শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক মানসিক
বিকাশের জন্য শৈশব থেকেই ইতিবাচক পরিবেশ এবং সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি। এই
বিষয়ে অভিভাবক ও পরিবারের প্রধান করণীয়সমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভালোবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি
দেওয়া
- শিশুকে নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় দিন এবং তার কথা মনোযোগ দিয়ে
শুনুন।
- সন্তানকে অনুভব করান যে সে পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সে নিরাপদ।
২. ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ ও উৎসাহ
প্রদান
- কোনো ভালো কাজ করলে মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করুন।
- ভুল করলে বকাঝকা বা মারধর না করে বুঝিয়ে বলুন। শারীরিক বা
মানসিক নির্যাতন শিশুর আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ভেঙে দেয়।
- অন্যের শিশুর সাথে নিজের সন্তানের তুলনা করা থেকে বিরত
থাকুন।
৩. আবেগ প্রকাশ ও পরিচালনার সুযোগ
তৈরি
- শিশু রাগ, দুঃখ বা ভয় পেলে তাকে বকা না দিয়ে তার অনুভূতি
বোঝার চেষ্টা করুন।
- আবেগ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় (যেমন: রাগ হলে গভীর শ্বাস
নেওয়া বা শান্ত থাকা) তা ছোটবেলা থেকেই শেখান।
৪. খেলাধুলা ও সামাজিক মেলামেশা
- প্রতিদিন সন্তানকে মাঠে বা খোলা জায়গায় নিয়ে যান, কারণ
শারীরিক খেলাধুলা মানসিক সুস্থতার অন্যতম শর্ত।
- অন্যান্য শিশুদের সাথে মেলামেশার সুযোগ দিন, এতে তার
সহমর্মিতা, শেয়ারিং এবং সামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
৫. স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ ও বই পড়ার
অভ্যাস
- মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটারের স্ক্রিন টাইম নির্দিষ্ট করে
দিন। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত
হয়।
- তাকে রঙিন গল্পের বই পড়ে শোনান এবং ছবি আঁকা বা নতুন কিছু
বানানোর মতো সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।
৬. মতামত প্রদান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার
স্বাধীনতা
- পোশাক বাছাই, খাবারের পছন্দ বা খেলাধুলার মতো ছোট ছোট
বিষয়ে শিশুর মতামত নিন।
- বয়সভিত্তিক কিছু দায়িত্ব (যেমন: নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখা)
তাকে দিন, এতে তার মধ্যে দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস জন্মাবে।
৭. পারিবারিক শান্ত পরিবেশ
- শিশুর সামনে ঝগড়াঝাঁটি, চিৎকার বা পারিবারিক অশান্তি
এড়িয়ে চলুন।
- বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের নিজেদের আচরণ সবসময় ইতিবাচক
রাখুন, কারণ শিশুরা বড়দের দেখেই সবচেয়ে বেশি শেখে।
৭
৭ মন্তব্য