Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

আমার মা (বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি )

মাঝে মাঝে আমি ভাবি- যদি একদিন সকালে উঠে দেখি মা নেই, তাহলে কী হবে? ভাবনাটা মাথায় আসলেই বুকটা ভারী হয়ে যায়। মা মানে শুধু একটা মানুষ নন। মা মানে একটা অনুভূতি, নিরাপদ থাকার অনুভূতি।

আমার মায়ের পরিচয়

আমার মায়ের নাম [মায়ের নাম]। তিনি একজন গৃহিণী। কিন্তু “গৃহিণী” শব্দটা দিয়ে তাঁর কাজের পুরোটা বোঝানো যায় না। তিনি প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ওঠেন। রান্না করেন, ঘর সাজান, আমাদের সবার দিকে নজর রাখেন। কিন্তু এত কাজের মাঝেও কখনো বলেন না যে তিনি ক্লান্ত।

মা আমার প্রথম শিক্ষক

স্কুলে যাওয়ার আগে আমার প্রথম অক্ষর শেখা হয়েছিল মায়ের হাত ধরে। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে বড়দের সম্মান করতে হয়, কীভাবে ভুল হলে ক্ষমা চাইতে হয়। এই শিক্ষাগুলো কোনো বইয়ে নেই।

আমি যখন পড়ার সময় বিরক্ত হয়ে ছবি আঁকা শুরু করি, তিনি বকেন না। বলেন, “ঠিক আছে। একটু বিরতি নে। তারপর পড়া শেষ করিস।” সেই অনুমতিটাই আমাকে আবার পড়তে বসার শক্তি দেয়।

আমি যখন মাকে কষ্ট দিয়েছিলাম

সত্যি বলতে গেলে স্বীকার করতে হবে — আমি অনেকবার মাকে কষ্ট দিয়েছি। একবার মিথ্যে বলেছিলাম যে পড়া নেই। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তবু সরাসরি কিছু বলেননি। শুধু চুপ করে থেকেছিলেন। সেই নীরবতাটাই আমার সবচেয়ে বড় শাস্তি ছিল।

আরেকবার তাঁর উপদেশে বিরক্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। পরে ফিরে এসে দেখি তিনি স্বাভাবিকভাবেই রান্না করছেন। রাগ নেই, অভিযোগ নেই। শুধু জিজ্ঞেস করলেন, “খিদে পেয়েছে?” সেই প্রশ্নটাই আমাকে কাঁদিয়ে দিয়েছিল।

মায়ের ছোট ছোট কাজ

মায়ের বড় বড় ত্যাগের কথা রচনায় সবাই লেখে। কিন্তু ছোট ছোট কাজগুলোই আমার মনে বেশি গেঁথে আছে। দেরিতে পড়তে বসলে পাশে এসে চুপ করে বসে থাকেন। পরীক্ষার আগের রাতে একগ্লাস দুধ রেখে যান,কোনো কথা না বলে। আমি হারিয়ে ফেলা পেন্সিল, রাবার, জলের বোতল, সব তিনি দুই মিনিটে খুঁজে দেন। আমি এখনো জানি না কীভাবে।

উপসংহার ও প্রতিজ্ঞা

মা নিখুঁত নন। তিনি কখনো কখনো বেশি উপদেশ দেন। কখনো আমার পছন্দের সাথে একমত হন না। কিন্তু এটাও সত্যি,যখন কিছু ভুল হয়, প্রথম যাকে বলতে ইচ্ছে করে, সে আমার মা।

আমি নিখুঁত ছেলে হওয়ার প্রতিজ্ঞা করছি না। কিন্তু একটা প্রতিজ্ঞা করছি, আমি আরও বেশি মনোযোগ দেব। আরও বেশি ধন্যবাদ বলব। আর একদিন, যখন আমি নিজের পায়ে দাঁড়াব, আমি চাই মা যেন ভাবতে পারেন, “হ্যাঁ, এই ছেলেটাকে বড় করেছি আমি।”


মন্তব্য করুন

ব্লগ