সহকারী শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৫২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু রোগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা
ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত একটি রোগ, যা এডিস মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রথম মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় খাবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বাঞ্ছনীয়।
ডেঙ্গুর জন্য ডায়েটে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা উচিত : সহজে হজমযোগ্য খাদ্য যেমন সিদ্ধ খাবার, সবুজ শাকসবজি, কলা, আপেল, স্যুপ, দই। এ ছাড়া ইলেকট্রোলাইট পুনরুদ্ধার করতে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে প্রচুর তরল, যেমন তাজা ফলের রস, ডাবের পানি, ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস), ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার খেতে হবে, যা ডেঙ্গুজ্বরের প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে কাজ করে।
আমাদের জানতে হবে কোন খাবারে কী কী পুষ্টি উপাদান আছে, আর এই পুষ্টি উপাদান আমাদের রোগ প্রতিরোধে কীভাবে সাহায্য করছে। ডেঙ্গুর কারণে আমাদের শরীর থেকে প্লাজমা লিকেজ হয় এবং ডায়রিয়া হয়, যার কারণে প্রচুর পরিমাণে তরল যেমন কমলার রস, ডাবের পানি, আদা পানি এবং স্যালাইন পানি (ওআরএস) খেতে হবে। যেন শরীর হাইড্রেটেড থাকে। এ ছাড়াও আদা পানি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের এই রোগের প্রভাব দূর করতে প্রয়োজন। আদা পানি এ সময়ের বমি বমিভাবের প্রভাবগুলো হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে।
এ ছাড়া ডেঙ্গুতে প্রায়ই ডিহাইড্রেশন হতে পারে এবং ডাবের পানি আপনার শরীরের তরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম সেরা উপায়। পানির প্রাকৃতিক উৎস, প্রয়োজনীয় খনিজ এবং ইলেকট্রোলাইট হওয়ায় নারিকেল পানি ডেঙ্গু রোগীর ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক। এই রোগের লক্ষণগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য স্যুপ একটি দুর্দান্ত উপায়। কারণ, এটি কম মসলায় হজম এবং অন্ত্রের গতির জন্য ভালো। ডেঙ্গু রোগীদের বিশেষত তৈলাক্ত বা মসলাদার খাবার এড়ানো উচিত।
শাকসবজি এবং ফলের রস, গাজর ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে, যা ডেঙ্গু রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এটি কোলাজেন উৎপাদনকে ট্রিগার করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। কমলা, আনারস, স্ট্রবেরি, পেয়ারা এবং কিউই জাতীয় ফল লিম্ফোসাইটের উৎপাদন বাড়ায়, যা ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আপনি যদি ডেঙ্গুতে ভুগছেন তবে ফলের রস অবশ্যই থাকা দরকার। এ ছাড়া পেঁপে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে দ্রুত প্লাটিলেট উৎপাদন ট্রিগার করে।
কী কী খাবার রোগীকে এড়িয়ে চলতে হবে
তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে ভাজা-পোড়া অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো পেটের সমস্যা। নিশ্চিত করুন যে তৈলাক্ত এবং মসলাদার খাবার খাওয়া চালিয়ে যাবেন না। কারণ এটি কেবল আপনার অবস্থার আরও খারাপ করবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তি স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার, চিনিযুক্ত এবং বায়ুযুক্ত পানীয় এড়ানো উচিত, কাঁচা শাকসবজি একেবারেই খাবেন না।
পরামর্শ :
১. হালকা ডায়েটসহ প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খান।
২. সম্পূর্ণ বিছানা বিশ্রাম।
৩. প্লাটিলেট গণনা এবং হেমাটোক্রিট নিরীক্ষণের জন্য রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
৪. প্লাজমা লিকেজ প্রতিরোধ করার জন্য সময়মতো ব্যবস্থা বা বিকল্প রাস্তা বের করে রাখুন।
৫. জ্বর বা ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন বা কোনো এনএসএআইডি দেবেন না। কারণ, অ্যাসপিরিন রক্ত পাতলা এবং এনএসএআইডি প্লাজমা লিকেজ বাড়িয়ে তোলে। তাই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের সচেতন হতে হবে।
১
১ মন্তব্য