ফরাসি দার্শনিক জ্যা-্জ্যাক রুশোর (Jean-Jacques Rousseau) শিক্ষা দর্শনের মূল কথা হলো প্রকৃতিনির্ভর ও শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা। ১৭৬২ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত 'এমিল' (Émile) গ্রন্থে তিনি তাঁর এই কালজয়ী শিক্ষাদর্শন তুলে ধরেন।
নিচে রুশোর শিক্ষা দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য ও দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. প্রকৃতিভিত্তিক শিক্ষা (Natural Education)
রুশো বিশ্বাস করতেন মানুষ জন্মগতভাবে ভালো, কিন্তু সমাজের প্রভাবে সে নষ্ট হয়।
তিনি প্রচলিত কৃত্রিম ও কঠোর স্কুলশিক্ষার তীব্র বিরোধিতা করেন।
তাঁর মতে, বইভিত্তিক পড়ার চেয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে অভিজ্ঞতা ও প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করা উচিত। [
1,
2,
3]
২. শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা (Child-Centred Education)
শিক্ষাদর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে শিশু, শিক্ষক বা সমাজ নয়।
শিশুর বয়স, আগ্রহ, ক্ষমতা ও মানসিক বিকাশ অনুযায়ী শিক্ষার পদ্ধতি ঠিক করতে হবে।
শিশুর ওপর জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া যাবে না; বরং তাকে স্বাধীনভাবে শিখতে দিতে হবে।
৩. নেতিবাচক শিক্ষা (Negative Education)
শৈশবে (১২ বছর বয়স পর্যন্ত) নৈতিক বা ধর্মীয় উপদেশ সরাসরি দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না রুশো।
এই বয়সে শিশুকে ভালো-মন্দ শেখানোর চেয়ে মনকে কুসংস্কার ও ভুল থেকে এবং হৃদয়কে পাপ থেকে রক্ষা করাকে তিনি 'নেতিবাচক শিক্ষা' বলেছেন।
৪. কর্ম ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষা (Learning by Doing)
নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে না থেকে কাজের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
তিনি শারীরিক শ্রম, হস্তশিল্প এবং ইন্দ্রিয়ের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। [
1]
রুশোর মতে, শিক্ষকের ভূমিকা হবে একজন পথপ্রদর্শকের বা মালির মতো।
শিক্ষক সরাসরি জ্ঞান দান করবেন না, বরং এমন পরিবেশ তৈরি করবেন যেন শিশু নিজে নিজে শিখতে পারে। [
1,
2]
শিক্ষার স্তরভিত্তিক বিন্যাস
রুশো শিশুর বয়স অনুযায়ী শিক্ষাকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করেছেন:
শৈশব (জন্ম থেকে ৫ বছর): এ সময় মূলত শারীরিক বিকাশ ও ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার শেখানো হয়।
বাল্যকাল (৫ থেকে ১২ বছর): খেলাধুলা ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইন্দ্রিয় ও বাহ্যিক জগতের পরিচয় ঘটে।
কৈশোরকাল (১২ থেকে ১৫ বছর): বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষা, বিজ্ঞান ও কোনো কারিগরি কাজ বা পেশা শেখার বয়স।
যৌবনকাল (১৫ বছর থেকে ওপরে): নৈতিকতা, সমাজবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষালাভের সময়।
১৪
২৪ মন্তব্য