Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:০৯ পূর্বাহ্ণ

১১০ বছরের রহস্য উন্মোচন

প্রায় ১১০ বছর ধরে জীববিজ্ঞানীদের কাছে একটি বিষয় রহস্যময় হয়ে ছিল। গৃহপালিত বিড়ালের কিডনিতে কেন এত বিপুল সংখ্যক লিপিড ড্রপলেট বা চর্বি সঞ্চয়কারী ক্ষুদ্র কাঠামো থাকে? জাপানের ইওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসাও মিয়াজাকি ও তাঁর সহকর্মীদের নতুন গবেষণা এই রহস্যের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাঁদের মতে, কিডনির এসব লিপিড ড্রপলেট রাসায়নিক ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে এবং সময়ের সঙ্গে প্রস্রাবের গন্ধ বদলে গেলেও বিড়ালের নিজস্ব রাসায়নিক ‘গন্ধের স্বাক্ষর’ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।


অনেক প্রাণী নিজেদের এলাকা চিহ্নিত করতে সেন্ট ব্যবহার করে। এ ধরনের সেন্টের মাধ্যমে অন্য প্রাণীরা জানতে পারে, কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু এখানে একটি সমস্যা রয়েছে। গন্ধ তৈরির অণুগুলো পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত ও রাসায়নিকভাবে ভেঙে যায়। ফলে প্রাণীটি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর সময়ের সঙ্গে সেই গন্ধের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও বদলে যেতে পারে।


নতুন গবেষণাটি গত ১৯ আগস্ট, ২০২৬ Current Biology জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাটিতে দেখা গেছে, বিড়াল এই সমস্যার মোকাবিলায় ১৩ ধরনের ব্রাঞ্চড চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড বা শাখাযুক্ত শৃঙ্খলের ফ্যাটি অ্যাসিড, সংক্ষেপে BFA, ব্যবহার করে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রস্রাব বা অন্য কোনো নিঃসরণে এই শ্রেণির যৌগ আগে শনাক্ত করা হয়নি।


গবেষকদের মতে, প্রতিটি বিড়ালের প্রস্রাবে এই ফ্যাটি অ্যাসিডগুলোর একটি নির্দিষ্ট অনুপাত রয়েছে। প্রস্রাবের অন্য অনেক বেশি উদ্বায়ী রাসায়নিক উপাদানের তুলনায় এই রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সময়ের সঙ্গে অনেক বেশি স্থিতিশীল থাকে। একই সঙ্গে এগুলো খুবই ধীরে বাষ্পীভূত হয়। ফলে কোনো বিড়াল প্রস্রাব করার পর অন্তত এক দিন পর্যন্ত তার স্বতন্ত্র রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব থাকে।


মন্তব্য করুন

ব্লগ