Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:০৬ পূর্বাহ্ণ

সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহর (সূরা আল-মুলক : আয়াত ১–৫-এর ভাবধারায়) মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহর

(সূরা আল-মুলক : আয়াত -এর ভাবধারায়)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর


বরকতময় সেই মহান সত্তা, রাজত্ব যাঁর হাতে,
সর্বময় তাঁর কর্তৃত্ব বিরাজে বিশ্বজগতে।
তিনি সবকিছুর উপর পূর্ণ শক্তির অধিকারী,
তাঁরই হুকুমে চলে ধরা, আকাশ, গ্রহ-তারকারি।
মৃত্যু-জীবন সৃষ্টি করেছেন, তিনিই মহামান,
পরীক্ষা নেনকে উত্তম করে আমল করে প্রাণ।
বেশি আমল নয় শুধুআমল হোক খাঁটি,
ইখলাসভরা নেক কাজেই মুমিনের মুক্তি।
তিনি মহাপরাক্রমশালী, শক্তির সীমা নাই,
তবু তিনি ক্ষমাশীলদয়া তাঁর অসীম তাই।
অপরাধী বান্দা ফিরে এলে তাওবার পথ খোলে,
রহমতেরই দরজা খুলে করুণাময় ডাকে বলে।
হে মানুষ, দেখো আকাশপানে, দৃষ্টি মেলে দাও,
সাত আসমান স্তরে স্তরেসৃষ্টির রহস্য পাও।
পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে নেই অসামঞ্জস্য,
নিখুঁত তাঁর সৃষ্টি জুড়ে ফুটে ওঠে সামঞ্জস্য।
তুমি কি পাবে কোনো ত্রুটি? দেখো মনোযোগে,
দৃষ্টি ফেরাও বারবার তুমি আকাশেরই ভোগে।
ফাটল কোথায়? ত্রুটি কোথায়? খুঁজে দেখো ভাই,
স্রষ্টার নিখুঁত সৃষ্টির মাঝে অসঙ্গতি নাই।
আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও, দেখো আরেকবার,
সত্যের পথে খুলবে তখন জ্ঞানের নতুন দ্বার।
দৃষ্টি ফিরে আসবে শেষে অবনত, ক্লান্ত হয়ে,
মানুষ বুঝবেসৃষ্টির মাঝে ত্রুটি কোথায় কই!
কত নক্ষত্র, কত প্রদীপ, রাতের কালো বুকে,
সুশোভিত নিকট আসমান জ্বলছে অপার সুখে।
আকাশ যেন নীল গগনে রহস্যময় ছবি,
স্রষ্টার কুদরত দেখলে মুগ্ধ হয় যে কবি।
তারকারাজি সৌন্দর্যের অলংকারের মতো,
রাতের আঁধার ভেদ করে দেয় আলোরই ক্ষত।
নভোমণ্ডল সাক্ষ্য দেয়এক আল্লাহর শক্তি,
তাঁরই হুকুমে স্থির রয়েছে সৃষ্টির সব গতি।
নক্ষত্রগুলো নিছক শুধু সৌন্দর্যেরই নয়,
আল্লাহর কুদরত দেখার শিক্ষাও এতে রয়।
শয়তানের জন্য রয়েছে কঠিন সতর্কবাণী,
আল্লাহর অবাধ্যতায় নেই কোনো কল্যাণখানি।
জ্বলন্ত আগুন প্রস্তুত আছে অবাধ্যের তরে,
জাহান্নামের ভয়াবহতা কাঁপায় অন্তরে।
তাই তো মানুষ ফিরে আসুক রবের হুকুমে,
তাওবা করে জীবন সাজাক ঈমানেরই সুমে।
জীবন কেন? পরীক্ষার জন্যভাবো হে মানব,
দিনের শেষে হিসাব হবেকী ছিল তোমার সব?
ধন-সম্পদ, মান-সম্মান সঙ্গে যাবে না তো,
শুধু আমল থাকবে সেদিনভেবে দেখো কত!
যে জীবনটি পেয়েছ তুমি, আমানত মহান,
সৎকর্ম দিয়ে গড়তে হবে এই ক্ষণস্থায়ী প্রাণ।
সালাত, সিয়াম, সত্যবাদিতা, সদাচরণ, দান,
হালাল পথে চলাই হোক মুমিনের পরিচয়জ্ঞান।
অন্যায়ের পথে যতই থাকুক লাভের হাতছানি,
হারাম পথে শান্তি নেই সত্য অতি মানি।
রবের ভয় আর পরকালের জবাবদিহির ভাব,
মানুষকে তো পাপের পথ থেকে ফিরিয়ে আনে ন্যায্যতাভাবে।
উত্তম আমল সেই তো, যাতে রবের সন্তুষ্টি,
লোকদেখানো কর্মে শুধু বাড়ে অন্তরভ্রান্তি।
ইখলাস দিয়ে কাজ করো, সত্য রাখো মনে,
রহমানেরই সন্তুষ্টি চাও প্রতিটি কর্মক্ষণে।
ক্ষমতার মালিক এক আল্লাহভুলো না কথা,
তাঁরই ইচ্ছায় আসে সুখ, তাঁরই ইচ্ছায় ব্যথা।
তিনি চাইলে কঠিন পথও সহজ হয়ে যায়,
তাঁর ওপর ভরসা রাখলে অন্তর শান্তি পায়।
তিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন মহা নিখুঁত করে,
সূর্য-চন্দ্র, গ্রহ-নক্ষত্র চলছে তাঁরই তরে।
দিনের পরে রাত আসে, রাতের পরে দিন,
নিয়ম মেনে চলে সবইসুবহানাল্লাহ! আমিন।
সমুদ্র গর্জে, বাতাস বয়, মেঘের দল যায়,
বৃষ্টি নামে তাঁরই হুকুমে শুষ্ক ধরার গায়।
বীজের ভেতর প্রাণ জাগে, শস্য ওঠে মাঠে,
রবের কুদরত প্রকাশ পায় পৃথিবীরই ঘাটে।
ক্ষুদ্র পিঁপড়া, বিশাল হাতি, পাখির ডানা মেলা,
সবাই যেন তাঁর কুদরতের বিস্ময়ভরা খেলা।
কে দিল তাদের জীবনধারা? কে দিল খাদ্য-প্রাণ?
এক আল্লাহই পালন করেনতিনি পরম দয়াবান।
পাখির দিকে তাকাও তুমি, ডানা মেলে উড়ে,
কে রেখেছে ভারসাম্য তার আকাশপথের সুরে?
তিনি ছাড়া কে পারে এমন নিয়ম করে দিতে?
তাঁর কুদরত ভাবলে মানুষ নত হয় অন্তরেতে।
সৃষ্টিজুড়ে নিখুঁত ছন্দ, নিয়ম অটুট রয়,
কোথাও নেই বিশৃঙ্খলা, নেই কোনো সংশয়।
যিনি এমন বিশ্ব গড়েন অসীম জ্ঞান দিয়ে,
তাঁরই সামনে নত হও গো বিনয়ভরা হৃদয়ে।
দৃষ্টি মেলে দেখো আকাশঅসীম নীলিমা,
তারার মাঝে ফুটে থাকে কুদরতের মহিমা।
যতই দেখো, ততই যেন বিস্ময় বাড়ে মনে,
স্রষ্টার নিদর্শন ছড়িয়ে আছে ক্ষণে ক্ষণে।
দৃষ্টি ফিরাও, আবার দেখো, খুঁজে কোনো দোষ,
পাবে কি তুমি সৃষ্টিজুড়ে কোনো ত্রুটির রোষ?
বারবারই দৃষ্টি শেষে ফিরে আসবে হায়,
অবনত আর ক্লান্ত হয়েত্রুটি কোথায় পায়?
বিজ্ঞান যত এগিয়ে যাবে, রহস্য তত খোলে,
সৃষ্টিজগতের নিদর্শন মানুষ দেখে বলে
বিশ্ব কি আপনাতেই এমন নিয়মে চলে?
নিশ্চয় এর পেছনে আছেন জ্ঞানী রব এক বলে।
তাই তো জ্ঞানী সে- মানুষ, দেখে সত্যের আলো,
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টাকে সে চিনে নেয় ভালো।
জ্ঞান যদি ঈমানহীন হয়, অহংকারে ভরে,
সত্যের দ্বার বন্ধ হয়ে যায় অজ্ঞতার ঘোরে।
হে মানুষ, তোমার জীবনও এক ক্ষণিক সফর,
আজ যে তুমি হাসছ বসে, কালই হতে পারো পর।
মৃত্যু এসে থামিয়ে দেবে দুনিয়ার সব কাজ,
তাই তো আগে প্রস্তুত হও, সাজাও আমল-সাজ।
জীবন-মৃত্যু পরীক্ষারই এক মহান ঘোষণা,
কে বা সত্যে অটল থাকেসেটিই আসল চেনা।
সম্পদ দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব নয়, বংশ দিয়ে নয় মান,
তাকওয়া আর সৎ আমলেই মুমিনের সম্মান।
ক্ষমতা পেলে অহংকার নয়রবকে স্মরণ করো,
সম্পদ পেলে গরিব-দুঃখীর অধিকার পূরণ করো।
জ্ঞান পেলে সত্যের পথে জ্ঞানের আলো দাও,
সুযোগ পেলে সৃষ্টির সেবা করে সওয়াব পাও।
ক্ষমাশীল তিনিতাই তো আশা ছাড়ব না আর,
তাওবার পথে ফিরলে খুলে রহমতেরই দ্বার।
পাপ যতই হোক না কেন, ফিরে এসো আজ,
রবের দিকে ফিরে এসে গড়ো নতুন সাজ।
তিনি দয়ালু, তিনি মালিক, তিনি মহাশক্তিমান,
তাঁরই হাতে জীবন-মৃত্যু, তাঁরই হাতে প্রাণ।
তাঁর ওপরই ভরসা রাখি, তাঁরই কাছে চাই,
তাঁর রহমত ছাড়া বলোআমাদের আর কে ভাই?
যে রব আকাশ সৃষ্টি করেন নিখুঁত বিধানে,
তাঁর বিধান মানাই হোক জীবনেরই গানে।
কুরআনের পথ আঁকড়ে ধরি, সুন্নাহ করি মান্য,
এই পথেই দুনিয়া সুন্দর, আখিরাতও ধন্য।
সালাত হবে জীবনেরই প্রতিদিনের আলো,
সত্য কথা, আমানতদারি, চরিত্র হবে ভালো।
মাতা-পিতার হক আদায়, আত্মীয়ের সম্মান,
প্রতিবেশীর প্রতি সদয় মুমিনেরই জ্ঞান।
দুর্বলকে দিও না কষ্ট, করো না অবিচার,
অন্যের হক আত্মসাৎ করে পেও না সুখের ভার।
জবান হবে কোমল তোমার, অন্তর হবে নরম,
সদাচরণে ফুটবে তখন ঈমানেরই মর্ম।
মিথ্যা, হিংসা, অহংকার সব দূরে সরিয়ে দাও,
শয়তানের প্ররোচনায় নিজেকে হারিয়ে না যাও।
যে হৃদয়ে আল্লাহভীতি, সে হৃদয় পায় আলো,
তাকওয়ার পথে চললে জীবন হয়ে ওঠে ভালো।
নক্ষত্রের ওই দীপ্তি দেখে মনে রেখো আজ,
অন্ধকারের পরেই আসে আলোর নির্মল সাজ।
তেমনি পাপের আঁধার ছেড়ে তাওবার পথে চলো,
রবের রহমত পেতে হলে ঈমানটাকে জ্বালো।
সাত আসমান স্তরে স্তরেকী অপার বিস্ময়,
স্রষ্টার নিখুঁত কারুকাজ সর্বত্র প্রকাশময়।
মানুষ যত দেখবে তত বাড়বে তার জ্ঞান,
শেষে এসে বুঝবে সেরবই পরম মহান।
হে হৃদয়, আর অহংকারে থেকো না বিভোর,
তোমার শক্তি সীমিতরবের শক্তি ঘোর।
তুমি ক্ষুদ্র, তিনি মহান; তুমি তাঁরই বান্দা,
তাঁর আনুগত্যেই খুঁজে নাও জীবনেরই ছন্দা।
যে জীবন দিলেন তিনি, তা করো না অপচয়,
সময় হলো মূল্যবানফিরে আসে না সময়।
প্রতিটি ক্ষণ আমল দিয়ে করো অর্থময়,
আজকের সৎকর্ম কাল তোমার নাজাতময় হয়।
মৃত্যু যখন ডাকবে তোমায়, ফিরবে না সে ক্ষণ,
বন্ধ হবে দুনিয়ার পথ, থেমে যাবে স্পন্দন।
তাই হিসাবের আগেই তুমি হিসাব করে নাও,
রবের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি আজই নাও।
সেদিন ধন নয়, জন নয়, থাকবে না কোনো বাহন,
আমলনামাই সাক্ষ্য দেবেকেমন ছিল জীবন।
যে করেছে নেক আমল আর রবকে রেখেছে ভয়,
তার জন্য আছে রহমত, সফলতারই জয়।
আর যে সত্য ভুলে গিয়ে অবাধ্যতায় মাতে,
নিজের জন্য আগুন জ্বালে পাপের অন্ধ রাতে।
জাহান্নামের কঠিন আযাব বড়ই ভয়াবহ,
তাই তো কুরআন সতর্ক করেফিরে এসো এখনই।
আল-মুলকের এই বাণী জাগায় ঘুমন্ত প্রাণ,
মালিক এক আল্লাহতাঁরই হাতে সব বিধান।
জীবন হলো পরীক্ষা, আমল হবে মানদণ্ড,
তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করাই জীবনের মহাগন্তব্য।
আকাশজুড়ে নিখুঁত সৃষ্টি, পৃথিবীজুড়ে প্রাণ,
সবকিছুতেই প্রকাশ পায় মহিমাময় সুলতান।
যতই দেখি সৃষ্টিজগত, ততই বলি মনে
সুবহানাল্লাহ! কী অপূর্ব সৃষ্টি তাঁরই কুদরতে!
দৃষ্টি ক্লান্ত, মন অবনত, তবু খুঁজি ত্রুটি,
শেষে বুঝিসৃষ্টিজুড়ে নেই কোনো অসামঞ্জস্যের ছুটি।
যিনি এমন বিশ্ব গড়েন জ্ঞান শক্তি দিয়ে,
তাঁরই পথে জীবন কাটাই ঈমান বুকে নিয়ে।
বরকতময় সেই মহান রব, রাজত্ব যাঁর হাতে,
তাঁরই নামে শুরু হোক জীবন প্রতিদিন প্রাতে।
তাঁরই নামে শেষ হোক সব, তাঁরই নামে গান,
তাঁরই হুকুম মেনে চলাই মুমিনের সম্মান।
হে আল্লাহ, আমাদের অন্তর ঈমানে করো ভরা,
সৎ আমলের পথে রেখো, পাপ থেকে দাও সরা।
জীবন-মৃত্যুর পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ করো প্রাণ,
তোমার রহমতে দাও আমাদের জান্নাতের স্থান।
হে রব, অহংকার থেকে রাখো আমাদের দূরে,
কুরআনের আলো দিও অন্তরেরই নূরে।
সুন্নাহর পথ আঁকড়ে ধরে কাটুক জীবনভর,
তোমার সন্তুষ্টি হোক আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন-ধর।
দুনিয়া যেন পরীক্ষাক্ষেত্রভুলে না যাই কভু,
আখিরাতের চিরজীবনসত্য কথা সবই।
আজকের আমল গড়বে কালকের পরিণাম,
তাই তো রবের পথে চলাই মুমিনের সম্মান।
আকাশ দেখে ঈমান বাড়ুক, নক্ষত্র দেখে জ্ঞান,
সৃষ্টির মাঝে চিনে নিই পরাক্রমশালী রব মহান।
মৃত্যু দেখে তাওবা করি, জীবন দিয়ে কাজ,
নেক আমলে ভরে উঠুক প্রতিটি দিন-রাত আজ।
আল-মুলকের প্রথম আয়াত দেয় রাজত্বের জ্ঞান,
দ্বিতীয় আয়াত শেখায়জীবন-মৃত্যুর পরীক্ষার মান।
তৃতীয়-চতুর্থ বলেসৃষ্টি নিখুঁত তাঁর,
পঞ্চম আয়াত সতর্ক করেঅবাধ্যের আছে আগুনের ভার।
এসো তবে কুরআনের পথে গড়ি জীবনখানি,
তাওহিদেরই আলো জ্বেলে দূর করি সব গ্লানি।
রবের হুকুম মেনে চলি, রাখি তাঁকে ভয়,
তাঁর রহমতে দুনিয়া-আখিরাত হোক সফলময়।
বরকতময় সেই মহান রবমালিক সৃষ্টিজগতের,
তাঁরই নামে শান্তি নামে অশান্ত হৃদয়ের।
তিনি শক্তিমান, তিনি ক্ষমাশীল, তিনি পরম দয়ালু,
তাঁরই পথে জীবন দিলে হবে জীবন সার্থক, ভালো।
সাত আসমান সাক্ষী হয়ে বলে নীরব ভাষায়
স্রষ্টার নিখুঁত কুদরত দেখো আপন চোখের আশায়।
তারার আলো রাতের বুকে তাঁরই মহিমা গায়,
বান্দার হৃদয় নত হয়ে রবের পথে ফিরে যায়।
জীবন ক্ষণিক, মৃত্যু অবধারিত সত্য মনে রাখি,
সৎ আমলের পাথেয় নিয়ে আখিরাতের পথে হাঁটি।
দুনিয়ার মোহ ছেড়ে দিয়ে রবের প্রেমে ভরি প্রাণ,
তাঁর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের শেষ সম্মান।
হে আল্লাহ, তুমি মালিকআমরা তোমার বান্দা,
তোমার হুকুম মেনে চলাই জীবনের শ্রেষ্ঠ ছন্দ।
তোমার রহমত চাই যে আমরা, চাই ক্ষমার দ্বার,
তোমার নূরে আলোকিত হোক অন্তর বারবার।
যে আয়াত হৃদয়ে রাখে, সে হারায় না পথ,
কুরআনের আলোয় মুছে যায় অন্ধকারের ক্ষত।
আল-মুলকের শিক্ষা হোক জীবনেরই গান
আমল হোক উত্তম, ঈমান হোক প্রাণ।
বরকতময় সেই মহান রব, সর্বময় কর্তৃত্বধারী,
তিনি ছাড়া উপাস্য নেইতিনি এক, তিনি ভারী।
তাঁরই হুকুমে সৃষ্টি জাগে, তাঁরই হুকুমে ক্ষয়,
তাঁরই পথে চললে বান্দার চূড়ান্ত সফলতা হয়।
হে মানুষ, দৃষ্টি ফেরাওদেখো আকাশপানে,
স্রষ্টার নিদর্শন লেখা আছে নীল গগনের গানে।
ত্রুটি খুঁজে ফিরবে যদি, ক্লান্ত হবে দৃষ্টি,
শেষে বলবে—“সুবহানাল্লাহ! কী নিখুঁত তাঁর সৃষ্টি!
তাই আজ থেকেই বদলে যাক আমাদের জীবন,
পাপ ছেড়ে নেক আমলে ভরে উঠুক মন।
তাওহিদ, তাকওয়া, ইখলাস হোক হৃদয়ের অলংকার,
কুরআন-সুন্নাহর পথে চলি হোক অঙ্গীকার।
জীবন যদি পরীক্ষা হয়, উত্তম হোক কাজ,
মৃত্যুর পরে রবের কাছে দিতে হবে হিসাব।
ক্ষমাশীল সেই রবের কাছে তাওবা করি আজ,
তাঁর রহমতের ছায়ায় হোক আমাদের নাজাতের সাজ।
সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁরইএই সত্য হোক প্রাণ,
সৃষ্টিজুড়ে তাঁর কুদরতএই হোক ঈমান।
আল-মুলকের বাণী বুকে রাখি নিরন্তর,
রবের সন্তুষ্টির পথে কাটুক জীবন সুন্দর।
শেষে শুধু এই প্রার্থনাহে দয়াময় রব,
সঠিক পথে রাখো আমায়, মুছে দাও সব ক্ষত।
উত্তম আমল করার তাওফিক দাও প্রতিক্ষণ,
ঈমান নিয়ে মৃত্যু দিওএই আমাদের আর্ত আবেদন।
কবর যখন হবে একাকী, থাকবে না কেউ সাথে,
আমল তখন সঙ্গী হবে অন্ধকারের রাতে।
তাই দুনিয়ার জীবনজুড়ে নেক আমল করি,
রবের রহমত পাওয়ার আশায় তাঁরই পথে চলি।
হাশরের সেই মহাদিনে চাই না লাঞ্ছনা,
চাই না আগুন, চাই না রবের অসন্তুষ্টি-যন্ত্রণা।
চাই তাঁর ক্ষমা, চাই রহমত, চাই জান্নাতের স্থান,
চাই আল্লাহর সন্তুষ্টিচাই নাজাতের দান।
বরকতময় সেই মহান রবসকল প্রশংসা তাঁর,
আকাশ-পৃথিবী সবই তাঁর, তাঁরই সৃষ্টি সংসার।
জীবন-মৃত্যু, দিন-রজনী, নক্ষত্রেরই গান
সবকিছুতেই প্রকাশিত তাঁর অসীম মহান।
আল-মুলকের প্রথম পাঁচ আয়াত হৃদয়ে রাখি ধরি,
তাওহিদেরই আলো নিয়ে সত্যের পথে চলি।
সৃষ্টির নিখুঁত সৌন্দর্যে স্রষ্টাকে করি স্মরণ,
উত্তম আমল দিয়ে সাজাই দুনিয়া পরকালীন জীবন।
হে আল্লাহ, আমাদের দৃষ্টি করো সত্যদর্শী,
হৃদয় করো বিনয়ী, আমল করো নেক হর্ষী।
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রাখো নিরাপদ প্রাণ,
জাহান্নামের আগুন থেকে দাও চির পরিত্রাণ।
সাত আসমান, তারার মেলা, সৃষ্টির অপার রূপ,
সবই বলেরবের কুদরত সীমাহীন, অনুপম।
যে হৃদয়ে সত্য জাগে, সে হৃদয় হয় নূরময়,
আল্লাহর আনুগত্যেই তার জীবনে আসে জয়।
তাই এসো, ভাই, এসো বোন, এসো মানবসমাজ,
রবের পথে জীবন গড়ি, করি নেক কাজ।
অন্যায় ছেড়ে ন্যায়কে ধরি, সত্য করি মান,
কুরআনের আলোয় গড়ি সুন্দর মানবজীবন-প্রাণ।
সর্বময় কর্তৃত্ব তাঁরতাঁরই কাছে নত,
তাঁরই নামে হৃদয় জাগে, তাঁরই প্রেমে রত।
জীবন-মৃত্যু তাঁরই দান, আমল হবে যাচাই,
তাঁর রহমত ছাড়া বলোআমাদের গতি নাই।
হে পরম করুণাময়, হে মহাপরাক্রমশালী,
তোমার রহমতের ছায়া হোক আমাদের ঢালি।
উত্তম আমল, বিশুদ্ধ ঈমান দাও আমাদের প্রাণে,
জান্নাতের শান্তি দিও তোমার অসীম দানে।

মালিক তিনি, শক্তি তাঁরতাঁরই রাজত্বখানি,
তাঁরই হুকুমে জীবন-মৃত্যু, তাঁরই দান প্রাণখানি।
সৃষ্টিজুড়ে নিখুঁত ছন্দ, তাঁরই কুদরত-গান
আল-মুলকের শিক্ষা বুকে: উত্তম হোক আমল, অটুট হোক ঈমান।

দৃষ্টি মেলে আকাশ দেখি, বলি নতশিরে
সুবহানাল্লাহ! রবের সৃষ্টি অনুপম নকশিরে।
তাঁরই পথে জীবন কাটুক, তাঁরই নামে মরণ
তাঁর রহমতে জান্নাত হোক আমাদের চিরনিবাসের প্রাঙ্গণ।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ