Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:১৩ পূর্বাহ্ণ

আল্লাহর বাণী—আল-কুরআন (জীবনের পথ ও পাথেয়) মোঃ মুজিবুর রহমান

 


আল্লাহর বাণীআল-কুরআন

(জীবনের পথ পাথেয়)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা
কালিয়াকৈর, গাজীপুর

শ্রদ্ধাভরে রচিত হোক মহিমাময় এক মহাগাথা,
যে গাথায় জাগে বিশ্বজুড়ে তাওহীদের বারতা।
অন্ধকারে পথ হারালে যে আলো দেয় দিশা,
সে আলো আল-কুরআনআল্লাহর শ্রেষ্ঠ শিক্ষা।

মরুপ্রান্তর পেরিয়ে যেমন পথিক খোঁজে ছায়া,
তেমনি মানুষ খোঁজে সত্য, খোঁজে মুক্তির মায়া।
জীবন যখন সংশয়ে ভরা, চারদিকে অন্ধকার,
কুরআন তখন পথ দেখায়খোলে হিদায়াতের দ্বার।

কিতাব মানুষের লেখা নয়, নয় কোনো কাব্য,
যে রবের বাণীচিরসত্য, চিরঅব্যয়।
জিবরীলের মাধ্যমে নেমে এলো দয়ার ধারা,
রাসূল -এর হৃদয় হলো ওহির পবিত্র ধারা।

 “ কিতাবে কোনো সন্দেহ নেই”—রবের বাণী মহান,
মুত্তাকিদের পথ দেখায় পবিত্র আল-কুরআন।
যে হৃদয় সত্য খোঁজে, যে প্রাণ চায় নূর,
কুরআনের আয়াত তাকে করে সত্যের সুর।

অজ্ঞতার ঘোর অন্ধকার, কুসংস্কারের রাত,
কুরআন এসে খুলে দেয় হকের আলোর বাতি।
শিরকের কালো মেঘ সরিয়ে তাওহীদের গান,
মানুষকে শেখায়এক আল্লাহই সবার মহান।

মিথ্যার যত মোহজাল, অন্যায়ের যত ফাঁদ,
কুরআনের শিক্ষা দেয় সত্যের শক্তি-সাদ।
হককে হক বলে মানা, বাতিলকে করা দূর,
এভাবেই কুরআন জ্বালায় অন্তরে নূর।

জীবনের পথে কত পথকোনটি সঠিক পথ?
কোন পথে আছে কল্যাণ, কোন পথে শুধু ক্ষত?
মানুষ নিজের জ্ঞান দিয়ে সব কি পারে জানতে?
তাই তো ওহি নেমে আসে সত্যপথ দেখাতে।

সবচেয়ে সঠিক পথ দেখায়”—কুরআনের বাণী,
এই পথ ধরে চলে মুমিনপায় শান্তির পানি।
পাপের পথে ডাক এলে বলে, “রবকে ভয় করি,”
হারামের মোহ ছেড়ে দিয়ে হালাল পথে চলি।

লোভের কাছে মাথা নত নয়, সত্য হবে সাথী,
জুলুম ছেড়ে ন্যায়কে ধরি, হোক জীবনের গাঁথি।
কথায় সত্য, কাজে সত্য, অন্তরে তাকওয়া,
কুরআনের পথেই মেলে জীবনের আসল পাওয়া।

জীবন যেন দীর্ঘ সফর, মানুষ তারই পথিক,
কেউ যায় হাসিমুখে, কেউ বা দুঃখে ক্লান্ত-শ্রান্তিক।
পথিক যেমন সঙ্গে নেয় সফরের প্রয়োজন,
মুমিন নেয় তাকওয়া সঙ্গেএটাই শ্রেষ্ঠ পাথেয়।

দুনিয়ার পথে অর্থ লাগে, লাগে খাবার-পানি,
কিন্তু কবরের ওপারেতে এসব থাকবে না জানি।
সেখানে সঙ্গে যাবে শুধু ঈমান আর আমল,
সৎকর্ম, তাকওয়া, ইখলাসসফলতার সম্বল।

তাই কুরআন হাতে নিয়ে জীবন সাজাও ভাই,
রবের পথে চললে দেখো অকল্যাণ আর নাই।
পাথেয় যদি তাকওয়া হয়, পথ যদি হয় হক,
আখিরাতের সফলতার আশা তখন দৃঢ় হোক।

অন্ধকারে পথিক যেমন আলো খুঁজে ফেরে,
কুরআনের নূর তেমনি অন্তর আলোকিত করে।
চোখের আলো নিভে গেলে মানুষ তবু দেখে,
হৃদয়ের আলো নিভে গেলে মানুষ পথ হারায় একে একে।

কুরআন বলেরবকে চেনো, রবের কাছে ফিরো,
ভুলের পরে তাওবা করে পাপের পথটি ছাড়ো।
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয়ের পথে চলো,
অন্যায়ের আগুন নেভাও, সত্যের প্রদীপ জ্বালো।

হিংসা যদি হৃদয় পোড়ায়, ক্ষমার জল ঢালো,
বিদ্বেষ যদি বুক ভরায়, ভালোবাসা ভালো।
লোভ যদি মন গ্রাস করে, কানা পথটি ছাড়ো,
কুরআনের শিক্ষা নিয়ে অন্তরটাকে গড়ো।

কুরআনের নামের মাঝে আছে আল-ফুরকান,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করেদেয় স্পষ্ট জ্ঞান।
সত্য কখনো সংখ্যার জোরে মিথ্যা হয়ে যায় না,
বাতিল যত শক্তিশালী হোক, হককে হারাতে পারে না।

মানুষ বলে—“সবাই করে”—তাই কি হবে ঠিক?
কুরআন বলেসত্য যাচাই করো, হও বিবেকবান সৎ
রীতিনীতি যদি ভুল হয়, ভুলই থাকবে ভাই,
রবের বাণীর বিপরীতে কোনো সত্যতা নাই।

নিজের মনকে প্রশ্ন করোকোথায় আমার ভুল?
রবের বিধান মেনে চলাই জীবনের মূল।
কুরআনের মাপকাঠিতে জীবন করো বিচার,
তবেই সত্যের পথে থাকবে অন্তরের অঙ্গীকার।

ধন-সম্পদ বাড়লেই কি শান্তি আসে মনে?
উঁচু পদ পেলেই কি সুখ থাকে জীবনে?
খ্যাতির শিখর ছুঁলেও যদি অন্তর থাকে শূন্য,
তবে বাহিরের জৌলুসও হয়ে যায় বড় মলিন।

আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি পায়,
রবের দিকে ফিরলে মানুষ সত্যিকারের সুখ পায়।
কুরআনের আয়াত যখন হৃদয় ছুঁয়ে যায়,
অশ্রুসিক্ত চোখে তখন বান্দা রবকে চায়।

বিপদ এলে কুরআন বলে—“ধৈর্য ধরে থাকো,”
হতাশ হলে বলে—“রহমতের দরজা খোলা রাখো।
দুঃখের রাতে আশার প্রদীপ জ্বালায় রবের বাণী,
কুরআন তাই মুমিনের অন্তরজুড়ে শান্তির পানি।

কুরআন শুধু পড়ার জন্য নয়জীবন গড়ার গ্রন্থ,
শুধু শব্দ নয়, এর মাঝে আছে হিদায়াতের বসন্ত।
মুখে তিলাওয়াত, অন্তরে যদি না জাগে আলো,
তবে জীবনের আচরণে চাই কুরআনেরই ভালো।

পড়ো, বুঝো, ভাবো, মানোএই হোক অঙ্গীকার,
আয়াত যেন বদলে দেয় জীবনের ব্যবহার।
একটি আয়াত সত্যি যদি জীবনে আসে কাজে,
তবে সে শিক্ষা ফুটে ওঠে মানুষেরই মাঝে।

কুরআন থাকবে মুখে যেমন, থাকবে কাজে তেমন,
কুরআনের আদর্শ হবে জীবনেরই জীবন।
বাণী হবে চরিত্রে, ন্যায় হবে আচরণ,
তবেই সার্থক হবে কুরআনের অনুসরণ।

কুরআনের পথ বুঝতে হলে রাসূল -এর জীবন,
সুন্নাহর আলোয় স্পষ্ট হয় বিধানেরই রূপ-রঙ।
তিনি ছিলেন কুরআনের আদর্শ বাস্তব রূপ,
তাঁর জীবন থেকে শেখে মুমিন সত্যের অনুপম ধ্রুব।

নামাজ কেমন, রোজা কেমন, হজের বিধান কী,
কীভাবে হবে মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণটি
এসব শেখার জন্যই সুন্নাহ অমূল্য দিশা,
রাসূল -এর আদর্শে ফুটে ওঠে কুরআনের শিক্ষা।

তাই কুরআনকে আঁকড়ে ধরি, সহিহ সুন্নাহ মানি,
দ্বীনের পথে চলার জন্য - হোক পাথেয়খানি।
নিজের মন নয় শেষ কথা, নয় প্রবৃত্তির টান,
রবের ওহি রাসূলের সুন্নাহ হবে মানদণ্ড মহান।

কুরআন শুধু ইবাদতের কথা বলে না ভাই,
মানুষ হওয়ার শিক্ষাও তার পাতায় পাতায় পাই।
সত্যবাদিতা, আমানত, ধৈর্য, ক্ষমা, দয়া,
এসব গুণে সুন্দর হয় মানুষের হৃদয়-মায়া।

মিথ্যা ছেড়ে সত্য বলো, প্রতারণা করো না,
অন্যের হক নষ্ট করে সুখের স্বপ্ন দেখো না।
অহংকারের বিষ ত্যাগ করে বিনয়ের পথে চলো,
মানুষের দুঃখ দেখলে পাশে গিয়ে দাঁড়াও ভালো।

রাগ এলে নিজেকে ধরো, অন্যায় কথা কোরো না,
ক্ষমা করতে পারলে ক্ষমা করো, জুলুমকে প্রশ্রয় দিও না।
কুরআনের চরিত্র গড়ো হৃদয়ের গভীর ঘরে,
সেই মানুষই সৌন্দর্য ছড়ায় সমাজের অন্তরে।

কুরআনের শিক্ষা বলেমা-বাবাকে মানো,
তাদের প্রতি সম্মানের ভাষা হৃদয় দিয়ে জানো।
উফ শব্দটিও বলো নারবের কঠিন বাণী,
সদাচরণে সিক্ত হোক তোমার জীবনখানি।

মায়ের সেবায় জান্নাতের আশা, বাবার হক মহান,
তাদের জন্য দোয়া করোএটাই মুমিনের প্রাণ।
বার্ধক্যে যখন তারা হবে দুর্বল, অসহায়,
সন্তানের মমতার ছায়া তখন তাদের চাই।

যে সন্তান কুরআন মেনে পিতা-মাতার সেবা করে,
তার জীবনে বরকত আসে রবের রহমতের ঘরে।
তাদের প্রতি সদাচরণ হোক জীবনের মান,
কুরআনের এই শিক্ষা হোক হৃদয়ের সম্মান।

পরিবার যদি কুরআনের আলোয় হয় আলোকিত,
ভালোবাসা, সম্মান, মায়ায় হোক ঘরটি সুশোভিত।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে থাকুক দয়া, মমতা, সম্মান,
সন্তানের সামনে ফুটুক সুন্দর আচরণের জ্ঞান।

কথায় যেন না থাকে কটুতা, না থাকে অবহেলা,
ভালোবাসায় গড়ে উঠুক সংসারের প্রতিটি মেলা।
সন্তান যা দেখে ঘরে, তা- শেখে পরে,
তাই তো কুরআনের শিক্ষা আনো পরিবারের ঘরে।

অপচয় নয়, কৃপণতা নয়মাঝামাঝি পথ,
সামর্থ্য বুঝে দায়িত্ব পালনএটাই সুন্দর মত।
হালাল রিজিক, সৎ উপার্জন, শান্তিময় সংসার,
কুরআনের আদর্শে গড়ে উঠুক প্রতিটি পরিবার।

কুরআন বলেন্যায় করো, জুলুম কোরো না,
অন্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে সুখী হতে চেও না।
আমানত যার, তার কাছে তা ফিরিয়ে দাও,
বিচারের সময় পক্ষপাত ছেড়ে সত্যের পথে যাও।

মাপে কম দিও না, ওজনে করো না ছল,
হারাম পথে অর্জিত ধন নয় কোনো সফলতা ফল।
অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ কোরো না ভাই,
হালাল পথে অল্প রিজিকেও বরকতের কমতি নাই।

যে সমাজে সত্য থাকে, সে সমাজ হয় দৃঢ়,
যেখানে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত, সেখানে মানুষ নির্ভয়।
কুরআনের ন্যায়নীতি ছড়িয়ে দাও ঘরে ঘরে,
সুন্দর সমাজ গড়ে উঠুক মানুষের অন্তরে।

শিক্ষার্থী, তুমি জ্ঞান অর্জন করো মন দিয়ে,
সময়কে মূল্য দাও সৎ উদ্দেশ্য বুকে নিয়ে।
শিক্ষকের সম্মান করো, পিতা-মাতাকে মানো,
অলসতা ছেড়ে দিয়ে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাও।

নকল করে নম্বর পেলে জ্ঞান কি বাড়ে বলো?
মিথ্যার ওপর সাফল্য গড়ে কতদিনই বা চলো?
সততার পথে কম ফল হলেও সেটাই শ্রেয়,
কুরআনের শিক্ষা বলেসত্য পথই বিজয়ের নীড়।

জ্ঞান যেন অহংকার নয়, জ্ঞান যেন হয় আলো,
নিজে শিখে অন্যকে শেখাওএটাই হবে ভালো।
জ্ঞান, চরিত্র, আমল মিলে গড়ো নিজের প্রাণ,
তবেই তুমি সমাজের হবে সত্যিকারের সম্পদ মহান।

শিক্ষক শুধু পাঠ দেন না, মানুষ গড়েন ভাই,
একটি কোমল হৃদয়ে তাঁর প্রভাব কম তো নয় তাই।
তাই তাঁর কথায় সত্য থাক, কাজে থাক আদর্শ,
শিক্ষার্থীর হৃদয়ে ফুটুক তাঁর আচরণে হর্ষ।

কঠোরতার সঙ্গে মমতা, শাসনের সঙ্গে দয়া,
শিক্ষার সঙ্গে চরিত্র গড়াই হোক শিক্ষার মায়া।
নিজে যদি সত্য পথে থাকেন, ছাত্র শিখবে তাই,
শিক্ষকের নীরব জীবনও বড় শিক্ষা হয়ে যায়।

কুরআনের আলোয় শিক্ষক হোন দায়িত্ববান,
জ্ঞান বিতরণ হোক তাঁর জীবনের মহাদান।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান দিন অকাতরে,
উম্মতের কল্যাণ ফুটুক তাঁর প্রতিটি কর্মে।

ঝড় যখন ওঠে জীবনে, আকাশ যখন কালো,
চারদিকে যখন মনে হয়নেই কোনো আলো,
তখন মুমিন ভেঙে পড়ে না, রবকে ডেকে কয়
আমার রব আছেন, তাঁর রহমত কখনো শেষ নয়।

কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি আছেরবের দেওয়া বাণী,
ধৈর্য ধরো, দোয়া করো, তাঁকেই স্মরণ মানি।
বিপদের দিনে চেষ্টা করো, তাওয়াক্কুল রাখো মনে,
সাহায্য চাও আল্লাহর কাছেসিজদার গভীর ক্ষণে।

হতাশা নয়, আশা রাখো রবের দয়া ঘিরে,
পাপ হলে ফিরে এসো তাওবার অশ্রু নিয়ে।
কুরআনের শিক্ষা তখন সাহস জাগায় প্রাণে,
মুমিন আবার উঠে দাঁড়ায় রবের ওপর টানে।

মানুষ ভুল করে, মানুষ কখনো পাপে পড়ে,
কিন্তু মুমিন ফিরে আসে রবের রহমতের ঘরে।
নিরাশ হয়ো না”—রবের রহমতের আহ্বান,
তাওবার পথে ফিরে এলে মুছে যায় পাপের দাগখান।

পাপকে ভালোবাসা নয়, পাপ থেকে ফিরে আসা,
অন্যায় ছেড়ে সত্য ধরাএটাই মুক্তির আশা।
মানুষের হক নষ্ট হলে হক ফিরিয়ে দাও,
অন্যায় কাজ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর পথে যাও।

ইস্তিগফারে ভিজুক ঠোঁট, তাওবায় ভিজুক চোখ,
সৎকর্মে পূর্ণ হোক জীবন, পাপের বন্ধন হোক শিথিল।
রবের দিকে ফিরলে বান্দা একা থাকে না আর,
রহমতের দরজা খোলা থাকেঅশেষ তাঁর দয়ার দ্বার।

দুনিয়া ক্ষণিকের সফর, আখিরাত চিরস্থায়ী,
আজ যে জীবন হাতে আছে, কাল তো থাকবে নাই।
প্রাসাদ, সম্পদ, নাম-যশ সব একদিন হবে শেষ,
কাজে যদি নেকি থাকে, সেটাই হবে অবশেষ।

দুনিয়াকে ছেড়ে দেওয়া নয়, হালাল পথে চলো,
রবের দেওয়া নেয়ামত পেয়ে শুকরিয়া ভালো বলো।
সম্পদ থাকুক হাতে, হৃদয়ে নয় তার স্থান,
রবের সন্তুষ্টি হোক জীবনের মহান লক্ষ্যজ্ঞান।

কুরআন শেখায় ভারসাম্যদুনিয়া পরকাল,
সৎকর্মে গড়ো জীবন, দূর করো সব জঞ্জাল।
আজকের প্রতিটি কাজই কাল হিসাব হবে ভাই,
তাই তো মুমিন প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করে যায়।

হে তরুণ, তোমার হাতে ভবিষ্যতের দিন,
তোমার কর্মেই গড়ে উঠবে সমাজের নবীন ঋণ।
প্রলোভনের হাজার দরজা খুলবে তোমার সামনে,
কুরআনকে সঙ্গী করোসত্য থাকবে প্রাণে।

চোখকে রাখো পবিত্র, মনকে রাখো নির্মল,
হারামের মোহ ছাড়ো, হালাল পথ করো সম্বল।
সময় নষ্ট কোরো না ভাই, সময় অমূল্য ধন,
আজকের সৎ প্রচেষ্টাতেই গড়ে উঠবে ভবিষ্য জীবন।

জ্ঞান অর্জন করো, দক্ষ হও, পরিশ্রম করো প্রাণে,
সৎ থেকে এগিয়ে চলো আল্লাহর বিধান মানে।
কুরআনের আলো নিয়ে পৃথিবী করো জয়
সত্য, ন্যায়, মানবতায় ফুটুক তোমার পরিচয়।

কুরআন ডাকেএসো মানুষ, রবের দিকে চলো,
অন্যায়ের সব বন্ধন কেটে সত্যের প্রদীপ জ্বালো।
কুরআন ডাকেএসো মানুষ, তাওহীদের পতাকা ধরো,
শিরকের সব অন্ধকার ছেড়ে এক আল্লাহকে স্মরণ করো।

কুরআন ডাকেসত্য বলো, আমানত রক্ষা করো,
দুর্বলের অধিকার ফিরিয়ে দাও, ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করো।
কুরআন ডাকেমা-বাবাকে সম্মান দাও প্রাণে,
আত্মীয়তার বন্ধন রাখো ভালোবাসার টানে।

কুরআন ডাকেক্ষমা করো, ধৈর্য ধরো মনে,
রাগের আগুন নিভিয়ে দাও বিবেকেরই ক্ষণে।
কুরআন ডাকেরবকে ভয় করো, তাঁর রহমত চাও,
এই ক্ষণিকের জীবন দিয়ে চিরসুখের পথ পাও।

কুরআন যেন আয়নানিজের চেহারা দেখো,
অন্যের দোষ খোঁজার আগে নিজের ভুলটি রেখো।
আমার অন্তর কেমন আছেপ্রশ্ন করি নিজেকে,
কতটা আমি রবের পথেজিজ্ঞাসি অন্তরকে।

আমার কথায় সত্য আছে? কাজে আছে হক?
আমার হাতে কারও হক কি হয়েছে নষ্ট?
আমার চোখে অহংকার? মনে হিংসার ছায়া?
কুরআনের আয়নায় দেখোকোথায় আমার মায়া?

নিজেকে সংশোধন করাই বড় বিজয়ের কাজ,
নিজের নফসকে জয় করাই সত্য সাধনার সাজ।
কুরআনের শিক্ষা নিয়ে প্রতিদিন হও নতুন,
তাওবা, ইস্তিগফার, আমলে জীবন হোক সুনিপুণ।

তাকে শুধু তাকের ওপর রেখে দিলে হবে না,
সোনালি মলাট দেখলেই কুরআনের হক রক্ষা হয় না।
মুখে পড়া, মনে রাখাসুন্দর নেক আমল,
কিন্তু জীবন বদলানোই অনুসরণের আসল ফল।

কুরআন থাকবে ঘরে, থাকবে হৃদয়ের মাঝে,
কুরআনের শিক্ষা ফুটুক কথায় সমাজে।
ন্যায় হবে সিদ্ধান্তে, সত্য হবে বাণী,
তাকওয়া হবে অন্তরেএই হোক জীবনের পানি।

কুরআন হবে পথের মানচিত্র, সুন্নাহ হবে দিশা,
আল্লাহর সন্তুষ্টি হবে জীবনের একমাত্র আশা।
এইভাবে চললে মানুষ হারাবে না পথ,
দুনিয়ায় পাবে কল্যাণ, আখিরাতে পাবে রাহাত।

কুরআনের প্রতিটি আয়াত হৃদয়ে রেখো মান,
যে রবের বাণীএতে নেই কোনো অবমান।
শ্রদ্ধাভরে পাঠ করো, বুঝে নাও তার মর্ম,
আয়াতের আলোয় গড়ে তোলো নিজের প্রতিটি কর্ম।

কুরআন যখন পড়ো, মন দাও তার বাণীতে,
জীবনের ভুলগুলো খুঁজে দেখো নিজের প্রাণেতে।
যে নির্দেশ তোমার জন্য, গ্রহণ করো তা,
যে নিষেধ এসেছে রবেরছাড়ো সেই পথটা।

কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক হোক আজীবন,
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত থাকুক বন্ধন।
শেষ নিশ্বাসে যেন থাকে ঈমানেরই আলো,
রবের বাণীর পথে কাটুক জীবনখানি ভালো।

আজ আমরা অঙ্গীকার করিকুরআন হবে সাথী,
হক পথে চলার জন্য কুরআন হবে পাথেয়খানি।
মিথ্যার কাছে নত হব না, জুলুম করব না,
হারাম পথে লাভের আশায় ঈমান বিকাব না।

সত্য বলব, হক রাখব, আমানত দেব ফিরিয়ে,
দুর্বল মানুষের পাশে থাকব ভালোবাসা নিয়ে।
মা-বাবাকে সম্মান দেব, আত্মীয়তা রাখব,
সন্তানদের কুরআনের আলোয় মানুষ করে গড়ব।

নামাজ হবে জীবনেরই মহান অবলম্বন,
রোজা, যাকাত, হজের বিধানসাধ্যমতো পালন।
সুন্নাহর আলো অনুসরণ, বিদআত গোমরাহি থেকে দূর,
তাওহীদের বিশ্বাসে থাকুক অন্তর ভরপুর।

হে আল্লাহ, তোমার কিতাব আমাদের আলো,
তোমার বাণীর পথে চলা করো আমাদের ভালো।
কুরআন যেন শুধু ঠোঁটে নয়, হৃদয়ে করে বাস,
আমাদের প্রতিটি কাজে ফুটুক তার সুবাস।

অজ্ঞতার আঁধার থেকে হিদায়াত দাও প্রাণে,
শিরক-বিদআত-গোমরাহি থেকে রক্ষা করো ঈমানে।
সত্যের পথে অবিচল রাখো, ন্যায়ের শক্তি দাও,
পাপের পরে তাওবার তৌফিক, সৎকর্মের পথ দেখাও।

বিপদের দিনে ধৈর্য দাও, সুখে দাও শুকরিয়া,
রাগের মাঝে সংযম দাও, মনে দাও তাকওয়া।
অহংকার দূর করে দাও, দাও বিনয়ের মন,
মানুষের হক রক্ষা করার দাও শক্তি অনুক্ষণ।

আমাদের ঘরে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দাও,
সন্তানের হৃদয়ে ঈমানের বীজ বুনে দাও।
শিক্ষার্থীর জ্ঞানে দাও সত্যেরই আলো,
শিক্ষকের কর্মে ফুটিয়ে দাও চরিত্রের ভালো।

সমাজ থেকে জুলুম দূর হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়,
মানুষ মানুষকে ভালোবাসুকএটাই হোক প্রত্যাশায়।
হালাল পথে রিজিক দাও, দাও অন্তরের শান্তি,
ঈমানের সঙ্গে জীবন দাও, আমল দাও অনন্তি।

মৃত্যুর ক্ষণে ঈমান দাও, কবর করো নূর,
হাশরের দিনে রহমত দাও, বিপদ করো দূর।
আমাদের কুরআন সুন্নাহর পথে রাখো অবিচল,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের চূড়ান্ত সম্বল।

যেদিন দুনিয়ার সব পথ হবে নিস্তব্ধ, শেষ,
যেদিন থাকবে না কোনো সম্পদ, থাকবে না রেশ,
সেদিন যেন বলতে পারিহে আমার রব মহান,
তোমার কিতাব আঁকড়ে ধরেই কেটেছে মোর প্রাণ।

হে আল্লাহ,
কুরআনকে আমাদের জীবনের আলো করো,
কুরআনকে আমাদের পথের দিশা করো,
কুরআনকে আমাদের উত্তম চরিত্রের ভিত্তি করো,
কুরআনকে আমাদের দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণের পাথেয় করো।

তোমার বাণী বুঝে চলার তৌফিক দাও,
রাসূলুল্লাহ -এর সহিহ সুন্নাহ অনুসরণের তৌফিক দাও,
তোমার সন্তুষ্টির পথে জীবন কাটানোর তৌফিক দাও।

ঈমান দাও, তাকওয়া দাও, ইখলাস দাও,
সৎকর্মের শক্তি দাও, পাপ থেকে বাঁচার শক্তি দাও।
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তোমার আনুগত্যে রাখো
এবং ঈমানের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দাও।

কুরআন যদি পথ হয়পথিক হও তার,
তাকওয়া যদি পাথেয় হয়ধরো সেই ভার।
সুন্নাহ যদি দিশা হয়চলো তারই টানে,
আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজো জীবনের প্রতিক্ষণে।

দুনিয়ার পথ ফুরাবে একদিন, থামবে জীবনের রথ,
থাকবে শুধু আমল তখন, থাকবে না কোনো সম্পদ।
তাই আজই কুরআন ধরো, আজই ফিরে এসো রবের দ্বার
আল্লাহর বাণী আল-কুরআনজীবনের পথ, জীবনের পাথেয়,
মুমিনের হৃদয়ের আলো, চিরসফলের অমর সহায়।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ