সহকারী শিক্ষক
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ণ
Sagittarius A........
মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও প্রাণঘাতী স্থানগুলোর একটি হলো সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল। এর প্রচণ্ড মহাকর্ষ ও তীব্র বিকিরণের জন্য এই অঞ্চলকে সাধারণত জীবনের জন্য অযোগ্য মনে করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি অভূতপূর্ব তথ্য দিয়েছে যা এই ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলে, সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল Sagittarius A* এর অত্যন্ত কাছে, বিজ্ঞানীরা পানির অস্তিত্ব পেয়েছেন।
এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের পর্দা খুলেছে ২০২৬ সালের আগস্টে, যখন একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল তাদের ফলাফল প্রকাশ করে। তারা দেখায় যে এই পানির উৎসটি আসলে IRS 3 নামের একটি তারা, যা ব্ল্যাকহোল থেকে মাত্র ০.৫৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। IRS 3 একটি মৃতপ্রায় তারা, যা তার জীবনের অন্তিম পর্যায়ে, অ্যাসিম্পটোটিক জায়ান্ট ব্রাঞ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই পর্যায়ে তারাগুলো অত্যন্ত উত্তপ্ত, উজ্জ্বল এবং শক্তিশালী নাক্ষত্রিক বায়ুর মাধ্যমে নিজেদের বহিঃস্তর মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়।
গবেষকরা JWST-এর মিড-ইনফ্রারেড ইন্সট্রুমেন্ট (MIRI) ব্যবহার করে IRS 3-এর চারপাশের ধূলিকণার আবরণ পর্যবেক্ষণ করেন। তারা আবিষ্কার করেন যে এই আবরণটি প্রায় ১০,০০০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট বিস্তৃত। বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, IRS 3 একটি অক্সিজেনসমৃদ্ধ তারকা, যা তার চারপাশে সিলিকেট ধূলিকণা তৈরি করছে। এই ধূলিকণার আবরণের ভেতরেই তারা জলীয় বাষ্পের অস্তিত্ব শনাক্ত করে, যা কখনোই এত কাছে থেকে ধরা পড়েনি।
একটি মৃতপ্রায় তারার এই আবিষ্কারটি বিশেষভাবে চমকপ্রদ কারণ ধনু A*-এর আশেপাশে অত্যন্ত তীব্র বিকিরণ ও মহাকর্ষীয় টান রয়েছে। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির বিজ্ঞানী ম্যাকারেনা গার্সিয়া মারিন বলেছেনঃ "পানির সন্ধান বিশেষভাবে উত্তেজনাপূর্ণ কারণ এটি প্রমাণ করে যে আণবিক পদার্থ তীব্র বিকিরণের আধিপত্যপূর্ণ পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে"। গবেষণার প্রধান লেখক ফ্লোরিয়ান পেইসকারও মনে করেন, এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে এমন প্রতিকূল পরিবেশেও তারাগুলো নতুন প্রজন্মের তারকা ও গ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করতে পারে।
যদিও এই আবিষ্কারটি কোনো প্রাণের অস্তিত্ব বা বাসযোগ্য পরিবেশের ইঙ্গিত দেয় না, এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য একটি মাইলফলক। এটি আমাদের মহাবিশ্বের সবচেয়ে নৃশংস স্থানগুলোর রাসায়নিক চক্র সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়। এটা প্রমাণ করে যে, ধ্বংসের মুখেও সৃষ্টির প্রক্রিয়া থেমে থাকে না, এবং একটি মৃতপ্রায় তারাও হয়তো ভবিষ্যতের নতুন সৌরজগতের বীজ বপন করে চলেছে, ব্ল্যাকহোলের দরজার কাছে এসেও।
১৪
২১ মন্তব্য