Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:০৭ পূর্বাহ্ণ

PSR J1637−4642.......

মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও অতিঘন বস্তুগুলোর একটি হলো নিউট্রন স্টার বা পালসার। যার নিয়মিত ঘূর্ণন এতই নিখুঁত যে একে মহাকাশের ঘড়িও বলা চলে। তবে এই মহাজাগতিক ঘড়িও যে হঠাৎ গতি বাড়িয়ে চমকে দিতে পারে, তারই রোমাঞ্চকর প্রমাণ মিলল PSR J1637−4642 নামের এক তরুণ পালসারে। 


প্রায় ৪১ হাজার বছর পুরনো এবং প্রতি ১৫৪ মিলিসেকেন্ডে একবার ঘোরা এই পালসারটি আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় একদম নিশ্চুপ ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত পার্কেস (Murriyang) রেডিও টেলিস্কোপে সংগৃহীত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫.৫ বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর এই পালসারটির ঘূর্ণন হঠাৎ তিনবার দ্রুতগতি লাভ করেছে। বিজ্ঞানের ভাষায় পালসারের ঘূর্ণনগতির এমন আকস্মিক বৃদ্ধিকে বলা হয় 'গ্লিচ' (glitch)।


গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের দিকে ঘটা প্রথম গ্লিচটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী, যা পালসারটির ঘূর্ণন-ফ্রিকোয়েন্সি প্রায় ১৭.৫৪ মাইক্রোহার্টজ বাড়িয়ে দেয়। এরপর প্রায় তিন বছর পর দ্বিতীয় এবং তার ২.৭ বছর পর তৃতীয় গ্লিচটি ঘটে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশাল ভরের নক্ষত্রের ঘূর্ণন হঠাৎ দ্রুত হয়ে যায় কেন? এর রহস্য লুকিয়ে আছে নক্ষত্রটির গভীরে।


বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, পালসারের বাইরের কঠিন ভূত্বকের নিচে ঘর্ষণহীন 'সুপারফ্লুইড' নিউট্রনের প্রবাহ থাকে। বাইরের ভূত্বকের ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমলেও ভেতরের সুপারফ্লুইড দ্রুতই ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে ভেতরের সেই শক্তি বা কৌণিক ভরবেগ হঠাৎ বাইরে স্থানান্তরিত হলেই উপরিভাগের ঘূর্ণন আচমকা বেড়ে যায়।


বিজ্ঞানী ঝাওয়ি ওয়াং (Zhaoyi Wang) ও তাঁর দলের এই গবেষণার আরও মজার দিক হলো, প্রথম বড় গ্লিচটির পর পালসারটি সঙ্গে সঙ্গে স্থির হয়নি; আগের অবস্থায় ফিরতে প্রায় ১০২ দিন সময় নিয়েছে। মডেলিং থেকে জানা যায়, নক্ষত্রটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোর প্রায় ১.৯ শতাংশ অংশ এই সুপারফ্লুইড পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেহেতু কোনও নিউট্রন তারার ভেতরে সরাসরি তাকানো সম্ভব নয়, তাই ঘূর্ণনের এই ক্ষুদ্রতম পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এর অভ্যন্তরীণ গঠনের এক পরোক্ষ মানচিত্র তৈরি করছেন।


মহাকাশে 'নীরব' মানেই যে ভেতরে পরিবর্তন থেমে আছে তা নয়, ১৫ বছর নীরব থেকে হঠাৎ গতি বদলানো এই পালসার যেন আমাদের সেই মহাজাগতিক সত্যটাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল।


মন্তব্য করুন