সহকারী শিক্ষক
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
RELHIC (Reionization-Limited H I Cloud)
মহাবিশ্বে গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রের মেলা তো আমরা সবাই দেখি, কিন্তু সব গ্যালাক্সি কি আলো ছড়াতে পারে? সম্প্রতি চীনের বিখ্যাত FAST রেডিও টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে এমন দুটি বিশাল হাইড্রোজেন মেঘের সন্ধান মিলেছে, যেখানে নক্ষত্রের কোনও নামগন্ধই নেই!
পৃথিবী থেকে প্রায় ৮০ লাখ (8 Million) আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত বিখ্যাত Whirlpool Galaxy (M51)-এর কাছে এই সন্ধান মেলে। আসুন জেনে নিই এই মহাজাগতিক রহস্যের মূল বিষয়গুলো:
রহস্যময় Cloud N ও Cloud S:
FEASTS জরিপে পাওয়া এই দুটি মেঘের প্রতিটিতে সূর্য থেকে প্রায় ৩০ লাখ গুণ বেশি হাইড্রোজেন গ্যাস রয়েছে। অথচ সাধারণ অপটিক্যাল টেলিস্কোপে কোনও নক্ষত্র দেখা যায় না।
রেডিও টেলিস্কোপের জাদু:
অপটিক্যাল টেলিস্কোপ শুধু নক্ষত্রের আলো দেখতে পায়। কিন্তু FAST টেলিস্কোপ নিরপেক্ষ হাইড্রোজেনের ২১ সেন্টিমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রেডিও সংকেত ধরে এই ‘অন্ধকার’ গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে।
‘ব্যর্থ গ্যালাক্সি’ নাকি ডার্ক ম্যাটার?
গবেষকদের ধারণা, এগুলো হয়তো ক্ষুদ্র ডার্ক-ম্যাটার হ্যালো (Dark Matter Halo)। মহাবিশ্বের প্রাথমিক যুগের অতিবেগুনি বিকিরণ বা Reionization-এর কারণে গ্যাস অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যায়, ফলে নক্ষত্র তৈরি আটকে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলা হয় RELHIC (Reionization-Limited H I Cloud)।
তবে এখানে একটি বড় ‘কিন্তু’ রয়ে গেছে! M51 একটি সক্রিয় আন্তঃক্রিয়াশীল গ্যালাক্সি-ব্যবস্থা। গ্যালাক্সিগুলোর মহাকর্ষীয় সংঘর্ষের ফলে ছিটকে পড়া গ্যাসের স্রোতও (Tidal Debris) হতে পারে এই মেঘ দুটি। তাই গবেষকেরা এগুলোকে এখনই নিশ্চিত না বলে ‘Candidate’ বা সম্ভাব্য ডার্ক-ম্যাটার হ্যালো হিসেবে দেখছেন।
যদি ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণে এটি RELHIC হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে এটিই হবে মহাবিশ্বের প্রথম প্রত্যক্ষভাবে পাওয়া ‘ব্যর্থ গ্যালাক্সি’। যেখানে ডার্ক ম্যাটার ও গ্যাস থাকা সত্ত্বেও কখনও কোনও নক্ষত্রের আলো জ্বলেনি।
মহাবিশ্বকে বোঝার ক্ষেত্রে যা দেখা যায় না, কখনও কখনএ সেটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় উত্তর!
১
১ মন্তব্য