সহকারী শিক্ষক
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ অপরাহ্ণ
আলোকিত মানবসম্পদ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সাক্ষরতার গুরুত্ব
জ্ঞানই শক্তি, আর সেই জ্ঞানের প্রথম এবং প্রধান চাবিকাঠি হলো সাক্ষরতা। প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বজুড়ে পরম শ্রদ্ধায় ও বিপুল উদ্দীপনার সাথে পালিত হয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিন পালন করার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি সমাজ, রাষ্ট্র তথা পুরো মানবজাতিকে নিরক্ষরতার অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসার এক দৃঢ় অঙ্গীকার। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশ, মেধার পূর্ণ বিকাশ এবং একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সাক্ষরতার ভূমিকা অপরিসীম।
সাক্ষরতা বলতে কেবল অক্ষর চেনা বা নিজের নাম লিখতে পারাকে বোঝায় না; আধুনিক যুগে সাক্ষরতার পরিধি আরও অনেক বেশি বিস্তৃত ও অর্থবহ। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ডিজিটাল সাক্ষরতা, সামাজিক সচেতনতা এবং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার ক্ষমতাই হলো প্রকৃত সাক্ষরতা। যখন একজন ব্যক্তি পড়তে ও লিখতে পারেন, তখন তার সামনে উন্মোচিত হয় অসীম সম্ভাবনার দ্বার। তিনি সচেতন হতে পারেন তার অধিকার সম্পর্কে, বুঝতে পারেন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব এবং স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।
একটি জাতির সার্বিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে তার শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। যে দেশের সাক্ষরতার হার যত বেশি, সেই দেশ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে তত বেশি সমৃদ্ধ। নিরক্ষরতা দারিদ্র্যের চক্রকে টিকিয়ে রাখে, কিন্তু শিক্ষা ও সাক্ষরতা মানুষকে দেয় আত্মবিশ্বাস এবং নতুন পথ খোঁজার সাহস। শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনা এবং বয়স্ক শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে আমরা আমাদের সমাজ থেকে নিরক্ষরতার অভিশাপ পুরোপুরি দূর করতে পারি।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে আমাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা উচিত। শুধু সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে আমাদের নিজেদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা যদি আমাদের চারপাশের অন্তত একজন নিরক্ষর মানুষকেও অক্ষরজ্ঞান দান করতে পারি, তবেই আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল উদ্দেশ্য সার্থক হবে। আসুন, শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিই এবং একটি আলোকিত, মুক্ত ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তোলার যাত্রায় নিজেদের শামিল করি।
১৪
২৩ মন্তব্য