সহকারী অধ্যাপক
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:২৯ পূর্বাহ্ণ
দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলতা মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলতা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
শ্রদ্ধাভরে রচিত হোক মহিমাময় এক মহাগাথা,
যে গাথায় জাগে হৃদয়জুড়ে তাওহীদের বারতা।
দুনিয়ার পথে চলতে গিয়ে হারিয়ে না যাই যেন,
আখিরাতের চির ঠিকানা রাখি হৃদয়ের কোণে।
মানুষ কেন পৃথিবীতে—জীবন কেন পেল?
কেন আসে সুখের দিন, কেন দুঃখের মেঘ মেলে?
কেন আসে জন্ম নিয়ে আবার যেতে হয় চলে,
কেন জীবন ফুরিয়ে যায় সময়েরই দোলে?
এই প্রশ্নের উত্তর আছে কুরআনের বাণীতে,
জীবনেরই সত্য শিক্ষা রবের বিধানেতে।
দুনিয়া নয় চূড়ান্ত ঘর, নয় চিরস্থায়ী বাস,
আখিরাতের পথের জন্য দুনিয়া প্রস্তুতিবাস।
সম্পদ, পদ, খ্যাতি, শক্তি—সবই ক্ষণিক ধন,
আজকে আছে, কালকে নেই—পরিবর্তনশীল জীবন।
যে সফলতা মৃত্যুর পরে সঙ্গে যাবে না আর,
সে সফলতা শেষ সফল নয়—জেনে রাখো বারবার।
সফল কে? যার ধনভাণ্ডার পরিপূর্ণ অপরিসীম?
সফল কে? যার নামটি ছড়ায় দেশে মহিমাময়?
সফল কে? যার পদমর্যাদা আকাশছোঁয়া হয়?
নাকি সফল সেই মানুষ—যার রব খুশি রয়?
কুরআন দিল উত্তর, করল সত্য প্রকাশ—
জাহান্নাম হতে মুক্তি, জান্নাত যার আবাস।
যাকে আগুন হতে বাঁচিয়ে জান্নাতে দেওয়া স্থান,
সেই তো সত্য সফল মানুষ—সেই তো শ্রেষ্ঠ প্রাণ।
দুনিয়ার যত অর্জন সব ক্ষণস্থায়ী মায়া,
মৃত্যু এসে থামিয়ে দেবে অহংকারের ছায়া।
কত রাজা, কত বাদশাহ, কত শক্তিমান,
মাটির নিচে শুয়ে আছে—শেষ হয়েছে প্রাণ।
তাই সফলতার সংজ্ঞাটি বদলাতে হবে আজ,
দুনিয়ার মাপে নয় জীবন—রবের বিধানই সাজ।
জীবন হবে আল্লাহমুখী, আমল হবে সৎ,
আখিরাতে নাজাত পাওয়াই সফলতার রথ।
সফলতার প্রথম সোপান ঈমানেরই আলো,
তাওহিদের বিশ্বাসে ভরে অন্তর করো ভালো।
এক আল্লাহর ইবাদত হবে জীবনেরই মূল,
শিরকের আঁধার থেকে থাকো সদা দূর।
আল্লাহ এক, তাঁরই হাতে সৃষ্টি ও জগত,
তাঁরই হুকুমে দিন-রাত চলে অবিরত।
তিনি রব, তিনি মালিক, তিনি পালনহার,
তাঁরই দিকে ফিরবে শেষে সকল মানুষের ভার।
ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল—বিশ্বাস থাকবে মনে,
আখিরাতের হিসাব হবে—রাখো তা স্মরণে।
তাকদিরের ভালো-মন্দ আল্লাহরই জ্ঞানে,
ঈমানের এই ভিত্তি রাখো হৃদয়ের প্রাণে।
ঈমান শুধু মুখের কথা নয়—জীবনেরই আলো,
কথা-কর্মে প্রকাশ পেলে ঈমান হয় ভালো।
অন্তরে বিশ্বাস, মুখে সত্য, আমলে তার ছাপ,
এই পথেই মুছে যায় জীবনের সব পাপ।
তাকওয়া মানে আল্লাহকে ভয়, আল্লাহকে স্মরণ,
গোপনেও তাঁর নজর আছে—এই দৃঢ় ধারণ।
মানুষ দেখে না—তবু যখন অন্যায় আসে কাছে,
মুমিন তখন থেমে যায়, রবের ভয়ে বাঁচে।
লোভের পথে ডাক এলে বলে—“রব তো দেখেন”,
অন্যায়ের সে সুযোগ পেলে নিজেকে তখন রাখে।
হারাম লাভের মোহ ত্যাগে সত্য পথে সে রয়,
তাকওয়ার এই শক্তিতেই অন্তর পবিত্র হয়।
যে আল্লাহকে ভয় করে, তার জন্য পথ খোলে,
অপ্রত্যাশিত রিজিক আসে আল্লাহরই কৃপাজলে।
তাকওয়া যার জীবনেরই শ্রেষ্ঠ পাথেয় হয়,
দুনিয়ার মাঝেও তার অন্তরে প্রশান্তি রয়।
সকাল নামে, সন্ধ্যা নামে, দিন ফুরায় রাত,
মুমিনের হৃদয় জাগে শুনে সালাতের ডাক।
সিজদাতে সে মাথা রাখে মহান রবের দ্বারে,
দুঃখ-কষ্ট ভুলে যায় সে আল্লাহরই স্মরণে।
সালাত শুধু দেহের ভঙ্গি নয়—হৃদয়েরও সাধ,
রবের সঙ্গে বান্দার যেন গভীর এক আলাপ।
সিজদাতে যে চোখের পানি ঝরে নীরব রাতে,
সেই অশ্রুতে হৃদয় ধুয়ে যায় রবের রহমতে।
সালাত মানুষকে শেখায় সময়ের মূল্য মানতে,
সত্যের পথে দৃঢ় থাকতে, পাপ থেকে দূরে থাকতে।
যে সালাত কায়েম করে, রবের দিকে ফেরে,
অন্ধকারের পথ ছেড়ে সে আলোর পথে ফেরে।
কুরআন হলো হিদায়াতের আলোকিত পথ,
জীবনের সব প্রশ্নেরই সুন্দর সত্য রথ।
কুরআন শুধু তিলাওয়াতের পবিত্র গ্রন্থ নয়,
জীবন গড়ার পথনির্দেশ—এতেই সত্য রয়।
দুঃখ এলে কুরআন বলে—আল্লাহর দিকে চাও,
ভুল করলে তাওবা করে নতুন পথে যাও।
অন্যায় দেখলে ন্যায় ধরো, সত্য কথা বলো,
হিংসা-বিদ্বেষ ছেড়ে দিয়ে অন্তরটাকে ধোও।
কুরআনেরই শিক্ষা নিয়ে গড়ো জীবনধারা,
সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা—হোক হৃদয়ের তারা।
যে হৃদয়ে কুরআন জাগে, সে হৃদয় হয় নূর,
পাপের কালো অন্ধকার হয় ধীরে ধীরে দূর।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন শ্রেষ্ঠ আদর্শধাম,
তাঁর সুন্নাহ অনুসরণে পায় জীবন সম্মান।
কথায় কোমল, কাজে সত্য, চরিত্র নির্মল,
ক্ষমা, দয়া, ন্যায় ও শিষ্টাচারে তিনি অনুপম।
পরিবারের প্রতি ছিলেন দয়া ও মমতায় ভরা,
দুর্বল মানুষের পাশে ছিলেন সদা দাঁড়ানো ধরা।
শত্রুতার মাঝেও ন্যায় থেকে হননি কখনো দূর,
তাঁর আদর্শ অনুসরণে জীবন হয় সুমধুর।
তাই কুরআনের পথ ধরো, সুন্নাহকে মানো,
রাসুল ﷺ-এর আদর্শ দিয়ে জীবনটাকে জানো।
সুন্নাহ হবে চলার পথ, কুরআন হবে আলো,
এই দুইয়ের ছায়াতলে জীবন হবে ভালো।
জ্ঞান হলো দীপ্ত প্রদীপ, অজ্ঞতারই ক্ষয়,
জ্ঞানীর পথ সত্যের পথে আলোর সন্ধানময়।
শুধু জ্ঞান মুখস্থ করে কী হবে বলো ভাই?
জ্ঞান যদি আমলে না আসে, ফল কোথায় পাই?
যে জানে সত্য, সত্য পথে যদি না চলে সে,
নিজের জ্ঞানের মর্যাদা সে রাখবে কী করে?
জ্ঞান হবে চরিত্রগঠন, আমল হবে প্রাণ,
জ্ঞান-আমলের মিলনেই হয় জীবনের কল্যাণ।
পড়ো কুরআন, শেখো সুন্নাহ, জ্ঞান অর্জন করো,
শিক্ষার আলো নিজের মাঝে যত্ন করে ধরো।
তারপর সেই জ্ঞান দিয়ে অন্যের পথ দেখাও,
অন্ধকারে পথহারা প্রাণে সত্যের আলো দাও।
রিজিকের মালিক আল্লাহ—তবু চেষ্টা চাই,
হালাল পথে পরিশ্রমে মুমিন পিছু হটাই?
না, সে জানে কর্ম করাই দায়িত্বেরই অংশ,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে চলে রোজ।
ব্যবসাতে সত্য বলো, ওজনে কম দিও না,
প্রতারণার কালো পথে কখনো পা দিও না।
ঘুষ, সুদ আর আত্মসাৎ থেকে দূরে থাকো ভাই,
হারাম পথে যতই লাভ—তাতে বরকত নাই।
হালাল অল্প উত্তম অনেক হারাম ধনের চেয়ে,
হালাল রিজিক শান্তি আনে অন্তরজুড়ে বেয়ে।
সৎ উপার্জন পরিবারের মুখে হাসি আনে,
হালাল রিজিক বরকত আনে জীবন-সংসারখানে।
সত্য কথা বলো ভাই, সত্য পথে চলো,
মিথ্যার মায়া ছেড়ে দিয়ে অন্তরটাকে ধোও।
সত্য কখনো কঠিন হলেও সত্যই শ্রেষ্ঠ পথ,
মিথ্যার ওপর গড়া প্রাসাদ ভেঙে পড়ে ক্ষণত।
বন্ধুত্বে সত্য, ব্যবসাতে সত্য, কথায় সত্য চাই,
আমানত যার কাছে থাকে, সে যেন খেয়ানত না ভাই।
মানুষের বিশ্বাস অর্জন বড়ই মূল্যবান,
একবার তা হারিয়ে গেলে কঠিন তার সন্ধান।
সত্যবাদী মানুষটির হৃদয় থাকে শান্ত,
তার কথাতে মানুষ পায় বিশ্বাসেরই প্রান্ত।
আল্লাহর কাছে সত্যবাদী মর্যাদারই ধন,
সত্যের পথে কাটুক মোদের জীবনভর জীবন।
ইবাদতের সৌন্দর্য ফুটে চরিত্রেরই মাঝে,
ভালো মানুষ চেনা যায় তার আচরণে সাজে।
মিষ্টি কথা, কোমল হাসি, ক্ষমার সুন্দর রীতি,
মানুষকে যে ভালোবাসে—তার জীবনেই প্রীতি।
অহংকার নয়, বিনয় হবে মুমিনের পরিচয়,
অন্যের দুঃখে কাঁদবে হৃদয়, দয়ার প্রদীপ জ্বলে রয়।
গীবত, অপবাদ, কটু কথা দূরে রাখো ভাই,
জিহ্বার আঘাত অনেক সময় তলোয়ারের চেয়েও ভয়ংকর হয়।
কাউকে ছোট করো না, নিজেকে বড় ভেবো না,
অন্যের দোষ খুঁজতে গিয়ে নিজের ভুল ঢেকো না।
নিজেকে আগে সংশোধন করো, তারপর দাও উপদেশ,
সুন্দর চরিত্রেই ফুটে ইসলামের মহাদেশ।
মায়ের কোলে শিশুর জীবন, বাবার ঘামে ঘর,
তাদের ঋণ শোধ করা কি সম্ভব কোনো পর?
বার্ধক্যে যখন দুর্বল হন, তখন পাশে দাঁড়াও,
কোমল কথায় ভালোবাসা তাদের মনে দাও।
রাগের ভাষা নয়, মুখে থাকুক মধুর বাণী,
তাদের জন্য দোয়া করো সকাল-সন্ধ্যাবেলা জানি।
“হে রব, তাঁদের প্রতি দয়া করো”—দোয়া হোক প্রাণ,
পিতা-মাতার সেবায় খুঁজো আল্লাহরই সন্তোষদান।
সংসার শুধু দেয়াল নয়, সংসার হৃদয়-বন্ধন,
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, মায়া—এতেই তার জীবন।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সহযোগী হবে প্রাণে,
সন্তানেরা শিখবে তখন বাবা-মায়ের টানে।
কথায় যেন বিষ না থাকে, আচরণে না ক্ষত,
ভালোবাসার কোমল ভাষায় দূর হোক সব ক্ষত।
অভাব এলেও ধৈর্য ধরো, ঝগড়া নয় সমাধান,
পরস্পরের সহযোগিতায় সুন্দর হোক সংসারখান।
সন্তানের হাতে শুধু সম্পদ দিয়ে দায়িত্ব শেষ নয়,
ঈমান, আদব, শিক্ষা দিয়ে গড়তে হবে হৃদয়।
ঘর যদি হয় নৈতিকতার প্রথম শিক্ষালয়,
সেই ঘরের সন্তান একদিন সমাজের সম্পদ হয়।
ধন-সম্পদ আল্লাহর দান—নিয়ামত হিসেবে নাও,
কিন্তু ধনের মোহে পড়ে রবকে ভুলে যেও না।
বাড়ি হবে, গাড়ি হবে, সম্পদ হবে অনেক,
কবরের ঘরে যাবে কি সেসব সঙ্গে এক?
পদমর্যাদা আজকে আছে, কালকে অন্য কার,
খ্যাতির আলো মুছে যাবে সময়েরই ভার।
যে সম্পদে গরিব হাসে, ক্ষুধার্ত পায় খাদ্য,
সেই সম্পদে বরকত আসে—সেই সম্পদই সাধ্য।
দান করো, সদকা করো, অভাবীর পাশে দাঁড়াও,
আল্লাহর দেওয়া সম্পদে আল্লাহর হক আদায় করাও।
সম্পদ হবে সেবার মাধ্যম, অহংকারের নয়,
সৎ ব্যবহারে দুনিয়াতেও শান্তি, আখিরাতেও জয়।
অপচয়ের পথে যেও না, কৃপণ হয়ো না,
মধ্যপন্থী জীবনধারা ছেড়ে দিও না।
প্রয়োজন বুঝে ব্যয় করো, হিসাব রেখে চলো,
নিয়ামতের মর্যাদা দিয়ে জীবনটাকে গড়ো।
অতিরিক্ত ভোগ মানুষকে ভুলিয়ে দেয় রব,
অতিরিক্ত কৃপণতাও হৃদয় করে কঠিন সব।
মধ্যপন্থাই ইসলামেরই সুন্দর জীবনরীতি,
সামর্থ্যের ভেতর চলাই জ্ঞানীর পরিচিতি।
জীবন যদি সবসময়ই সুখের স্রোত হতো,
তবে মানুষ কীভাবে ধৈর্যের শিক্ষা পেত বলো?
কখনো আসে বিপদ-ঝড়, কখনো আসে ভয়,
কখনো চোখে অশ্রু নামে, কখনো হাসির জয়।
মুমিন তখন ভেঙে পড়ে হতাশ হয়ে নয়,
আল্লাহরই রহমতের আশা অন্তরে তার রয়।
সবর করে চেষ্টা করে, দোয়া করে প্রাণে,
রবের ওপর ভরসা রেখে এগিয়ে যায় টানে।
“আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে”—এই আশ্বাস মনে,
ঝড়ের মাঝেও স্থির থাকো রবেরই স্মরণে।
বিপদ কখনো চিরস্থায়ী—এ কথা সত্য নয়,
রাতের শেষে যেমন ভোর, কষ্টের পরও ক্ষয়।
তাওয়াক্কুল মানে নয় যে বসে থাকবে ঘরে,
চেষ্টা ছেড়ে ভাগ্যের কথা বলবে শুধু মুখে করে।
বীজ বুনে কৃষক যেমন অপেক্ষা করে ফল,
তেমনি মুমিন চেষ্টা করে—ফল আল্লাহর বল।
দরজা বন্ধ হলে খোঁজো অন্য বৈধ পথ,
পরিশ্রমে ক্লান্ত হলেও ছেড়ো না সত্য রথ।
দোয়া করো, চেষ্টা করো, রবের ওপর ভরসা,
এই তাওয়াক্কুল মুমিনেরই শক্তি, আশা, সাহস।
মানুষ ভুল করে, মানুষ গুনাহ করে,
কখনো নফসের টানে সত্যের পথও ছেড়ে।
কিন্তু মুমিন ভুলের মাঝে বন্দী হয়ে নয়,
তাওবার দরজা খুলে গেলে ফিরে আসতে ভয় নয়।
“হে রব, আমি ভুল করেছি”—কাঁদো অন্তর দিয়ে,
ক্ষমা চাও, গুনাহ ছাড়ো সত্যের পথে গিয়ে।
অন্যের হক নষ্ট করলে ফিরিয়ে দাও তা,
সত্য তাওবায় পরিষ্কার হোক অন্তরের ব্যথা।
আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হয়ো না,
গুনাহ যত বড় হোক, তাওবার পথ ছাড়ো না।
আজ থেকেই বদলে যাও, কাল বলে রেখো না,
মৃত্যু কখন এসে দাঁড়ায়—কেউ তো জানে না।
সময় নদীর স্রোতের মতো বয়ে চলে যায়,
ফিরিয়ে আনতে পারে না কেউ হারানো সেই সময়।
যে মুহূর্তটি চলে গেল, আর ফিরে আসে না,
অলসতায় জীবন কাটিয়ে সফল হওয়া যায় না।
সকালের সূর্য ডুবে যায় সন্ধ্যারই আকাশে,
যৌবনের দিন ফুরিয়ে যায় বার্ধক্যের নিশ্বাসে।
শৈশব যায়, যৌবন যায়, জীবন যায় ক্ষয়ে,
শেষে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে মৃত্যুর দ্বারে এসে।
তাই সময়কে কাজে লাগাও, সৎ পথে দাও প্রাণ,
জ্ঞান অর্জন, ইবাদত, সেবা—হোক জীবনের গান।
সময়েরই প্রতিটি ক্ষণ আমানত মনে করো,
আজকের কাজ আজই করো, সত্য পথে চলো।
মানুষের দুঃখ দেখলে হৃদয় যেন কাঁদে,
অসহায়ের চোখের পানি যেন তোমার প্রাণে বাঁধে।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, তৃষ্ণার্তকে জল,
বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বল।
অসুস্থ হলে খোঁজ নাও, বিপদে পাশে থাকো,
দুঃখী মানুষের মুখে হাসির আলো আঁকো।
সেবা শুধু বড় কাজ নয়—ছোট কাজেও দান,
একটি ভালো কথা কখনো বদলে দেয় প্রাণ।
কারও পথের কাঁটা সরাও, কারও বোঝা ধরো,
মানবতার এই শিক্ষাকে হৃদয়ের মাঝে ভরো।
সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখাও, ন্যায় থেকে সরে নয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করো কল্যাণময় কাজ।
অন্যের হক নষ্ট করে সফল হওয়া যায় না,
জুলুম করে কোনো মানুষ শান্তি কখনো পায় না।
ক্ষমতা যদি হাতে আসে, ন্যায়বিচার করো,
দুর্বল মানুষের অধিকার সাহসে রক্ষা করো।
আমানত যার হাতে আসে, আমানত রাখো ঠিক,
খেয়ানতের কালো পথে জীবন করো না নষ্ট।
বন্ধুর সম্পদ, প্রতিষ্ঠানের ধন, জনগণের হক,
সবকিছুরই হিসাব হবে—মনে রেখো সেই সত্য।
আজ মানুষকে ফাঁকি দিলে কাল কোথায় যাবে?
কিয়ামতের আদালতে কে তোমাকে বাঁচাবে?
সেদিন নেই কোনো মিথ্যা, নেই কোনো ছল,
সেদিন কেবল প্রকাশ পাবে জীবনেরই ফল।
ধন পেয়ে বলো না—“আমি সবার চেয়ে বড়”,
জ্ঞান পেয়ে অন্য মানুষকে করো না ক্ষুদ্রতর।
ক্ষমতা পেয়ে ভুলে যেও না ক্ষমতার মালিক কে,
আজ যে শীর্ষে, কাল সে কোথায়—সময় জানে একে।
মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি, মাটিতেই শেষ,
অহংকারের প্রাসাদ তাই ভীষণই অবশেষ।
যার অন্তরে বিনয় থাকে, সে-ই সত্য মহান,
নিজেকে ছোট ভাবতে জানে—সেই তো জ্ঞানী প্রাণ।
জিহ্বা ছোট—কিন্তু তারই আঘাত অনেক বড়,
একটি কথায় ভেঙে যেতে পারে হৃদয়ের ঘর।
পেছনে কারও দোষ বলা গীবতেরই নাম,
মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দিলে অপবাদের দাম।
তাই কথা বলার আগে একটু ভেবে নাও,
যা বলবে তা সত্য কিনা—নিজেকে জিজ্ঞাসা করো।
সত্য হলেও যদি তা হয় অন্যের গোপন ক্ষত,
অপ্রয়োজনে প্রকাশ করে করো না তাকে ক্ষত।
জিহ্বাকে পাহারা দাও, হৃদয় রাখো নির্মল,
নীরবতা অনেক সময় কথার চেয়ে সফল।
এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়—এ কথা মনে রেখো,
জীবনের প্রতিটি পদে আখিরাতকে দেখো।
দুনিয়ার মাঠে বপন করো ঈমান-আমলের বীজ,
আখিরাতে ফল পাবে তার—এটাই সত্য রীতি।
সুখ এলে শুকরিয়া দাও, দুঃখ এলে সবর,
নিয়ামতে হও বিনয়ী, বিপদে হও স্থির।
জয় এলে রবকে মানো, হারেও থেকো শান্ত,
আল্লাহর সিদ্ধান্তে রাখো অন্তরটি প্রশান্ত।
শিক্ষায় হও দক্ষ, কাজে হও পারদর্শী,
হালাল পথে এগিয়ে চলো—হৃদয়ে থাকুক হর্ষী।
দেশের কাজে, সমাজসেবায় রাখো অবদান,
নিজের উন্নতির সঙ্গে দাও অন্যকে সম্মান।
বিজ্ঞান শেখো, জ্ঞান অর্জন করো দিনরাত,
কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠা রাখো, সত্য হোক হাত।
কিন্তু জ্ঞানের গর্বে যেন রবকে ভুলে না যাও,
দুনিয়ার অর্জন দিয়ে আখিরাতের পথ সাজাও।
তোমার কলম, তোমার শ্রম, তোমার প্রতিভাধন,
সবই হতে পারে যদি সৎ—ইবাদতেরই কারণ।
নিয়ত যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ,
সৎ কাজে তখন মেলে দুনিয়া-আখিরাতের লাভ।
ঈমান হবে ভিত্তি, আমল হবে তার প্রাণ,
তাকওয়া হবে পথের আলো, সত্য হবে সম্মান।
সবর হবে ঝড়ের মাঝে দৃঢ়তারই ঢাল,
তাওয়াক্কুলে এগিয়ে যাবে জীবন সকাল-সন্ধ্যাকাল।
ইবাদত হবে আত্মার খাদ্য, জ্ঞান হবে আলো,
চরিত্র হবে ফুলের মতো—সুবাসে ভরা ভালো।
হালাল রিজিক, ন্যায়নীতি, মানুষের কল্যাণ,
এই গুণগুলো গড়বে তোমার সুন্দর জীবনখান।
সফল সে নয়, যার হাতে অঢেল ধন,
সফল সে, যার অন্তরে জাগে ঈমানের ক্ষণ।
সফল সে নয়, যার নামে রাজপথে জয়ধ্বনি,
সফল সে, যে রবের কাছে পায় কবুলের বাণী।
সফল সে নয়, যে শুধু দুনিয়াতে বড়,
সফল সে, যে সত্য পথে অন্যায় করে না।
সফল সে নয়, যে নিজের জন্য সবই চায়,
সফল সে, যে অন্যের হক ফিরিয়ে দিতে চায়।
সফল সে নয়, যে বিপদে ভেঙে পড়ে যায়,
সফল সে, যে রবের ওপর ভরসা রেখে দাঁড়ায়।
সফল সে নয়, যে গুনাহ করে নিরাশ হয়,
সফল সে, যে তাওবা করে রবের দিকে রয়।
একদিন থেমে যাবে পৃথিবীর সব কোলাহল,
নিভে যাবে ক্ষমতার আলো, থেমে যাবে বল।
সেদিন কেউ কারও বোঝা বহন করবে না আর,
নিজের আমল নিয়ে দাঁড়াবে প্রত্যেকটি প্রাণ।
সম্পদের পাহাড় কোথায় যাবে? থাকবে কি তা সঙ্গে?
পদমর্যাদা থাকবে কি আর কিয়ামতের সেই রঙ্গে?
বন্ধু, স্বজন, আপনজন—সবাই হবে ব্যস্ত,
নিজের হিসাব নিয়ে তখন প্রত্যেক প্রাণই ত্রস্ত।
সেদিন আমলনামা খুলবে, প্রকাশ পাবে সব,
কী করেছি গোপনে—জানবেন একমাত্র রব।
সেদিন মিথ্যার আশ্রয় হবে না কোনো কাজে,
সত্যই তখন প্রকাশ পাবে হিসাবেরই মাঝে।
যে আগুন থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতের পথে যায়,
কুরআন বলে সেই মানুষ সফলতারই ঠাঁই।
দুনিয়ার যত সম্মান একদিন হবে ক্ষয়,
জান্নাতের সুখ চিরস্থায়ী—সেখানে নেই ক্ষয়।
সেখানে নেই মৃত্যু কোনো, নেই দুঃখের রাত,
নেই বিচ্ছেদ, নেই ভয়-শঙ্কা, নেই অশ্রুর প্রভাত।
আল্লাহর রহমতে যারা জান্নাত পাবে শেষে,
তাদের সফলতা থাকবে চিরকালই অবশেষে।
তাই আজই প্রস্তুতি নাও, কালকে ভেবে নয়,
মৃত্যু কখন আসবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নয়।
আজ যে সুযোগ হাতে আছে, আজই কাজে লাগাও,
রবের দিকে ফিরে এসে জীবনটাকে সাজাও।
এসো তবে অন্তর ধুই তাওবার অশ্রুজলে,
সত্যের পথে জীবন গড়ি কুরআনেরই বলে।
সালাত দিয়ে দিন সাজাই, জিকিরে ভরি মন,
সুন্নাহরই আলোয় গড়ি চরিত্রের জীবন।
হারাম ছেড়ে হালাল ধরি, মিথ্যা ছেড়ে সত্য,
অন্যায় ছেড়ে ন্যায়কে ধরি—হোক জীবন পবিত্র।
হিংসা ছেড়ে ভালোবাসা, বিদ্বেষ ছেড়ে দয়া,
অহংকার ছেড়ে বিনয়—এই হোক হৃদয়ের মায়া।
পিতা-মাতার সেবা করি, আত্মীয়তার বন্ধন,
প্রতিবেশীর অধিকার রাখি—হোক সুন্দর জীবন।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াই, দুঃখীর ব্যথা বুঝি,
নিজের সুখের পাশাপাশি অন্যের সুখ খুঁজি।
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের ঈমান করো দৃঢ়,
তোমার পথে রাখো মোদের অন্তর সদা স্থির।
শিরকের আঁধার থেকে রাখো আমাদের দূর,
তাওহিদের আলোয় ভরো অন্তর ভরপুর।
হে আল্লাহ! সালাতকে করো জীবনেরই প্রাণ,
কুরআনের হিদায়াতে দাও সত্যের জ্ঞান।
সুন্নাহর সুন্দর পথে চলার শক্তি দাও,
গুনাহ হলে তাওবা করার তাওফিক দাও।
হালাল রিজিক দাও, হারাম থেকে বাঁচাও,
সত্যের পথে দৃঢ় রেখে ন্যায়বোধ বাড়াও।
অহংকার দূর করে দাও, বিনয় দাও মনে,
মানুষের কল্যাণ করার শক্তি দাও জীবনে।
বিপদ এলে সবর দাও, সুখে দাও শুকর,
তোমার ওপর ভরসা রেখে চলার শক্তি দাও।
আমাদের পরিবারে দাও ভালোবাসার আলো,
সন্তানদের করো নেক, চরিত্র করো ভালো।
পিতা-মাতার খেদমতের তাওফিক দাও প্রাণে,
অন্যের হক ফিরিয়ে দিতে সাহস দাও মনে।
জুলুম, গীবত, মিথ্যা, হিংসা দূরে রাখো হে রব,
তোমার সন্তুষ্টির পথে কাটুক আমাদের সব।
দুনিয়াতে দাও কল্যাণ, হালাল সুখের ঘর,
আখিরাতে দাও জান্নাত—রহমতের সাগর।
জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, ক্ষমা করো পাপ,
তোমার রহমতের ছায়ায় মুছে দাও সব তাপ।
আমাদের জীবন হোক তোমার সন্তুষ্টির জন্য,
আমাদের মৃত্যু হোক ঈমানের ওপর ধন্য।
কবরকে করো প্রশস্ত, নূরে ভরো প্রাণ,
হাশরের দিনে দিও নিরাপদ সম্মান।
আমল যদি হয় কম, রহমত দিও বেশি,
তোমার দয়া ছাড়া তো আমরা সবাই অতি ক্ষীণই।
জান্নাতুল ফিরদাউস দিও তোমার দয়ার দানে,
নবী ﷺ-এর সুন্নাহয় রাখো জীবনভর টানে।
হে রব! দুনিয়া যেন আমাদের রবকে ভুলিয়ে না দেয়,
সম্পদ যেন অন্তরটাকে অন্ধকারে ঢেকে না দেয়।
সফলতা যেন অহংকারের কারণ হয়ে না রয়,
ব্যর্থতা যেন ঈমান কাড়ে—এমন কিছু নয়।
দুনিয়ার পথে কর্ম দাও, আখিরাতের জ্ঞান,
হালাল পথে পরিশ্রম দাও, দাও সৎ সম্মান।
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ হোক তোমারই স্মরণে,
শেষ নিশ্বাস উচ্চারিত হোক ঈমানেরই বরণে।
দুনিয়া ক্ষণিক পথের ধুলো, আখিরাত চিরঘর,
আজকের জীবন পরীক্ষাক্ষেত্র, কাল হিসাবের পর।
তাই দুনিয়াকে ছেড়ে নয়—দুনিয়াকে ব্যবহার,
আখিরাতের পাথেয় হোক জীবনের উপহার।
ঈমান রাখো, আমল করো, সত্য পথে চলো,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় অন্তরটাকে ভরো।
হালাল পথে শ্রম দাও, মানুষের পাশে দাঁড়াও,
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনটাকে সাজাও।
মনে রেখো—ধন নয় শেষ, পদ নয় শেষ কথা,
জান্নাত লাভই মুমিনের চূড়ান্ত সফলতা।
যে জীবন রবের জন্য, সে জীবনই ধন্য,
যে মৃত্যু ঈমানের সাথে—সে মৃত্যুই পুণ্য।
দুনিয়াতে শান্তি চাই, আখিরাতে নাজাত,
রবের রহমত চাই আমরা দিন-রাত অবিরত।
তাঁর সন্তুষ্টি হোক জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ জয়,
তাঁর রহমতে জান্নাত হোক আমাদের চির আশ্রয়।
হে আল্লাহ—
আমাদের জীবনকে করো সৎ,
আমাদের অন্তরকে করো পবিত্র,
আমাদের আমলকে করো কবুল,
আমাদের পথকে করো সরল,
আমাদের দুনিয়াকে করো কল্যাণময়,
আমাদের আখিরাতকে করো সফল।
জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও,
জান্নাতের পথে চালাও,
তোমার সন্তুষ্টি দাও—
হে পরম দয়াময়!
আমিন
১৪
২৪ মন্তব্য