সহকারী অধ্যাপক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
পিতা-মাতা—জান্নাতের পথে এক মহান আমানত -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
আল্লাহর পরে হক যে বড়, পিতা-মাতার হক,
তাঁদের প্রতি সদাচরণে মুমিন রাখে শপথ।
তাওহিদেরই আলো জ্বেলে জীবন করো ধন্য,
মা-বাবার প্রতি ইহসানেই চরিত্র হবে পুণ্য।
যাঁদের ত্যাগে পৃথিবীতে পেয়েছি প্রথম আলো,
যাঁদের কোলে শিখেছি ভাষা, চিনেছি জগত ভালো,
মায়ের বুকে ঘুমিয়েছি, বাবার ঘামে ভাত—
তাঁদের হক ভুলে গেলে কীসের জীবনের হাত?
মায়ের গর্ভে কত মাসের অশেষ কষ্টভোগ,
প্রসববেদনা, রাতজাগরণ—অপরিসীম যোগ।
ক্ষুধার মাঝে সন্তান আগে, নিজের কথা পরে,
মায়ের মমতা ছায়ার মতো থাকে জীবনজুড়ে।
বাবার কপাল ঘামে ভেজে সন্তানেরই তরে,
রোদ-বৃষ্টি সব সহে তিনি জীবিকারই ঘোরে।
নিজের সুখে লাগাম টেনে সন্তানের সুখ চান,
সন্তানেরই ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে গান।
তাই তো কুরআন শিক্ষা দেয়—করো তাঁদের মান,
ইবাদতের পর সদাচরণ—মুমিনের সম্মান।
আল্লাহ বলেন, “উহ্” বলো না, দিও না কোনো ধমক,
সম্মানেরই কথায় ভরুক তোমার প্রতিটি বাক্য।
“রব্বির হামহুমা”—দোয়া করো অন্তর ভরে,
শৈশবে তাঁরা লালন করেছেন—স্মরণ রেখো তরে।
দয়ার ডানা মেলে দাও আজ তাঁদের দুজনের পানে,
তাঁদের সেবা নেক আমল—রাখো হৃদয়খানে।
কথার মাঝে কোমলতা হোক, রুক্ষতা নয় কভু,
মায়ের মনে দুঃখ দিও না, বাবার মনে ক্ষতও নয় তবু।
উঁচু স্বরে কথা বলে যে, হারায় নিজের মান,
নম্র ভাষাই মুমিনের তো সৌন্দর্যেরই প্রাণ।
“উহ্” শব্দটিও নয় যে মানায় পিতা-মাতার সাথে,
বিরক্তিরও ছাপ রেখো না কথার কোনো প্রাতে।
তাঁদের কোনো ভুল যদি হয়, ধৈর্য ধরে বোঝাও,
অপমানের পথ না ধরে ভালোবাসা দেখাও।
তুমি আজ যে জ্ঞানী মানুষ, তাঁদেরই তো দান,
তাঁদের ত্যাগের সিঁড়ি বেয়ে পেয়েছ জীবনের মান।
আজ তুমি যে শক্তিমান, তাঁরা ছিলেন ছায়া,
শৈশবজুড়ে তোমার পাশে ছিলেন মায়াময় মায়া।
হাঁটতে গিয়ে পড়ে গেলে যে হাত ধরেছে তোমার,
কাঁদলে যে বুকে টেনে মুছেছে অশ্রুধার,
জ্বরে পড়ে রাত জেগে যে বসেছিল পাশে,
সেই মায়ের ঋণ শোধ হবে কী দুনিয়ারই আশে?
বাবা যখন বাইরে যেতেন জীবিকারই খোঁজে,
তোমার জন্য স্বপ্ন বুনতেন দুঃখ-কষ্ট বোঝে।
নিজের শখে কমতি রেখে তোমার চাহিদা মেটান,
সন্তানেরই হাসির জন্য জীবন করে দান।
তাই তাঁদের বৃদ্ধ বয়সে হয়ো না নির্দয়,
শৈশবের সেই ঋণ স্মরণে করো সেবাময়।
যে পা তোমার চলার পথে কত পথ পেরিয়েছে,
আজ সে পায়ের পাশে বসো—যদি শক্তি হারিয়েছে।
আজ যদি মা ধীরে হাঁটেন, ধরো মায়ের হাত,
বাবার চোখে কমে এলে আলো—হও তাঁর প্রভাত।
কানে যদি কম শোনেন, ধৈর্য ধরে বলো,
বারবারও বলতে হলে মধুর কথাই বলো।
বার্ধক্য কোনো বোঝা নয়, রহমতেরই দ্বার,
সেবা করে অর্জন করা যায় রবের সন্তোষ অপরিসীম ভার।
আজ তাঁরা যদি দুর্বল হন, কাল তোমারও দিন,
সময় ঘুরে শিক্ষা দেবে—জীবন কত ক্ষীণ।
মোবাইল হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায় যে কাল,
মা-বাবার পাশে বসার সময় কেন এতই কম বলো?
দূর দেশে থাকো—ফোন করো, জিজ্ঞাসা নাও খবর,
ভালোবাসার দুটো কথায় মুছে যাবে কষ্টের ঘোর।
একই ঘরে থেকেও যদি থাকে দূরত্ব মন,
কী লাভ তবে ঐশ্বর্যের, কী লাভ বড় ধন?
মায়ের চোখে জল থাকিলে অট্টালিকা ম্লান,
বাবার মুখে কষ্ট থাকলে ব্যর্থ সব সম্মান।
পিতা-মাতার মুখে হাসি—সন্তানেরই গৌরব,
তাঁদের মনে শান্তি দেওয়া মহৎ নেক আমল।
দামী উপহার সবসময় নয় ভালোবাসার মাপ,
একটু সময়, একটু সেবা—মুছে কত পাপতাপ।
সালাম দিয়ে দিনটি শুরু, হাসিমুখে কথা,
তাঁদের ছোট প্রয়োজনেও দেখাও ভালোবাসা।
“কেমন আছ?”—এই কথাটিও কখনো হয় দান,
স্নেহভরা একটি বাক্য জুড়ায় ভাঙা প্রাণ।
মায়ের রান্না ভালো হলে বলো—“আল্লাহ দিক বরকত”,
বাবার শ্রমের কথা স্মরণে রেখো হৃদয়গত।
তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা হোক জীবনের গান,
কৃতজ্ঞ হৃদয়েই জাগে মুমিনের ঈমান।
কখনো যদি মতের অমিল হয় কোনো বিষয়ে,
উত্তেজনায় কথা বলো না, রাগ রেখো থামিয়ে।
তর্ক যদি করতেই হয়, আদব রেখো সাথে,
সত্য কথাও সুন্দর করে বলা চাই যে প্রাতে।
পিতা-মাতা মানুষ—ভুল তাঁদেরও হতে পারে,
ভুলের কারণে সম্মান যেন না হারায় অন্তরে।
সংশোধনের প্রয়োজন হলে কোমল পথে চলো,
কঠিন বাক্য না ছুড়ে দিয়ে ভালোবাসায় বলো।
তবে যদি তাঁরা বলেন—“আল্লাহকে ভুলে যাও”,
শিরকের কোনো কাজে যদি তোমায় টেনে নাও,
তখন তাঁদের মানবে না—এটাই দ্বীনের বিধান,
তবু তাঁদের সঙ্গে রেখো সদাচরণের বন্ধন।
গুনাহের কাজে আনুগত্য ইসলামে নয় বৈধ,
কিন্তু তাই বলে দুর্ব্যবহার কখনো নয় সিদ্ধ।
আল্লাহর হক সবার আগে—এটাই সত্য পথ,
সত্যের সাথে সদাচরণে পূর্ণ হোক জীবনরথ।
মায়ের প্রতি বিশেষ হক—হাদিসে এসেছে বাণী,
তিনবারই “মা” বলেছেন নবী—শুনে রাখো জ্ঞানী।
তারপর বলেছেন “বাবা”—পিতার মর্যাদাও মহান,
দুজনেরই হক আদায়ে সুন্দর হোক প্রাণ।
মায়ের কষ্ট গর্ভধারণে, প্রসবের বেদনায়,
বাবার শ্রম সংসারজুড়ে, দায়িত্বেরই দায়।
দুজন মিলে গড়ে তোলে সন্তানেরই ঘর,
তাঁদের প্রতি ভালোবাসা তাই হোক অন্তরভর।
যে সন্তান মাকে কাঁদায়, বাবাকে দেয় ব্যথা,
তার জীবনে সুখ এলেও শান্তি থাকে কোথা?
সম্পদ যদি পাহাড় হয় আর হৃদয় থাকে শূন্য,
পিতা-মাতার অশ্রু হলে সে সম্পদও মলিন।
অহংকারে বলো না কখনো—“আমি অনেক বড়”,
তোমার আগে তাঁদের ত্যাগ—স্মরণ করো ঘোর।
তোমার শিক্ষা, তোমার মান, তোমার যত জয়,
তাঁদের দোয়া-পরিশ্রমের ফলও তাতে রয়।
তুমি যখন শিশু ছিলে, তাঁরা ছিলেন প্রহরী,
তোমার ঘুমের পাহারাতে রাত হয়েছে ভোরই।
আজ তাঁদের ঘুম ভাঙলে বিরক্ত হয়ো না,
বারবার ডাকলেও সাড়া দিতে দেরি কোরো না।
তোমার অসুখে তাঁরা কেঁদেছেন, তুমি ছিলে ছোট,
তাঁদের অসুখে তুমি যদি হও উদাসীন—সে বড় ক্ষত।
শৈশবের সেবার ঋণ মনে রেখো সারাজীবন,
বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের সেবাই হোক তোমার পণ।
মায়ের কণ্ঠ কর্কশ হলে ধৈর্য ধরো তবু,
বাবা যদি রাগ করেন, শান্ত থেকো তুমি।
বয়সের ভারে মেজাজ বদলাতেই পারে কখনো,
তাঁদের প্রতি সহনশীল হও—এটাই মানবধর্মও।
রোগশয্যায় পাশে থেকো, একা রেখো না,
চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অবহেলা কোরো না।
খাবার, ওষুধ, পোশাক-পরিচ্ছদ—যা লাগে সাধ্য অনুযায়ী,
সন্তানের সেবায় ফুটুক ভালোবাসার ছায়া।
অর্থ দিয়ে সেবা করো, সময় দিয়েও করো,
প্রয়োজনে নিজের শ্রম দিয়ে তাঁদের পাশে ধরো।
সেবার মূল্য অর্থে শুধু মাপা যায় না কভু,
ভালোবাসার একটি মুহূর্ত অনেক দামী তবু।
যাঁরা তোমায় মানুষ করেছেন, তাঁদের দিও মান,
তাঁদের সামনে অহংকারে রেখো না অবমান।
চোখে চোখে শ্রদ্ধা রেখো, কণ্ঠে রাখো মধু,
আচরণে ফুটে উঠুক তোমার অন্তরেরই সাধু।
পিতা-মাতার আত্মীয় যারা, সম্মান দাও তাদের,
তাঁদের প্রিয়জনের প্রতি সদ্ভাব রাখো হৃদয়ভর।
সম্পর্কগুলো জুড়ে রাখো ভালোবাসার ডোরে,
এতে পিতা-মাতার হৃদয় আনন্দে যায় ভরে।
তাঁরা যদি ইন্তেকাল করেন, থেমে যায় না হক,
দোয়ার হাত তো উঠতে পারে—এটাই বড় লোক।
“হে আল্লাহ, ক্ষমা করো”—বলো অন্তর ভরে,
রহমতেরই ছায়া নেমে আসুক তাঁদের কবরের ঘরে।
নেক সন্তান পিতা-মাতার মৃত্যুর পরও দোয়া করে,
সওয়াবের আশা রেখে নেক কাজ করে অন্তর ভরে।
উপকারী জ্ঞান, সদকা, কল্যাণের যে কাজ,
মৃত পিতা-মাতার জন্য হতে পারে নেকির সাজ।
আজ তাঁরা যদি জীবিত থাকেন—সময় নষ্ট কোরো না,
“পরে করব”—এই অজুহাতে ভালোবাসা থামিও না।
একদিন দরজা থাকবে, থাকবে না তাঁদের ডাক,
স্মৃতির ভেতর খুঁজবে তখন হারানো সেই মুখ।
মায়ের ঘরটি নীরব হলে বুঝবে কেমন শূন্য,
বাবার চেয়ার খালি হলে বুকটা হবে শূন্য।
যে কণ্ঠ বলত—“সাবধানে যেও”—থেমে যাবে একদিন,
তখন চোখের অশ্রু দিয়ে ফিরবে না সেই দিন।
তাই আজই বলো—“মা, তোমাকে ভালোবাসি আমি”,
আজই বলো—“বাবা, তোমার ত্যাগ মনে রাখি আমি।”
ভালোবাসা প্রকাশে লজ্জা কিসের বলো?
জীবিত থাকতেই তাঁদের হৃদয় আনন্দে ভরো।
সন্তানের সাফল্য যদি মা-বাবাকে কাঁদায়,
সে সাফল্যের অর্থ কী বলো, যদি হৃদয় ভাঙায়?
জীবনজুড়ে যত অর্জন, যত সম্মান-ধন,
পিতা-মাতার সন্তুষ্টি ছাড়া কতটুকু তার মূল্য তখন?
তাঁদের দোয়া চাও, তবে অন্যায় কাজে নয়,
সত্য পথে তাঁদের হৃদয় করো আনন্দময়।
নিজে নামাজ কায়েম করো, সত্য পথে চলো,
তাঁদের জন্য নেক জীবনের সুন্দর দৃষ্টান্ত হও।
সন্তান যখন নেক হয়, মা-বাবার মুখে হাসি,
তার চরিত্রে ফুটে ওঠে পরিবারেরই আভাসি।
তাই শুধু সেবা নয়, নিজেকেও করো পবিত্র,
আখলাকে সুন্দর হও—জীবন হোক চরিত্রময় চিত্র।
মিথ্যা, গালি, অশ্লীলতা—ত্যাগ করো সব,
পিতা-মাতার শিক্ষার মর্যাদা রেখো রব।
তাঁদের চোখে যেন তোমার জন্য না আসে লজ্জা,
তোমার ভালো চরিত্রই হোক তাঁদের জীবনের সাজ।
বন্ধুদের মাঝে যদি কেউ মা-বাবাকে করে হাসি,
তার সঙ্গে থেকো না তুমি—সতর্ক হও বেশি।
পিতা-মাতার সম্মান নিয়ে উপহাস নয় কখনো,
মুসলিমের মুখে এমন কথা শোভা পায় না কোনো।
ঘরের ছোটরাও শিখুক মা-বাবাকে মানা,
শ্রদ্ধা, সেবা, কোমল কথা—হোক তাদের জানা।
আজ যে শিশু দেখছে তোমার আচরণ,
কাল সে-ই করবে তোমার প্রতি সেই অনুকরণ।
তুমি যদি দাদা-দাদির সেবা করো ভালোবেসে,
তোমার সন্তান শিখবে তা আপন হৃদয় মিশে।
এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে যাবে শিক্ষা,
সদাচরণে গড়ে উঠবে সুন্দর পরিবারের দীক্ষা।
পিতা-মাতা জান্নাতের পথে মহামূল্য দ্বার,
তাঁদের সেবা অবহেলায় হারিও না সে ভার।
তবে জান্নাতের মালিক আল্লাহ—তাঁরই দয়া চাই,
নেক আমল আর ঈমান নিয়ে তাঁরই পথে যাই।
সন্তানের দায়িত্ব শুধু ভরণপোষণ নয়,
সম্মান, ভালোবাসা, সেবাও দায়িত্বময়।
অর্থ দিয়ে সব ঋণ শোধ হয় না কোনো দিন,
মনের যত্ন, সময় দেওয়াও সেবার মহামূল্য ঋণ।
পিতা-মাতা যখন ডাকেন, সম্ভব হলে সাড়া দাও,
তাঁদের প্রয়োজন বুঝে আগে থেকেই পাশে দাঁড়াও।
নিজের ব্যস্ততার মাঝে তাঁদের জন্য সময় রাখো,
তাঁদের একাকিত্ব দূর করে ভালোবাসায় ঢাকো।
কথায় কথায় “জানি না”, “সময় নেই”—বলো না,
তাঁদের প্রয়োজনকে তুচ্ছ করে দূরে সরে যেও না।
যে সময় আজ আছে তোমার, কাল তা নাও থাকতে পারে,
তাই ভালোবাসা আজই দাও—জীবন ক্ষণিকের স্রোতে।
পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ মুমিনের ভূষণ,
এতে শুদ্ধ হয় অন্তর, সুন্দর হয় জীবন।
নম্রতা, কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য—হোক চরিত্রের মান,
ইহসানের পথেই ফুটুক ঈমানেরই প্রাণ।
আল্লাহ যাঁদের দিয়েছেন মা-বাবার সেবা করার সুযোগ,
তাঁদের উচিত কৃতজ্ঞ হওয়া—এ এক মহা অনুগ্রহ।
অনেক মানুষ হারিয়েছে মা-বাবাকে অকালেই,
তাই জীবিত থাকা অবস্থায় সেবা করো ভালোবেসেই।
কবরের নীরব ঘরে যখন থামবে দুনিয়ার গান,
সঙ্গে যাবে না প্রাসাদ, যাবে না কোনো ধন-মান।
ঈমান, আমল, আল্লাহর রহমত—সফলতার পথ,
তাই মা-বাবার হকও আদায় করো যথাযথ।
মায়ের চোখের অশ্রু যেন তোমার জন্য না ঝরে,
বাবার দীর্ঘশ্বাস যেন না ওঠে তোমার ঘরে।
তাঁদের মুখে হাসি ফুটুক, হৃদয় থাকুক শান্ত,
তাঁদের সেবায় আল্লাহ দিক রহমতেরই প্রান্ত।
যদি কখনো কষ্ট দিয়ে থাকো, ফিরে এসো আজ,
ক্ষমা চেয়ে ভালোবাসায় সাজাও সম্পর্কের সাজ।
মানুষ ভুল করে—তাওবা করে ফিরে আসে যে,
আল্লাহ তাআলা রহমত করেন বান্দা ফিরে এলে।
পিতা-মাতার কাছে গিয়ে বলো—“ক্ষমা করো আমায়”,
পুরোনো সব কষ্ট ভুলে ভালোবাসা দাও হৃদয়ময়।
একটি ক্ষমার বাক্য কখনো জীবন বদলে দেয়,
একটি আলিঙ্গন ভাঙা সম্পর্ক নতুন করে গড়ে দেয়।
মায়ের দোয়া, বাবার দোয়া—মূল্য বোঝো আজ,
তাঁদের সন্তুষ্টির মাঝে খুঁজো নেকির সাজ।
তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে আল্লাহরই বিধান,
তাঁর আনুগত্যেই হবে জীবনের পূর্ণ সম্মান।
আল্লাহর হক, মানুষের হক—দুটিই রেখো মান,
পিতা-মাতার অধিকারেও করো না অবহেলা-জ্ঞান।
দ্বীনের পথে ভারসাম্য রেখে চলো দৃঢ় পায়ে,
ইহকাল-পরকাল সুন্দর হবে আল্লাহর দয়ায়।
হে তরুণ, হে সন্তান তুমি, শোনো এই আহ্বান—
মা-বাবাকে ভালোবাসো, দাও তাঁদের সম্মান।
যৌবনের উচ্ছ্বাসে যেন ভুলে যেও না মূল,
তাঁদের দোয়া জীবনের পথে অমূল্য এক ফুল।
হে শিক্ষার্থী, বইয়ের পাতায় শুধু জ্ঞান নয়,
পিতা-মাতার সেবাতেও শিক্ষার পূর্ণ পরিচয়।
সত্যিকারের শিক্ষা তখনই জীবনে হয় মহান,
যখন জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয় সুন্দর আচরণ।
হে পরিবার, ঘরে ঘরে জাগুক এই বাণী—
“মা-বাবার হক আদায় করো, এ শিক্ষা অম্লান জানি।”
ভালোবাসা, সম্মান, সেবা—হোক ঘরের নীতি,
এতেই গড়ে উঠবে পরিবার, সমাজ, মানবপ্রীতি।
পিতা-মাতা শুধু সম্পর্ক নয়—এক মহান আমানত,
তাঁদের সেবা জীবনে আনে রহমতেরই বরকত।
তাঁদের প্রতি ইহসানে হৃদয় হোক উদার,
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে এ এক মহৎ দ্বার।
যে সন্তান মা-বাবার হক পালন করে প্রাণে,
সে নৈতিকতার আলো ছড়ায় আপন পরিবারখানে।
তার জীবন হয় শৃঙ্খলিত, চরিত্র হয় নির্মল,
তার আচরণে ফুটে ওঠে ইসলামেরই ফল।
তাই এসো আজ শপথ করি আল্লাহরই নামে—
মা-বাবাকে সম্মান দেব জীবনের প্রতিটি ক্ষণে।
কোমল হবে আমাদের ভাষা, বিনয় হবে সাজ,
তাঁদের সেবায় কাটুক আমাদের জীবনেরই আজ।
রাগ এলে ধৈর্য ধরব, কষ্ট এলে সহব,
তাঁদের প্রতি অশোভন কোনো আচরণ নয় কভু।
প্রয়োজনে পাশে থাকব, দেব সময় ও শ্রম,
সেবার পথে খুঁজব আমরা আল্লাহরই করুণাধর্ম।
জীবিত হলে সেবা করব, মৃত হলে দোয়া,
নেক কাজের সওয়াব দিয়ে তাঁদের জন্য ছোঁয়া।
আত্মীয়তার বন্ধন রেখে ভালোবাসব সবাই,
পিতা-মাতার স্মৃতি বুকে অমলিন করে রাখব ভাই।
হে আল্লাহ, আমাদের অন্তর করো কোমল,
মা-বাবার প্রতি দাও ভালোবাসা নির্মল।
অহংকার থেকে রাখো দূরে, দাও বিনয়ের দান,
তাঁদের হক আদায় করে কবুল করো প্রাণ।
যে মা-বাবা আজও আছেন, দাও তাঁদের শান্তি,
সুস্থতা, ঈমান, নেক জীবন—দাও অফুরান কান্তি।
তাঁদের জীবনে বরকত দাও, দূর করো সব ভয়,
তাঁদের মুখের হাসি যেন সন্তানেরই জয়।
যাঁরা চলে গেছেন দুনিয়া ছেড়ে পরপারে,
রহমতেরই ছায়া দিও তাঁদের কবরের দ্বারে।
গুনাহ যত ক্ষমা করে দাও তোমার দয়ায়,
জান্নাতেরই শান্তি দিও তোমার অনুগ্রহময় ছায়ায়।
আমাদেরও এমন সন্তান দাও—যারা হবে নেক,
মা-বাবার হক আদায় করে থাকবে সদা এক।
তাদের মুখে সত্যের বাণী, কাজে হবে আলো,
তাদের দেখে মা-বাবার মন ভরে উঠুক ভালো।
জীবন যদি হয়ে যায় ক্ষণিকের এই পথ,
মা-বাবার সেবা হোক তাতে নেক আমলের রথ।
দুনিয়ার সব সফলতার চেয়ে বড় যে মান—
আল্লাহর সন্তুষ্টি আর পিতা-মাতার সম্মান।
শেষে শুধু এই প্রার্থনা—হে দয়াময় রব,
আমাদের জীবন করো পিতা-মাতার সেবায় রত।
তাঁদের হক আদায় করে যেন পাই তোমার দয়া,
ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ—এই হোক মনের চাওয়া।
দোয়া
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাদের লালন-পালন করেছেন।
হে আল্লাহ!
আমাদের পিতা-মাতাকে সম্মান করার,
তাঁদের সঙ্গে কোমল ভাষায় কথা বলার,
তাঁদের সেবা করার,
তাঁদের প্রয়োজন পূরণ করার,
তাঁদের বার্ধক্যে পাশে থাকার,
এবং তাঁদের জীবিত ও মৃত—উভয় অবস্থায় কল্যাণ কামনা করার তাওফিক দান করুন।
আমাদের এমন সন্তান বানান,
যাদের চরিত্রে পিতা-মাতার চোখ জুড়ায়,
যাদের আমলে পরিবার আলোকিত হয়,
যাদের জীবনে ঈমান, ইহসান ও উত্তম চরিত্র ফুটে ওঠে।
আল্লাহুম্মা আমিন।
৭
৭ মন্তব্য