Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

সাইবার নিরাপত্তা আইন
সাইবার নিরাপত্তা আইন হলো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ (সাইবার ক্রাইম) দমন, প্রতিরোধ এবং দেশের সামগ্রিক সাইবার স্পেস সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইনি কাঠামো। 
বাংলাদেশে সময়ের সাথে সাথে এই আইনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর ঘটেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বহুল বিতর্কিত 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮' বাতিল করে 'সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩' পাশ করা হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায়, ২০২৫ সালে একটি অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশের পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে এটি পূর্ণাঙ্গ 'সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬' হিসেবে পরিমার্জিত ও কার্যকর হয়। 
সংক্ষেপে এই আইনের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
  • প্রধান লক্ষ্য: রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো রক্ষা, হ্যাকিং প্রতিরোধ, ডিজিটাল স্পেসে প্রতারণা ও জালিয়াতি দমন এবং নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। 
  • দণ্ডনীয় অপরাধসমূহ:
    • তথ্য পরিকাঠামোতে বেআইনি প্রবেশ বা হ্যাকিং করা (৫ থেকে ৭ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা)।
    • ডিজিটাল মাধ্যমে জালিয়াতি এবং প্রতারণা।
    • সাইবার স্পেসে যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন কিংবা কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিং।
    • সাইবার সন্ত্রাসবাদ এবং অবৈধ ই-ট্রানজেকশন পরিচালনা।
    • ধর্মীয় ও জাতিগত সহিংসতা বা ঘৃণা ছড়ানো।
    • সাম্প্রতিক সংশোধনী ও আলোচনা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতথ্য, গুজব এবং মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানোও কড়া শাস্তির আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। 
  • মামলা নিষ্পত্তির সময়: মামলার অভিযোগ গঠনের পর বিচারককে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে, যা বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন বাড়ানো যেতে পারে। 
  • বিতর্ক ও সমালোচনা: মানবাধিকার সংস্থা ও অংশীজনদের মতে, আইনের কিছু ধারা ও অস্পষ্ট সংজ্ঞা (যেমন- গুজব বা মানহানি) স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধার কারণ হতে পারে এবং এর অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যায়।
সহজ কথায়, ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সাইবার সুরক্ষা বজায় রাখাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। 
মন্তব্য করুন