Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ভালো কাজে উৎসাহ দিতে ইসলামের অভিজ্ঞতা কেমন

কারও ভালো কাজের আন্তরিক প্রশংসা করা কিংবা একটি সুন্দর উৎসাহব্যঞ্জক বাক্য বলাকে পার্থিব দৃষ্টিতে মামুলি বিষয় মনে হতে পারে, কিন্তু মানব মনস্তত্ত্বে এটি এক অফুরন্ত শক্তির উৎস। 

অনুপ্রেরণাদায়ী ছোট ছোট ইতিবাচক শব্দ একজন মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলে, আত্মবিশ্বাসকে শাণিত করে এবং কঠিন সংকটেও ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়। বিপরীতে, নিরুৎসাহিত করা ও নেতিবাচক মন্তব্য মানুষের ভেতরের অমিত সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়।

ইসলাম মানবীয় অনুভূতির এক অনন্য পাঠশালা। ইসলামি তারবিয়ত ও সংস্কৃতির পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে মানুষকে ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করা, ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং প্রতিভাকে পরিচর্যা করার উজ্জ্বল সব দৃষ্টান্ত।

রণক্ষেত্রে সাহসিকতার স্বীকৃতি

ইসলামের ইতিহাসে ভালো কাজের জনসমক্ষে প্রশংসা ও মূল্যায়ন করার চমৎকার নজির স্থাপন করেছেন রাসুল (সা.) নিজেই। ‘জি কারাদ’ যুদ্ধের (লাহাব অভিযান) দিনে সাহাবি আবু কাতাদাহ (রা.) এবং সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) মুশরিকদের বিরুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন।

যুদ্ধ শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে তাঁদের বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ঘোষণা করেন, ‘আজকের দিনে আমাদের সর্বোত্তম অশ্বারোহী হলেন আবু কাতাদাহ এবং সর্বোত্তম পদাতিক মুজাহিদ হলেন সালামা ইবনুল আকওয়া।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮০৭)

নবীজি (সা.) কেবল মৌখিক প্রশংসাই করেননি, বরং সালামাকে বিশেষ উপহার হিসেবে অশ্বারোহী ও পদাতিক—উভয় বাহিনীর সমপরিমাণ গনিমতের অংশ প্রদান করেন এবং মদিনায় প্রত্যাবর্তনের সময় পরম ভালোবাসায় তাঁকে নিজের উটের পেছনে বসিয়ে নেন।

এই ঘটনার ব্যাখ্যায় নববি (রহ.) লিখেছেন, ‘এই হাদিস প্রমাণ করে যে বীর ও গুণী মানুষের জনসমক্ষে প্রশংসা করা একটি প্রশংসনীয় সুন্নত। বিশেষ করে কোনো মহৎ কাজের পর কাউকে বাহবা ও সম্মান দেওয়া উচিত, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং উপস্থিত বাকি সবাই সৎকাজে আরও বেশি উৎসাহিত হয়।’ (ইমাম নববি, শারহু সহিহ মুসলিম, ১২/১৮২, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত)

মন্তব্য করুন

ব্লগ