সহকারী অধ্যাপক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৪২ পূর্বাহ্ণ
দাম্পত্যের দীপশিখা* -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
দাম্পত্যের দীপশিখা*
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
বিয়ে শুধু দুটি হৃদয়ের
মিলনমেলা নয়,
দুটি জীবনের অঙ্গীকার—
দুটি প্রাণের জয়।
বিয়ে মানে পাশাপাশি
জীবনপথে চলা,
দুঃখ এলে হাতটি ধরা,
সুখে হাসি-দোলা।
বিয়ে মানে দায়িত্ব নেওয়া,
আমানতের মান,
একটি ঘরে ভালোবাসায়
গড়া শান্তির প্রাণ।
আল্লাহ যিনি সৃষ্টি করেছেন
মানবজীবনধারা,
তাঁরই হুকুমে জীবনসাথি
হয় ভালোবাসার তারা।
কুরআনের সেই বাণী শোনো—
হৃদয় করে নরম,
সঙ্গী-সঙ্গিনীর মাঝে তিনি
দেন প্রশান্তি পরম।
“যাতে তোমরা তাদের কাছে
প্রশান্তি লাভ করো,”
মায়া-মমতা, দয়া-ভালোবাসায়
জীবনটাকে ভরো।
এ যে রবের নিদর্শন—
ভাবো হৃদয় দিয়ে,
দাম্পত্যের পবিত্র বন্ধন
রাখো যতন নিয়ে।
একজন হবে অন্যজনের
নিরাপদ আশ্রয়,
ক্লান্ত দিনে শান্তির ছায়া,
দুঃখের দিনে জয়।
স্বামী হবে স্ত্রীর কাছে
বিশ্বাসভরা প্রাণ,
স্ত্রী হবে স্বামীর কাছে
প্রশান্তিরই স্থান।
কেউ কারও প্রভু নয় যে
অত্যাচারী রূপে,
কেউ কারও দাসী নয় যে
অপমানের কূপে।
অধিকার আর দায়িত্ব মিলে
সংসার হবে সুন্দর,
ন্যায়-ইহসান, মায়া-মমতা—
হৃদয় হবে মধুর।
দুজন মানুষ ভিন্ন তো হবেই—
ভিন্ন শিক্ষা, ঘর,
ভিন্ন রুচি, অভ্যাস, স্মৃতি,
ভিন্ন জীবনভর।
তাই বলে কি একজন হবে
অন্যজনের ছাঁচ?
ভালোবাসা মানে তো নয়
জোর করে দেওয়া চাপ।
যে যেমন, তার মর্যাদা দাও,
বোঝো তারই মন,
সম্মানের ভিতের ওপর
গড়ো ভালো বন্ধন।
তার পছন্দের কথা শোনো,
শোনো অপছন্দ,
মনের ভেতর জমে থাকা
কষ্টেরও স্পন্দন।
হাসিমুখে কথা বলো,
কোমল রাখো বাণী,
একটি মিষ্টি বাক্য কখনো
হয় যে অমূল্য দানই।
কটু কথা ক্ষত তৈরি
হৃদয়েরই মাঝে,
একটি ক্ষত বহুদিনও
নীরব থেকে বাজে।
তাই কথাতে মধু রাখো,
আচরণে মান,
ভালোবাসার ভাষায় গড়ো
দাম্পত্যের গান।
সঙ্গীর কোনো গুণ দেখিলে
করো তার প্রশংসা,
সামান্য স্বীকৃতিতেও
বাড়ে মনের হর্ষা।
সে যে তোমার জন্য করে
অসংখ্য ত্যাগ,
একটি “ধন্যবাদ” মুছে দিতে
পারে কত অনুরাগ।
কাজের মাঝে ব্যস্ত হলে বলো—
“আজ একটু ব্যস্ত আমি,”
অকারণে নীরব থেকে
বাড়িও না অন্তর-দূরত্বখানি।
নিজের কষ্ট, নিজের সংকট
খুলে বলো প্রিয়জন,
বিশ্বাস রেখে আলোচনা করো,
খুঁজে নাও সমাধান।
গোপন ক্ষোভ জমিয়ে রেখে
হৃদয় কোরো ভার,
কথা বলো শান্তভাবে—
এটাই উত্তম পথের দ্বার।
ছোটখাটো ভুলত্রুটি যদি
মানুষেরই হয়,
ক্ষমার ছায়া বিস্তার করলে
সম্পর্ক অটুট রয়।
অতীত খুঁড়ে বারবার কেন
আনবে পুরোনো ক্ষত?
ক্ষমা করে সামনে চলো,
এতেই মঙ্গল যত।
আজ যে ভুলে গেছে সে যদি
অনুতপ্ত প্রাণে,
পুরোনো দোষ তুলে তাকে
দিও না অপমানে।
নিজের ভুলও দেখো আগে,
অন্যের ভুল নয়,
আত্মসমালোচনার আলোয়
মানুষ সুন্দর হয়।
অহংকারের আগুন জ্বেলে
ঘরকে কোরো ছাই,
জয়-পরাজয় নয় সংসার—
ভালোবাসাই চাই।
রাগ যখন আসে মনে
চুপ হও কিছুক্ষণ,
উত্তেজনায় কথা বললে
বাড়ে শুধু ক্ষণিক ক্ষরণ।
জেদের কাছে হার মানিলে
ভাঙে আপন ঘর,
বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে
জীবন হয় সুন্দর।
রাগের মুহূর্ত কেটে গেলে
বসো পাশাপাশি,
“কীভাবে এই সমস্যাটির
সমাধান?”—এই ভাষাই।
বিতর্ক যদি হয় কখনো,
হোক তা সীমার মাঝে,
অপমানের বিষ ছড়িয়ো না
রাগের উত্তাল সাজে।
তৃতীয় কারও সামনে গিয়ে
ঘরের কথা বলো না,
আপন ঘরের গোপন ব্যথা
বাজারে তোলো না।
স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত
বিষয় রাখো গোপন,
বিশ্বাস ভেঙে দিলে পরে
কীভাবে থাকবে বন্ধন?
পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নাও,
একতরফা নয়,
“আমরা”—শব্দটি বাঁচিয়ে রাখো,
“আমি” যেন না হয়।
আমার ঘর আর তোমার ঘর—
এ বিভাজন নয়,
দুজন মিলে বলো—
“এ ঘর আমাদেরই হয়।”
শ্বশুর-শাশুড়ি, আত্মীয়স্বজন—
সবাই আপনজন,
তাদের প্রতি সম্মান রেখো,
রাখো শালীন মন।
তবে অন্যায় হলে অন্যায় বলো,
ন্যায়ের পথে চলো,
সম্মানের সঙ্গে সীমারেখা
প্রয়োজনে গড়ে তোলো।
কাউকে ছোট করে নয় যে
সংসার হবে গড়া,
অন্যের মর্যাদা রক্ষা করাই
মানবতারই ধারা।
পুত্রবধূকে দাসী ভেবো না,
বধূও মানুষ, প্রাণ,
তারও আছে অধিকার, আশা,
আছে ভালোবাসার টান।
আবার স্ত্রীও এমন নয় যে
স্বামীর সব সম্পর্ক
এক মুহূর্তে ছিন্ন করে দেবে—
এও নয় সঠিক পথ।
স্বামীর জন্মভূমি, মা-বাবা,
আত্মীয়তার বন্ধন—
সম্মানের সঙ্গে বুঝে নিলে
সহজ হয় জীবন।
স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যেন
সীমা জানে ভালো,
অধিকার আর কর্তব্য মিলে
ঘরে জ্বালো আলো।
কারও উপার্জন, কারও শ্রম—
কোনোটাই তুচ্ছ নয়,
সুখী সংসার তখনই গড়ে
যখন সম্মানময়।
স্ত্রী যদি কর্মজীবী হন,
তার শ্রমের মান,
তার উপার্জন, তার সিদ্ধান্তে
রাখো ন্যায়ের জ্ঞান।
স্বামী যদি সংসার চালান,
তাঁর পরিশ্রমও
স্বীকৃতি পাবে ভালোবাসায়—
এটাই সুন্দর বোধ।
অর্থ নয় সব সুখের মাপকাঠি,
সম্পদ নয় প্রাণ,
আস্থা, মায়া, বিশ্বস্ততা—
এসব বড় দান।
জীবনসঙ্গী মানে শুধু
ভরণপোষণ নয়,
বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা আর
নিরাপদ আশ্রয়।
কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি শেষে
ফিরে যখন ঘরে,
একটি হাসি ক্লান্ত হৃদয়
শান্তি এনে ধরে।
স্ত্রীও যখন সারাদিনের
শ্রমে ক্লান্ত হয়,
স্বামীর মমতার একটি কথা
তারও সান্ত্বনা হয়।
“কেমন আছ?”—এই ছোট কথায়
ভালোবাসা জাগে,
মনের ভার অনেকখানি
নেমে যায় অনুরাগে।
একসঙ্গে কখনো হাঁটো,
কখনো বসো চুপ,
কখনো ছোট উপহার দাও—
ভালোবাসার রূপ।
দামী জিনিস প্রয়োজন কী,
মনটাই যদি হাসে?
সামান্য ফুলও অমূল্য হয়
ভালোবাসার পাশে।
পরিচ্ছন্নতা, সুন্দর আচরণ,
ভদ্রতারই সাজ,
দাম্পত্যের প্রতিদিনের
সুন্দরতম কাজ।
সঙ্গীর যুক্তিসঙ্গত আশা
সাধ্য হলে রাখো,
অযথা নয়, ভালোবেসে
মনটি তার রাখো।
মানসিক চাহিদা বুঝে নাও,
বৈধ অধিকারের মান,
দাম্পত্যের পবিত্র সীমায়
রাখো সৌন্দর্য-জ্ঞান।
শুধু নিজের প্রাপ্তির কথা
ভেবো না সারাক্ষণ,
অন্যজনের সুখের মাঝেও
খুঁজে নাও আপন মন।
যে দিতে জানে, সে-ই পায়
ভালোবাসার ধন,
ত্যাগের মাঝে ফুটে ওঠে
দাম্পত্যের সৌন্দর্যক্ষণ।
বিশ্বাস হলো ঘরের ভিত্তি,
আস্থা হলো প্রাণ,
বিশ্বাস ভাঙলে প্রাসাদ হলেও
থাকে না শান্তির স্থান।
গোপনে অন্য সম্পর্ক গড়ে
যে ভাঙে বিশ্বাস,
সে নিজের হাতে নিজেই তোলে
বিচ্ছেদের সর্বনাশ।
চোখ ও মন সংযত রাখো,
পবিত্র রাখো প্রাণ,
হারাম পথের মোহ ত্যাগ করে
রক্ষা করো সম্মান।
মোবাইল যদি দূরত্ব বাড়ায়,
সতর্ক হও তাই,
প্রযুক্তি হবে কল্যাণের সেতু—
বিষের কারণ নয় ভাই।
অশ্লীলতার অন্ধকারে
মনকে দিও না ঠাঁই,
পবিত্র দৃষ্টির পাহারাদার
নিজেই হতে চাই।
পরস্পরকে ঈর্ষা নয়,
উৎসাহ দাও প্রাণে,
সঙ্গীর প্রতিভা ফুটিয়ে তোলো
ভালোবাসার টানে।
তার সাফল্যে আনন্দ করো,
তার ব্যর্থতায় পাশে,
ভালোবাসা সত্য প্রমাণিত
হয় বিপদের আশে।
“তুমি পারবে”—এই কথাটি
কত শক্তি দেয়,
নিরাশ মানুষ নতুন করে
আশার আলো পায়।
সঙ্গীর গুণের বিকাশে
হও সহায়ক বন্ধু,
দোষ সংশোধন করো যেন
না হয় হৃদয় ক্ষতবিক্ষত।
উপদেশ যদি দিতে হয়
দাও মমতার সুরে,
অপমানের তীর ছুড়ো না
রাগের অন্ধ ঘোরে।
ভুল ধরাতে চাইলে আগে
নিজের ভুলও দেখো,
সংশোধনের সুন্দর পথে
দুজন পাশাপাশি থেকো।
কারণ মানুষ পূর্ণ নয়—
ভুল তার হবেই,
ক্ষমা, শিক্ষা, সংশোধনের
পথেই মানুষ রবে।
দাম্পত্য যদি যন্ত্রের মতো
হয়ে যায় নির্জীব,
কথাহীন সেই ঘর তখন
হয়ে ওঠে বিবর্ণ-নীল।
তাই প্রতিদিন কিছু সময়
শুধু দুজনের রাখো,
হৃদয়ের কথা হৃদয় দিয়ে
শুনে নাও, বুঝে থাকো।
কাজের চাপ, অর্থের চিন্তা,
সন্তানেরও ভার—
সবকিছুতে একসঙ্গে হও
দুজনেই দায়িত্বধারী।
সমস্যা এলে পালিয়ে যেও না,
সমাধান খুঁজে নাও,
একটি টেবিল, দুটি হৃদয়—
শান্ত মনে বসে যাও।
“কে দোষী?”—এই প্রশ্ন ছেড়ে
“কীভাবে ঠিক হবে?” বলো,
দোষের পাহাড় না বানিয়ে
সমাধানের পথে চলো।
সংসারের প্রতিটি সিদ্ধান্তে
ন্যায়-নীতি মানো,
আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে
আগামীর পথ জানো।
মোহের বশে এমন কোনো
কাজ কোরো না ভাই,
যার ফল পরে জীবনজুড়ে
বয়ে বেড়াতে হয় তাই।
সঙ্গী নির্বাচন জীবনের
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়,
চরিত্র, দ্বীন, বিবেক, দায়িত্ব—
দেখো সবই আগে ভাই।
শুধু রূপের মোহে নয় যে
জীবনসাথি চাও,
চরিত্রের সৌন্দর্য দেখে
বন্ধনটি গড়াও।
ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী,
যৌবনও ক্ষয়,
চরিত্র যদি সুন্দর থাকে
সংসার সুন্দর হয়।
দ্বীনদারি ও উত্তম চরিত্র
দেখো মন দিয়ে,
জীবনসাথি নির্বাচন করো
বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে।
বিয়ের পরে আবার দুজন
শিখবে প্রতিদিন,
কীভাবে হবে উত্তম সঙ্গী,
কীভাবে হবে ঋণী।
ভালোবাসা শুধু মুখের কথা
নয় যে কোনো দিন,
কাজে তার প্রমাণ দিতে হয়—
তবেই হয় রঙিন।
রাসুলের জীবন আমাদের
উত্তম আদর্শ হয়,
স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণ
মুমিনের পরিচয়।
হাদিসে এসেছে—উত্তম সে
যে আপন স্ত্রীর কাছে
উত্তম আচরণ করে;
এই শিক্ষা হৃদয় মাঝে।
তাই পুরুষ, তুমি শক্তিমান হলে
হও না অত্যাচারী,
ক্ষমতারও ওপরে আছে
আল্লাহরই বিচার ভারী।
স্ত্রী, তুমিও ভালোবাসাকে
দুর্বলতা ভেবো না,
রাগ-জেদে আপন মানুষকে
দূরে ঠেলে দিও না।
নরম কথা, ধৈর্য, ক্ষমা—
এসব শক্তির চিহ্ন,
যে হৃদয়ে তাকওয়া থাকে
সে হৃদয় হয় পবিত্র।
নারী-পুরুষ উভয়েই তো
আল্লাহরই বান্দা,
ন্যায় ও দায়িত্ব পালনের
সুযোগ পেয়েছে দুজনই।
কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয়
মানবমর্যাদায়,
তবে দায়িত্ব আলাদা হতে পারে
ন্যায়নীতির ধারায়।
যার যে দায়িত্ব, সে তা পালন
আমানত মনে করে,
অন্যের অধিকার রক্ষা করে
সুখের ঘরটি গড়ে।
স্বামী যদি হয় দায়িত্বশীল,
স্ত্রী যদি বিশ্বস্ত,
দুজন মিলে গড়তে পারে
পরিবারটি প্রশস্ত।
সন্তানের চোখে মা-বাবা
প্রথম শিক্ষাগুরু,
তাদের আচরণ দেখেই শিশু
শেখে জীবনসুর।
ঘরে যদি থাকে কলহ,
শিশুর মনে ক্ষত,
ঘরে যদি থাকে ভালোবাসা,
শিশু পায় শুভ পথ।
তাই সন্তানের ভবিষ্যতের
কথা ভেবে দেখো,
তোমাদেরই আচরণ দিয়ে
তাদের জীবন লেখো।
বাবা-মায়ের সম্মান রাখো,
সন্তানকে শেখাও,
আত্মীয়তার বন্ধনগুলো
মমতায় জড়িয়ে নাও।
তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে
শান্তি হয় না ঘরে,
ন্যায় ও প্রজ্ঞার ভারসাম্যে
চলো জীবনভরে।
পরিবার হলো সমাজের
প্রথম ভিত্তি-ঘর,
পরিবারে শান্তি থাকলে
সমাজ হয় সুন্দর।
ঘরে যদি অশান্তি বাড়ে,
সমাজে তার ঢেউ,
একটি ঘরের ভাঙন কখনো
একা থাকে না কেউ।
তাই ঘর বাঁচানো মহৎ কাজ,
তবে শর্ত ন্যায়,
অত্যাচারকে সহ্য করাই
শান্তির অর্থ নয়।
জুলুম হলে প্রতিকার খোঁজো,
বিশ্বস্তজনের দ্বার,
প্রজ্ঞা, ন্যায়, নিরাপত্তা—
সবই রাখো ভার।
ইসলাম শান্তি শেখায়,
শেখায় ন্যায়পথ,
মমতা দিয়ে গড়তে বলে
মানবতার রথ।
ক্ষমা সুন্দর, ধৈর্য সুন্দর,
সবর মহৎ গুণ,
তবু ন্যায়ের সীমা রক্ষা
মুমিনেরই ধন।
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো,
তাঁরই কাছে চাও,
মানুষকে ভালোবাসার আগে
রবকে মনে ঠাঁই দাও।
মানুষ দুর্বল, মানুষ সীমিত,
সব চাহিদা নয়,
একজন মানুষ আরেকজনের
সবকিছু হতে নয়।
তাই হৃদয়ের সব আশা
আল্লাহর কাছেই রাখো,
সঙ্গীকে ভালোবাসো, কিন্তু
রবকে ভুলে থেকো না।
সঙ্গী হবে দুনিয়ার পথে
সহযাত্রার সাথি,
আল্লাহ হবেন জীবনের
সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু-সাথী।
যখন দুজন রবের পথে
চলবে পাশাপাশি,
ঘরটি হবে ইবাদতের
শান্তিময় আবাসী।
সালাত হবে ঘরের আলো,
কুরআন হবে প্রাণ,
সুন্নাহ হবে জীবনপথের
উজ্জ্বল দিশারী জ্ঞান।
ভালোবাসা হবে হালাল,
কথা হবে শুদ্ধ,
দৃষ্টি হবে সংযত, হৃদয়
থাকবে পাপমুক্ত।
দুজন মিলে দোয়া করবে—
“হে আমাদের রব,
আমাদের ঘরকে শান্তি দাও,
করো রহমতসিক্ত সব।”
সন্তানদের জন্য প্রার্থনা—
তারা হোক সৎ,
দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ বয়ে
চলুক অবিরত।
দাম্পত্যের পথ ফুলে ভরা
সবসময় যে নয়,
কখনো আসে কাঁটা, ঝড়,
কখনো অশ্রুময়।
কখনো ভুল বোঝাবুঝি হবে,
কখনো হবে রাগ,
কখনো মনে জমতে পারে
অভিমান আর দাগ।
তবু বলো—“আমরা একসঙ্গে
সমাধান করব আজ,”
এই কথাটিই ভাঙা মনে
জাগায় নতুন সাজ।
হাতটি ছেড়ে দিও না সহজে,
যদি সম্পর্ক ন্যায়সঙ্গত,
ক্ষমা, পরামর্শ, সংশোধনে
করো জীবন সুন্দরতর।
একটু ধৈর্য, একটু ক্ষমা,
একটু মিষ্টি বাণী,
একটু ত্যাগ, একটু মমতা—
ঘর করে কল্যাণী।
যে ঘরে স্বামী স্ত্রীর প্রতি
রাখে সম্মান-মান,
যে ঘরে স্ত্রী স্বামীর প্রতি
রাখে বিশ্বস্ত প্রাণ,
যে ঘরে দুজন পরামর্শে
চালায় জীবনযান,
সে ঘরেই তো প্রশান্তির
ফুটে ওঠে গান।
যে ঘরে কটুকথা নেই,
নেই অপমান,
সে ঘর যেন ছোট্ট এক
জান্নাতেরই বাগান।
যে ঘরে সালাতের ধ্বনি,
কুরআনের সুর,
সে ঘরেরই সন্তানদের
হয় চরিত্র নূর।
যে ঘরে ক্ষমা, যে ঘরে দয়া,
যে ঘরে সংযম,
সে ঘরেরই প্রতিটি দিনে
বরকতেরই মরম।
দাম্পত্য মানে পাশাপাশি
শুধু থাকা নয়,
একজনের সুখের জন্য
অন্যজনেরও জয়।
দাম্পত্য মানে কাঁধে কাঁধে
জীবনপথে চলা,
ঝড় এলে দুজন মিলে
প্রতিরোধ গড়া।
দাম্পত্য মানে ভালোবাসা,
দায়িত্ব, বিশ্বস্ততা,
দাম্পত্য মানে আল্লাহভীতি,
ন্যায় ও পবিত্রতা।
দাম্পত্য মানে গোপন রাখা
সঙ্গীর দুর্বলতা,
তার সম্মান রক্ষা করা,
ঢেকে রাখা ব্যথা।
দাম্পত্য মানে ভুল হলে
ক্ষমা চেয়ে নেওয়া,
অন্যজনের কষ্ট বুঝে
নিজেকে সংশোধন করা।
দাম্পত্য মানে “আমি” নয়,
“আমরা” কথাটি,
দুজন মিলে গড়ে তোলা
সুখের জীবনখানি।
দাম্পত্য মানে সঙ্গীর চোখে
নিজের ভুলও দেখা,
অন্যের গুণে আনন্দ পেয়ে
নিজের গুণটি শেখা।
দাম্পত্য মানে দুনিয়ার পথে
সৎ সহযাত্রী হওয়া,
আখিরাতের সফলতার
সাথি হয়ে রওয়া।
যদি ঘরে থাকে ভালোবাসা,
থাকে আল্লাহভীতি,
তবে সেই ঘর পাবে দুনিয়ায়
প্রশান্তির প্রীতি।
আর যদি দুজন মিলে
রবের পথে যায়,
ইনশাআল্লাহ আখিরাতেও
কল্যাণের আশা পায়।
হে স্বামী, তুমি স্ত্রীকে
সম্মানের চোখে দেখো,
হে স্ত্রী, তুমি স্বামীকে
বিশ্বাসের স্থান রেখো।
কথায়, কাজে, আচরণে
রাখো কোমলতা,
তবেই ফুটবে দাম্পত্যে
প্রেমের পবিত্রতা।
রাগকে করো সংযত,
জেদকে করো ক্ষীণ,
ভালোবাসায় জয় করো
অভিমানী দিন।
অহংকারের দেয়াল ভেঙে
হৃদয় খুলে দাও,
ক্ষমার সুধা দিয়ে ঘরের
শুকনো মাটি ভিজাও।
সঙ্গীর গুণের মূল্য দাও,
ত্রুটি হলে শেখাও,
নিজের ভুলও স্বীকার করে
সত্যের পথে যাও।
সুখে থেকো কৃতজ্ঞ হয়ে,
দুঃখে থেকো ধীর,
আল্লাহরই সাহায্য চেয়ে
হৃদয় রাখো স্থির।
শেষে যখন জীবনের
সূর্য যাবে ঢলে,
যেন দুজন বলতে পারো—
“চলেছি হাতে হাতে।”
যেন সঙ্গীর মুখের দিকে
তাকিয়ে মধুর হাসি,
বলতে পারো—“দুনিয়ার পথে
তুমি ছিলে সহযাত্রী।”
যেন রবের দরবারে গিয়ে
থাকে না কোনো ক্ষোভ,
থাকে শুধু ভালোবাসার
পবিত্রতার রূপ।
হে আল্লাহ, আমাদের ঘরে
দাও শান্তির আলো,
হৃদয়ে দাও তাকওয়া, ঈমান,
চরিত্র করো ভালো।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দাও
মায়া, দয়া, প্রেম,
অশান্তির সব দরজা বন্ধ,
খুলে দাও কল্যাণের হেম।
অহংকার ও কটুবাক্য
দূরে রাখো হে রব,
পরস্পরের অধিকার রক্ষায়
দাও শক্তি অবিরত সব।
যে ঘরে নেই ভালোবাসা,
সে ঘর হোক স্নিগ্ধ,
যে হৃদয়ে জমেছে ব্যথা,
করো তাকে নিরাময়মুখী।
যে দম্পতি ভুল করেছে,
দাও তাওবার পথ,
যে দম্পতি কষ্টে আছে,
দাও ধৈর্যের রথ।
যে ঘরে অশান্তি নেমেছে,
দাও সমাধান-জ্ঞান,
যে হৃদয়ে দূরত্ব বেড়েছে,
দাও পুনর্মিলনের প্রাণ।
সন্তানদের করো নেক,
ঘর করো বরকতময়,
দুনিয়াতেও শান্তি দাও,
আখিরাতেও কল্যাণময়।
দাম্পত্য হোক ইবাদতসম
পবিত্র এক পথ,
ভালোবাসায় জাগুক ঘরে
ঈমানেরই রথ।
দুটি হৃদয়, একটি ঘর,
একটি সুন্দর স্বপ্ন—
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে
হোক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ।
ভালোবাসা হোক আমানত,
বিশ্বাস হোক ঢাল,
সম্মান হোক ঘরের ভাষা,
ন্যায় হোক চিরকাল।
দুঃখ এলে পাশে থেকো,
সুখে থেকো সাথি,
দুনিয়ার ক্ষণিক পথ পেরিয়ে
চাও রবের অনন্ত গতি।
তবেই বিয়ে শুধু বিয়ে নয়—
হবে নেক আমল,
তবেই ঘর শুধু ঘর নয়—
হবে শান্তির কমল।
তবেই স্বামী শুধু স্বামী নয়—
হবে প্রিয় সহচর,
স্ত্রীও শুধু স্ত্রী নয়—
হবে হৃদয়ের ঘর।
তবেই জীবন হবে সুন্দর,
হবে অর্থময়,
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে
দুজনেরই হবে জয়।
ভালোবাসো—তবে রবকে ভুলো না,
সম্মান দাও—অধিকার কেড়ে নিও না;
ক্ষমা করো—অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়,
ন্যায়ের পথে থেকো—তবেই ঘরে শান্তির জয়।
দুজন মিলে বলো আজ—
“আমরা রবের বান্দা,
তাঁরই হুকুম মেনে গড়ব
ভালোবাসার বন্ধনখানা।”
দুনিয়ার এই ক্ষণিক ঘর
একদিন হবে শেষ,
কাজের ফলই সঙ্গী হবে—
থাকবে না কোনো রেশ।
তাই আজ থেকেই ঘর সাজাও
ঈমানেরই আলোয়,
পরস্পরের অধিকার রেখো
আল্লাহরই ভয়।
যে ঘরে মায়া, যে ঘরে দয়া,
যে ঘরে সত্যবাণী,
সে ঘরেই তো প্রশান্তি নামে
রহমতেরই পানি।
দাম্পত্য হোক ভালোবাসার,
দাম্পত্য হোক নূর;
দাম্পত্য হোক ঈমানময়—
কল্যাণে ভরপুর।
স্বামী-স্ত্রী হাতে হাত,
রবের পথে চলি;
দুনিয়া পেরিয়ে আখিরাতে
কল্যাণেরই ফলি।
হে আল্লাহ, দাও সে তাওফিক—
ঘর হোক শান্তির ঘর;
তোমার সন্তুষ্টির পথে যেন
চলি জীবনভর।
আমীন।
১৪
২৪ মন্তব্য