Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:০৮ পূর্বাহ্ণ

দোয়া, তাওবা ও ইস্তিগফারের আলো - মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                        দোয়া, তাওবা ইস্তিগফারের আলো

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

জীবন যখন আঁধার রাতে, পথ হারায় মন,
চারদিকে ভয়, দুশ্চিন্তা, ভারী হয় ক্ষণ;
তখন তুমি হাতটি তোলো আকাশপানে চেয়ে,
বল—“হে রব, তুমি আছো, রাখো আমায় বেয়ে।

তুমি তো সেই দয়াময়, তুমি পরম দাতা,
তোমার রহমত ছাড়া প্রভু, কে আছে আর ত্রাতা?
দুঃখ যদি আসে জীবনে, কেঁদো না নিরাশ,
রহমতেরই দরজা খোলো, রাখো মনে আশ।

আল্লাহ বলেন—“আমায় ডাকো, সাড়া দেব তোমায়,”
বান্দা যখন হাতটি তোলে, রবের রহমত চায়।
দোয়া শুধু চাওয়ার ভাষা, নয় তো কেবল কথা,
দোয়া হলো রবের কাছে মেলে ধরা ব্যথা।

যা কিছু চাই, তাঁরই কাছে চাও বিনীত মনে,
গোপন ব্যথা জানাও তাঁকে, নির্জন কোনো ক্ষণে।
মানুষ যখন ফিরিয়ে দেয়, রব ফেরান না দ্বার,
রবের কাছে চাওয়া মুমিনের মহা অহংকার।

অহংকার নয়বিনয় নিয়ে বলো আপন কথা,
তিনি জানেন অন্তরের সব অপ্রকাশিত ব্যথা।
সুখের দিনে শুকরিয়া দাও, দুঃখে ধরো হাত,
দোয়ার মাঝে খুঁজে নাও শান্তিরই প্রভাত।

রিজিক চাইলে তাঁরই কাছে, হেদায়াতও তাই,
জ্ঞান চাইলে তাঁরই কাছেতিনি ছাড়া নাই।
সুস্থতা আর নিরাপত্তা, কল্যাণময় জীবন,
সবই চাও তাঁরই কাছে, তিনি দয়াময় রবন।

শুধু দুঃখের সময় নয়, সুখেও তাঁকে ডাকো,
প্রাপ্তির মাঝে রবকে স্মরণ, কৃতজ্ঞতা রাখো।
কারণ যিনি দুঃখ দেন নাপরীক্ষা দেন কখনো,
তাঁর হিকমত মানুষ বোঝে না সবসময় যেনও।

দোয়া করো সত্য পথে চলার শক্তি পেতে,
দোয়া করো পাপের পথে পা না যেন যেতে।
দোয়া করো অন্তর যেন থাকে পবিত্র,
জবান যেন সত্য বলে, কর্ম থাকে চরিত্র।

ভুল করেছিস্বীকার করে বলো, “হে আল্লাহ,”
ক্ষমা করো, দয়া করো, তুমি পরম দাতা।
আস্তাগফিরুল্লাহ বলো অন্তর দিয়ে চেয়ে,
পাপের কালিমা মুছে ফেলো তাওবার জলে ধুয়ে।

রাসুল ইস্তিগফার করেছেন প্রতিদিন বহুবার,
উম্মতের জন্য রেখে গেছেন মহৎ উপহার।
যিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, পবিত্র জীবন তাঁর,
তাঁর আমলেই শিক্ষা আছেইস্তিগফার বারবার।

ইস্তিগফার শুধু মুখের কথাএমন যেন নয়,
অন্তর যেন কাঁদে সত্যে, ভুলের জন্য ক্ষয়।
পাপের পথে ফিরে গিয়ে মুখে ক্ষমা চাওয়া,
তাওবার পূর্ণ শিক্ষা নয় কথা মনে রাখা।

তাওবা মানে ফিরে আসা ভুলের পথ ছেড়ে,
অন্যায়ের সব বন্ধন ছিন্ন সত্য ধরে।
নিজের ভুলে অনুতপ্ত, অন্তর হবে নত,
পাপের পথে আর না যাওয়ার সংকল্প হবে দৃঢ়।

আদমসন্তান ভুল করেহাদিসে শিক্ষা পাই,
ভুলের পরে তাওবাকারী উত্তমভুল নাই।
ভুল যদি হয়, ভেঙে পড়ো না, থেকো না হতাশ,
ফিরে এসো রবের পথে, রাখো মনে আশ।

পাপের কারণে দূরে সরে থেকো না আর রবের,
তাওবার পথে ফিরে এসো দয়ার সাগর-তীরে।
যত অন্ধকার অতীতে হোক, আজই জ্বালো আলো,
রবের দিকে ফিরে এলে জীবন হবে ভালো।

শয়তান এসে কানে কানে বলবে—“তোমার শেষ,”
এত পাপের পরও কি আর হবে তোমার রেহাই?”
তুমি বলো—“আমার রবের রহমত সীমাহীন,
তাঁর দয়া থেকে নিরাশ হওয়া মুমিনের কাজ নয়।

যে হৃদয় আজ পাপের ভারে কাঁদছে নীরবে,
তাওবার অশ্রু ঝরুক তার চোখেরই নীড়ে।
আজকের ভুল আগামী দিনের শিক্ষা হয়ে যাক,
পাপের পথের বন্ধ দুয়ার তাওবার আলোয় খুলে যাক।

গতকাল যদি গাফেল হও, আজকে জেগে ওঠো,
ভুলের বোঝা ফেলে দিয়ে সত্যের পথে ছোটো।
জীবন যতটুকু বাকি, করো সুন্দর কাজ,
মৃত্যু আসার আগেই গড়ো আখিরাতের সাজ।

হে আল্লাহ! অন্তর আমার পবিত্র করে দাও,
তাকওয়ার আলো হৃদয়জুড়ে গভীর করে দাও।
হিংসা, লোভ আর অহংকার দূরে সরিয়ে নাও,
সত্য, দয়া, ক্ষমা, ভালোবাসা অন্তরে ভরাও।

জবান আমার সত্য বলুক, চোখ থাকুক সংযত,
হাত যেন কারও ক্ষতি না করে, হোক কর্ম পবিত্র।
কানে যেন অন্যায়ের কথা প্রবেশ না করে,
পা যেন হারামের পথে কোনোদিন না ঝরে।

মানুষের প্রতি দয়া দাও, ক্ষমার শক্তি দাও,
অন্যের অধিকার নষ্ট হলে ফিরিয়ে দেওয়ার দাও।
নিজের ভুলে নিজেই যেন হতে পারি সচেতন,
তোমার ভয়ে নত হোক এই অহংকারী মন।

তাকওয়া হলো অন্তরের সেই জাগ্রত প্রহরী,
নির্জন রাতেও যে বলে—“আল্লাহ আছেন হে ধরি।
মানুষ না দেখলেও যিনি সবই দেখেন ঠিক,
তাঁর ভয়েই মুমিন থাকে অন্যায় থেকে বিরত।

তাকওয়া শুধু কথায় নয়, জীবনের আচরণ,
তাকওয়া মানে সত্য পথে দৃঢ়ভাবে চলন।
বাজারে হোক, ঘরে হোক, কর্মক্ষেত্রের মাঝে,
আল্লাহভীতি পথ দেখাবে প্রতিটি কাজে।

ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো, দুর্বল হলে ধৈর্য,
সম্পদ পেলে শুকরিয়া দাও, দুঃখে রাখো স্থৈর্য।
গোপন-প্রকাশ্য একই থাকুক ঈমানের আলো,
তবেই তো মানুষ হবে সত্যিকার অর্থে ভালো।

দুশ্চিন্তা যখন বুকের ভেতর পাথর হয়ে রয়,
মন যখন ভারে নুয়ে যায়, চোখে নামে ভয়;
তখন তুমি রবকে ডাকো, কেঁদে বলো প্রাণে,
হে আল্লাহ, তুমি সাহায্য করোআমি দুর্বল তোমার দানে।

মনোকষ্ট যখন আসে, হৃদয় যখন ভাঙে,
সবাই যখন দূরে সরে, কেউ না থাকে সঙ্গে;
তখনও তুমি ভুলে যেয়ো না দয়াময় রবকে,
তিনি জানেন অন্তরের সব অশ্রু গোপনে।

দুঃখ তোমার চিরস্থায়ী কথা সত্য নয়,
রাতের পরে দিনের আলো ফুটবেই নিশ্চয়।
পরীক্ষারও শেষ আছে, কষ্টেরও অবসান,
ধৈর্য ধরে রবের পথে রাখো দৃঢ় ঈমান।

হে আল্লাহ! অলসতা থেকে আমায় রাখো দূরে,
কর্মঠ করে দাও আমায় সত্য কাজের সুরে।
সময় যেন নষ্ট না হয় অর্থহীন কাজে,
জীবন যেন সার্থক হয় তোমার সন্তুষ্টির মাঝে।

ফজরের ভোর ডাকছে যখন, ঘুমে থেকো না পড়ে,
সালাতেরই আলো নাও জীবনের পথ ধরে।
জ্ঞান অর্জন, হালাল শ্রম, সৎ কর্মে মন,
সময়কে মূল্য দিলে গড়বে সুন্দর জীবন।

অলস হাতে স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যায়,
পরিশ্রমে সফলতার দ্বার একদিন খুলে যায়।
চেষ্টা করো, দোয়া করো, রবের ওপর ভরসা,
তাওয়াক্কুল মানে কর্মহীন বসে থাকা নয়আশা।

হে আল্লাহ! কাপুরুষতা থেকে রাখো আমায় দূরে,
সত্য বলার সাহস দাও অন্যায়েরই ভিড়ে।
জুলুম দেখে নীরব যেন না থাকি ভয় পেয়ে,
হক কথা বলি প্রজ্ঞা নিয়ে, ন্যায়কে হৃদয়ে নিয়ে।

সাহস মানে উগ্র হওয়া শিক্ষা ইসলাম নয়,
সত্যের পথে দৃঢ় থাকা মুমিনের পরিচয়।
রাগ নয়, প্রজ্ঞা চাই; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়,
আল্লাহর বিধান মেনে চলাই শ্রেষ্ঠ উপায়।

হে আল্লাহ! কৃপণতার কালো ছায়া সরাও,
দানশীলতার নির্মল আলো অন্তরে ভরাও।
তোমার দেওয়া সম্পদ যে আমানতমনে রাখি,
অভাবীর মুখে হাসি ফোটাই, দুঃখীর পাশে থাকি।

সম্পদ পেলে অহংকার নয়, শুকরিয়া করি,
অসহায়ের প্রয়োজন হলে সাহায্যের হাত ধরি।
দান যদি হয় গোপন, তবু তুমি জানো তা,
তোমার সন্তুষ্টির জন্যই হোক সকল দান-দক্ষতা।

ঋণের ভারে মন যদি হয় অশান্ত, ভারাক্রান্ত,
হে আল্লাহ, তুমি দাও মুক্তি, করো জীবন শান্ত।
হালাল পথে রিজিক দাও, ঋণ পরিশোধের শক্তি,
অন্যের হক আদায় করার দাও সৎ মনোবৃত্তি।

অপচয় থেকে বাঁচিয়ে রেখো, দাও মিতব্যয়িতা,
হালাল পথে জীবিকা দাও, দূর করো দীনতা।
যে ঋণ নিয়েছি, পরিশোধের রাখি দৃঢ় মান,
অন্যের সম্পদ, অন্যের হকরক্ষা করি প্রাণ।

দোয়া করে বসে থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়,
চেষ্টার সঙ্গে দোয়া মিলেই সফলতার জয়।
বীজ বুনে কৃষক যেমন ফসলের আশা রাখে,
পরিশ্রম করে মুমিনও রবের ওপর ভরসা রাখে।

হালাল পথে চেষ্টা করো, ফল দাও তাঁর হাতে,
তোমার কাজ চেষ্টা করাফল তাঁরই ইচ্ছাতে।
ব্যর্থ হলে ভেঙে পড়ো না, আবার চেষ্টা করো,
দোয়া দিয়ে দৃঢ় হয়ে সত্য পথে এগিয়ে চলো।

প্রতিদিন রাতে নিজেকে একবার প্রশ্ন করো
আজকে আমি কী করেছি?” নিজের কাছে ধরো।
কারও মনে কষ্ট দিলাম? কারও হক কি নিলাম?
কোনো মিথ্যা বলেছি কি? অন্যায় পথে চললাম?”

আজ কি আমি সালাত কায়েম করেছি মন দিয়ে?
আজ কি রবকে স্মরণ করেছি আন্তরিকতা নিয়ে?”
ভুল যদি হয়ে থাকে আজ, তাওবা করেছি কি?
ক্ষমা চেয়ে ফিরে এসেছি? সংশোধন করেছি কি?”

যে নিজেকে প্রতিদিনই নিজে যাচাই করে,
সে ধীরে ধীরে পবিত্র হয় সত্যের পথ ধরে।
অন্যের দোষ গুনে বেড়ানো সহজ মানুষের কাজ,
নিজের দোষ সংশোধন করাই মুমিনের সাজ।

সন্তান যদি ভুল করে, তাকে শিক্ষা দাও ভালোবেসে,
ভুল স্বীকার, ক্ষমা চাওয়াশেখাও তাকে হেসে।
শুধু শাস্তি নয়, বোঝাও তাকে ভুলের পরিণাম,
সংশোধনের পথ দেখিয়ে গড়ো সুন্দর প্রাণ।

মা-বাবা, শিক্ষক, অভিভাবকসবাই যদি মিলে,
তাওবা, দোয়া, তাকওয়ার শিক্ষা দেয় সহজ ছলে;
তবে শিশুর কোমল মনে নৈতিকতার বীজ,
একদিন তা বৃক্ষে হবে, ফল দেবে অতি মিষ্টি।

যে সমাজে মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতে জানে,
সেখানে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা জায়গা করে প্রাণে।
অন্যের হক ফিরিয়ে দিলে বাড়ে পারস্পরিক মান,
মিথ্যা, প্রতারণা কমে, বাড়ে মানুষের সম্মান।

তাওবা শুধু ব্যক্তির নয়সমাজেরও সংশোধন,
অন্যায় ছেড়ে ন্যায় গ্রহণএটাই তার প্রয়োজন।
ঘৃণার বদলে দয়া আসুক, হিংসার বদলে প্রেম,
মানুষ যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায় ভেঙে ভ্রান্তির ফাঁদ।

হে আল্লাহ! তুমি আমাদের দোয়া কবুল করো,
অন্তরের সব কালিমা ধুয়ে পবিত্র করো।
ভুল হলে যেন তাওবার পথে ফিরে আসি,
তোমার রহমতের ছায়াতলে জীবন যেন হাসি।

হে রব! আমাদের জবান করো ইস্তিগফারময়,
অন্তর করো তাকওয়াময়, জীবন করো পুণ্যময়।
দুশ্চিন্তা মনোকষ্ট থেকে দাও নিরাপদ আশ্রয়,
অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা থেকে করো জয়।

ঋণের বোঝা হালকা করো, হালাল রিজিক দাও,
অন্যের হক আদায়ের শক্তি অন্তরে জাগাও।
হারাম থেকে দূরে রেখে হালাল পথে চালাও,
সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমার সৌন্দর্যে সাজাও।

যে চোখ দিয়ে অন্যায় দেখি, সংযম দাও তাতে,
যে জবান কথা বলে, সত্য দাও সে কথাতে।
যে হাত দিয়ে কাজ করি, কল্যাণ দাও তাতে,
যে পায়ে চলি, সোজা রেখো সত্যেরই পথে।

হে আল্লাহ! অন্তরে দাও তোমার ভয় ভালোবাসা,
তোমার রহমতের আশাতেই বাঁচুক হৃদয়-আশা।
সুখে যেন তোমায় ভুলে না যাই, দুঃখে না হারাই,
প্রতিটি ক্ষণে তোমার ওপর ভরসা যেন রাখি ভাই।

যদি পাপের পথে যাই, ফিরিয়ে দিও প্রভু,
ভুলের পরে তাওবার তাওফিক দিও হে রব।
মৃত্যুর আগে তাওবার দ্বার রেখো যেন খোলা,
শেষ নিঃশ্বাসে ঈমান দিওহোক জীবন ধন্যভোলা।

দুনিয়ার পথে সত্য দাও, আখিরাতে নাজাত,
কবরের শান্তি, হাশরের দিন দাও নিরাপদ ছায়াত।
মিজানের পাল্লা ভারী করো নেক আমলের দানে,
তোমার সন্তুষ্টি দাও প্রভু, দুনিয়া-আখিরাতে প্রাণে।

জান্নাতের পথে চালিয়ে নাও, জাহান্নাম থেকে বাঁচাও,
রাসুল -এর সুন্নাহ মেনে চলার তাওফিক দাও।
দোয়া, তাওবা, ইস্তিগফারে জীবন করো ভরপুর,
তোমার রহমতের আলোয় হোক হৃদয় নূরানূর।

হে দয়াময়, হে ক্ষমাশীল, হে পরম করুণাময়,
তোমার দ্বারেই ফিরে আসিতুমিই আমার আশ্রয়।
দুনিয়ার সব আঁধার পেরিয়ে তোমার দয়া চাই,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের শেষ কামনা তাই।

আমিন,

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ