সিনিয়র শিক্ষক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৪১ অপরাহ্ণ
গুগল এআই (AI Overview)-এর মারাত্মক ভুল ডিজিটাল পরিচয় বিকৃতির শিকার টাঙ্গাইলের শিক্ষক প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ ও তদন্ত শুরু
টাঙ্গাইল, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬:প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল (Google LLC)-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সার্চ ইঞ্জিন সেবা ‘Google AI Overview’-এর মারাত্মক ভুলের কারণে ডিজিটাল পরিচয় বিকৃতি (Identity Misrepresentation) ও সামাজিক মানহানির শিকার হয়েছেন টাঙ্গাইলের এক স্কুল শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম খায়রুল ইসলাম (মাহি), যিনি টাঙ্গাইল সদরের ঐতিহ্যবাহী ‘বুলবুল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল’-এর শিক্ষক ছিলেন। এই ঘটনার প্রতিকার ও নিজের সামাজিক মর্যাদা রক্ষার্থে তিনি টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার বিবরণ: ভুক্তভোগী শিক্ষক খায়রুল ইসলাম মাহি জানান, বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে গুগলে তাঁর নাম "Khayrul Islam Mahi" লিখে অনুসন্ধান (Search) করলে টেক্সট বর্ণনায় তাঁর নাম অন্যান্য সকল তথ্য ও বিদ্যালয়ের তথ্যসহ শিক্ষক পদের কথা সঠিকভাবে আসলেও, তার ঠিক পাশে মূল প্রোফাইল ছবি হিসেবে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গুগলের এআই প্রদর্শিত ছবিটি আসলে গাজীপুরের তৈরুন্নেছা মেমোরিয়াল Medical College ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ 'ডক্টর মো. খায়রুল ইসলাম'-এর। একজন স্কুল শিক্ষকের প্রোফাইলে একজন চিকিৎসকের ছবি প্রদর্শন করায় তাঁর সাবেক কর্মস্থল, পরিবার ও সামাজিকভাবে চরম বিভ্রান্তি ও হেনস্তার সৃষ্টি হচ্ছে।গুগলের উদাসীনতা ও আইনি পদক্ষেপ:এই মারাত্মক ভুলের প্রতিকার চেয়ে তিনি গত কয়েক সপ্তাহে গুগলের অফিশিয়াল ফিডব্যাক সিস্টেম, গুগল সাপোর্ট টিম এবং গুগলের আইনি বিভাগে ([email protected]) বাংলাদেশ সরকারের সরকারি শিক্ষক পোর্টাল ‘শিক্ষক বাতায়ন’ (teachers.gov.bd)-এ থাকা তাঁর আসল প্রোফাইলের লিংক ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সমস্ত দালিলিক প্রমাণাদি যুক্ত করে একাধিকবার আবেদন করেন। গুগল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি কেস নম্বর [6-1187000040963] প্রদান করে তা তাদের রিভিউ কিউতে (Review Queue) রাখলেও গত কয়েকদিন যাবত রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে এবং কোনো সমাধান দেয়নি।গুগলের মতো একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের এমন উদাসীনতা এবং স্পষ্ট পরিচয় বিকৃতির কারণে ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে খায়রুল ইসলাম মাহি টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি আমলে নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) নিয়োগ দিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে সর্বাত্মক আইনি ও কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।ভুক্তভোগীর বক্তব্য:শিক্ষক খায়রুল ইসলাম মাহি বলেন, "গুগলের এআই প্রযুক্তির এই ভুলের কারণে আমি প্রতিদিন সমাজ ও পরিচিত মহলে মানসিক ও পেশাগত হেনস্তার শিকার হচ্ছি। মানুষ ভাবছে আমি হয়তো ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছি। আমি একজন সরকারি তালিকাভুক্ত শিক্ষক, আমার সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও গুগল এটি সংশোধন করছে না। বাধ্য হয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি যেন দেশের প্রচলিত সাইবার আইনে আমি আমার ডিজিটাল অধিকার ও নিরাপত্তা ফিরে পাই।"
১
১ মন্তব্য