প্রভাষক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
اِسْمٌ -এর সহজ তাহকীক (৪টি বিষয়)
اِسْمٌ -এর সহজ তাহকীক (৪টি বিষয়)
কোনো শব্দ ইসম হলে তার তাহকীকের জন্য নিচের ৪টি বিষয় ক্রমানুসারে লিখতে হবে:
أقسام (ইসমের প্রকার):
ইসম সাধারণত ৩ প্রকারের যেকোনো একটি হয়:
- اسم جامد : যে اسم (বিশেষ্য) কোনো কাজের নাম বা ক্রিয়া থেকে
তৈরি হয়নি এবং যা থেকে অন্য কোনো শব্দও তৈরি করা যায় না—তাকে اسم جامد বলে। এটি কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীর নিজস্ব স্থায়ী নাম।উদাহরণ: رَجُلٌ (পুরুষ), قَلَمٌ (কলম), شَجَرٌ (গাছ), كِتَابٌ (বই)।
ব্যাখ্যা
قَلَمٌ (কলম / Pen): শব্দটি কোনো কাজ (যেমন: লেখা, কাটা বা পড়া) থেকে জন্ম নেয়নি। এটি একটি জড় বস্তুর নিজস্ব মৌলিক নাম। আবার এই 'কলম' শব্দ থেকে নতুন কোনো ক্রিয়াও তৈরি করা যায় না। তাই এটি اسم جامد
- اسم مشتق : যে اسم কোনো مصدر (কাজের মূল নাম) থেকে নির্দিষ্ট
ছাঁচ বা নিয়মে রূপ নিয়ে কর্তা, কর্ম, স্থান বা যন্ত্রের রূপ ধারণ করে—তাকে اسم مشتق বলে। উদাহরণ: عَالِمٌ (জ্ঞানী), مَكْتُوْبٌ (লিখিত), مَسْجِدٌ (মসজিদ/সিজদার স্থান), مِفْتَاحٌ (চাবি)।
ব্যাখ্যা
عَالِمٌ (জ্ঞানী / Scholar): শব্দটি মৌলিক নয়; এটি মূল মাসদার عِلْمٌ (জানা/জ্ঞান) থেকে فَاعِلٌ ওজনে তৈরি হয়ে 'যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জন করেছে' (কর্তা)-কে বোঝাচ্ছে। তাই এটি اسم مشتق (اسم فاعل)
- مصدر (মাসদার): যে اسم দিয়ে শুধু কোনো কাজের মূল নাম
বোঝায়, কিন্তু কাজটি কখন হয়েছে (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ)—এমন কোনো কাল (Tense) থাকে না, তাকে مصدر বলে। এটি আরবি ভাষার মূল ভিত্তি, যা থেকে বিভিন্ন ক্রিয়া ও শব্দ গঠিত হয়।উদাহরণ: نَصْرٌ (সাহায্য করা), كِتَابَةٌ (লেখা), عِلْمٌ (জানা)।
ব্যাখ্যা
كِتَابَةٌ (লেখা / Writing): শব্দটি শুনলে লেখার 'কাজের ভাব' বোঝা যায়, কিন্তু কাজটি কখন হয়েছে (আগে, এখন নাকি পরে)—তার কোনো সময় বা কাল (Tense) এখানে নেই। শুধু কাজের নাম বোঝানোয় এবং এটি থেকে 'কাতাবা, ইয়াকতুবু, কাতিব' ইত্যাদি তৈরি হওয়ায় এটি مصدر
عدد (বচন):
Ø واحد (একবচন): একটি মাত্র ব্যক্তি বা বস্তু বোঝায়। যেমন: كِتَابٌ (একটি বই)।
Ø تثنية (দ্বিবচন): শব্দের শেষে انِ (আ-নি) বা يْنِ (আইনি) থাকে। যেমন: كِتَابَانِ (দুটি বই)।
Ø جَمْع (জমা / বহুবচন)
আরবিতে যে শব্দ দ্বারা দুইয়ের বেশি (তিন বা ততোধিক) ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে বোঝায়, তাকে جمع (বহুবচন) বলে। আরবিতে বহুবচন প্রধানত দুই প্রকার:
1. جمع سالم (নিয়মিত বহুবচন)
2. جمع تكسير (অনিয়মিত বহুবচন)
جَمْعُ السَّالِم (নিয়মিত বহুবচন)
পুংলিঙ্গ (جمع مذكر سالم): একবচনের শেষে وْنَ (ঊ-না) অথবা يْنَ (ঈ-না) যোগ করে গঠিত হয়।
উদাহরণ: مُسْلِمٌ (একজন মুসলিম) مُسْلِمُوْنَ / مُسْلِمِيْنَ (অনেক মুসলিম পুরুষ)।
স্ত্রীলিঙ্গ (جمع مؤنث سالم): একবচনের শেষ বর্ণে খাড়া যবর ও তা—অর্থাৎ اتٌ যোগ করে গঠিত হয়।
উদাহরণ: مُسْلِمَةٌ (একজন মুসলিম নারী) مُسْلِمَاتٌ (অনেক মুসলিম নারী)।
جَمْعُ التَّكْسِيْر (অনিয়মিত বহুবচন)
যে বহুবচন তৈরি করার সময় একবচনের মূল গঠন বা হরফের ধারাবাহিকতা ভেঙে যায় (নতুন হরফ যুক্ত হয়ে, বাদ পড়ে বা হরকত পরিবর্তন হয়ে), তাকে جمع تكسير বলে।
উদাহরণ:
كِتَابٌ (একটি বই) كُتُبٌ (অনেক বই) — এখানে 'আলিফ' বাদ গিয়ে হরকত পরিবর্তন হয়েছে।
مَسْجِدٌ (একটি মসজিদ) مَسَاجِدُ (অনেক মসজিদ) — এখানে মাঝখানে 'আলিফ' যুক্ত হয়েছে।
وَلَدٌ (একটি ছেলে) أَوْلَادٌ (অনেক ছেলে) — এখানে শুরুতে ও মাঝে নতুন হরফ যুক্ত হয়েছে।
পরীক্ষার টিপস: শব্দটি একবচন (واحد) হলে তার বহুবচন (جمع) জানা থাকলে ব্র্যাকেটে লিখে দেওয়া ভালো; আর বহুবচন আসলে তার একবচন উল্লেখ করতে হয়।
جنس (লিঙ্গ):
• مذكر (পুংলিঙ্গ): যাতে স্ত্রীলিঙ্গের
কোনো চিহ্ন নেই। যেমন: قَلَمٌ, رَجُلٌ।
• مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ): স্ত্রীবাচক কোনো ব্যক্তি/প্রাণী (যেমন: أُمٌّ মা, مَرْأَةٌ নারী) অথবা শব্দের শেষে ৩টি চিহ্নের যেকোনো
একটি থাকলে:
১. গোল তা ة (যেমন: طَالِبَةٌ, مَدْرَسَةٌ)
২. আলিফে মাকসূরা ى (যেমন: بُشْرَى, كُبْرَى)
৩. আলিফে মামদূদা اء (যেমন: صَحْرَاءُ, حَمْرَاءُ)
معنى (অর্থ):
শব্দটির সঠিক বাংলা অর্থ লিখতে হবে। যেমন: الْقَلَمُ = কলমটি।
📝 اِسْمٌ-এর পূর্ণাঙ্গ তাহকীক উদাহরণ
|
১. نَاصِرٌ
أَقْسَام (প্রকার): اِسْمُ الْفَاعِلِ (مُشْتَقٌّ) عَدَد (বচন): وَاحِدٌ (একবচন) جِنْس (লিঙ্গ): مُذَكَّرٌ (পুংলিঙ্গ) مَعْنَى (অর্থ): একজন সাহায্যকারী পুরুষ। |
২. الْكِتَابُ
أَقْسَام (প্রকার): اِسْمُ الْجَامِدِ عَدَد (বচন): وَاحِدٌ (একবচন) جِنْس (লিঙ্গ): مُذَكَّرٌ (পুংলিঙ্গ) مَعْنَى (অর্থ): বইটি। |
|
৩. مُسْلِمُونَ
أَقْسَام (প্রকার): اِسْمُ الْفَاعِلِ (مُشْتَقٌّ) عَدَد (বচন): جَمْعٌ (বহুবচন ) جِنْس (লিঙ্গ): مُذَكَّرٌ (পুংলিঙ্গ) مَعْنَى (অর্থ): সকল মুসলমান পুরুষ। |
৪. الْمَدْرَسَةُ
أَقْسَام (প্রকার): اِسْمُ مُشْتَقٌّ عَدَد (বচন): وَاحِدٌ (একবচন) جِنْس (লিঙ্গ): مُؤَنَّثٌ مَعْنَى (অর্থ): মাদরাসাটি |
|
৫. رَجُلَانِ
أَقْسَام (প্রকার): اِسْمُ الْجَامِدِ عَدَد (বচন): تَثْنِيَةٌ (দ্বিবচন) جِنْس (লিঙ্গ): مُذَكَّرٌ (পুংলিঙ্গ) مَعْنَى (অর্থ): দুজন পুরুষ। |
৬. مِفْتَاحٌ
أَقْسَام (প্রকার): اِسْمُ الْآلَةِ (مُشْتَقٌّ) عَدَد (বচন): وَاحِدٌ (একবচন) جِنْس (লিঙ্গ): مُذَكَّرٌ (পুংলিঙ্গ) مَعْنَى (অর্থ): একটি চাবি বা খোলার যন্ত্র। |
|
৭. أَكْبَرُ
أَقْسَام : اِسْمُ التَّفْضِيلِ (مُشْتَقٌّ) عَدَد (বচন): وَاحِدٌ (একবচন) جِنْس (লিঙ্গ): مُذَكَّرٌ (পুংলিঙ্গ) مَعْنَى (অর্থ): অধিকতর বড় বা সবচেয়ে বড়। |
৮. صَالِحَاتٌ
أَقْسَام (প্রকার): اِسْمُ الْفَاعِلِ / (مُشْتَقٌّ) عَدَد (বচন): جَمْعٌ جِنْس (লিঙ্গ): مُؤَنَّثٌ (স্ত্রীলিঙ্গ) مَعْنَى (অর্থ): সৎ নারীগণ |
|
৯. الْعِلْمُ
أَقْسَام (প্রকার): مَصْدَرٌ (مصدر) عَدَد (বচন): وَاحِدٌ (একবচন) جِنْس (লিঙ্গ): مُذَكَّرٌ (পুংলিঙ্গ) مَعْنَى (অর্থ): জ্ঞানটি বা বিশেষ জ্ঞান। |
১০. فَاطِمَةُ
أَقْسَام (প্রকার): (اِسْمُ الْجَامِدِ) عَدَد (বচন): وَاحِدٌ (একবচন) جِنْس (লিঙ্গ): مُؤَنَّثٌ (স্ত্রীলিঙ্গ — مَعْنَى (অর্থ): ফাতিমা |
৭
৭ মন্তব্য