ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী সহিহ হাদিসের রেফারেন্সসহ নিচে দেওয়া হলো:
১. জন্ম ও বংশ পরিচয়
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আনুমানিক ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ এবং মাতার নাম আমিনা। জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন।
রেফারেন্স: রাসুল (সাঃ) নিজের বংশমর্যাদা সম্পর্কে বলেন: "আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম (আঃ)-এর সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইল (আঃ)-কে বেছে নিয়েছেন, ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে বনু কিনানাহকে, বনু কিনানাহ থেকে কুরাইশকে, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে বেছে নিয়েছেন।" (সহিহ মুসলিম: ২২৭৬)
২. শৈশব ও যৌবনকাল
ছয় বছর বয়সে মাতা আমিনা এবং আট বছর বয়সে দাদা আবদুল মুত্তালিবের ইন্তেকালের পর চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে তিনি বড় হন। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী, আমানতদার ও চরিত্রবান ছিলেন, যার কারণে মক্কাবাসী তাঁকে "আল-আমিন" (বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত করে। ২৫ বছর বয়সে তিনি খাদিজা (রাঃ)-এর বাণিজ্য পরিচালনা করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
৩. নবুওয়াত লাভ ও মক্কার জীবন
৪০ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকাকালীন জিবরাঈল (আঃ)-এর মাধ্যমে তাঁর ওপর প্রথম ওহি অবতীর্ণ হয়। প্রথম অবতীর্ণ আয়াত ছিল সূরা আলাকের "ইকরা" (পড়ো)।
প্রথম ৩ বছর গোপনে এবং এরপর প্রকাশ্যে তাওহিদের দাওয়াত দেওয়া শুরু করলে কুরাইশদের প্রবল অত্যাচার ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। নবুওয়াতের দশম বছরে স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) ও চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর পর এই বছরকে "আমুল হুজন" (শোকের বছর) বলা হয়। এ সময়েই আল্লাহ তাঁকে অলৌকিক 'ইসরা ও মিরাজ' (ঊর্ধ্বাকাশ ভ্রমণ)-এর মাধ্যমে সম্মান্বিত করেন ও ৫ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেন।
৪. হিজরত ও মদিনার জীবন
মক্কাবাসীদের চরম নির্যাতন ও হত্যার চক্রান্তের পর আল্লাহর নির্দেশে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় তিনি প্রথম ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং 'মদিনা সনদের' মাধ্যমে সাম্য ও শান্তির পরিবেশ তৈরি করেন। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বদর, ওহুদ ও খন্দকসহ বিভিন্ন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। অবশেষে ৮ম হিজরিতে (৬৩০ খ্রিঃ) বিনা রক্তপাতে ঐতিহাসিক মক্কা বিজয় করেন।
৫. মহানবী (সাঃ)-এর চরিত্র ও জীবনযাপন
তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে ও বিনয়ী জীবনযাপন করতেন।
রেফারেন্স: ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন: "আমি রাসুল (সাঃ)-এর কামরায় প্রবেশ করে দেখলাম তিনি একটি চাটাইয়ের ওপর শুয়ে আছেন, যার দাগ তাঁর গায়ে স্পষ্ট ছিল। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার বালিশ।" (সহিহ বুখারি: ৪৯১৩)
রেফারেন্স: তাঁর চরিত্র সম্পর্কে আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "পবিত্র কুরআনই ছিল তাঁর চরিত্র।" (সহিহ মুসলিম: ৭৪৬)
৬. বিদায় হজ ও ইন্তেকাল
১০ম হিজরিতে রাসুল (সাঃ) এক লাখেরও বেশি সাহাবিকে সাথে নিয়ে ঐতিহাসিক বিদায় হজ পালন করেন। সেখানে তিনি মানবজাতির জন্য হেদায়েতের শেষ ভাষণ প্রদান করেন।
১১ হিজরির ১২ই রবিউল আউয়াল (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ) ৬৩ বছর বয়সে তিনি এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।
৭
৭ মন্তব্য