সহকারী অধ্যাপক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
মমতার বন্ধন -মোঃ মুজিবুর রহমান
মমতার বন্ধন
মোঃ মুজিবুর রহমান
একই আকাশ, একই বাতাস, একই স্নেহধারা,
পিতা-মাতা, সন্তান মিলে—ভালোবাসার নীড়সারা।
রক্তের টানে হৃদয় বাঁধে অদৃশ্য এক সুতো,
সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, ছাড়ে না তো কেউ তো।
মায়ের কোলে শান্তি নামে, মুছে শিশুর ভয়,
বাবার ছায়ায় সাহস জাগে, হৃদয় পায় নির্ভয়।
একটি হাসি সন্তানেরই মায়ের মুখে হাসি,
সন্তানেরই সুখের মাঝে বাবার সুখও ভাসে হাসি।
শিশুর মুখে প্রথম ভাষা, মায়ের মধুর বাণী,
বাবার হাতে পথের শিক্ষা—জীবন গড়ার খানি।
এই তো হলো স্রষ্টার দেওয়া মধুর এক উপহার,
পিতা-মাতা, সন্তান মিলে পূর্ণ পরিবারের সংসার।
মায়ের বুকে শিশুর ঘুম, মায়ের বুকে প্রাণ,
মায়ের মুখে দোয়া ঝরে, মায়ের স্নেহগান।
গর্ভধারণ, প্রসবব্যথা, কত সহে মা,
সন্তানেরই মঙ্গল চেয়ে ভুলে নিজের ব্যথা।
রাতের ঘুম হারাম করে রাখে শিশুর পাশে,
শিশুর কান্না থামাতে মা দোয়া পড়ে ভালোবেসে।
সন্তানের জ্বর উঠলে মায়ের চোখে জল,
সন্তানেরই ব্যথা যেন মায়ের বুকে ছলছল।
কুরআন বলে মায়ের কষ্ট স্মরণ করো মনে,
কত ত্যাগে মানুষ হলে—ভেবো আপন প্রাণে।
মায়ের প্রতি কোমল হও, রেখো তাঁর সম্মান,
মায়ের দোয়া সন্তানেরই জীবনের মহাদান।
বাবার ভালোবাসা অনেক নীরব, গভীর,
সংসারেরই ভার কাঁধে, তবু থাকেন স্থির।
নিজের সুখ কমিয়ে দিয়ে সন্তানেরই তরে,
দিনের শেষে ক্লান্ত দেহে ফেরেন ঘরের দ্বারে।
সন্তানেরই ভবিষ্যতের স্বপ্ন চোখে রাখেন,
জীবনভর পরিশ্রমে সংসারের হাল ধরেন।
বাবার ঘামে ভেজা জামা, ত্যাগে ভরা প্রাণ,
সন্তানেরই মুখের হাসি—তাঁর জীবনের গান।
বাবা যেন দৃঢ় ছায়া, বিপদে সাহস দেন,
ঝড়ের মাঝে পথ দেখিয়ে সামনে এগিয়ে নেন।
তাঁর কঠিন কথার পেছনেও মমতারই টান,
সন্তানের কল্যাণ চাওয়াই বাবার মহান প্রাণ।
আল্লাহ বলেন—তাঁরই ইবাদত করো আগে,
পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ রেখো অনুরাগে।
‘উফ’ শব্দটিও বলো না তাঁদের প্রতি কখনো,
ধমক দিয়ে কষ্ট দিও না—এ শিক্ষা ভুলো না যেন।
কথা বলো নম্রভাবে, রেখো তাঁদের মান,
সন্তানের কর্তব্য এটাই—এটাই ঈমানের জ্ঞান।
বার্ধক্যে যখন তাঁদের দেহ হবে ক্ষীণ,
সেবা দিয়ে পাশে থেকো, হয়ো না কখনো ঋণহীন।
বলবে তখন দোয়া করে—“হে দয়াময় রব!
শৈশবে যেভাবে তাঁরা লালন করেছেন, করো দয়া সব।”
এই দোয়াতে মিশে থাকে সন্তানের কৃতজ্ঞতা,
পিতা-মাতার প্রতি থাকে ভালোবাসার পূর্ণতা।
শৈশবে সন্তান হাঁটতে শেখে পিতার হাতটি ধরে,
মায়ের আঁচল নিরাপদে রাখে তাকে ঘিরে।
একদিন সেই ছোট্ট শিশু বড় হবে যখন,
পিতা-মাতার হাত ধরবে ভালোবেসে তখন।
শৈশবে তাঁরা খাইয়ে দেন, পরিয়ে দেন বস্ত্র,
অসুখ হলে রাত জাগেন, করেন সেবা-শুশ্রূষা।
বয়স হলে সেই সন্তান করবে তাঁদের সেবা,
এই তো জীবনের নিয়ম—এই তো ভালোবাসার সেবা।
শৈশবে তাঁরা শিশুর বোঝা বহন করেছেন কাঁধে,
বার্ধক্যে সন্তান থাকবে তাঁদের সুখের সাধে।
যে হাতে ছিল সন্তানের হাত, কাঁপবে একদিন সে হাত,
সন্তানেরই দায়িত্ব তখন মুছে দেওয়া রাত।
সন্তানের মুখে মধুর কথা পিতা-মাতার ধন,
সন্তানেরই ভালো আচরণ জুড়ায় তাঁদের মন।
“বাবা কেমন আছ?”—এই কথাতেই হাসি,
“মা, তোমার ওষুধ খেয়েছ?”—এতেই ভালোবাসি।
বড় উপহার সবসময় নয়, দরকার আন্তরিকতা,
একটু সময়, একটু কথা—এতেই থাকে পূর্ণতা।
পাশে বসে কথা বলো, শুনো তাঁদের কথা,
তাঁদের মনের কষ্ট বুঝে দূর করো সব ব্যথা।
অর্থ দিয়ে সব পাওয়া যায়—এ কথা সত্য নয়,
মমতারই উষ্ণ স্পর্শে হৃদয় শান্ত হয়।
সন্তানের একটুখানি যত্ন, একটুখানি হাসি,
বৃদ্ধ পিতা-মাতার কাছে অমূল্য ভালোবাসি।
কথার মাঝে ফুল ফুটাও, কাঁটা দিও না মনে,
কোমল ভাষা ব্যবহার করো আপনজনের সনে।
রাগ এলেও নিজেকে রেখো সংযমেরই ঘরে,
কঠিন কথা হৃদয় ভাঙে—ভেবো বলার আগে।
চোখের ভাষা, মুখের হাসি, আচরণে মায়া,
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে পরিবারের ছায়া।
একটি কথা হৃদয় গড়ে, একটি কথা ভাঙে,
মধুর বাণী শান্তি আনে, কটু বাণী দাহে।
তাই তো বলো—“আপনি ভালো?” “কেমন আছেন আজ?”
ভালোবাসার এই ভাষাতেই দূর হোক সব লাজ।
পরিবারে শান্তি চাইলে সুন্দর হোক বাণী,
মধুর কথার চেয়ে বড় সম্পদ নেই জানি।
মত আলাদা হতে পারে, আলাদা নয় প্রাণ,
ভিন্ন মতের কারণেই নষ্ট কোরো না মান।
সন্তানেরও মত থাকতে পারে—শুনুক পিতা-মাতা,
পিতা-মাতার অভিজ্ঞতাও সন্তানের বড় কথা।
আলোচনায় সমাধান খোঁজো, রাগে নয় কোনোদিন,
কোমলভাবে কথা বললে সহজ হয় কঠিন।
অন্যায় হলে অন্যায় বলো, তবু রেখো মান,
সত্যের পথে ভদ্র ভাষাই উত্তম আচরণ।
ভালোবাসা হারিয়ে গেলে জেতে না কেউ শেষে,
আপন মানুষ দূরে সরে কষ্ট জমে বুকে এসে।
তাই মতের ভিন্নতা থাক, হৃদয়ে থাক টান,
সম্পর্কের সেতু রেখো অটুট—এই হোক সবার জ্ঞান।
সন্তান শুধু আদর পাবে—এমন শিক্ষা নয়,
সঠিক পথে গড়ে তোলাই পিতা-মাতার জয়।
ঈমান, সালাত, সত্যবাদিতা শেখাও ছোটবেলায়,
হালাল-হারাম বুঝিয়ে দাও ভালোবাসার ছায়ায়।
নিজেরা আগে আদর্শ হও, সন্তান দেখবে তাই,
শুধু কথায় শিক্ষা দিলে ফল যে ভালো নয় ভাই।
বাবা যদি সত্য বলেন, সন্তান সত্য শেখে,
মা যদি স্নেহ বিলান, সন্তান স্নেহ দেখে।
রাগের বদলে যুক্তি দাও, ভয়ের বদলে মায়া,
ভুল করলে সংশোধন দাও, নিভিও না তার ছায়া।
শাসন হবে ন্যায়ভিত্তিক, স্নেহ হবে গভীর,
এভাবেই তো মানুষ হবে সন্তানটি সুস্থ, স্থির।
পরিবারই প্রথম বিদ্যালয়, প্রথম শিক্ষালয়,
এখান থেকেই শিশুর মনে নীতি-আদর্শ রয়।
কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে দিতে মান,
কীভাবে ছোটকে ভালোবাসে—ঘরেই তার জ্ঞান।
কীভাবে সত্য বলতে হয়, কীভাবে মিথ্যা ছাড়ে,
কীভাবে বিপন্ন মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়,
কীভাবে ক্ষুধার্তকে খাবার, দুঃখীকে দেয় সান্ত্বনা,
কীভাবে ক্ষমা করতে হয়—ঘরেই শুরু সাধনা।
তাই পরিবার সুন্দর হলে সুন্দর হয় সমাজ,
ঘরের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে মানুষেরই মাঝে আজ।
একটি ভালো পরিবারের আলো বহুদূর যায়,
সেই আলোতেই মানবতার নতুন সূর্য ওঠে হায়।
“নিজেদের এবং পরিবারকে আগুন থেকে বাঁচাও”—
কুরআনের এই নির্দেশ হৃদয়ের মাঝে রাখো।
সন্তানের দেহের যত্ন যেমন করো প্রতিদিন,
তেমনি তার ঈমান গড়ো, চরিত্র করো রঙিন।
শুধু বড় চাকরি, অর্থ, সম্পদ—এসব নয় লক্ষ্য,
সৎ মানুষ হওয়াই হোক সন্তানের বড় শক্তি।
জ্ঞান যদি চরিত্রহীন হয়, কী হবে তার ফল?
আচরণ যদি নষ্ট হয়, ব্যর্থ হবে সব বল।
তাই শিক্ষা হোক আল্লাহভীতি, সত্য ও ন্যায়ের পথ,
সুন্দর চরিত্রে জীবন হোক আলোকিত ও রথ।
দুনিয়ার সঙ্গে আখিরাতও হোক জীবনের ধ্যান,
সন্তান হোক নেককার মানুষ—এই হোক পিতা-মাতার প্রাণ।
অতিরিক্ত কঠোরতা যেমন হৃদয়ে আনে ক্ষত,
অতিরিক্ত প্রশ্রয়ও করে চরিত্রকে দুর্বল।
স্নেহের সঙ্গে শাসন দাও, শাসনে রেখো মায়া,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থেকেও ভেঙো না তার ছায়া।
ভুল করলে বলো—“ভুল হয়েছে, আবার চেষ্টা করো”,
পথ হারালে হাত বাড়িয়ে সঠিক পথে ধরো।
অপমান নয়, উৎসাহ দাও; তিরস্কারে নয় ক্ষয়,
ভালোবাসার স্পর্শ পেলে শিশুর মনে সাহস রয়।
সন্তানের কথা শুনতে হবে, বুঝতে হবে মন,
তার ভেতরের কষ্টগুলো জানতে হবে আপনজন।
যে ঘরে আছে শ্রবণ, স্নেহ, সম্মান আর আস্থা,
সেই ঘরেই বেড়ে ওঠে শান্ত, সৎ, দৃঢ় আত্মা।
মোবাইল হাতে সবাই ব্যস্ত, সময় কোথায় আর?
একই ঘরে থেকেও যেন দূরত্ব অপরিসীম ভার।
স্ক্রিনের পিছে হারিয়ে গেলে আপন মানুষের মুখ,
কোথায় যাবে ঘরের উষ্ণতা, কোথায় পরিবারের সুখ?
একটু সময় পাশে বসো, কথা বলো প্রাণ খুলে,
মায়ের কথা মন দিয়ে শোনো, বাবার কথা ভুলে
যেয়ো না যেন ব্যস্ততারই মিথ্যা অজুহাতে,
সময় গেলে ফিরবে না আর সেই পুরোনো প্রাতে।
অর্থ দিয়ে ঘর সাজানো যায়, সংসার হয় না পূর্ণ,
ভালোবাসা ছাড়া পরিবার থাকে কেবল শূন্য।
তাই সময় দাও আপনজনকে, রাখো হৃদয় খোলা,
ভালোবাসার উষ্ণতায় ঘরের প্রদীপ জ্বলা।
জন্মের আগে কত স্বপ্ন ছিল তাঁদের চোখে,
সন্তানেরই ভবিষ্যৎ যেন লেখা ছিল বুকে।
নিজের চাওয়া পেছনে রেখে সন্তানেরই তরে,
কত রাত যে জেগে গেছেন নিঃশব্দ অন্ধকারে!
কতবার যে নিজের খাবার সন্তানের মুখে দেন,
কত কষ্ট গোপন রেখে মুখে হাসি আনেন।
সন্তানেরই একটি সুখে ভুলে যান সব ক্ষয়,
এমন ঋণ কি পৃথিবীতে শোধ করা সহজ হয়?
তাই বলো—“মা, তোমার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ,”
“বাবা, তোমার ত্যাগের কথা রাখব হৃদয়ে অম্লান।”
কৃতজ্ঞতার ফুল ফুটুক প্রতিটি সন্তানের মনে,
পিতা-মাতার সম্মান থাকুক জীবনেরই সনে।
পিতা-মাতা সন্তানের জন্য হাত তুলে যে দোয়া করেন,
আশার আলো হৃদয়জুড়ে সন্তানের পথ ধরেন।
সন্তানও যদি হাত তুলে রাতে কিংবা ভোরে,
পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে অশ্রু ঝরে।
“হে আল্লাহ, তাঁদের তুমি দাও রহমতের ছায়া,
ক্ষমা করো ভুল-ত্রুটি, দাও শান্তির মায়া।
দুনিয়াতে রাখো ভালো, ঈমানে রাখো দৃঢ়,
আখিরাতে দাও জান্নাত—রাখো তাঁদের নিকট।”
দোয়ার মাঝে সম্পর্ক থাকে মৃত্যুর পরও জাগ্রত,
নেক সন্তানের দোয়া হয় পিতা-মাতার সঙ্গী।
জীবন শেষে মাটির ঘরে থেমে গেলেও প্রাণ,
দোয়ার পথে পৌঁছে যেতে পারে ভালোবাসার গান।
পিতা-মাতা চলে গেলে ঘর হয়ে যায় শূন্য,
তাঁদের স্মৃতি হৃদয়জুড়ে থাকে অমলিন পূর্ণ।
ছবির মাঝে, কথার মাঝে, স্মৃতির প্রতিটি পাতায়,
তাঁদের স্নেহ ফিরে আসে নীরব রাতের ছায়ায়।
তাঁদের জন্য দোয়া করো, সদকা করো নেক নিয়তে,
তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ রাখো ভালোবেসে।
বৈধ ঋণ বা অঙ্গীকার থাকলে সাধ্য অনুযায়ী শোধ,
নেক কাজের মাধ্যমে হোক তাঁদের প্রতি ভালোবাসার বোধ।
মৃত পিতা-মাতার স্মৃতি শুধু কান্নাতে নয়,
তাঁদের শেখানো ভালো পথে চলাই সত্য জয়।
তাঁদের রেখে যাওয়া নেক শিক্ষা রাখো প্রাণে,
সৎ জীবনই হোক তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার গানে।
ধন নয় শুধু, চাই এমন সন্তান পৃথিবীতে,
যে সত্য বলবে, থাকবে ন্যায়ের পথে নীতিতে।
দুর্বলকে দেবে সাহায্য, ক্ষুধার্তকে দেবে অন্ন,
মানুষকে ভালোবাসবে—হবে সত্যিকার মুমিন।
সালাত হবে জীবনেরই আলোকিত প্রহর,
কুরআনের শিক্ষা নিয়ে সুন্দর হবে অন্তর।
অহংকার নয়, বিনয় হবে তার জীবনের মান,
ক্ষমা, দয়া, সততা হবে তার পরিচয়-জ্ঞান।
এমন সন্তান পেলে ধন্য পিতা-মাতার প্রাণ,
এমন জীবন সমাজজুড়ে ছড়ায় কল্যাণ।
একজন নেক সন্তান হতে পারে আলো,
তার চরিত্রে ফুটে ওঠে পরিবারেরই ভালো।
ঘরে যদি মধুর ভাষা, হৃদয়ে যদি দয়া,
তবে সে ঘর জান্নাতসদৃশ শান্তিরই ছায়া।
ঘরে যদি সালাত থাকে, থাকে কুরআনের সুর,
অশান্তির কালো মেঘও হবে ধীরে দূর।
পিতা যদি মাকে সম্মান করেন ভালোবেসে,
মা যদি বাবার মর্যাদা রাখেন হাসিমুখে এসে,
সন্তান তখন শিখবে ঘরে সম্মানেরই পাঠ,
ভালোবাসার আলোয় মুছে যাবে অন্ধকার রাত।
ভাই-বোনে যদি থাকে স্নেহ, ক্ষমা আর টান,
পরিবারে ফুটবে তখন শান্তিরই বাগান।
ঘর থেকে যে শান্তি ছড়ায় সমাজজুড়ে তার ঢেউ,
মানুষ তখন মানুষ হবে—পর থাকবে না কেউ।
পিতা-মাতার প্রতি আমি রাখব সদাচার,
কথায়, কাজে, ব্যবহারে দেব তাঁদের সম্মান।
রাগের বশে কটু কথা বলব না কোনোদিন,
তাঁদের কষ্ট দেব না আমি—রাখব হৃদয় ঋণী।
সন্তানের প্রতি আমিও রাখব স্নেহভরা মন,
শুধু শাসন নয়, শুনব তার হৃদয়েরই স্পন্দন।
সত্য-ন্যায়ের পথে তাকে করব আমি গড়ন,
ঈমান, আমল, চরিত্র হবে জীবনেরই গঠন।
অন্যায় কাজে নয় আনুগত্য, সত্যে থাকব দৃঢ়,
আল্লাহর বিধান মেনে জীবন করব পবিত্র।
দুনিয়ার সুখের পাশাপাশি আখিরাতের জয়,
পরিবারের প্রতিটি প্রাণ আল্লাহর প্রিয় হয়।
একই বৃক্ষে ফুটেছে ফুল, একই ডালে বাসা,
পিতা-মাতার মমতায় গড়ে সন্তানের আশা।
হৃদয়জুড়ে একই বাঁধন, মায়ার নদী বয়,
সুখে-দুঃখে পাশাপাশি থাকাই ভালোবাসার জয়।
পিতার ছায়া, মায়ের আঁচল, সন্তানেরই হাসি,
এই তো ঘরের আসল ধন, এই তো ভালোবাসি।
অর্থ-সম্পদ ক্ষণিক মাত্র, মমতা থাকে চির,
ভালোবাসার বন্ধনটিই জীবনের আসল নীড়।
আজ যে শিশু মায়ের কোলে, বাবার হাতের মুঠোয়,
কাল সে হবে পরিবারেরই আশ্রয় তাদের বুকে।
সময় ঘুরে দায়িত্ব বদলায়, বদলায় জীবনের পথ,
ভালোবাসা থেকে যায়—অমর, পবিত্র, অবিরত।
পিতা-মাতা আল্লাহর দেওয়া অমূল্য এক দান,
সন্তানও তাঁরই আমানত—জীবনের মহান জ্ঞান।
তাই তাদের সম্পর্ক হোক ঈমানেরই আলোয়,
সত্য, দয়া, স্নেহ, শ্রদ্ধা ফুটুক প্রতিটি ভালোয়।
মায়ের চোখে সন্তানের সুখ, বাবার চোখে স্বপ্ন,
সন্তানের হৃদয়ে থাকুক পিতা-মাতার সম্মান অম্লান।
একজন আরেকজনের জন্য হোক রহমতের ছায়া,
ভালোবাসার বন্ধনে মুছে যাক সকল মায়া।
দুঃখ এলে পাশে থেকো, সুখে ভাগ করে নাও,
ভুল হলে ক্ষমা করে নতুন করে পথ দেখাও।
কথায় দাও সান্ত্বনা, কাজে দাও সহযোগিতা,
এভাবেই তো পূর্ণ হয় পরিবারের ভালোবাসার নীড়তা।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর করো দয়াময়,
পিতা-মাতার প্রতি দাও উত্তম সদাচরণময়।
তাঁদের কষ্ট দিও না, দাও সেবা করার তাওফিক,
তাঁদের প্রতি আমাদের আচরণ করো সুন্দর ও সঠিক।
হে রব! আমাদের সন্তান করো নেক ও সৎ,
ঈমান, আমল, চরিত্রে করো তাদের দৃঢ় ও বলিষ্ঠ।
পরিবারে দাও শান্তি, রহমত, বরকত, ভালোবাসা,
তোমার সন্তুষ্টির পথে রাখো আমাদের সকল আশা।
জীবন শেষে যখন ফিরব তোমারই দরবারে,
পিতা-মাতা ও সন্তান সবাই থাকি রহমতের দ্বারে।
দুনিয়ার এই মধুর বন্ধন আখিরাতে দাও পূর্ণ,
জান্নাতের শান্ত ছায়ায় করো আমাদের জীবন সম্পূর্ণ।
পিতা-মাতার মমতা হোক সন্তানের পথের আলো,
সন্তানের স্নেহে তাঁদের জীবন হোক আরও ভালো।
আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে থাকুক হৃদয় বাঁধা—
এই বন্ধন হোক দুনিয়া-আখিরাতে কল্যাণের সাধা।
মা-বাবার ভালোবাসা—রহমতেরই ছায়া,
সন্তানের নির্মল স্নেহ—হৃদয়ভরা মায়া।
দুই প্রান্তের দুইটি হৃদয়, এক বন্ধনে বাঁধা—
আল্লাহর হুকুম মেনে হোক পরিবার শান্তির সাধা।
৭
৭ মন্তব্য