Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ

স্কেলের কিসসা কাহিনীর পাঁচফোড়ন

দুনিয়ার বাজারে সরকারি চাকরিজীবী বাবুদের কাছে এই ‘পে স্কেল’ চিজটি হলো একদম আসমান থেকে নাযিল হওয়া মর্ত্যের সুসংবাদ! সাধারণ মানুষ যেমন বৈশাখের মেঘ দেখলে চাতক পাখির মতো চ চেয়ে থাকে, আমাদের সচিবালয় থেকে শুরু করে পাড়ার তহশিল অফিসের ছোটবাবু—সবাই তেমনি প্রতি দশ-বারো বছর অন্তর এই পে স্কেলের জন্য জপমালা জপতে বসেন। সম্প্রতি সরকারের দরবার থেকে ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ বা নবম পে-স্কেলের যে ফতোয়া জারি করা হয়েছে, তা নিয়ে চারদিকে যেন একদম কান্দাহারের মেলা বসে গেছে!
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পে স্কেল হলো সেই জাদুকরী লঙ্গরখানা, যেখানে ২০টি গ্রেডের এক রাজকীয় খাঁচা বানানো হয়েছে। এই খাঁচায় ২০তম গ্রেডের পিয়ন বাবু থেকে শুরু করে ১ম গ্রেডের সচিব সাহেব পর্যন্ত সবাইকে বেঁধে রাখা হয়েছে। নতুন আইনের কুদরতখানা ভাবুন একবার—সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে এক লাফে এক্কেবারে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে, আর ১ম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সোজা ১,৫৬,০০০ টাকা করা হয়েছে! অর্থাৎ, প্রারম্ভিক মূল বেতনের ঘরখানা প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যার ভেলকি দেখে বাবুদের চোখের কোণ দিয়ে আনন্দে কান্দাহারের আঙুরের রস গড়িয়ে পড়ার উপক্রম!
কিন্তু রসিকতার মূলে তো একখানা গভীর প্যাঁচ না থাকলে মীরজাফরের মতো বেইমানও যে সাধু হয়ে যাবে! সরকার বাহাদুর বেতন তো বাড়ালেন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে, কিন্তু সাথে সাথে জুড়ে দিলেন ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন’-এর এক মস্ত বড় ডিজিটাল শর্ত! অর্থাৎ, প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের একটা অংশ মাত্র পকেটে ঢুকবে, বাকিটা আসবে আগামীতে। আর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতার মতো আনুষঙ্গিক তায়ফাগুলো নাকি কার্যকর হবে আরও পরে, ২০২৮ সালের দিকে! তার ওপর এবার নাকি প্রত্যেকের চাকরির ঠিকুজী ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) নামক এক আজব ডিজিটাল কোতোয়ালিতে অনলাইনে হালনাগাদ করতে হবে! এই ডিজিটাল ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে ছোটবাবুদের মগজের ঘিলু একদম কাবুলের পেস্তার মতো চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার জোগাড়!
সবচেয়ে তাজ্জব ব্যাপার হলো, পে স্কেলের হাওয়া বাজারে ছড়াতে না ছড়াতেই কাঁচাবাজারের রামছাগল বিক্রেতা থেকে শুরু করে চালের আড়তদার—সবাই লাঠি উঁচিয়ে বসে থাকে। কর্মচারীদের পকেটে পে স্কেলের নতুন টাকা ঢোকার আগেই বাজারের আলু-পোটলের দাম এমন রেলে চড়ে আসমানে ওড়ে যে, শেষমেশ সেই বর্ধিত বেতনটুকুও কাঁচাবাজারের লিমিটিং বিক্রিয়কের মতো মাঝপথেই ফুরিয়ে ফৌত হয়ে যায়!
হে পে স্কেলের কারিগরগণ, তোমরা তো বেতন বাড়িয়ে দিয়ে আইবাসের খাতায় ডিজিটাল ভেলকি দেখাচ্ছ, আর আমরা সাধারণ মানুষ এখানে বাজারের থলে হাতে নিয়ে ডালহৌসি স্কয়ারের কেরানির মতো চোখের জল ফেলছি! এই পে স্কেলের কিস্তি যদি ঠিকঠাক পকেটে আসে, তবেই না সোজা পুণ্ড্রবর্ধনের মাটিতে গিয়ে আখের গুড় দিয়ে ক্ষীর চড়ানো যাবে!
মন্তব্য করুন