Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

ভাষার দীপ্তি (সূরা আর-রহমান : ১–৪-এর আলোকে) মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                                             ভাষার দীপ্তি

(সূরা আর-রহমান : -এর আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা
কালিয়াকৈর, গাজীপুর

শ্রদ্ধাভরে রচিত হোক মহিমাময় এক মহাগাথা,
যে গাথায় জাগে বিশ্বজুড়ে তাওহীদের বারতা।
যাঁর দয়াতে প্রাণের স্পন্দন, জীবনে আলোর ধারা,
সেই মহান রব আল্লাহ আমাদের সবার স্রষ্টা-ধারা।

তিনি পরম করুণাময়, রহমতেরই সাগর,
তাঁর দয়াতেই সৃষ্টি জগৎ, আসমান-জমিন সুন্দর।
তাঁর হুকুমে সূর্য ওঠে, চাঁদটি হাসে রাতে,
তাঁর ইচ্ছায় জীবন জাগে প্রভাতেরই প্রভাতে।

তিনি দিয়েছেন চোখের আলো, দিয়েছেন শ্রবণ,
দিয়েছেন চিন্তার শক্তি, দিয়েছেন বিবেক-মন।
দিয়েছেন প্রাণ, দিয়েছেন দেহ, দিয়েছেন শ্বাস-প্রশ্বাস,
তাঁরই দানে জীবনজুড়ে আনন্দ-বেদনার প্রকাশ।

যত নিয়ামত গুনতে বসি, শেষ হবে না তার,
অগণিত সেই দয়ার ধারারবের অনুগ্রহ অপার।
তাই তো হৃদয় নত করে বলি বারবার
আলহামদুলিল্লাহআমাদের রব পরম দয়াবান।

পরম করুণাময় প্রথমে দিলেন কুরআনের জ্ঞান,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখায়, খুলে দেয় হিদায়াতের দ্বার।
অন্ধকারের ঘন আঁধারে কুরআন জ্বালে আলো,
তারই পথে চললে মানুষ পায় কল্যাণ ভালো।

কুরআন শুধু তিলাওয়াতের মধুর সুরের নাম নয়,
কুরআন হলো জীবন গড়ার সত্য পথের পরিচয়।
কুরআন শেখায় রবের পরিচয়, শেখায় ঈমানের কথা,
শেখায় কীভাবে কাটবে জীবন, কীভাবে হবে পবিত্র পথটা।

কুরআন শেখায় সত্য বলতে, ন্যায়পথে চলতে,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকতে, মিথ্যা থেকে সরতে।
কুরআন শেখায় দয়া করতে, অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে,
বাবা-মায়ের সেবা করতে, আত্মীয়তার বন্ধন বাড়াতে।

কুরআন শেখায় আমানত রক্ষা, প্রতিশ্রুতি পালন,
শেখায় মানুষের অধিকার ন্যায়ের সম্মান।
কুরআন শেখায় সংযম, ধৈর্য, তাকওয়া বিনয়,
শেখায় পাপ ছেড়ে তাওবার পথে ফিরতে নির্ভয়।

জ্ঞান যদি হয় কুরআনের, জীবন যদি হয় তার আলোয়,
তবে মানুষ সত্যের পথে এগিয়ে যাবে ভালোয়।
দুনিয়ার জ্ঞান অর্জন করো, উপকারী জ্ঞান চাও,
কিন্তু কুরআনের হিদায়াতকে জীবনের মশাল বানাও।

তারপর রব বলেছেন—“আমি সৃষ্টি করেছি মানুষ,
কী বিস্ময়কর এই সৃষ্টি, ভাবলে কেঁপে ওঠে মন।
ক্ষুদ্র এক সূচনা থেকে গড়ে ওঠে দেহ,
কত নিখুঁত ব্যবস্থা তাতেকে পারে তার হিসাব কহে?

মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি, আবার মাটিতেই ফেরে,
জীবনের এই ক্ষণিক পথটি রবের বিধান ঘিরে।
শৈশব পেরিয়ে যৌবন আসে, বার্ধক্য নামে শেষে,
সময় গেলে মানুষ ফিরে যায় রবেরই নির্দেশে।

মানুষ নয় নিজের মালিক, মানুষ আল্লাহর বান্দা,
তাঁরই দানে জীবন পেয়েছে, তাঁরই কাছে ঋণী প্রাণটা।
ধন-সম্পদ, জ্ঞান-মর্যাদাসবই ক্ষণিক দান,
স্থায়ী শুধু রবের সত্তা, তাঁরই মহিমা মহান।

মানুষকে দিয়েছেন বিবেক, দিয়েছেন জ্ঞান বোধ,
সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করার দিয়েছেন সুন্দর বোধ।
দিয়েছেন ইচ্ছা, দিয়েছেন শক্তি, দিয়েছেন পথ বেছে নেওয়ার মান,
তাই তো মানুষ দায়িত্বশীল জীবন এক আমানত-দান।

 “তিনি তাকে বায়ান শিক্ষা দিয়েছেন”—কী মহিমাময় বাণী,
ভাব প্রকাশের শক্তি দিয়ে মানুষ করলেন জ্ঞানী।
মনের কথা মুখে বলা, উদ্দেশ্য করা প্রকাশ,
ভাষার মাধ্যমে ফুটে ওঠে অন্তরেরই আভাস।

শিশুটি যখন প্রথম বলে মায়ের মধুর নাম,
সেই কণ্ঠে ফুটে ওঠে রবের দানেরই সম্মান।
কথা শিখে, ভাষা শিখে, মনের কথা কয়,
আল্লাহর দেওয়া এই নিয়ামতমানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।

হাসির ভাষা, কান্নার ভাষা, ভালোবাসার বাণী,
কথার মাঝে ফুটে ওঠে মানুষের জীবনখানি।
আমি দুঃখিত”—একটি কথায় মুছে যেতে পারে মান,
তুমি পারবে”—একটি বাক্য জাগায় নতুন প্রাণ।

আমি তোমাকে ভালোবাসি”—শান্ত করে ব্যথার মন,
ভয় পেয়ো না”—দুঃখী মানুষ পায় আশার ক্ষণ।
আল্লাহর ওপর ভরসা রাখ”—জাগে অন্তরে বল,
সুন্দর কথার সামান্য আলোয় দূর হয় অনেক ছল।

পৃথিবীতে কত ভাষা আছেগুনে শেষ হয় না,
কত রকম শব্দের ধারা, কত সুরের বাণী শোনা।
কোথাও বাংলা, কোথাও আরবি, কোথাও অন্য ভাষা,
ভাষার মাঝে আল্লাহ রাখেন বৈচিত্র্যেরই আশা।

একই মানুষ, একই দেহ, একই রক্তধারা,
ভাষা আলাদা হলেও সবার রব তো একজন সারা।
উচ্চারণে ভিন্নতা আছে, শব্দে আছে রূপ,
তবু সবাই আল্লাহর সৃষ্টি সত্যটি অটুট।

ভাষার বৈচিত্র্য অহংকারের কারণ যেন না হয়,
এটি রবের নিদর্শনতাই শ্রদ্ধা থাকুক হৃদয়ময়।
ভিন্ন ভাষার মানুষ যেন পরস্পরকে বোঝে,
জ্ঞান ভালোবাসার সেতু ভাষার মাধ্যমে গড়ে।

জিহ্বা দিয়ে কুরআন পড়ি, জিকির করি রবের,
জিহ্বা দিয়ে ভালো কথা বলি আপনজনের।
সালাম দিই, দোয়া করি, সান্ত্বনা দিই প্রাণে,
এই জিহ্বাই হতে পারে নেকির বড় খনি।

কিন্তু সেই জিহ্বা দিয়ে মিথ্যাও বলা যায়,
গিবত, অপবাদ, কটু কথা মানুষের মন ভাঙায়।
একটি কথা আগুন জ্বালায় দুইটি হৃদয়-মাঝে,
একটি কথা বন্ধুত্ব ভাঙে, পরিবারটাকে সাজে?

তাই কথা বলার আগে একটু ভাবা চাই,
এই কথাতে আল্লাহ খুশিনাকি গুনাহ পাই?
সত্য কি এটি? প্রয়োজন আছে? উপকার হবে কী?
কথাটি কি কারও মনে অকারণে দেবে দুঃখই?

রাসুল শিখিয়েছেনভালো কথা বলো,
না হলে নীরব থাকোনিজেকে সংযত রাখো ভালো।
জিহ্বার হেফাজত তাই মুমিনের বড় সাধনা,
সুন্দর ভাষায় সত্য বলামুমিনেরই প্রার্থনা।

সত্য কথার শক্তি বড়, সত্য কথার মান,
সত্য মানুষকে সম্মান দেয়, বাড়ায় তারই জ্ঞান।
মিথ্যা দিয়ে ক্ষণিক লাভ, শেষে আসে ক্ষতি,
সত্যের পথে ধৈর্য ধরলে আসে স্থায়ী গতি।

ব্যবসায়ী সত্য বললে ক্রেতার মনে বিশ্বাস,
শিক্ষক সত্য শেখালে ছাত্র পায় আলোর আভাস।
বন্ধু যদি সত্য বলে, বন্ধুত্ব হয় দৃঢ়,
সন্তান সত্য শিখলে তার ভবিষ্যৎ হয় সুন্দর।

সত্য কখনো কঠিন হলেও সত্যই বলতে হয়,
তবে সত্য বলার পদ্ধতিতেও সৌন্দর্য থাকা চাই।
সত্যের সঙ্গে কোমলতা, প্রজ্ঞা শিষ্টাচার,
এভাবেই সুন্দর হয় মানুষের কথার ব্যবহার।

ঘরের মানুষ সবচেয়ে আপনতাদের সঙ্গে কথা,
কথার আঘাত হৃদয়ে রাখে গভীর দুঃখগাথা।
স্বামী-স্ত্রীর মধুর ভাষা সংসারে আনে শান্তি,
কোমল কথায় দূর হয়ে যায় অনেক দিনের ক্লান্তি।

সন্তান ভুল করলে তাকে অপমান করা নয়,
ভালোভাবে বুঝিয়ে বলাএটাই উত্তম হয়।
বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা হোক শ্রদ্ধায় ভরা,
তাদের সেবায় জীবনের হোক সৌভাগ্য ধরা।

রাগের সময় থামতে শেখো, কটু কথা বলো না,
মুহূর্তের উত্তেজনায় আপন মানুষ হারিয়ো না।
একটি কোমল বাক্য কখনো বাঁচায় সম্পর্ক,
একটি কঠিন বাক্য কখনো করে হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত।

শিক্ষকের ভাষা হতে পারে আলোরই প্রদীপ,
একটি কথা ছাত্রের মনে জ্বালতে পারে দীপ।
চেষ্টা করো”—এই কথাটি সাহস জাগায় মনে,
তুমি পারবে”—আশার আলো ফুটে ওঠে ক্ষণে।

শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের তথ্য দেন না হাতে,
চরিত্র গড়ার শিক্ষাও দেন কথারই সাথে।
জ্ঞান যেন অহংকার নয়, বিনয়ের পথ দেখায়,
সত্য, ন্যায় মানবিকতা শিক্ষার্থীর মনে গড়ায়।

শিক্ষার্থীর দায়িত্বও আছেশ্রদ্ধা দিয়ে শোনা,
না বুঝলে ভদ্রভাবে প্রশ্ন করে জ্ঞান অর্জন করা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে গড়বে জ্ঞানের সুন্দর ঘর,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় হবে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতর।

মুখের কথা ক্ষণিক পরে বাতাসে হারায়,
কিন্তু লেখা বহু বছর মানুষের কাছে যায়।
কলম দিয়ে লেখা কথা প্রজন্ম পেরিয়ে চলে,
ভালো লেখা জ্ঞানের আলো মানুষের অন্তরে জ্বালে।

তাই কলম ধরা মানে দায়িত্ব নেওয়া হাতে,
মিথ্যা লিখে বিভ্রান্ত করা যাবে না কোনো মতে।
অপবাদ, গুজব, অশ্লীলতাএসব থেকে দূরে,
সত্য কল্যাণ লিখতে হবে বিবেকটাকে জুড়ে।

কলম হোক সত্যের সৈনিক, জ্ঞানের বাহন,
কলম হোক মানবতার বন্ধু, ন্যায়েরই সাধন।
যে লেখায় মানুষ শেখে, যে লেখায় হৃদয় জাগে,
সে লেখাই কল্যাণ বয়ে আনে সমাজের অনুরাগে।

কথার মাধ্যমে মানুষ গড়ে, কথায় ভাঙে ঘর,
কথায় সৃষ্টি হয় বন্ধুত্ব, কথায় বাড়ে পর।
একটি গুজব ছড়িয়ে দিলে কত মানুষের ক্ষতি,
একটি মিথ্যা কথার পেছনে লুকিয়ে থাকে অশান্তি।

শুনলেই কোনো কথা যেন প্রচার করা নয়,
সত্যতা যাচাই করে বলাএটাই দায়িত্বময়।
কারও সম্মান নষ্ট করে আনন্দ পাওয়া পাপ,
মুমিনের ভাষায় থাকা চাই সংযম, শিষ্টাচার, মাপ।

মতভেদ হলে যুক্তি দাও, অপমান করো না,
ভিন্ন মতের মানুষ বলে শত্রু ভেবো না।
সত্যের পক্ষে দৃঢ় থেকো, ভাষা রেখো নম্র,
এটাই হোক মুমিন জীবনের সুন্দরতম মন্ত্র।

সব কথা বলা প্রয়োজন নয়, সব কথা নয় ভালো,
কখন নীরব থাকতে হবেসেটিও জানা আলো।
রাগ যখন মাথায় ওঠে, থেমে যাও কিছুক্ষণ,
নীরবতা অনেক সময় বাঁচায় আপনজন।

ঝগড়ার মাঝে আগুন বাড়ায় এমন কথা বলো না,
গিবতের আসরে বসে থেকো, তাতে সঙ্গ দিও না।
অর্থহীন বিতর্ক ছেড়ে সত্যের পথে চলো,
জিহ্বাকে তুমি নিয়ন্ত্রণ করে অন্তরটাকে ভালো রাখো।

নীরবতা যদি হয় পাপ থেকে বাঁচার ঢাল,
সে নীরবতাও মুমিন জীবনে মূল্যবান কাল।
কথা যখন কল্যাণ আনে, তখন কথা বলো,
অকল্যাণের দ্বার খুললে নীরবতাকে চলো।

জ্ঞান আছে, ভাষা নেইজ্ঞান থাকে অন্তরে,
ভাষা আছে, জ্ঞান নেইভুল ছড়ায় সে ঘরে।
জ্ঞান যখন ভাষা পায়, আলো ছড়ায় চারদিকে,
সৎ জ্ঞান যখন আমল হয়, জীবন বদলায় সত্যিকে।

তাই জ্ঞান অর্জন করো, ভাষা করো সুন্দর,
সত্যকে বোঝো, সত্য বলো, জীবন করো সুন্দর।
শুধু মুখে ভালো কথা নয়, কাজে তার প্রমাণ,
কুরআনের শিক্ষা ফুটুক তোমার জীবন-আচরণে মহান।

যে মুখে কুরআন পড়ে, সে মুখে মিথ্যা নয়,
যে মুখে আল্লাহর জিকির, সে মুখে গালি নয়।
যে মুখে সত্যের বাণী, সে মুখে অপমান নয়,
যে মুখে দোয়ার সুবাস, সে মুখে বিদ্বেষ নয়।

কথা হোক মানুষের জন্য শান্তির মধুর ধারা,
কথা হোক দুঃখীর বুকে আশার নতুন তারা।
কথা হোক জ্ঞানীর মতো, প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ,
কথা হোক মুমিনের মতোসত্য, সুন্দর, নির্ভরযোগ্য পূর্ণ।

কেউ যদি পড়ে যায়, তাকে হাত বাড়িয়ে ধরো,
কেউ যদি ভুল করে, সুন্দর ভাষায় ফেরাও।
কেউ যদি দুঃখ পায়, সান্ত্বনার কথা বলো,
আল্লাহর রহমতের আশা দিয়ে তার হৃদয় ভরো।

চোখের জন্য শুকরিয়াসত্যের পথে তাকাই,
কানের জন্য শুকরিয়াহকের বাণী শুনে যাই।
বুদ্ধির জন্য শুকরিয়াসত্য-মিথ্যা বুঝি,
ভাষার জন্য শুকরিয়াকল্যাণের কথা খুঁজি।

কুরআনের জন্য শুকরিয়াহিদায়াতের আলো,
ঈমানের জন্য শুকরিয়াজীবন হলো ভালো।
ভাষার জন্য শুকরিয়ামনের কথা বলি,
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত নিয়ে কৃতজ্ঞ হয়ে চলি।

নিয়ামত শুধু ভোগ করার বস্তু নয় যে ভাই,
নিয়ামতের হক আদায় করাও দায়িত্ব তাই।
যে নিয়ামত পেয়েছি আমরা, সঠিক কাজে দিই,
রবের সন্তুষ্টির পথে থেকে জীবনটাকে নিই।

আমার জিহ্বা কী বলেকখনো কি ভাবি?
সত্যের পথে কথা বলি, নাকি মিথ্যার চাবি?
আমার কথায় কেউ কাঁদে, নাকি হাসে প্রাণে?
আমার ভাষা কি শান্তি আনে আপন মানুষের টানে?

আমার লেখা কি কল্যাণের, নাকি বিভ্রান্তি ছড়ায়?
আমার কথা কি মানুষকে ভালো পথে ফেরায়?
আমার জ্ঞান কি অহংকার, নাকি বিনয়ের আলো?
আমার বায়ান কি রবের কাছে গ্রহণযোগ্য ভালো?

এই প্রশ্নগুলো প্রতিদিন করো নিজের অন্তরে,
ভুল হলে তাওবা করো অশ্রুসিক্ত অন্তরে।
গতকালের ভুল ছেড়ে আজকে ভালো হও,
আল্লাহর দিকে ফিরে এসে নতুন পথে চলো।

কুরআন হাতে, সত্য বুকে, মুখে মধুর বাণী,
এই তো হোক মুমিন জীবনের শ্রেষ্ঠ পরিচয়খানি।
ইলম হবে পথের আলো, আমল হবে সাথি,
তাকওয়ার ছায়ায় কাটুক জীবন, দূর হোক মনের ক্ষতি।

কথায় থাকুক সত্য, কাজে থাকুক তার ছাপ,
হৃদয়ে থাকুক আল্লাহভীতি, দূরে থাকুক পাপ।
ভাষায় থাকুক সৌন্দর্য, আচরণে নম্রতা,
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আল্লাহর প্রতি আনুগত্যতা।

হে পরম করুণাময়, তুমি কুরআন দিয়েছ দান,
তুমি মানুষ সৃষ্টি করে দিয়েছ বিবেক-জ্ঞান।
তুমি শিখিয়েছ ভাব প্রকাশ, দিয়েছ ভাষার আলো,
তোমার দানে জীবন আমাদের হয়েছে কত ভালো।

হে আল্লাহ, আমাদের মুখে সত্যের বাণী দাও,
মিথ্যা, গিবত, অপবাদ থেকে দূরে রাখো চিরকাল।
কটু কথা, অহংকার, অশ্লীলতা করো দূর,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় করো অন্তর নূর।

আমাদের ভাষা হোক শান্তির, সত্যের হোক গান,
আমাদের কলম হোক ন্যায়ের, জ্ঞানের হোক দান।
আমাদের জ্ঞান হোক উপকারী, আমল হোক নির্মল,
তোমার সন্তুষ্টির পথে রাখো আমাদের অবিচল।

যে কথা মানুষকে ভাঙে, সে কথা থেকে বাঁচাও,
যে কথা হৃদয় জাগায়, সে কথা বলার তাওফিক দাও।
যে জ্ঞান মানুষকে তোমার পথে ফিরিয়ে আনে,
সে জ্ঞান দাও, সে আলো দাও আমাদের প্রাণে।

হে রব, তোমার কুরআন হোক আমাদের জীবনসাথি,
তোমার রাসুল -এর সুন্নাহ হোক চলার বাতি।
তোমার দেওয়া বায়ানের হক যেন করতে পারি,
সত্য কল্যাণের পথে জীবন যেন পারি।

তোমার নিয়ামত ভুলে যেন অহংকারে না ভাসি,
তোমার রহমতের আশায় যেন তোমাকেই ভালোবাসি।
মৃত্যুর আগে ঈমান নিয়ে তোমার দিকে ফিরি,
তোমার সন্তুষ্টি নিয়ে যেন পরকালে জিতি।

হে আল্লাহ
কুরআনের আলো দাও,
ভাষায় সত্য দাও,
চরিত্রে সৌন্দর্য দাও,
জ্ঞানকে উপকারী করো,
আমলকে কবুল করো,
আমাদের জীবনকে তোমার আনুগত্যে পূর্ণ করো।

তোমার দেওয়া ভাষা যেন তোমারই স্মরণে কাটে,
তোমার দেওয়া জীবন যেন তোমারই পথে ফোটে।
তোমার দেওয়া কুরআন যেন হৃদয়ের আলো হয়,
তোমার সন্তুষ্টিই যেন জীবনের শেষ চাওয়া হয়।

হে আল্লাহ, আমাদের তৌফিক দাও
কুরআন শিখতে, কুরআন বুঝতে,
কুরআনের আলোয় জীবন গড়তে;
সত্য বলতে, সুন্দর বলতে,
কল্যাণের কথা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ