে শুধু মাসিক ভাতা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সামনে একটি সহজ ও ন্যায়সংগত পথ রয়েছে। প্রথমত, জাতীয় পে-স্কেলের আওতায় বেতন পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য যে ৩,০০০ টাকা ভাতার কথা বলা হয়েছে, তা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য করতে হবে। এসব সুবিধা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতের বেতন কাঠামো প্রণয়নের সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আলাদা করে বাদ দেওয়ার সুযোগ যেন না থাকে, সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কারণ একজন শিক্ষকের সন্তান কোনোভাবেই তাঁর পিতামাতার কর্মস্থলের ধরন অনুযায়ী অধিকতর বা কম অধিকারসম্পন্ন হতে পারে না। একজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর সন্তান এবং একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের সন্তান দুজনই এই রাষ্ট্রের নাগরিক। তাঁদের প্রয়োজন, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের অধিকার বিবেচনায় বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক কাঠামো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচ্য। কিন্তু একটি কল্যাণরাষ্ট্রের সাফল্য শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে নয়; নাগরিকের প্রয়োজনের মুহূর্তে রাষ্ট্র কতটা ন্যায়সংগত আচরণ করে, তার ওপরও নির্ভর করে। বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রতিবন্ধিতা এই দুই ক্ষেত্রকে ব্যয় হিসেবে না দেখে মানবসম্পদে বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। এখানে মনে রাখা দরকার, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কেবল নিজেদের জন্য দাবি তুলছেন না; তাঁরা তাঁদের সন্তানদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলছেন। একজন শিক্ষক বছরের পর বছর অন্যের সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্র যদি তাঁর নিজের সন্তানের ন্যায্য শিক্ষাসহায়তা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা নিছক একটি ভাতা না দেওয়ার ঘটনা থাকে না; এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই সময়টি তাই একটি সুযোগ। সরকার চাইলে পুরোনো বৈষম্য দূর করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে। জাতীয় পে-স্কেলের সুবিধা যদি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনে প্রযোজ্য হয়, তাহলে সন্তানদের কল্যাণমূলক সুবিধার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা উচিত। একই রাষ্ট্র, একই বেতন কাঠামো, একই নাগরিক অধিকারকিন্তু সন্তানদের ভাতার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়মএ দ্বৈতনীতি কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। শিক্ষকের মর্যাদা শুধু বক্তৃতায় নয়, রাষ্ট্রীয় নীতিতেও প্রতিফলিত হতে হবে। শিক্ষককে সম্মান করার অর্থ তাঁর সন্তানদের অধিকারকেও সম্মান করা। তাই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নির্ধারিত ভাতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দ্রুত, স্পষ্ট ও বৈষম্যহীন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। শিক্ষকের সন্তান তাঁর পিতামাতার চাকরির পরিচয়ের কারণে অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেনা, এটাই হওয়া উচিত একটি মানবিক, কল্যাণমুখী ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার। শিক্ষক যদি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন, তবে শিক্ষকের পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। এই দায়িত্ব থেকে রাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।


মন্তব্য করুন

ব্লগ