সহকারী শিক্ষক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
নীরব ঘাতক সেপসিস: জীবন রক্ষায় দ্রুত সচেতনতা ও জরুরি করণীয়
প্রতিবছর ১৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় বিশ্ব সেপসিস দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্লোবাল সেপসিস অ্যালায়েন্সের যৌথ প্রচেষ্টায় এই বিশেষ দিনটির সূচনা হয়, যার মূল লক্ষ্য রক্তে জীবাণুর মারাত্মক সংক্রমণ 'সেপসিস' সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। প্রতিনিয়ত বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এই নীরব ঘাতকের কবলে পড়ে জীবন হারাচ্ছেন, অথচ সামান্য সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসায় এই অকালমৃত্যু অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সেপসিস মূলত আলাদা কোনো স্বাধীন রোগ নয়; এটি যেকোনো ধরনের সংক্রমণের প্রতি আমাদের শরীরের একটি অস্বাভাবিক ও অতিমাত্রিক প্রতিক্রিয়া। সাধারণ অবস্থায় ফুসফুস, মূত্রনালী, পেট কিংবা চামড়ায় থাকা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা লড়াই করে। কিন্তু সংক্রমণ তীব্র হলে ইমিউন সিস্টেম নিজের শরীরের রক্তনালী ও সুস্থ অঙ্গপ্রতিনিধির ওপর আক্রমণ শুরু করে। ফলে শরীরের রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়, প্রদাহ ছড়িয়ে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো দ্রুত অকেজো হতে থাকে।
যেকোনো বয়সের মানুষেরই সেপসিস হতে পারে, তবে নবজাতক শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী এবং দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি। এটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে শরীরে বিস্তার লাভ করে, তাই যেকোনো সাধারণ ইনফেকশনের পর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে সেপসিসের কথা বিবেচনা করা উচিত।
সেপসিস চেনার কিছু বিশেষ উপসর্গ রয়েছে যা থেকে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। রোগীর অতিরিক্ত জ্বর ও গায়ে তীব্র কাঁপুনি হতে পারে, অথবা শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যেতে পারে। একই সাথে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যাওয়া, হাঁপিয়ে ওঠা বা তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথার অনুভূতি হওয়া সেপসিসের লক্ষণ। রোগীর মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পাওয়ায় কথা জড়িয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া কিংবা ধীরে ধীরে চেতনা হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া সারাদিনে প্রস্রাব না হওয়া কিংবা ত্বক ফ্যাকাশে ও নীলাভ হয়ে যাওয়া এর চরম সতর্কবার্তা।
সংক্রমণ এড়ানোই সেপসিস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর পথ। নিয়মিত পরিচ্ছন্ন থাকা, ঠিকমতো হাত ধোয়া এবং শরীরের যেকোনো কাটা বা ক্ষতস্থান সর্বদা পরিষ্কার ও ঢেকে রাখা প্রয়োজন। নিউমোনিয়া বা ফ্লু-র মতো রোগের টিকা সময়মতো গ্রহণ করলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সঠিক নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে সেপসিসের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো যায়।
মনে রাখতে হবে, সেপসিস একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা। এটি শনাক্ত করতে সামান্য বিলম্ব হলেও রোগীর জীবন সংশয় হতে পারে। তাই সংক্রমণের লক্ষণের পাশাপাশি শরীরে অস্বাভাবিক শারীরিক জটিলতা দেখা দিলেই কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা উচিত। সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং তড়িৎ চিকিৎসাই পারে সেপসিসের হাত থেকে মূল্যবান জীবন বাঁচাতে।
১৪
২৪ মন্তব্য