Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫২ অপরাহ্ণ

শুঁয়োপোকা র জন্ম রহস্য,

শুঁয়োপোকা জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু রাক্ষসের মতো খায় আর খায়। পেট পুরে খাওয়ার পর একদিন সে কোনো গাছের পাতা বা ডালে উল্টো হয়ে ঝুলে পড়ে। নিজের শরীর থেকে খোলস ছেড়ে নিজেকে বন্দি করে ফেলে গুটির ভেতর। এর ভেতরেই ঘটে যায় এক আশ্চর্য ভাঙা-গড়ার খেলা।

বাইরে থেকে সব শান্ত মনে হলেও ভেতরে তখন চলছে মহাপ্রলয়। এনজাইমের প্রভাবে শুঁয়োপোকার শরীর গলে স্যুপের মতো তরল হয়ে যায়। সেখান থেকে ইমাজিনাল ডিস্ক নামে বিশেষ কোষগুলো জেগে ওঠে এবং নতুন করে প্রজাপতির ডানা, পা ও অ্যান্টেনা তৈরি করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহ পর সেই গুটি ফেটে বেরিয়ে আসে রঙিন এক প্রজাপতি। প্রকৃতির এই ঘটনাকে বলে মেটামরফোসিস বা রূপান্তর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রকৃতির এই অদ্ভুত জীবনচক্র শুরু হলো কীভাবে?

শুঁয়োপোকার মেটামরফোসিস
শুঁয়োপোকার মেটামরফোসিসছবি: মাইকেল মুতিঙ্গি / রিসার্চ গেট

এর উত্তর খুঁজতে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় ৪৮ কোটি বছর আগে অর্ডোভিসিয়ান যুগ। তখন পৃথিবীতে ছিল আদিম সব পোকা। ফসিল বা জীবাশ্ম বলছে, এই পোকাদের জীবনে বড় কোনো রূপান্তর ঘটত না। ডিম ফুটে বের হওয়া বাচ্চাগুলো দেখতে হুবহু বড়দের মতোই হতো, শুধু আকারে ছোট। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওরা কেবল খোলস বদলাত। আমাদের ঘরের পুরনো বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা সিলভার ফিশ পোকারা আজও এই আদিম নিয়ম মেনে চলে। বই বা কাপড়ের আলমারিতে এই পোকা দেখা যায়।

মন্তব্য করুন