প্রধান শিক্ষক
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি নিয়ে ভাবার আগে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি নিয়ে ভাবার আগে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি নিয়ে ভাবনার আগে কমপক্ষে ১ মাস শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান।
গত শুক্রবার দৈনিক শিক্ষাডটকমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। বিবৃতিতে দীর্ঘ শিক্ষকতা, শিশু শিক্ষা নিয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, গবেষক ও শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে প্রবীণ এ নেতা বলেন, শিশুদের নিয়ে পাঠদান সব পেশার চেয়ে কঠিন। এ পেশার কাঠিন্য সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে জড়িত সবাইকে অভিজ্ঞতার জন্য এ আহ্বান জানান। তাহলে তারা প্রাথমিক শিক্ষার ছুটি নিয়ে মনগড়া সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য রাখবেন না।তিনি আরও বলেন, শিশু শিক্ষা নিয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ নেতা শিক্ষক সংকটসহ নানা কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরতিহীনভাবে একই সঙ্গে একাধিক ক্লাস করতে হয়ে থাকে। এতে সর্বদা তাদের মস্তিষ্ক গরম বা কারও কারও প্রেসার তীব্র হয়ে মাথা হতে অনেকটা আগুনের গোলার মতো বের হতে থাকে। এ দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে তাদের শিক্ষকতা করতে হয়ে থাকে। উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে এহেন প্রেসার মোটেই দৃশ্যমান নয়। অনেকের মাঝে তাদের পরিবারের ছোট্ট অবুঝ শিশুর যন্ত্রণা ছাড়া শিক্ষকদের বিপুলসংখ্যক অবুঝ প্রাণীর যন্ত্রণা, হইচই, চিল্লাচিল্লি, মারামারি, ভয়াবহ অস্থিরশীল পরিবেশ সম্পর্কে উপলব্ধি আসে না। তারাই মাঝে মধ্যে শিক্ষকদের ছুটি, কাজ নিয়ে অবুঝ শিশুর মতো নানা বিরূপ সমালোচনা বা উক্তি করে থাকে।
বিবৃতিতে আরও জানান, পাঠদানের শিক্ষকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরও ব্যাপক মস্তিষ্কের ব্যাপক ক্ষয় হয়। এ ক্ষয় পূরণের জন্য বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাইস্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চ আদালত চেয়ে বেশি ছুটি প্রয়োজন। আদিকালের জনগণ পুঁথিগত বিদ্যায় অশিক্ষিত হলেও জ্ঞানী ছিল। তাই তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেশি ছুটি নির্ধারণ করেছিলেন। আজকাল ছুটি নিয়ে যারা বিরূপ ধারণা পোষণ করে থাকেন, তারা উচ্চশিক্ষিত হলেও অভিজ্ঞতাহীন মূর্খ। তাদের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। ছুটি না থাকলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে। আর শিক্ষকরা কম বয়সে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়বে।
সব শেষে তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। অভিজ্ঞতাহীন জনবল ছাড়া যত নিয়মকানুন করা হোক না কেন, তা ষোলোআনাই মিছে।
৭
৭ মন্তব্য