প্রভাষক
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
চিনাবাদাম আসলে বাদাম না
চিনাবাদাম নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাদামভর্তি একটি কাগজের ঠোঙা। বিকেলের আড্ডা, বাসযাত্রা কিংবা খেলার মাঠ—দেশে এমন খুব কম মানুষই আছেন, যারা কখনো ভাজা চিনাবাদাম খাননি। নামের মধ্যেই ‘বাদাম’ থাকায় একে বাদাম বলেই ধরে নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু উদ্ভিদবিজ্ঞানের হিসাবে মজার ব্যাপার হলো—চিনাবাদাম আসলে বাদামই নয়।
চিনাবাদাম (Arachis hypogaea) উদ্ভিদবিজ্ঞানের দিক থেকে ডালজাতীয় উদ্ভিদ বা শিমজাতীয় উদ্ভিদ। অর্থাৎ এটি মটরশুঁটি, মটর ও বিভিন্ন শিমজাতীয় উদ্ভিদের একই পরিবারের সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল লাইব্রেরিও চিনাবাদামকে pea-and-bean family বা legume বাশিমজাতীয় উদ্ভিদহিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যান্য ডালজাতীয় শস্যের মতোই এর উদ্ভিদগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এর বীজ মাটির নিচে বেড়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চিনাবাদাম ও সয়াবিন ডালজাতীয় উদ্ভিদের অন্তর্ভুক্ত এগুলো গাছজাত বাদাম নয়।
মাটির নিচে জন্মায় বলেই যত রহস্য
চিনাবাদামের সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো— এর ফল মাটির ওপরে নয়, মাটির নিচে তৈরি হয়।
গাছের ছোট হলুদ ফুল ফুটে পরাগায়নের পর ফুলের নিচের অংশ থেকে একটি সরু দণ্ডের মতো অংশ নিচের দিকে বাঁকতে শুরু করে। সেটি মাটির ভেতরে ঢুকে যায়। এরপর মাটির নিচেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় চিনাবাদামের শুঁটি। একটি শুঁটির ভেতরে সাধারণত একাধিক বীজ থাকতে পারে।
অর্থাৎ আমরা যে চিনাবাদাম খাই, সেটি আসলে গাছের মাটির নিচে তৈরি হওয়া একটি শুঁটির ভেতরের বীজ।
এই বৈশিষ্ট্যই চিনাবাদামকে অন্য অনেক ডালজাতীয় উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে। প্রাচীন কৃষিবিষয়ক মার্কিন সরকারি প্রকাশনাতেও উল্লেখ আছে, চিনাবাদাম মটর ও শিমের মতো একই উদ্ভিদগোষ্ঠীর হলেও এর ফল মাটির নিচে পরিপক্ব হয়।
তাহলে নামের সঙ্গে ‘বাদাম’ কেন?
এখানেই রয়েছে নামের মজাটা। চিনাবাদামের স্বাদ, ব্যবহার ও পুষ্টিগুণ অনেকটা প্রচলিত বাদামের সঙ্গে মিলে যায়। কাঠবাদাম, কাজুবাদাম বা আখরোটের মতোই এটি ভেজে খাওয়া হয়, মিষ্টি ও বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হয়, এমনকি চিনাবাদাম দিয়ে মাখনও তৈরি করা হয়।
তাই খাবারের জগতে এটি বাদামের মতোই ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাসে এটি গাছের বাদাম বা tree nut নয়। ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারের তথ্যেও বলা হয়েছে, চিনাবাদাম ও সয়াবিন উদ্ভিদগতভাবে legume (শিমজাতীয় উদ্ভিদ), tree nut বা গাছের বাদাম নয়।
পুষ্টিতেও কম যায় না
বাদাম না হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে চিনাবাদাম মোটেও পিছিয়ে নেই। এতে রয়েছে প্রোটিন, চর্বি, ফাইবার, নিয়াসিন ও ম্যাগনেশিয়াম। ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারের তথ্য অনুযায়ী, চিনাবাদাম উদ্ভিজ্জ খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রোটিনের উৎস এবং এর চর্বি শরীরে শক্তি জোগাতে ভূমিকা রাখে।
এই কারণেই কম খরচে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে চিনাবাদামের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। স্রেফ আড্ডার সঙ্গী নয়, খাবারের পুষ্টিমান বাড়াতেও এটি বেশ কার্যকর।
১
২ মন্তব্য