Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪২ অপরাহ্ণ

রাত্রির উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মানবজীবনের জবাবদিহি (সূরা আত-তারিকের আলোকে সৃষ্টির রহস্য, আল্লাহর পর্যবেক্ষণ, পুনরুত্থান ও সত্যের বিজয়ের মহাগাথা)) মোঃ মুজিবুর রহমান

রাত্রির উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মানবজীবনের জবাবদিহি

(সূরা আত-তারিকের আলোকে সৃষ্টির রহস্য, আল্লাহর পর্যবেক্ষণ, পুনরুত্থান ও সত্যের বিজয়ের মহাগাথা))

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

জীবন যেন ক্ষণিকের পথ, মানুষ পথের যাত্রী,
আকাশজুড়ে আল্লাহর নিদর্শন—জাগে জ্ঞানের বাতি।
রাত্রির বুকে নক্ষত্র জ্বলে, মহাকাশ অপরূপ,
স্রষ্টার কুদরত স্মরণ করায়—মহিমান্বিত অনুপম রূপ।

পবিত্র কুরআনের ৮৬তম সূরা হলো সূরা আত-তারিক। এটি মক্কায় অবতীর্ণ একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত গভীর তাৎপর্যপূর্ণ সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১৭। ‘আত-তারিক’ অর্থ—রাতে আগমনকারী। সূরার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা আকাশ ও রাত্রির আগমনকারী উজ্জ্বল নক্ষত্রের শপথ করেছেন। এরপর মানুষকে তার নিজের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে বলা হয়েছে, স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে প্রত্যেক মানুষের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে রক্ষক ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে এবং একদিন তাকে পুনরুত্থিত হয়ে নিজের কর্মের হিসাব দিতে হবে।

সূরাটি মানুষের অহংকার ভেঙে দিয়ে তাকে তার প্রকৃত পরিচয় স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ যত শক্তিশালী, জ্ঞানী কিংবা সম্পদশালীই হোক, তার শুরু ছিল অতি ক্ষুদ্র। তাকে সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ; তাই তার জীবনের উদ্দেশ্যও আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন।

আকাশের নক্ষত্রে স্রষ্টার নিদর্শন

আল্লাহ বলেন—

“শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে আগমনকারীর। আর আপনি কি জানেন রাত্রিতে আগমনকারী কী? সে তো উজ্জ্বল নক্ষত্র।”

রাত্রির আকাশ মানুষের জন্য এক বিশাল শিক্ষাগ্রন্থ। অন্ধকারের বুক চিরে অসংখ্য নক্ষত্র আলো ছড়ায়। এগুলোর সুবিন্যস্ত অবস্থান, নিয়মতান্ত্রিক গতি ও মহাবিশ্বের বিশালতা মানুষের চিন্তাশক্তিকে বিস্মিত করে।

কুরআন মানুষকে শুধু আকাশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বলে না; বরং সেই সৌন্দর্যের পেছনে যিনি আছেন, তাঁর মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে আহ্বান জানায়। নক্ষত্র নিজে স্রষ্টা নয়; নক্ষত্রও সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং সৃষ্টি দেখে স্রষ্টাকে চিনতে হবে।

একজন মুমিন যখন আকাশের দিকে তাকায়, তখন তার হৃদয়ে ঈমানের অনুভূতি জাগে। সে উপলব্ধি করে—এই সুবিশাল সৃষ্টি কোনো উদ্দেশ্যহীন দুর্ঘটনার ফল নয়; এর একজন মহান স্রষ্টা আছেন, যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।

মানুষের ওপর আল্লাহর নজরদারি

সূরা আত-তারিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—

“এমন কেউ নেই যার ওপর রক্ষক নিযুক্ত নেই।”

মানুষ অনেক সময় মনে করে, সে একা; তার কাজ কেউ দেখছে না। অন্ধকারে, নির্জনে কিংবা মানুষের দৃষ্টির আড়ালে সে যা ইচ্ছা করতে পারে। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা হলো—মানুষ কখনোই আল্লাহর নজরদারির বাইরে নয়।

আল্লাহ তাআলা মানুষের সব প্রকাশ্য ও গোপন কাজ সম্পর্কে অবগত। মানুষের কথা, কাজ, নিয়ত ও আচরণ—কোনোটিই তাঁর অজানা নয়। মানুষের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতারাও রয়েছে, যারা আল্লাহর নির্দেশে মানুষের আমল লিপিবদ্ধ করে।

এই বিশ্বাস একজন মুমিনকে আত্মসংযমী করে তোলে। মানুষ যখন জানে যে তার প্রতিটি কাজের হিসাব হবে, তখন সে অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রাখে।

সে ভাবে—

আমি একা নই,
আমার প্রতিটি কাজের সাক্ষী আছে;
আমি মানুষের চোখ এড়িয়ে যেতে পারি,
কিন্তু আল্লাহর জ্ঞান থেকে কিছুই গোপন করতে পারি না।

মানুষ তার নিজের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করুক

আল্লাহ বলেন—

“সুতরাং মানুষ যেন দেখে তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে!”

এ আয়াত মানুষের অহংকারের বিরুদ্ধে এক গভীর শিক্ষা। মানুষ নিজের শক্তি, জ্ঞান, সম্পদ, পদমর্যাদা ও সৌন্দর্য নিয়ে অহংকার করতে পারে। কিন্তু সে যদি নিজের সৃষ্টির সূচনার কথা স্মরণ করে, তাহলে অহংকারের কোনো কারণ থাকে না।

মানুষের সৃষ্টি ছিল অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায়। আল্লাহ তাআলা সামান্য উপাদান থেকে তাকে সৃষ্টি করেছেন, তাকে আকৃতি দিয়েছেন, জ্ঞান দিয়েছেন, বিবেক দিয়েছেন এবং পৃথিবীতে দায়িত্বশীল জীবনযাপনের সুযোগ দিয়েছেন।

তাই মানুষের উচিত নিজের সৃষ্টির কথা স্মরণ করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।

যে নিজের শুরু জানে, সে অহংকার করতে পারে না;
যে নিজের স্রষ্টাকে চেনে, সে অবাধ্য হতে পারে না।

সৃষ্টির রহস্য ও আল্লাহর অসীম ক্ষমতা

সূরায় মানুষের সৃষ্টির সূচনার দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে যে তাকে স্খলিত পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ বক্তব্য মানুষের দৃষ্টি নিজের অস্তিত্বের দিকে ফিরিয়ে দেয়।

মানুষ তার শরীর, মেধা, সৌন্দর্য কিংবা সামর্থ্য নিয়ে গর্ব করতে পারে; কিন্তু এসবই আল্লাহর দান। জন্মের আগে মানুষ নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানত না। আল্লাহ তাকে অস্তিত্ব দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এবং তাকে পরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছেন।

এখানে মূল শিক্ষা হলো—মানুষ সৃষ্টির মালিক নয়, সে সৃষ্টির অংশ।

তাই তার কর্তব্য হলো স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, তাঁর বিধান মেনে চলা এবং নিজের জীবনকে নেক আমলে সুন্দর করে তোলা।

পুনরুত্থান অবশ্যই সত্য

মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো—মৃত্যুর পর কি আবার জীবন হবে?

সূরা আত-তারিক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়—

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে পুনরায় জীবিত করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।”

যিনি মানুষকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তাঁর জন্য মৃত্যুর পর পুনরায় সৃষ্টি করা অসম্ভব নয়। প্রথম সৃষ্টি যাঁর ক্ষমতার নিদর্শন, পুনরুত্থানও তাঁরই ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত।

কিয়ামতের দিন মানুষকে পুনরায় জীবিত করা হবে। পৃথিবীর জীবন শেষ হয়ে যাবে; এরপর শুরু হবে আখিরাতের জীবন। সেদিন মানুষের ঈমান, আমল ও কর্মের হিসাব হবে।

এই বিশ্বাস ইসলামী আকিদার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই একজন মুমিনের জীবন শুধু দুনিয়ার লাভ-ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তাকে আখিরাতের সফলতার কথাও মনে রাখতে হবে।

গোপন বিষয় প্রকাশের দিন

আল্লাহ বলেন—

“যেদিন গোপন ভেদসমূহ পরীক্ষা করা হবে।”

দুনিয়ায় মানুষ তার অনেক বিষয় মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখতে পারে। মুখে এক কথা বলে মনে অন্য কথা রাখতে পারে। মানুষের সামনে নিজেকে ভালো হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। কিন্তু কিয়ামতের দিন মানুষের অন্তরের গোপন বিষয়ও প্রকাশিত হবে।

তখন বাহ্যিক পরিচয়, সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক অবস্থান কোনো কাজে আসবে না। মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তার ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে।

তাই মুমিনের উচিত শুধু বাহ্যিকভাবে ভালো হওয়ার চেষ্টা না করে অন্তরকেও পরিশুদ্ধ করা। নিয়তকে আল্লাহর জন্য বিশুদ্ধ করা, রিয়া থেকে বেঁচে থাকা এবং গোপনে-প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা—এগুলোই প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়।

সেদিন কোনো শক্তি ও সাহায্য থাকবে না

সূরায় বলা হয়েছে—

“সেদিন মানুষের কোনো শক্তি থাকবে না এবং কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না।”

দুনিয়ায় মানুষ শক্তি, অর্থ, ক্ষমতা, আত্মীয়স্বজন ও প্রভাবের ওপর নির্ভর করতে পারে। কিন্তু কিয়ামতের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে কেউ নিজের শক্তিতে আল্লাহর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না।

সেদিন মানুষ নিজের আমলের ফলের মুখোমুখি হবে। তাই দুনিয়ায় থাকতেই তাকে প্রস্তুতি নিতে হবে।

আজ সুযোগ আছে—তাওবা করার।
আজ সুযোগ আছে—নামাজ প্রতিষ্ঠার।
আজ সুযোগ আছে—হক আদায় করার।
আজ সুযোগ আছে—অন্যায় ছেড়ে দেওয়ার।
আজ সুযোগ আছে—আল্লাহর দিকে ফিরে আসার।

মৃত্যুর পর এই সুযোগ আর থাকবে না।

আকাশের বৃষ্টি ও বিদীর্ণ পৃথিবী

আল্লাহ আবার আকাশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন নিদর্শনের শপথ করেছেন। আকাশ থেকে বৃষ্টি আসে; মৃত ও শুষ্ক জমিন সেই পানিতে সজীব হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বুক বিদীর্ণ করে বীজ অঙ্কুরিত হয়, ফসল জন্মায় এবং জীবনধারণের উপকরণ তৈরি হয়।

এসব নিদর্শন মানুষকে আল্লাহর ক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দেয়।

শুষ্ক মাটি যেমন বৃষ্টির পানিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে, তেমনি আল্লাহর নির্দেশে মৃত মানুষও কিয়ামতের দিন পুনরুজ্জীবিত হবে।

প্রকৃতির এই পরিবর্তন মানুষের জন্য পুনরুত্থানের একটি চিন্তার দরজা খুলে দেয়। তাই একজন মুমিন সৃষ্টির প্রতিটি দৃশ্য থেকে আল্লাহর কুদরত উপলব্ধি করে।

কুরআন সত্য ও মীমাংসাসূচক বাণী

সূরায় বলা হয়েছে—

“নিশ্চয়ই এটি এক মীমাংসাসূচক বাণী; এটি কোনো উপহাসের বস্তু নয়।”

পবিত্র কুরআন মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত হিদায়াত। এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে, ন্যায় ও অন্যায়ের সীমারেখা নির্ধারণ করে এবং মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার পথ দেখায়।

কুরআনের শিক্ষা নিয়ে উপহাস করা, সত্যকে অস্বীকার করা কিংবা অহংকারের কারণে আল্লাহর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করা মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

অন্যদিকে যে ব্যক্তি বিনয়ের সঙ্গে কুরআন গ্রহণ করে, তার জীবন আলোকিত হয়। কুরআন তার চিন্তা, চরিত্র, পরিবার, সমাজ ও জীবনের লক্ষ্যকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

সত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পরিণতি

সূরার শেষাংশে আল্লাহ তাআলা অবিশ্বাসীদের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি তাদের মোকাবিলায় নিজস্ব পরিকল্পনা করেন।

এখানে মুমিনের জন্য বড় সান্ত্বনা রয়েছে। সত্যের পথে চলতে গিয়ে কখনো বিরোধিতা আসতে পারে, অন্যায় হতে পারে, ষড়যন্ত্র হতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।

তাই মুমিন অন্যায়ের জবাবে অন্যায় করবে না। সে ধৈর্য ধারণ করবে, ন্যায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করবে।

আল্লাহর পরিকল্পনা সর্বোত্তম। মানুষের ষড়যন্ত্র সীমিত; আল্লাহর ক্ষমতা অসীম।

অবকাশ মানেই নিরাপত্তা নয়

সূরার শেষ আয়াতে কাফিরদের কিছু সময় অবকাশ দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—কোনো অন্যায়কারী ব্যক্তি কিছু সময় সুযোগ পেলেই মনে করা যাবে না যে সে সফল হয়ে গেছে।

আল্লাহ কখনো অবকাশ দেন—কিন্তু অবকাশ সবসময় মুক্তির অর্থ বহন করে না। মানুষের উচিত এই বিষয়টি নিজের জীবনেও উপলব্ধি করা।

কেউ অন্যায় করে সাময়িকভাবে লাভবান হতে পারে,
কেউ মানুষের অধিকার নষ্ট করে কিছুদিন পার পেয়ে যেতে পারে,
কেউ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কিছুদিন সম্মানও পেতে পারে;
কিন্তু আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই হারিয়ে যায় না।

সূরা আত-তারিকের আলোকে আমাদের করণীয়

সূরা আত-তারিক শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়; এর শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের জন্যও।

প্রথমত, আল্লাহর কুদরত নিয়ে চিন্তা করতে হবে। আকাশ, নক্ষত্র, বৃষ্টি, পৃথিবী ও নিজের সৃষ্টি—সবকিছু থেকে আল্লাহর মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, আল্লাহর নজরদারির অনুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত রাখতে হবে। নির্জনেও পাপ থেকে বাঁচতে হবে।

তৃতীয়ত, নিজের সৃষ্টি ও দুর্বলতা স্মরণ করতে হবে। অহংকার, আত্মম্ভরিতা ও গর্ব পরিহার করতে হবে।

চতুর্থত, পুনরুত্থান ও হিসাবের প্রতি দৃঢ় ঈমান রাখতে হবে। প্রতিটি কাজের আগে ভাবতে হবে—এ কাজের জবাব আমাকে আল্লাহর কাছে দিতে হবে।

পঞ্চমত, কুরআনকে জীবনের পথনির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। শুধু তিলাওয়াত নয়, এর শিক্ষা বুঝে আমল করতে হবে।

ষষ্ঠত, বিপদের সময় ধৈর্য ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত উপায়ে অবস্থান নিতে হবে, কিন্তু আল্লাহর ওপর আস্থা হারানো যাবে না।

সপ্তমত, অন্যের অধিকার নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ দুনিয়ার আদালতে কোনো বিষয় গোপন থাকলেও আল্লাহর আদালতে কোনো কিছুই গোপন থাকবে না।

উপসংহার

সূরা আত-তারিক একটি ছোট সূরা হলেও এর শিক্ষা অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। রাত্রির আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র থেকে শুরু করে মানুষের সৃষ্টি, আল্লাহর পর্যবেক্ষণ, পুনরুত্থান, গোপন বিষয় প্রকাশ, হিসাব-নিকাশ, কুরআনের সত্যতা এবং সত্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র—সবকিছু মিলিয়ে সূরাটি মানুষের সামনে একটি সুস্পষ্ট জীবনদর্শন তুলে ধরে।

মানুষ ক্ষুদ্র উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু তাকে মহান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে পৃথিবীতে স্বাধীনভাবে যা ইচ্ছা করার জন্য আসেনি; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছে।

আজ আকাশের নক্ষত্র আমাদের ডাকছে—
স্রষ্টাকে চিনো।
আজ নিজের সৃষ্টি আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে—
অহংকার ত্যাগ করো।
আজ ফেরেশতাদের দায়িত্ব আমাদের স্মরণ করাচ্ছে—
সতর্ক হও, তোমার আমল লিপিবদ্ধ হচ্ছে।
আজ কুরআনের বাণী আমাদের সতর্ক করছে—
একদিন তোমাকে ফিরে যেতে হবে।

তাই আসুন, আমরা ঈমানকে দৃঢ় করি, নামাজ ও নেক আমলকে জীবনের অংশ করি, অন্যায় ও অহংকার পরিত্যাগ করি, মানুষের হক আদায় করি, গোপন ও প্রকাশ্য সব পাপ থেকে বেঁচে থাকি এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশিত সরল পথে চলি।

কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী,
কিন্তু আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী।

হে আল্লাহ! আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করো, কুরআনের শিক্ষা বুঝে আমল করার তাওফিক দাও, অহংকার ও পাপ থেকে রক্ষা করো, মানুষের হক আদায় করার শক্তি দাও এবং কিয়ামতের কঠিন দিনে তোমার রহমত লাভের তাওফিক দাও। আমিন।

 

মন্তব্য করুন