সহকারী শিক্ষক
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:১২ অপরাহ্ণ
বাস্তব থেকে ভার্চুয়ালে, সোশ্যাল মিডিয়ার আগে ও পরে নারী জীবন
ভোরে ঘুম থেকে উঠেই মুঠোফোন হাতে নেওয়া। ঘুম থেকে ওঠার পর ফেসবুকে ঢুঁ মারা, দিনের ব্যস্ততার ফাঁকে ইনস্টাগ্রাম দেখা, আর রাতে ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো টিকটক বা ফেসবুক স্ক্রল করা—এখন অনেকের জীবনেই এটি খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এক সময় এমন ছিল না। স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া আসার আগে নারীর যোগাযোগের পরিসর ছিল অনেক ছোট। পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু, কর্মক্ষেত্র কিংবা পরিচিত সামাজিক গণ্ডির মধ্যেই বেশির ভাগ যোগাযোগ সীমাবদ্ধ থাকত। নিজের কাজ, প্রতিভা কিংবা মতামত অনেক দূরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও ছিল কম। এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। মুঠোফোনের ছোট্ট স্ক্রিনে তৈরি হয়েছে এক নতুন ‘ভার্চুয়াল জগত’। সেখানে একজন নারী নিজের কথা বলতে পারেন, ব্যবসা করতে পারেন, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, কাজের সুযোগ খুঁজতে পারেন। আবার একই জগতেই তাকে মুখোমুখি হতে হয় তুলনা, কটূক্তি, হয়রানি ও নানা ধরনের অনলাইন ঝুঁকির।
তাই প্রশ্নটা শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ভালো না খারাপ এমন নয়। বরং প্রশ্ন হলো, সোশ্যাল মিডিয়া নারীর জীবনকে কতটা এগিয়ে দিয়েছে, আর কোথায় তৈরি করেছে নতুন চাপ?
সোশ্যাল মিডিয়ার আগে কেমন ছিল নারী জীবন?
সোশ্যাল মিডিয়ার আগের সময়কে শুধু পিছিয়ে থাকা সময় বলা যাবে না। তখনো নারীরা পড়াশোনা করতেন, চাকরি করতেন, ব্যবসা করতেন এবং নিজেদের মতো প্রকাশ করতেন।
তবে সুযোগের পরিধি ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট। ধরা যাক, একজন নারী ঘরে বসে ভালো কেক বানাতেন। আগে তার ক্রেতা হয়তো ছিলেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বা পরিচিত কয়েকজন। দোকান না থাকলে নতুন ক্রেতার কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল।
এখন তিনি ফেসবুকে একটি পেজ খুলে নিজের তৈরি কেকের ছবি দিতে পারেন। পরিচিতদের পাশাপাশি নতুন ক্রেতারাও তার পণ্য সম্পর্কে জানতে পারেন।
এই জায়গাতেই সোশ্যাল মিডিয়া বড় পরিবর্তন এনেছে। ঘরে বসেই ব্যবসা, আয় ও পরিচিতি নারীর জীবনে সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হওয়া।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নারীরা ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপ-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পোশাক, খাবারসহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন। এই অনলাইন ব্যবসা অনেক নারীকে আয় করার সুযোগ দিচ্ছে এবং একই সঙ্গে পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর নমনীয়তাও তৈরি করছে।
অর্থাৎ, ব্যবসা করতে সব সময় দোকান বা বড় মূলধনের প্রয়োজন হচ্ছে না। ধরা যাক, ঢাকার একটি বাসায় বসে একজন নারী হাতে তৈরি গয়না বানান। আগে তার ক্রেতা হয়তো ছিলেন পরিচিত কয়েকজন। এখন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে পণ্যের ছবি দিয়ে তিনি আরো বড় বাজারে পৌঁছাতে পারেন।
এতে শুধু আয় হচ্ছে না। তৈরি হচ্ছে নিজের একটি পরিচিতিও। সোশ্যাল মিডিয়া তাই অনেক নারীর জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন পথ তৈরি করেছে।
কণ্ঠস্বরের পরিধিও বেড়েছে
আগে কোনো নারী অন্যায় বা বৈষম্যের শিকার হলে বিষয়টি হয়তো পরিবার, বন্ধু কিংবা কাছের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেই জায়গাটিও বদলে দিয়েছে।
এখন একজন নারী নিজের অভিজ্ঞতা, মতামত কিংবা প্রতিবাদের কথা অনেক মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারেন। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক কিংবা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে অনলাইনে আলোচনা হচ্ছে।
একজন নারীর অভিজ্ঞতা অন্য অনেক নারীকে নিজের কথা বলার সাহসও দিতে পারে। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি মঞ্চও।
গ্রামীণ নারীর জন্য নতুন জানালা
সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবর্তন শুধু শহরের নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সুযোগ অনেক গ্রামীণ নারীর
১
১ মন্তব্য